Blog

  • শয়তান বধ ; শয়তান শিকার  সবকিছুই রুটিন ওয়ার্ক!!

    শয়তান বধ ; শয়তান শিকার সবকিছুই রুটিন ওয়ার্ক!!

    যৌথ বাহিনীর চলমান অভিযানের ‘নাম না দেয়ায়’ তারা চুপচাপ ছিলেন। এবার পেয়েছেন অভিযানিক নাম- অপারেশন ডেভিল হান্ট। তবে তাদের সামর্থ্যের সুবিধা মিলবে কি? মনে হয় না।

    কারণ, দেশবাসীর নির্ভরশীলতা, বিশ্বাসে আস্থা পায় না কোনো বাহিনী। নিজেদের স্বার্থ বিরোধী কিছু ঘটলেই বিভিন্ন মহল উল্টে যায়। বদলে ফেলে সহনশীলতা, পাল্টে যায় রূপ। মুহূর্তেই বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে দল প্রীতির অভিযোগ তুলে বিতর্কিত করতে দ্বিধা করে না কেউ।

    আমরা হয়তো ভয়ংকর অভিযোগ তুলে দায় চাপিয়েই খালাস হয়ে যাই। কিন্তু বাহিনী প্রধানদের তো আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান, সভ্যতা প্রতিপালন সহ শান্তিরক্ষা মিশনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হয়, থাকে সরকারি নীতি ও চাকুরি বিধির বাধ্য বাধকতা।

    সবদিক বিবেচনায় শক্তি প্রয়োগের বাড়তি দায়িত্ব পালনকে ঝুঁকি বলেই মনে করেন তারা। ফলে নিজের মতো করে স্বতন্ত্র ভালবাসায় দেশপ্রেমেরও উপায় নেই। বিধিবদ্ধ সীমিত কর্তব্য কাজেই আবদ্ধ থাকেন সবাই।

    নিকট অতীতেও এখনকার মতো বিতর্ক সৃষ্টি, গুজব গজবের ঘৃণ্য কাজ কারবার ছিল না। যাকে তাকে মনগড়া ট্যাগ লাগানোর প্রচলনও ছিল না। মানুষ যত আধুনিক হচ্ছে ততই ঠুনকো হচ্ছে আস্থা, বিশ্বাস, নির্ভরশীলতা। যেখানে কেউ কারো দায়িত্ব নিচ্ছে না, সেখানে জাতির দায়িত্ব কেন বাহিনী নিবে?

    এ কারণে অপারেশন ডেভিল হান্ট হোক, আর শয়তান বধ হোক – কোন কিছুই আলাদা বিশেষত্ব বহন করে না। সবকিছুই বিধিবদ্ধ রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হতে বাধ্য। আফসোস! জাতির ললাটে দুর্ভাগ্যের কালিমা, শেষ যেন হতেই চায় না।

  • রাঙ্গামাটির ক্রিকেটে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ল শহীদ আবদুল আলী একাডেমি :স্কুল ক্রিকেটে চ্যা‌ম্পিয়ন

    রাঙ্গামাটির ক্রিকেটে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ল শহীদ আবদুল আলী একাডেমি :স্কুল ক্রিকেটে চ্যা‌ম্পিয়ন

    রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শহীদ আবদুল আলী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়।

    শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাঙামা‌টি মারী স্টে‌ডিয়া‌মে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তারা রাঙামা‌টি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়কে ৭ উইকেটে পরাজিত করে।

    প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাঙামা‌টি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ২৮.১ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন সমীর। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শহীদ আবদুল আলী একাডেমি ১৭.২ ওভারে জয় তু‌লে নেয়। গত ম্যা‌চে ২২০ রান করা মাইনু‌দ্দিন এদিন ৫৪ রান ক‌রেন। বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করেন বিজয়ী দলের আরিফ, তি‌নি ৫টি উইকেট নেন।

    বাংলা‌দেশ ক্রি‌কেট বো‌র্ডের ব্যবস্থানাপনায় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আ‌য়োজ‌নে ফাইনাল খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন ব‌লেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং উন্নয়নের মাধ্যম। আমাদের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে হলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা জরুরি। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা আধুনিক প্রশিক্ষণ পাবে, বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম হবে।

    তি‌নি ব‌লেন, একজন ভালো খেলোয়াড় হতে হলে শুধু মাঠে অনুশীলন করাই যথেষ্ট নয়, বরং বড় বড় ম্যাচ দেখা, সেরা খেলোয়াড়দের খেলা বিশ্লেষণ করা এবং তাদের কৌশল থেকে শেখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলায় উন্নতি করতে হলে নিয়মিত চর্চা, অধ্যবসায় এবং প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।

  • সারাদেশের কবি ও শিল্পীদের মিলনমেলা রাঙ্গামাটিতে

    সারাদেশের কবি ও শিল্পীদের মিলনমেলা রাঙ্গামাটিতে

    কবি শিল্পী সাহিত্যিকদের প্রাণময়ী উচ্ছ্বাসে মুখরিত রাঙ্গামাটি। এ যেন পার্বত্য কাব্য সপ্তম সাহিত্য উৎসব-২০২৫ শুধু নয় এক মহা মিলনমেলা। এক টুকরো বাংলাদেশ এসে মিলিত হয়েছে সদর উপজেলার মিলনায়তনে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবিতার জন্য ছুটে এসেছেন কবি, লেখক, সাহিত্যিক, গল্পকার, কন্ঠশিল্পী , সংস্কৃতিসেবী ও সুধীজন। খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, বাগেরহাট, সুনামগঞ্জ, খুলনা, দিনাজপুর, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, দুর্গাপুর, কুমিল্লা, নওগাঁ, সিলেট, রাজশাহীসহ সারা বাংলাদেশের থেকে অংশগ্রহণ করেন। আজ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রি. পার্বত্য কাব্য সপ্তম সাহিত্য উৎসব ২০২৫ অনুষ্ঠান সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

    বাংলাদেশ বেতারের গীতিকার ও পার্বত্য কাব্য এর প্রধান উপদেষ্টা কবি হাসান মাহমুদ মঞ্জু আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসব উদ্বোধন করেন। পার্বত্য কাব্য সপ্তম সাহিত্য উৎসবের সদস্য সচিব কবি রেজাউল করিম এর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য কাব্য’ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সভাপতি কবি কাছেন রাখাইন। প্রধান আলোচক কবি ও গবেষক মাহমুদুল হক নিজামী, সম্পাদক দৈনিক দেশ জগৎ। বিশেষ অথিতির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ওমর কায়সার বার্তা সম্পাদক, দৈনিক প্রথম আলো, কথাকোবিদ ও গবেষক ড. আজাদ বুলবল, কবি মজিবুর হক বুলবুল, সভাপতি, জেলা শিল্পকলা একাডেমী রাঙ্গামাটি।

    পার্বত্য কাব্য সপ্তম সাহিত্য উৎসব ২০২৫ এ এবার রাঙ্গামাটির তিন কৃতিসন্তান ও বিশিষ্টজনকে বিশেষ অবদানের সম্মাননা প্রদান করা হয়। তারা হলেন কবিতায়- জনাব মুজিবুল হক বুলবুল, সংগীতে-গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী জনাব মনোজ বাহাদুর গুর্খা এবং গবেষণা সাহিত্যে- জনাব শাওন ফরিদ।

    পুরোদেশ থেকে শিল্প ও সাহিত্যপ্রেমীদের একসাথে জড়োকরে এমন একটি সুন্দর ও প্রাণবন্ত ‘পার্বত্য কাব্য সপ্তম সাহিত্য উৎসব-২০২৫’ আয়োজন করার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার বিশ্বাস এ উৎসবের মাধ্যমে সমগ্র জেলার সাথে রাঙ্গামাটির মানুষের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে এবং উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা রাঙ্গামাটি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পাবেন।

  • চাঁদা না পেয়ে পাহাড়ে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করায় পিসিসিপি’র প্রতিবাদ

    চাঁদা না পেয়ে পাহাড়ে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করায় পিসিসিপি’র প্রতিবাদ

    চাঁদা না পেয়ে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার চারটি উপজেলায় একটি বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানির ২১টি টাওয়ারে হামলা চালিয়ে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করেছে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। উক্ত ঘটনায় তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র সন্ত্রাস বিরোধী ছাত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।
    বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথবিবৃতিতে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম এ প্রতিবাদ জানান।
    ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী হামলায় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন উপজেলাগুলো হলো— খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা এবং রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলা। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির ২১ টি মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় বর্তমানে কোম্পানিটির কয়েক লাখ গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।
    গত ২২ জানুয়ারি ভোররাতে, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মানিকছড়ি ও মাটিরাঙ্গায় ১১টি মোবাইল টাওয়ারের পাশাপাশি রাঙামাটির নানিয়ারচর সহ বিভিন্ন এলাকায় ১০টি টাওয়ারে সমন্বিত হামলা চালায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। তারা সার্ভার রুম ভাঙচুরসহ টাওয়ারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এর পাশাপাশি বেশকিছু যন্ত্রপাতিও লুট করে নিয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে গত সোমবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে মোবাইল টাওয়ার সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হলেও ২/৩ দিনের ব্যবধানে সমস্ত টাওয়ারে আবারও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, মিটার ভাংচুর ও লুটপাট করে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। এতে ওইসব এলাকার নেটওয়ার্ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়াসহ তাদের নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে স্থানীয় জনগণ।
    পাহাড়ের তথাকথিত উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী আঞ্চলিকদলগুলোকে চাঁদা হিসেবে প্রতিমাসে ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করে কোম্পানীটি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ এর পক্ষ থেকে আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চাঁদা দাবির পাশাপাশি এককালীন ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এতো বিপুল পরিমাণ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা রাঙামাটির নানিয়ারচর ও খাগড়াছড়ি জেলার সদর, দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি, কবাখালীসহ কয়েকটি এলাকায় সর্বমোট ২১টি টাওয়ার লাইন কেটে দেওয়া, ব্যাটারি লুট করে নেওয়াসহ জেনারেটর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে।
    এতে করে সার্বিকভাবে অন্তত ১০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে রবি ও তার অংশীদার কোম্পানীগুলো। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিরাপত্তার জন্য অশনি সংকেত। এককালীন ৫ কোটি আর প্রতি মাসে ৩৪ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে বেসরকারী মোবাইল অপারেটর রবি’র অন্তত ২১টি নেটওয়ার্ক টাওয়ার নষ্ট করে দিয়েও ক্ষান্ত হয়নি প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চুক্তি বিরোধী আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ।
    নির্ধারিত সময়ে চাঁদা পরিশোধ না করায় গত মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাঙামাটি থেকে টাওয়ার ঠিক করতে যাওয়া পাহাড়ি সম্প্রদায়ের এক টেকনিশিয়ানকেও তুলে নিয়ে গেছে ইউপিডিএফ। তার বাড়ি রাঙামাটি শহরেই, তিনি তিন সন্তানের জনক।
    একমাসে অন্তত ২১টি টাওয়ারে হামলা চালানোর পর রবি’র টেকনিশিয়ান অপহরণ করার মাধ্যমে হিংস্রতার পরিচয় দিল ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা।
    নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানিটির একজন প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি টাওয়ার অপারেটরদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছে। তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হলে তারা
    টাওয়ারে এই হামলা চালায়। বর্তমানে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো মোবাইল কানেক্টিভিটি ছাড়াই রয়ে গেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
    নেতৃবৃন্দ বলেন আমরা জানতে পেরেছি, দাবি মানা না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য এলাকায়ও এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এই চলমান চাঁদাবাজি এবং হুমকি মোবাইল টাওয়ার অপারেটরদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ।
    এই ঘটনা শুধুমাত্র পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি ও সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্নই করে না, বরং চাঁদাবাজি ও সহিংসতার হাতিয়ার হিসেবে ডিজিটাল অবকাঠামোকে কাজে লাগানোর একটি বিপজ্জনক নজিরও স্থাপন করেছে— এমনটাই দাবি করছে পিসিসিপি নেতৃবৃন্দরা।
    এতবড় একটি সন্ত্রাসী ঘটনায় সকল মহল ও সুশীল নামধারী চেতনা বাজরা নীরব থাকায় ধিক্কার জানায় পিসিসিপি।
    চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ পাহাড়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাই পিসিসিপি’র নেতৃবৃন্দরা সরকারের নিকট জোর দাবি জানান, ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় পিসিসিপি পাহাড়ের সকল সন্ত্রাসী বিরোধী ছাত্র-জনতাকে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অচল করে দিবে।

  • রাবিপ্রবিতে এপ্রোচ রোড ও ভূমি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

    রাবিপ্রবিতে এপ্রোচ রোড ও ভূমি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

    আজ ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ খ্রি: রোজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার প্লান অনুযায়ী একাডেমিক ভবন-১ এবং প্রশাসনিক ভবন-১ এর এপ্রোচ রোড ও ভূমি উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন রাবিপ্রবি’র মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। এসময় রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডীন জনাব ধীমান শর্মা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন জনাব সূচনা আখতার, প্রক্টর জনাব সাদ্দাম হোসেন, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প এর প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব আবদুল গফুরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক,কর্মকর্তা,কর্মচারী ও শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।

    ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন, আজ আমরা যে উদ্বোধন করলাম এক সপ্তাহের মধ্যে ভবনের নির্মাণ কাজের কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। আগামী ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এ ভবনগুলোর কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা রাখি। তারমধ্যে একটি একাডেমিক ভবন, ১ টি প্রশাসনিক ভবন এবং ২টি ছাত্র ও ছাত্রী হল। এ ৪টি ভবন খুব দ্রুত মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। যারা এ প্রক্রিয়ার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তাদেরকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের সামনের যাত্রায় প্রতিদিন যে ছোট ছোট উদ্যোগগুলো নিচ্ছি সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে যেতে চাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যে খরা বিরাজ করেছে তা সবার সমন্বিত কাজের মাধ্যমে দ্রুত দূর হয়ে যাবে। উন্নয়নের স্বার্থে আমরা সকল শিক্ষক,কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বজায় রেখে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবো।

  • শেরপুরে ব্র্যাকের আইনী সুরক্ষা কর্মসূচির অভিভাবক সভা অনুষ্ঠিত

    শেরপুরে ব্র্যাকের আইনী সুরক্ষা কর্মসূচির অভিভাবক সভা অনুষ্ঠিত

    শেরপুর জেলার সদর উপজেলার তাড়াগড় গ্রামে ব্র‍্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনী সুরক্ষা কর্মসূচির উদ্যেগে এক অভিভাবক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ৫ (ফেব্রুয়ারি) বুধবার বিকেলে জেলা ব্র‍্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির
    আয়োজনে উক্ত বৈঠকে উপস্থিত থেকে বিনামুল্যে আইন সহায়তা বিষয়ে পরামর্শ দেন সিনিয়র সহকারি জজ ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার নয়ন চন্দ্র মোদক। তিনি ব্র্যাকের এই মহতি কর্মসূচির ভুয়সী প্রসংশা করেন। সরকারের সহযোগী হিসেবে ব্র্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে বলেও তিনি জানান।

    এসময় ব্র্যাক শেরপুর জেলার সমন্বয়ক ফারহানা মিল্কি, সামাজিক ক্ষমতায়ন আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির জেলা ব্যবস্থাপক বিদ্যুৎ কুমার নন্দী, অফিসার মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় নারী-পুরুষ অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • বন ভবন আর প্রধান বন সংরক্ষককে ঘিরে ভয়ংকর কাহিনী ফাঁস। তুলকালাম কান্ড।

    বন ভবন আর প্রধান বন সংরক্ষককে ঘিরে ভয়ংকর কাহিনী ফাঁস। তুলকালাম কান্ড।

    আখেরি বাণিজ্য চালাচ্ছেন প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী। বিভিন্ন পদে একযোগে কয়েকশ জনবল নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, প্রাইজ পোস্টিং মিলিয়ে টাকার ছড়াছড়ি চলছে বন ভবনে।

    জুলাই বিপ্লবের পরে দেশের সকল লুটপাট সেক্টরে যখন স্থবিরতা নেমে এসেছে, তখনও বন অধিদপ্তরে চলছে উলটো চিত্র। প্রকল্প কর্মকাণ্ডের ভাগ বাটোয়ারা আর নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি,পোস্টিং সংক্রান্ত লেনদেন ঘিরে শুরু হয়েছে হৈহৈ রৈরৈ পরিস্থিতি।

    চারটি পদের বিপরীতে ৩৩৭ জনবল নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেই চাকরি প্রার্থী, দালাল, সিন্ডিকেট সদস্যদের হাট বাজারে পরিণত করা হয়েছে বন ভবনকে। আবেদন, বাছাই, পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষার খবর নেই এখনও, অথচ মোটা অঙ্কের রেট বেধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধুম চলছে সেখানে।

    সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী সাহাবউদ্দিন ও তার পুত্র জাকির হোসেন জুমনকে নিয়ে পৃথক পৃথক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বন অধিদপ্তরকে লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করেন।

    আওয়ামীলীগের তহবিলে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দিয়ে একটানা চার বছর ধরে প্রধান বন সংরক্ষকের পদটি মহা দাপটে কব্জায় রাখেন আমির হোসাইন চৌধুরী। জুলাইয়ের বিপ্লব দমনেও জোগান দেন মোটা অঙ্কের টাকা। এতকিছুর পরও অলৌকিক ক্ষমতায় বহাল তবিয়তেই আছেন তিনি। বিএনপি’র নামেও মাসিক তিন কোটি টাকা চাঁদা দিয়ে আমির হোসাইন চৌধুরী হয়ে উঠেছেন আরো বেশি দাপুটে।

  • রাঙামাটিতে বিএসসি’ কর্তৃক– একেএম মকছুদ আহমেদ ‘রত্ন সাংবাদিক’ উপাধি ও  ‘পর্যটন বিকাশে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার।

    রাঙামাটিতে বিএসসি’ কর্তৃক– একেএম মকছুদ আহমেদ ‘রত্ন সাংবাদিক’ উপাধি ও ‘পর্যটন বিকাশে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার।

    সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা  ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক কমিউনিটি’ তথা বিএসসি’র উদ্যোগে  পর্যটন নগরী খ্যাত  রাঙামাটিতে শনিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ‘পর্যটন বিকাশে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

    রাঙামাটির ‘গ্রীণ ক্যাসেল’ হোটেলের হলরুমে অনুষ্টিত ওই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিএসসি’র উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক রূপালী সৈকতের সম্পাদক ফজুলল কাদের চৌধুরী।

    তবে প্রায় তিনঘন্টা ধরে চলা ওই সেমিনারের শুরুতেই একটানা ৫৫ বছর ধরে দৈনিক ইত্তেফাকে কর্মরত, স্থানীয় দৈনিক গিরি দর্পনের সম্পাদক রাঙামাটির প্রবীণ সাংবাদিক একেএম মকছুদ আহমেদকে বিএসসি’র পক্ষ থেকে এক নান্দনিক আয়োজনে ‘সংবর্ধনা’ দেয়া হয়।

    এসময় বিএসসি’র পক্ষ থেকে তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে তাঁকে ‘রত্ন সাংবাদিক’ উপাধিতে ভূষিত করে অনুষ্ঠান সভাপতি একটি  উত্তরীয় পরিয়ে দেন। পাশাপাশি তাঁর হাতে একটি আকর্ষণীয় ‘সম্মাননা স্মারক’ তুলে দেয়া হয়।

    পরে বিএসসি’র উদ্যোগে কেন তাঁকে এই প্রথম  ‘রত্ন সাংবাদিক’ খেতাবে ভূষিত  করে সংবর্ধনা দেয়া হয়, তার একটি অসাধারণ ‘ঘোষণাপত্র’ পাঠ করা হয়।

    এ সময় মঞ্চে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘোষণাপত্রের রচয়িতা, বিএসসি’র প্রধান উপদেষ্টা অনুসন্ধ্যানী সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমন,

    রাঙামাটির পুলিশ সুপার (ট্যুরিষ্ট পুলিশ) আদনান তাইয়ান, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের উপদেষ্টা সম্পাদক আয়ান শর্মা, দ্য ডেইলি কমার্শিয়ার টাইমস সম্পাদক লায়ন সুজিত দাশ ও দৈনিক আলোকিত চট্টগ্রাম সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ আকবরী।

    বিএসসি’র ‘যুগ্ম আহবায়ক’ প্রতিদিনের বাংলাদেশে কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপুর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন  বৈশাখী টিভির রাঙামাটি প্রতিনিধি, বিএসসির অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক সেমিনারের সমন্বয়ক মো. কামাল উদ্দিন।

    পরে ‘পর্যটন বিকাশে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক’ তিনঘন্টা ধরে চলা দুর্দান্ত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা, অনলবর্ষী বক্তা বাদশা ফয়সাল,  রাঙামাটিতে কর্মরত বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি নন্দন দেবনাথ, দৈনিক বাংলা বাজার পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শান্তিময় চাকমা,  চ্যানেল news24 ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি ফাতেমা জান্নাত মুমু, নাইকংছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুর রশিদ, বিএসসি’র দুই যুগ্ম আহবায়ক সোহাগ আরেফিন, হায়দার হোসেন, সদস্য নাছির উদ্দিন পল্লব, আবদুল আহাদ, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ,  আরো উপস্থিত ছিলেন দৈনিক অগ্রসর নির্বাহী সম্পাদক কামাল পারভেজ, মাই টিভি গৌরনদী প্রতিনিধি,বিএসসি যুগ্ম আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দীন প্রমূখ।

    বক্তারা তাঁদের দীর্ঘ বক্তব্যে রাঙামাটিতে পর্যটন বিকাশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধান সহ বেশ কিছু সময় উপযোগী ‘সুপারিশ’মালা  খোলামেলা ভাবে তুলে ধরেন।

    সেমিনার শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা সঙ্গীতে পরিবেশন করেন।#

  • ডা.জয়া চাকামার বদলী বিদায়ে প্রীতি শুভেচ্ছা সতির্থদের।

    ডা.জয়া চাকামার বদলী বিদায়ে প্রীতি শুভেচ্ছা সতির্থদের।

    দীর্ঘদিন রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত থেকে চাকুরী বিধিবিধানের বদলীজনিত কারণে ডা: জয়া চাকমা, সিনিয়র কনসালটেন্ট ( গাইনী এন্ড অবস), কে ২ফেব্রুয়ারী শনিবার রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিদায় জানানো হয়। এই বিদায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্তিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা: নূয়েন খীসা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: শওকত আকবর খান, সিনিয়র চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
    বিদায় বেলায় ডা: জয়া বলেন, বদলির কারণে এই হাসপাতাল ছেড়ে যেতে হচ্ছে, তবে এই হাসপাতালের তথা রাঙ্গামাটির প্রতিটি স্মৃতি, প্রতিটি হাসি, প্রতিটি অশ্রু আমার হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। আপনাদের সবার প্রতি আমার শুভেচ্ছা। যতদিন আপনাদের মাঝে ছিলাম আমি আমার সর্বোচ্চ টুকু দিয়ে রাঙ্গামাটি বাসির সেবা করার চেষ্টা করেছি। আমার জন্য সবাই আশীর্বাদ করবেন। আমি যেনো যেখানেই থাকি, যেখানেই যাই, সেবা প্রার্থীদের সর্বোচ্চ সেবাটুকু নিশ্চিত করতে পারি। পরিশেষে রাঙ্গামাটি বাসীর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা এবং অত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
    সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা: নূয়েন খীসা মহোদয় বলেন, আপনার সেবা ও দায়িত্ববোধ আমাদের মুগ্ধ করেছে। এই হাসপাতাল, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তথা রাঙ্গামাটির সকল জনসাধারণের পক্ষ থেকে আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাই। চাকরির বদলির কারণে আমাদের ছেড়ে আপনার যেতে হচ্ছে, তবে এই হাসপাতালে কাটানো আপনার স্মৃতিগুলো আমাদের সাথে থাকবে। বিদায় বলছি, তবে ভালোবাসা রয়ে যাবে।
    আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: শওকত আকবর খান ডা: জয়া চাকমার দায়িত্ববোধ, সহযোগিতা, কাটানো সময়গুলো বিনয়ের সাথে স্মরণ করেন।#

  • পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৭তম বর্ষপূর্তি-২৪   অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বারোটা বেজে তেরোটা বেজে যাবে-উষাতন তালুকদার সাবেক এমপি।

    পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৭তম বর্ষপূর্তি-২৪ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বারোটা বেজে তেরোটা বেজে যাবে-উষাতন তালুকদার সাবেক এমপি।

    দেশে এখন সর্বত্র অরাজকতা বিরাজ করছে,কোথাও কারো নিয়ন্ত্রণ,জবাবদিহীতা নেই। আইন-শৃঙ্খলার পরিরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। পুলিশ এখন নাম মাত্র,পুলিশের মনোবল ভেঙ্গে গেছে। যখন-তখন যেখানে সেখানে,কারণে-অকারণে,রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে,হরতাল- অবরোধ। মিছিল-মিটিং,হামলা- মামলা। এক চরম অরাজকতার পরিস্থিতি বিরাজ করছে সারা দেশময়। কেউ কাউকে মানছে না, এভাবে একটা উন্নয়নশীল দেশ চলতে পারেনা। এরুপ চলতে থাকলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বারো টা বেজে তেরোটা বেজে যাবে। তাই সর্বাগ্রে,দেশের আইন-শৃক্ঙলা পরিস্থিতি উন্নত করার আহ্বান জানান,জনসংহতি সমিতি,জেএসএসের সহ-সভাপতি,সাবেক এমপি উষাতন তালুকদার।
    আজ সোমবার,২ডিসেম্বর সকাল ১১ টায় শহরের কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির আয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৭তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্টিত গণসমাবেশ এ বক্তব্য রাখেন তিনি।
    রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলন জোরদার করার আহবান জানিয়ে এ গনসমাবেশ অনুষ্টিত হয়।
    পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সহ-সাধারণ সম্পাদক উ উইন মং জলির সভাপতিত্বে জনসংহতি সমিতির শীর্ষ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার প্রধান অথিতির বক্তব্যে আরো বলেন,আজকে আপনাদের কাছে,এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে,আপনারা নিরেপক্ষ,আপনারা বৈষম্যবিরোধী,আপনারা নতুন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছেন। আমরা আশা রাখব,আপনারা পার্বত্য সমস্যা গভীর ভাবে চিন্তা করবেন। সংখ্যায় সামন্য হতে পারে পাহাড়ের মানুষ,তারাও মানুষ। তাদেরও আত্ম-মর্যদা রয়েছে,রয়েছে নিজেদের ভাষা-কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য। সুতরাং পাহাড়বাসীকে অবেহেলা করে,পার্বত্য সমস্যা পাশ কাটিয়ে গেলে চলবেনা ।
    রাষ্ট্রীয় ধর্ম নিরেপক্ষাকতা নিয়ে তিনি বলেন,সময়ের জ্ঞাতার্থে আপনাদের জানাচ্ছি, এ দেশ পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ,এখন কি এটাকে,ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ বানাতে চাচ্ছেন, নাকি? আপনারা সংখ্যায় ৯০% হতে পারেন! আমরা,অন্যানরা ১০% হতে পারি।
    সময় অনেক গড়িয়ে গেছে,পৃথিবী অনেক বদলে গেছে,এখন, একবিংশ যুগ। এ যুগে আপনারা পিছনে চলে যাবেন নাকি? আমাদের ১০% কে আপনারা কি গণনায় আনবেন না ? রাষ্ট্রের ধর্ম লাগে না,সেটা লাগে ব্যাক্তির,মানুষেই ধর্ম ব্যবহার করে । রাষ্ট্র নয় !
    অপরদিকে শিক্ষাবীদ,গবেষক শিশির চাকমা বলেন, এ শান্তিচুক্তির দায় শুধুই জন সংহতি সমিতির,অবশ্যই নয়। এ চুক্তি হয়েছে জনসংহতি সমিতি ও সরকারের মধ্যে ঠিক আছে। এ শান্তিচুক্তি জনসংহতি সমিতির একার নয়, এটি সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের বসবাসরত ১৩ টি জাতিসত্বা সহ এখানে বসবাসরত স্থায়ী বৃহত্তর বাঙগালী জনগোষ্টিরও। এটা আমাদের বুঝতে হবে, মানতে হবে।
    সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা, জনসংহতি সমিতির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল চাকমা,মহিলা সমিতির নেত্রী আশিকা চাকমা,জনসংহতি সমিতির নেতা অরুণ ত্রিপুরাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
    গণসমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে ভুমি সমস্যা বেড়েই চলেছে। চুক্তি মোতাবেক গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।
    বক্তারা বলেন, পাহাড়ের অশান্ত পরিস্থিতি দূর করতেই শান্তিচুক্তি (পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি) হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি বাস্তবায়ন না করায় পাহাড়ে এখনো বৈষম্য রয়ে গেছে।
    আজ যখন দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের,সবার জন্য সম অধিকারের স্বপ্ন দেখছে, সেই পরিস্থিতিতে পাহাড়িদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য দূর করতে চাইলে শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করে, পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ- জনগোষ্ঠীর সু-রক্ষা নিশ্চিত করার আহবান জানান।
    উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর শান্তি প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন সরকারের সাথে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষর করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(জেএসএস)। #