Blog

  • উধাও রোনালদোর দুই ম্যাচের সব টিকিট

    উধাও রোনালদোর দুই ম্যাচের সব টিকিট

    ঘরের মাঠে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ম্যাচ দেখার এত বড় সুযোগ চাইনিজ ভক্তরা হাতছাড়া করতে চায়নি। তাইতো অনলাইনে বেশ কয়েক প্ল্যাটফর্মে টিকেট বিক্রির ঘোষণা দেবার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেছে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। ফুটবল পাগল জাতি হিসেবে চীন বেশ সমাদৃত। আর সেখানে রোনালদোর ভক্তের সংখ্যা একেবারে কম নয়।

    পর্তুগিজ এই সুপারস্টারের বর্তমান ক্লাব সৌদি আরবের আল নাসর গত মাসে ঘোষণা দিয়েছে চায়না সফরে আগামী ২৪ ও ২৮ জানুয়ারি দক্ষিনাঞ্চলীয় শহর শেনজেনে সাংহাই সিনহুয়া ও ঝেইজাং এফসির বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচে তারা অংশ নেবে।

    রোনালদোর সমর্থকরা এই ঘোষণার পর থেকেই টিকেট ক্রয়ের জন্য মুখিয়ে ছিল। বুধবার অনলাইনে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় টিকেট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবকটি প্ল্যাটফর্মেই সন্ধ্যার সময় টিকেট নেই বলে জানিয়ে দেয়া হয়।

    এর মধ্যে বেশ কিছু গণমাধ্যমের রিপোর্টের সূত্র ধরে জানা গেছে সাধারণ আসন ছাড়াও সবচেয়ে বেশী দামী ক্যাটাগরির দুই ধরনের টিকেট কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিকেট না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, যদিও কিছু সৌভাগ্যবান সমর্থক উচ্ছাসও প্রকাশ করেছেন।

    একজন সমর্থক লিখেছেন, ‘২৪ জানুয়ারি আমি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মেয়ে হিসেবে নিজেকে দেখবো। রোনালদোর কথা মনে করলে একটি বিষয় সবার আগে সামনে চলে আসে, তার থেকে ভালাে খেলোয়াড় এখনো কোথাও নেই। আজ তার ম্যাচের টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে, তার মধ্যে আমি একটি পেয়েছি।’

    গত বছর বেইজিংয়ের ওয়ার্কার্স স্টেডিয়ামে রোনালদোর চির প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের প্রীতি ম্যাচটিতে মাত্র ৭৯ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন। ওই ম্যাচটি দেখতেও পুরো স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। সূত্র : সাউথ চায়না মনিং পোস্ট

  • আমেরিকার সতর্কবার্তা উপেক্ষা হুতিদের, লোহিত সাগরে ফের হামলা

    আমেরিকার সতর্কবার্তা উপেক্ষা হুতিদের, লোহিত সাগরে ফের হামলা

    যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে লোহিত সাগরে ফের হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী সশস্ত্রী গোষ্ঠী হুতি। তবে এ হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। হামলা বন্ধ করার জন্য পশ্চিমা ও তাদের মিত্র দেশগুলোর আহবানকে তোয়াক্কা না করে লোহিত সাগরে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুতিরা।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং জাপানসহ ১২টি দেশ গতকাল বৃহস্পতিবার একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, হুতিরা এই হামলা বন্ধ না করলে তাদের অনির্দিষ্ট পরিণাম ভোগ করতে হবে। পরে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তাদের পক্ষ থেকে এটি ছিল তাদের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা।

    ইয়েমেনের বেশিরভাগ অংশের দখলই এখন ইরান সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। গাজায় হামলার প্রতিবাদে গত ১৯ নভেম্বর থেকে ইসরায়েলের দিকে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা শুরু করে হুতিরা।

    যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ভাইস অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, হুতিদের বিস্ফোরক ড্রোনবাহী নৌকাটি লোহিত সাগরের উপকূল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার ভেতরে গিয়ে হামলা চালায়।

    ইরানের হুমকি আর হুতি–হিজবুল্লাহর তৎপরতা, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ছেইইরানের হুমকি আর হুতি–হিজবুল্লাহর তৎপরতা, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ছেই
    মার্কিন নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, জাহাজ চলাচলকারী অঞ্চল থেকে কয়েক মাইল দূরে হামলাটি হয়। সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ছিল। আমরা সবাই এটি বিস্ফোরিত হতে দেখেছি।

    যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ১৯ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। বারবার হামলার ফলে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপর চাপ বাড়ছে। এ নিয়ে বাইডেনের প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, আমি আরও সতর্ক বার্তা আশা করব না।

    লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কয়েকটি দেশ একটি যৌথ বাহিনী গঠন করেছে। যার নাম রাখা হয়েছে—অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান (ওপিজি)।

    হুতিরা বলছে, তারা যুদ্ধ শেষ করার জন্যই লোহিত সাগরে হামলা চালাচ্ছে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলে আসছে যে, তারা যুদ্ধ ছড়িয়ে যাক, তা চায় না।

  • নির্বাচনে ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি

    নির্বাচনে ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি

    একদিন পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশে ৪২ হাজার ১৪৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০০টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এসব কেন্দ্রে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা৷

    কিসের ভিত্তিতে এই ৩০০ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলো? এ সম্পর্কে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ বলেন, ‘নিরাপত্তা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রগুলোকে কয়েকভাবে ভাগ করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মূলত সহিংসতার আশঙ্কা থাকে যে কেন্দ্রগুলোতে, সেই কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নজরে রাখতে হয়। এর মধ্যে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে যেন কেউ বাধা দিতে না পারে৷ বিরোধী পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে এমন আশঙ্কা আছে। আবার অনেক সময় বাইরের হামলার আশঙ্কা থাকে, যেমন জঙ্গি হামলা। এই সবকিছু বিবেচনা করেই নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।’

    এবারের নির্বাচনে তেমন কোনো ঝুঁকি অনেকেই দেখছেন না। আবার অনেকেই বলছেন, বিএনপি সংঘাতে না গেলেও যেখানে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করছেন, সেখানে কিছুটা উত্তেজনা আছে। আছে সংঘাতের আশঙ্কাও। সেরকম স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতিও আছে।

    পুলিশের পাশাপাশি ইতোমধ্যে সেনা ও নৌ বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসারসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটের মাঠে অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে সারা দেশের অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর তালিকা তৈরি করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছে। ৪২ হাজার ১৪৯ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০ হাজার কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ৩০০ কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা। ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্রগুলোকেও মূলত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেই বিবেচনা করা হয় বলে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে।

    পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ৩০০ ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন জারি করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে কঠোর নিরাপত্তায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষী রাখারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে ১৫ থেকে ১৭ সদস্যের একটি নিরাপত্তা দল মোতায়েন থাকবে, যাদের মধ্যে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন। এর বাইরে বিজিবি, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), সেনাবাহিনী ও উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরাও থাকবেন।

    ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোর ভোটকেন্দ্রের ৭০ থেকে ৮০ ভাগই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। নৌকার প্রার্থীদের সঙ্গে সতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা তাদের। যে কারণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে পুলিশ। প্রয়োজনে বিজিবি ও সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের সহায়তা নেবে তারা। শুক্রবার নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং সেলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন্স) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চূড়ান্ত হয়েছে। ভোটের কাজে পৌনে দুই লাখ সদস্য মাঠে থাকবেন। আমরা কিন্তু শুধু সহিংসতা নয়, আরও বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা করে থাকি। প্রথমত, দুর্গম এলাকা। যেমন পার্বত্য তিন জেলা। দ্বিতীয়ত, উপজেলা সদর থেকে কেন্দ্রের দূরত্ব। একেবারে রিমোট এলাকায় যে কেন্দ্রগুলো আছে, সেগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি প্রার্থীদের বাড়ির আশপাশে যে কেন্দ্রগুলো আছে সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়। আবার চরের মধ্যে অনেক কেন্দ্র আছে। সবকিছু মিলিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র করা হয়। এসব কেন্দ্রে চার থেকে পাঁচ জন পুলিশ সদস্য থাকেন। সাধারণ কেন্দ্রে দুজন পুলিশ থাকেন। এসব কেন্দ্রে অস্ত্রধারী পুলিশের সংখ্যাও বেশি থাকে।’

    অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর এলাকায় কমপক্ষে ২৪ হাজার পুলিশ সদস্য ভোটের মাঠে কাজ করবে। পুলিশের কাউন্টার ট্রেরোরিজম ইউনিটের প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো নাশকতা কিংবা জঙ্গি হুমকি নেই। তবে সবকিছু মাথায় রেখেই নিরাপত্তা বলয় সাজানো হয়েছে।’ ঢাকা মহানগর এলাকায় দুই হাজার ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকই গুরুত্বপূর্ণ কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

    নির্বাচন সুষ্ঠু করতে মাঠে মোতায়েন করা রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে সাত লাখেরও বেশি সদস্য, যা গত একাদশ সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এক লাখ ৩০ হাজার বেশি। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে বিজিবি-কোস্টগার্ড ১১ দিন, র‌্যাব-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আট দিন, সশস্ত্র বাহিনী ১০ দিন নিয়োজিত ছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে অস্ত্রধারী দুজন পুলিশ, অস্ত্রধারী একজন আনসার, অস্ত্র বা লাঠিধারী একজন আনসার, ১০ জন আনসার, লাঠি হাতে একজন বা দুজন গ্রামপুলিশ সদস্যসহ ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল সব সাধারণ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা দেবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের ক্ষেত্রে (যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত) অস্ত্রসহ তিনজন পুলিশসহ ১৬ থেকে ১৭ জনের দল নিয়োজিত থাকবে।

    পুলিশের বাইরে সারা দেশে বিজিবির এক হাজার ১৫১ প্লাটুনে ৪৬ হাজার ৮৭৬ সদস্য মাঠে নেমেছে। নির্বাচনকে ঘিরে ২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ১৩ দিন পুলিশ, র‌্যাব, সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে মাঠে থাকছে তারা। র‌্যাব সদর দপ্তরে ১৫টি টহল দল সেন্ট্রাল রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত থাকবে। দেশব্যাপী স্থাপন করা হয়েছে ২৫টি অস্থায়ী ক্যাম্প। এ ছাড়া দেশব্যাপী ৭০০টির অধিক টহল দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে। এদের সঙ্গে থাকবে পাঁচ লাখ ১৬ হাজার আনসার। সবমিলিয়ে সেনাসদস্যদের বাইরে সাড়ে সাত লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনের নিরাপত্তায় কাজ করছেন। আজ শুক্রবার সকালেই শেষ হয়েছে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা।

  • নির্বাচন উপলক্ষে মনিটরিং সেল গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস

    নির্বাচন উপলক্ষে মনিটরিং সেল গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও কো-অর্ডিনেশন সেল গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। নির্বাচনকালীন সহিংসতায় অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

    ঢাকাসহ দেশের যেকোনো প্রান্তে দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় করতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের পাশাপাশি বিশেষ সেল হিসেবে কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও কো-অর্ডিনেশন সেল কাজ করবে।

    ফায়ার সার্ভিস থেকে জানানো হয়েছে, এরই মধ্যে সারা দেশে ফায়ার স্টেশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে সকলকে স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে রাখা হয়েছে। নির্বাচনকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ফায়ারফাইটারদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারদেরকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্সসহ যাবতীয় অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    সারা দেশে জীবন ও মালামাল সুরক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো কাজে ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করা যাবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সেবা গ্রহণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন, বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ফোন নম্বরে বা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন ১৬১৬৩ নম্বরে ফোন করার জন্য সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

    পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের মোবাইল ফোন নম্বরেও ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯ কল করে জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।

  • নির্বাচন ঘিরে মাঠে নামছেন ৬৫৩ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট

    নির্বাচন ঘিরে মাঠে নামছেন ৬৫৩ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট

    আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ সম্পন্ন করতে আজ মাঠে নেমেছেন ৬৫৩ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের আইন শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এ বিষয়ে আইন শাখার যুগ্মসচিব মো. মাহবুবুর রহমান সরকার বলেছেন, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ৬৫৩ জন।

    কর্মকর্তারা আরও জানান, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা ভোটের আগে-পরে পাঁচ দিনের জন্য নিয়োজিত থাকবেন।

    গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, অপরাধ আমলে নিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই, ব্যালট পেপার ধ্বংস করা, ব্যালট বক্স ছিনতাই, ভোটদানে বাধা দেওয়া বা বাধ্য করা, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশকে ভোটের উপযোগী না রাখা, এই সমস্ত অপরাধগুলোর সংক্ষিপ্ত বিচার করতে পারবেন তাঁরা।

    এদিকে টানা ১৭ দিনের নির্বাচনী প্রচার শেষ হয় আজ শুক্রবার সকাল ৮টায়। তবে আগের রাত থেকেই প্রচার-পরবর্তী কাজ শুরু করে দেন প্রার্থীদের কর্মীরা।

    বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন আসন ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচনী কার্যালয়ে ভোটার স্লিপ তৈরির কাজ চলছে। যেখানে আছে ভোটার নম্বার, কেন্দ্রের নামসহ নানা তথ্য। এগুলো পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের বাড়ি গিয়ে। ভোটের দিন কেন্দ্রের বাইরে ক্যাম্প করেও ভোটার স্লিপ বিতরণ করা হবে বলে জানান কর্মীরা।

  • আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন

    আর মাত্র একদিন পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গত কয়েক দিন ধরে নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে। বিবিসি, রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট, আলজাজিরাসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর শিরোনাম হচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচন।

    নির্বাচন নিয়ে অধিকাংশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বেশ কয়েকটি দল অংশ নিচ্ছে। তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অনেক দল এই নির্বাচন বর্জন করেছে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছে তারা।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচনের ফল কী হবে, তা আগেই বোঝা যাচ্ছে। প্রধান বিরোধীরা নির্বাচন বর্জন করায় এবং তাদের অনেক নেতা কারাগারে থাকায় সংসদে টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

    বুধবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এক সময় বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন শেখ হাসিনা। তার সমালোচকেরা বলছেন, তিনি এখন এর (গণতন্ত্র) জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন’। একইদিনে সংবাদমাধ্যমটিতে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে রোববার ভোট, তরুণ ভোটাররা রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলামুক্ত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন’।

    ‘রোববার বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন’ শিরোনামে বার্তা সংস্থা রয়টার্সে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নৌকা প্রতীকের প্রচার-প্রচারণার কয়েকটি ছবি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) জরুরি ঋণসহায়তার প্রয়োজন পড়েছিল বাংলাদেশের। তা সত্ত্বেও টানা চার মেয়াদে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে বৃহস্পতিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    বুধবার নির্বাচন নিয়ে আলজাজিরার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ডামি’ প্রার্থী, জোর করে ভোট আদায়: বাংলাদেশের নির্বাচনি ‘নাটকের’ ভেতরের চিত্র’। বাংলাদেশে প্রধান বিরোধীরা রোববারের নির্বাচন বর্জন করেছে। নির্বাচনে ‘ডামি’ প্রার্থী দাঁড় করানোর অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে। ভোট দিতে মানুষকে হুমকি দিচ্ছে তারা।

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন একদলীয় শাসনে যাওয়ার শঙ্কা বাড়াচ্ছে’।

    ‘বাংলাদেশে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেও দৌড়ের ওপর রয়েছেন বিরোধীরা’ শিরোনামে বুধবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর দমন–পীড়ন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ বারবার বলেছে, নির্বাচন বানচাল করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বিএনপি।

    বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমগুলোয় নিয়মিত খবরের পাশাপশি মতামতভিত্তিক লেখা প্রকাশ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে দড়ি টানাটানির খেলা: ইসলামি মৌলবাদ বনাম গণতন্ত্র’।

    বৃহস্পতিবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ’।

  • সবজির ভরা মৌসুমে গরম বাজার

    সবজির ভরা মৌসুমে গরম বাজার

    শীতের শুরুতে সব ধরনের সবজির দাম কমলেও বিগত কয়েকদিন ধরে দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় ক্রেতারা বলছেন— শীতে সবজির ভরা মৌসুমে গরম বাজার। ব্রয়লার মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছের বাজার স্থিতিশীল আছে।

    শীতের মৌসুমে কেন সবজির দাম বাড়তি— এ বিষয়ে গুলশান সংলগ্ন লেকপাড় বাজারের সবজি বিক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, এটা ঠিক যে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। কারণ, গত মাসের শুরুতে আকস্মিক বৃষ্টিতে খেতে ফসল নষ্ট হয়েছে। হরতাল-অবরোধের প্রভাবও পড়েছিল। এখন নির্বাচনের কারণে অনেক কৃষক ভাবছে— নির্বাচনের পরেই ফসল তুলে বিক্রি করবে। সবকিছু মিলিয়ে বাজারে একটা প্রভাব পড়েছে। কারওয়ানবাজার পাইকারি মার্কেটেও মাল কম আসছে, আর বাড়তি দামও যাচ্ছে। আশা করা যায় কিছুদিনের মধ্যে বাজারে সবজি সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যাবে।

    চলতি সপ্তাহে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। দেশি পেঁয়াজ (পুরাতন) ১২০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ (নতুন) ৯০ এবং ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব বাজারে পেঁয়াজ (দেশি) ১৩০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

    শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৩০/৪০ টাকার সিম বাজারে এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীতের শুরুতে ফুলকপির দাম কমে ৩০ টাকা হলেও বর্তমান বাজারে ছোট ফুলকপির দাম ৫০ টাকা। বেগুন কিছুদিন আগেও ৫০/৬০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়। শীতের শুরুতে সবজির দাম কমলেও কয়েকদিনের ব্যবধানে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বাজারে।

    এদিন বাজারে গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, সিম প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৫০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৫০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৮০ টাকা, মিস্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা আর মুলা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি মানভেদে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, পেঁয়াজের ফুলকা প্রতি আঁটি ২০ টাকা, শালগম প্রতি কেজি ৫০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচা টমেটো প্রতি কেজি ৪০ টাকা, গাঁজর প্রতি কেজি ৬০ টাকা, খিঁড়া প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এছাড়া বাজারগুলোতে লাল শাক ১০ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৩০, মূলা শাক ১০ থেকে ১৫, পালং শাক ১৫ ও কলমি শাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

    বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। যা গত সপ্তাহে একই দামে বিক্রি হয়েছে। সোনালি, সোনালি হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামও আগের মতোই আছে। বাজারে সোনালি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩০০, দেশি মুরগি ৫০০-৫২০ ও লেয়ার ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ ও দেশি মুরগির ডিমের হালি ৮০ টাকায়। তবে গত সপ্তাহে লাল ডিম ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে।

    এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৫৮০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১০৫০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    বাজারে গরুর মাংসের দাম কিছুটা কম থাকায় মাছের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা, এক কেজি শিং মাছ (চাষের, আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৫০০, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০-৫৫০, মাগুর মাছ ৭০০-৯০০, মৃগেল ৩০০-৪৫০, পাঙ্গাস ২০০-২২০, চিংড়ি ৬০০-৮০০, বোয়ালমাছ ৪০০-৯০০, কাতল ৪০০-৬০০, পোয়া মাছ ৩৫০-৪০০, পাবদা মাছ ৪০০-৪৫০, তেলাপিয়া ২২০, কৈ মাছ ২২০-২৩০, মলা ৫০০, বাতাসি টেংরা ৯০০, টেংরা মাছ ৬০০-৭০০, কাচকি মাছ ৬০০, পাঁচ মিশালি মাছ ২২০, রুপচাঁদা ১ হাজার, বাইম মাছ ১০০০-১২০০, দেশি কই ১ হাজার, সোল মাছ ৬০০-৮০০, আইড় মাছ ৬০০-৮০০ এবং কাইকলা মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর শেওড়াপাড়া বাজারে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী জুয়েল আহমেদ। তিনি বলেন, শীতের মৌসুমে আগে কখনোই এত দামে সবজি কিনিনি। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে শীতকালে সবজির দাম কম থাকবে এটা সবার জানা। কিন্তু আজ বাজারে এসে দেখলাম সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। সবকিছুই প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। সামান্য অজুহাতে বেড়ে যায় দাম। যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সংশ্লিষ্টরা আর বিপদে পড়ি আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে যে সবজির দাম চলছে, তা সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার ছাড়া আর কিছুই না।

  • ঠাণ্ডা হাওয়ায় কাঁপছে উত্তরাঞ্চল

    ঠাণ্ডা হাওয়ায় কাঁপছে উত্তরাঞ্চল

    ঘন কুয়াশার পাশাপাশি ঠাণ্ডা হাওয়ায় কাঁপছে বিভিন্ন জনপদ। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের মধ্যেই বৃষ্টির আভাস দিলো আবহাওয়া অধিদফতর। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে।

    আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, আজ শুক্রবার (৫ জানুয়ারী) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনাজপুর এবং পঞ্চগড় জেলাসমূহের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে যা অব্যাহত থাকতে পারে। অনেক স্থানে দুপুর পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।

    কুড়িগ্রামে আজ শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সকাল ৭টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    এদিকে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় দুপুর পর্যন্ত বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষজন প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে সময়মতো কাজে বের হতে পারছেন না।

    পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর তিন ঘণ্টা আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আজ সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কুয়াশা কেটে ভোরেই পুবালি আকাশে জেগে উঠেছে সূর্য। তবে সূর্য উঠলেও কনকনে শীতের তাণ্ডবে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। শীতের কারণে বিপাকে পড়েছেন পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, দিনমজুর থেকে শুরু করে রিকশা-ভ্যানচালকসহ শ্রমজীবী মানুষ। এতে করে কমে গেছে তাদের দৈনন্দিন রোজগার। পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছেন। বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীতার্তদের শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে নিম্ন আয়ের মানুষদের কাজে বের হতে দেখা দেখা গেছে।

    সেই সঙ্গে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায়। এ জনপদে কনকনে হিম বাতাসে জেঁকে বসেছে শীত। গত দুদিন ধরে এ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

    শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। পরে তাপমাত্রা কমে সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা মিলেছে সূর্যের।

    এদিকে, ঘন কুয়াশার কারণে গতরাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ৭টি ফ্লাইট নামতে পারেনি।

    আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে— অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা যশোর, কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে অতিঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। অতি ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এ ছাড়া দিনাজপুরে রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা।