Blog

  • শোরুমে গিয়ে পালাতে বাধ্য হলেন পরীমনি

    শোরুমে গিয়ে পালাতে বাধ্য হলেন পরীমনি

    ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। সম্প্রতি রাজধানীর একটি শপিংমলে শোরুম উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন তিনি। উদ্বোধন করতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান এ অভিনেত্রী।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা গেছে, দর্শকরা আয়োজক ও পরীমনিকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিচ্ছেন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় পরীমনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এরপরে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে পুরো আয়োজনে বিশৃঙ্খলার জন্য আয়োজকদের দায়ী করেছেন এ অভিনেত্রী।

    গত শনিবার (১৬ নভেম্বর) যমুনা ফিউচার পার্কে একটি শোরুম উদ্বোধন করতে যান পরীমনি ও অভিনেতা ডি এ তায়েব। এ সময় তাকে দেখার জন্য সেখানে ভিড় জমান অনুরাগীরা। ভিড়ের কারণে শোরুম উদ্বোধনের সময় কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি দোকান মালিকরা। আর এতেই তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। এক পর্যায়ে দর্শকরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় পরীমনিকে বলতে শোনা যায়— আপনারা যে এই স্লোগানটি দিচ্ছেন, এটি কিন্তু আমার ওপরও পড়ছে।

    এ অভিনেত্রী আরও বলেন, আমার সঙ্গে কখনো এমন ঘটেনি। প্লিজ আপনারা শান্ত হন। আপনাদের সহযোগিতাতেই আজ আমি এখানে। আপনাদের জন্যই আজ আমি এখানে এসেছি। আপনারা প্লিজ নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বন্ধ করুন। আপনারা প্লিজ কারও প্রতি ক্ষোভ, কারও প্রতি অভিমানে বিশৃঙ্খলা করবেন না। তবু থামেননি দর্শকরা। এরপরই স্টেজ ছেড়ে সেখান থেকে চলে যান এ অভিনেত্রী।

    এদিকে এ ঘটনা নিয়ে গত শনিবার রাতে এক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন পরীমনি। যেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য আয়োজকদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন—যেখানে আমার সামনে আমার সাংবাদিক ভাই, বন্ধু, কলিগরা অসম্মানিত হয়; সেখানে আমি কী করে সম্মানিত বোধ করব। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে কোনো আয়োজন না করতে পারলে সেই ব্যর্থতা কারোর কোনো ক্ষমতা দিয়ে ঢাকতেই পারবেন না। অবশ্যই নিজ সম্মান বজায় রাখতে সংবেদনশীল হবেন আশা করি।

  • শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

    শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

    দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে ১৪ ডিগ্রির ঘরে। তবে বর্ধিত ৫ দিনে রাত ও দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এতে বাড়তে পারে শীতের অনুভূতি। সেই সঙ্গে শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এদিন সকালে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে রোববার (১৭ নভেম্বর) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে, ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান জানিয়েছেন, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। পাশাপাশি এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই অবস্থায় মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

    তবে এই সময়ে সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    পরদিন বুধবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি রংপুর বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

    এছাড়া এই সময়ে সারাদেশের দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে আগামী বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি এই সময়ে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। সেই সঙ্গে শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। তবে বর্ধিত ৫ দিনে রাত ও দিনের তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • গাজায় গণহত্যার তদন্তের আহ্বান পোপের

    গাজায় গণহত্যার তদন্তের আহ্বান পোপের

    ফিলিস্তিনের গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যার আন্তর্জাতিক তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় গণহত্যা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

    গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই হামলায় হাজার হাজার টন বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাণ গেছে প্রায় ৪৪ হাজার হাজার ফিলিস্তিনির। আহত হয়েছে এক লাখের বেশি মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনির প্রায় সবাই।

    গাজায় যা ঘটছে তার মধ্যে গণহত্যার বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েলের আচরণে গণহত্যার বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে।

    ইতালির সংবাদমাধ্যম লা স্ট্যাম্পায় এক সাক্ষাৎকারে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘কিছু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, গাজায় যা ঘটছে তার মধ্যে গণহত্যার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমাদের সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করে দেখা উচিত যে সেখানে গণহত্যা হয়েছে কি না।’

    পোপ ফ্রান্সিস সাধারণত আন্তর্জাতিক সংঘাতে কোনো পক্ষ না নিতে এবং সবাইকে শান্ত থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের সমালোচনা করেছেন তিনি।

    এদিকে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের বোমা থেকে বাদ যাচ্ছে না ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণা দেওয়া এলাকাগুলোও। স্থানীয় সময় গত শনিবারের হামলায় প্রাণ গেছে শতাধিক মানুষের। আহত হয়েছে অনেক ফিলিস্তিনি।

  • কোয়ার্টারে ফ্রান্স, ইংলিশদের চমক

    কোয়ার্টারে ফ্রান্স, ইংলিশদের চমক

    সমীকরণটা এমন ছিলো যে ইতালি যদি ফ্রান্সের সঙ্গে ড্র’ও করেও তখনো তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কোয়ার্টারে কোয়ালিফাই করবে। যদিও সে সুযোগ দেয়নি ফ্রান্স। গতকাল রাতে ইতালিকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কোয়ার্টারে পা রেখেছে ফ্রান্স। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ইংল্যান্ড।

    মিলানে শুরু থেকেই ইতালিকে চাপে রেখে খেলতে থাকে ফ্রান্স। সাফল্য পেতেও খুব একটা সময় অপেক্ষা করতে হয়নি তাদের। ম্যাচের মাত্র দুই মিনিটের মাথায় দলকে এগিয়ে নেন এড্রিয়েন রাবিয়োট। লুকাস দিনিয়ের কর্ণারে বক্সের ভেতর লাফিয়ে হেডের মাধ্যমে গোলের ঠিকানা খুঁজে নেন এই মিডফিল্ডার।

    ম্যাচের ৩৩ মিনিটে আবারও পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। দিনিয়েরের ফ্রি কিক গোল পোস্টে লেগে ভিকারিও’র গায়ে লেগে বল চলে যায় জালে। ২ মিনিট পর আন্দ্রেয়া ক্যাম্বিয়ানো এক গোল পরিশোধ করলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ইতালি। ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় অতিথিরা।

    দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে রাবিয়োট নিজের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান ৩-১ এ নিয়ে যান। দিনিয়েরের ফ্রি কিক থেকে দ্বিতীয় গোলটিও হেডে আদায় করে নেন এই মিডফিল্ডার।

    খেলার বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাসিরা। এবারের আসরে দু’দলের প্রথম দেখায় গত সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে প্রথম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার পরও ৩-১ ব্যবধানে হেরেছিল ফ্রান্স। এবার সেই প্রতিশোধই নিলো ফরাসিরা।

    এই জয়ে ছয় ম্যাচে চার জয় ও এক ড্র নিয়ে ফ্রান্সের পয়েন্ট ইতালির সমান ১৩ থাকলে গোল ব্যবধানে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা এগিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কোয়ালিফাই করে তারা।

    অন্যদিকে রাতের আরেক ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৫-০ গোলে তুলোধুনা করে আরেক গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ইংল্যান্ড।

    ম্যাচে আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ডেডলক ভাঙতে পারছিল না ইংল্যান্ড। সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশিংয়ের কারণে গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্বাগতিকরা। ফলে গোলহীনভাবে শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।

    বিরতির পর আইরিশদের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে সফলতা পায় ইংলিশরা। ৫৩ থেকে ৫৮ মিনিট এই ৫ মিনিটের ঝড়ে উড়ে যায় আয়ারল্যান্ড। সফল স্পটকিক থেকে গোলের সূচনা হয় হ্যারি কেইনের মাধ্যমে।

    ৫৫ মিনিটে আবারও গোল উদযাপনে মাতে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে আসা বলে দারুল ভলিতে স্কোরলাইন ২-০ করেন অ্যান্থনি গর্ডন।

    তিন মিনিট পর আলতো টোকায় ইংলিশদের ৩-০ গোলের লিড এনে দেন কনর গ্যালঘার। এরপর ৭৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে বোয়েন ও ৭৯ মিনিটে টেইলর হারউড বেলিস গোল করলে ৫-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের।

    গ্রুপের আরেক ম্যাচে ফিনল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারানো গ্রিসের পয়েন্টও ১৫। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে দুইয়ে আছে তারা, শীর্ষ পর্যায়ে ওঠার প্লে-অফ খেলবে তারা। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আয়ারল্যান্ড। ছয় ম্যাচের সবগুলোই হেরেছে ফিনল্যান্ড।

    ইংল্যান্ডের এই জয়ের মাধ্যমে দলটির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ লি কার্সলির অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। আগামী বছর টমাস টুখেলের কোচিংয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করবে ইংলিশরা।

  • মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

    মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কাজ এক মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    আজ সোমবার (১৮ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকায় শেখ হাসিনার মামলাটিও ছিল। শুনানি শেষে তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার তদন্তকাজ শেষের সময় নির্ধারণ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া পরোয়ানাভুক্ত আরও ৪৫ আসামিদের বিষয়েও তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

    এর আগে, জুলাই-আগস্টে গণহত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ৯ মন্ত্রীসহ ১২ আসামিকে এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে সাবেক কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক অসুস্থ থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়নি।

    হাজির করা আসামিদের মধ্যে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে, সাবেক পাঠ ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম রয়েছেন।

    কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

    এরপর গত ২৭ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১০মন্ত্রী, দুই উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতি ও সাবেক এক সচিবসহ মোট ১৪ জনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে (শোন এরেস্ট) ১৮ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এই ট্রাইব্যুনালে আগামী ২০ নভেম্বর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে হাজির করার জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

  • খেলাপি ঋণের সব তথ্য সামনে আনলে ভয়াবহ তথ্য মিলবে!

    খেলাপি ঋণের সব তথ্য সামনে আনলে ভয়াবহ তথ্য মিলবে!

    দেশের ব্যাংকখাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা বিপুল অঙ্কের ঋণ খেলাপি। যা ১৫ বছরে বেড়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। আর গেল সেপ্টেম্বর শেষে বিতরণ হওয়া মোট ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৮২১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ঋণের মধ্যে ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশই খেলাপি। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এই খেলাপি ঋণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেড়েছে বেপরোয়া গতিতে। ব্যাংকাররা বলছেন, খেলাপি ঋণের তথ্য যেভাবে গোপন করা হয়েছে তা যদি পুরোপুরি সামনে আনা হয় তাহলে আরও ভয়াবহ তথ্য মিলবে।

    দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন সময় খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নানা অঙ্গীকার করলেও তা রক্ষা করা হয়নি।

    আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়েছে বেপরোয়া গতিতে। আর্থিক খাতে সুশাসন না থাকায় বড় বড় জাল-জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এর মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের প্রায় সবই খেলাপি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে খেলাপি ঋণ।

    আর এসব ঋণের পেছনে দায় থাকার অভিযোগ রয়েছে এস আলম, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও সালমান এফ রহমানের মতো অনেকের বিরুদ্ধে। শুধু ঋণ নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। লাখ কোটি টাকার বেশি করেছে পাচার।

    ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। সেখান থেকে এখন বেড়ে ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। অর্থাৎ পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের আমলে খেলাপি ঋণ বেড়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৮২১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সেই হিসাবে খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ২৬ হাজার ১১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ৪০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

    এছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৪৯ হাজার ৮০৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সেই সাথে এ সময়ে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন হাজার ২৪৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের চার দশমিক ৯৯ শতাংশ। একই সাথে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৮১৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ।

    ব্যাংকাররা বলছেন গত ১৫ বছরে খেলাপি ঋণের তথ্য যেভাবে গোপন করা হয়েছে তা যদি পুরোপুরি সামনে আনা হয় হয় তা আরও ভয়াবহ বেড়ে যাবে।

    ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রিতে লুটপাট হয়েছে। সে লুটপাট পত্রিকায় যা আসে তার চেয়ে বেশি হয়েছে। এই যে ব্যাংকিং খাতে বলা হচ্ছে দুই লাখ ৮৫ হাজার মানে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি খেলাপি আছে। আমি বলবো যে প্রকৃত সব পর্দা যদি উন্মোচন করা হয় তাহলে সেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে।’

    শুধু সঠিক ঋণের তথ্য নয়, ঋণের বিপরীতে রাখা জামানতের মাধ্যমে ছোট ঋণ আদায় এবং ফরেন্সিক নিরীক্ষার মাধ্যমে বড় ঋণ আদায় করে ব্যাংক খাতের দুরবস্থা কমানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

    অর্থনীতিবিদ আল আমিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যাদের কিছু কো-লেটারার খুঁজে পাওয়া যাবে বা মর্টগেজ খুঁজে পাওয়া তা অকশনে তুলে টাকা আদায় করার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু ম্যাক্সিমাম যে বড় বড় ঋণগুলো যেগুলো বেনামে হয়েছে তাদের ধরলে হয়তো জানাও যাবে না যে আসলে মাস্টারমাইন্ড করার ছিল। এজন্য ফরেনসিক অডিটটা খুব জরুরি এখানে। তার মাধ্যমেই বের হয়ে আসবে রিলেটেড পার্টি কারা।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ফিগারগুলো বলবো এবং এগুলো নিয়ে আলোচনা করবো, দিনশেষে যদি এগুলোকে রিকভারির প্ল্যান না থাকে, তাহলে মূলধারা অর্থনীতির টাকাগুলো ফেরত আসবে না। এবং অর্থনীতির যে মন্দা চলছে বা ব্যাংকগুলোর যে দুরবস্থা চলছে তাতে কিন্তু অনেক ধরনের সমস্যা এই ব্যাংকগুলোই ফেস করবে।’

    সেই সাথে ঋণ আদায়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণের মাধ্যমে যারা ব্যাংক খাতের ক্ষতি করে আসছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

  • ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহর মুখপাত্র নিহত

    ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহর মুখপাত্র নিহত

    লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লার মিডিয়া প্রধান ও মুখপাত্র মোহাম্মদ আফিফ নিহত হয়েছে। রাজধানী বৈরুতের মধ্যাঞ্চলে রাস আল-নাবা এলাকায় বাথ রাজনৈতিক দলের সদর দপ্তরে ইসরাইলি হামলায় তিনি নিহত হন। লেবাননের শক্তিশালী এই গোষ্ঠীটি তার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    যে ভবনে হামলা চালানো হয়েছিল, সেটি ছিল সিরিয়ান বাথ পার্টির লেবানন শাখার কার্যালয়। লেবাননের সরকারি বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, বাথ পার্টির লেবানন শাখার সেক্রিটারি জেনারেল আলি হিজাজি হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম কর্মকর্তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলের সেনাবাহিনী এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এ হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজন নিখোঁজ আছেন। ঘটনাস্থল থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।

    ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, রাস আল-নাব্বা এলাকায় শত্রুপক্ষ বিমান হামলা করে মহা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এতে বেশ কিছু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে। রাস আল-নাব্বা এলাকাটি ফ্রান্স দূতাবাস ও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে।

    হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে ঘিরে থাকা সংগঠনটির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বলয়ের একজন ছিলেন আফিফ। বেশ কয়েক বছর ধরে আফিফ হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। প্রায়ই নাম না প্রকাশ করে তিনি স্থানীয় ও বিদেশি সাংবাদিকদের তথ্য সরবরাহ করতেন।

    আফিফ অল্প বয়সে হিজবুল্লাহতে যোগ দেন। ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইল যখন যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তখন প্রথম হিজবুল্লাহর টেলিভিশন চ্যানেল আল-মানারের তথ্য পরিচালক হিসেবে পরিচিতি পান আফিফ।

    গত ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানী বৈরুতের পাশাপাশি লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অপারেটিভস, অবকাঠামো এবং অস্ত্রাগারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চলছে।

  • ‘অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ৪ বছরের কম হবে’

    ‘অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ৪ বছরের কম হবে’

    অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। তবে এই মেয়াদ সর্বোচ্চ ৪ বছরের কম কিংবা আরও কম হতে পারে বলে জানান তিনি।

    আল-জাজিরা টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এই কথা জানান প্রধান উপদেষ্টা।

    সম্প্রতি আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্মেলনের ফাঁকে কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ যেসব সংকট মোকাবিলা করছে সেগুলো নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি বাংলাদেশ নিয়ে তার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। রোববার এই ভিডিও সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করেছে আল–জাজিরা।

    বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনের সঠিক সময় কখন হবে, সে বিষয়ে ড. ইউনূসের কোনো ভাবনা আছে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘না। আমার মাথায় এমন কিছু নেই।’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সীমা কী হতে পারে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা স্থায়ী সরকার নই। নিয়মিত সরকার পাঁচ বছরের হয়। নতুন সংবিধানে সরকারের মেয়াদ সম্ভবত চার বছর হতে পারে। কারণ, মানুষ সরকারের মেয়াদ কম চায়। সুতরাং এটা চার বছরের কম হওয়া উচিত, এটা নিশ্চিত। এটা আরও কম হতে পারে। এটা পুরোটা নির্ভর করছে মানুষ কী চায়, রাজনৈতিক দলগুলো কী চায় তার ওপরে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো চায় এটা (সংস্কার) ভুলে যাও, নির্বাচন দাও। তাহলে সেটা করা হবে।’

    তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে তিনি চার বছর থাকছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমি তা বলিনি যে চার বছর। আমি বলেছি, এটা সর্বোচ্চ মেয়াদ হতে পারে। তবে আমাদের উদ্দেশ্য তা নয়। আমাদের উদ্দেশ্য যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা।’

    চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পুরো সরকারব্যবস্থা সংস্কার হবে। মানুষ নতুন কিছু চায়। সেখানে সব ক্ষেত্রে সংস্কার হবে। এমনকি সংবিধানও সংস্কার হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুটো প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলছে নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং সব সংস্কার শেষ করার প্রস্তুতি।

    ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে যাওয়া শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে সাক্ষাৎকারে। প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেছেন, তিনি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। সেখান থেকে বাংলাদেশে বিক্ষোভের ডাক দিচ্ছেন। এগুলো বাংলাদেশের জন্য উপকারী নয়। তাই ভারতের কাছে তারা এসব বিষয়ে বলছেন। তাকে আশ্রয় দিচ্ছে, ঠিক আছে। কিন্তু এমনটা হতে থাকলে তাদের কাছে আবার অভিযোগ করা হবে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার প্রত্যাবর্তন চাওয়া হবে।

    ভারতের সঙ্গে মিলে অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা করতে চান বলে উল্লেখ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দুর্নীতির নিমজ্জিত ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দেশকে বের করে চেষ্টা করছে তার সরকার।

  • মাটিরাঙ্গার অপরাধ আখড়া

    মাটিরাঙ্গার অপরাধ আখড়া

    স্টাফ রিপোর্টার মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) থেকে ফিরে

    খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড এলাকা এখন চিহ্নিত অপরাধ আখড়ায় পরিনত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে সেখানে খুন, ধর্ষণ, মাদক, ক্যাসিনো জুয়া, জাল ডলার ও তক্ষক বাণিজ্যের নিরাপদ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আছে পদে পদে প্রতারণা আর কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া তাণ্ডব। এসব ক্ষেত্রে বরাবরই পুলিশের ঢিলেঢালা অবস্থান থাকার কারণে চিহ্নিত অপরাধীরা দিন দিনই বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

    পুলিশ বলছে, সেখানে অপরাধ অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গেলেই ক্ষমতাসীন দলের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা বাধা হয়ে দাড়ায়। কিন্তু এ ব্যাপারে পাল্টা অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, তক্ষক ও জাল ডলার প্রতারণা চক্রের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা পাওয়ার কারণে পুলিশ ৯ নং ওয়ার্ড এলাকাকে অপরাধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। সেখানে টহল পুলিশ পর্যন্ত ঢুকে না। কোনো অপরাধ সংঘটনের খবর দেয়া হলেও পুলিশ রসুলপুর এলাকায় ঢুকতে গড়িমসি করে থাকে। যে কারণে সাধারণ মারামারির ঘটনাতেও ভুক্তভোগিরা ট্রিপল নাইনে ফোন করে তবেই পুলিশের নাগাল পান বলে জানিয়েছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, অতিসম্প্রতি রসুলপুর এলাকায় সৈনিক লীগের সভাপতিকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক করা হয়। কিন্তু দুর্বল পুলিশ প্রতিবেদনের সুযোগে ওই নেতা কয়েকদিনের মধ্যে জামিনে এসেই ইয়াবার বড় চালানদার হয়ে উঠেছেন। তার সঙ্গে পুলিশের এখন গলায় গলায় পীড়িত। ওই নেতাই এখন রসুলপুরের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে উঠেছেন।

    রসুলপুর, মুসলিম পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় দুই ডজনেরও বেশি তক্ষক প্রতারকের সরব অবস্থান রয়েছে। প্রতিদিনই সেখানে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত তক্ষক ক্রেতাদের আনাগোণা দেখতে পাওয়া যায়। সংঘবদ্ধ তক্ষক চক্র প্রায়ই ক্রেতাদের মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে তাদের মারধোর করে বিভিন্ন বাড়িঘরে আটক করে রাখে। পরে তাদের স্বজনদের থেকে বিকাশের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে তবেই ছেড়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগিরা নতুন করে ঝক্কি ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কায় থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ নিয়ে যায় না বলে জানা গেছে। ইদানিং তক্ষক প্রতারকদের চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে রসুলপুরের জাল ডলার চক্র। উভয়চক্রের মূল হোতারা থানার তালিকাভুক্ত অপরাধী হওয়া সত্তেও অজ্ঞাত ক্ষমতাবলে বুক ফুলিয়ে বিচরণ করে থাকে।

    সব মিলিয়ে মাত্র ৩০/৩৫ জন চিহ্নিত অপরাধীর কাছে গোটা ৯ নং ওয়ার্ডের কয়েক হাজার বাসিন্দা জিম্মী হয়ে আছে। এ অপরাধীরাই এলাকার বিচার আচার থেকে শুরু করে সমাজ কমিটি পর্যন্ত পরিচালনা করে থাকে। তারা অস্ত্রশস্ত্রে বলিয়ান ও সংঘবদ্ধ থাকায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে টু শব্দটি করতেও সাহস পায় না।

    রসুলপুরের পাড়ায় পাড়ায় কিশোর গ্যাং ও ক্যাসিনো জুয়ারও ব্যাপক দৌরাত্ম্য রয়েছে। রিকসা-ভ্যান চালক, খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্র ছাত্রীদের মাঝেও ক্যাসিনো খেলার ধুম লক্ষ্য করা যায়। পাড়ার মোড়ে মোড়ে, দোকানপাটের সামনে ক্যাসিনো জুয়াড়িদের ভিড় লেগেই থাকে। এসব ব্যাপারে পুলিশের বিন্দুমাত্র ভূমিকা নেই। ফলে কিশোর গ্যাংয়ের নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আর ক্ষুদে জুয়াড়িদের অহরহ চুরি চামারির ধকল পোহান বাসিন্দারা।

    অপরাধ আখড়া ৯ নং ওয়ার্ড এলাকায় মাত্র দুই বছরে অন্তত চারটি নৃশংস হত্যাকান্ড, তিনটি ধর্ষণ, প্রায় বিশটি জবর দখল, ছয়টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ ঘটনা পুলিশি মধ্যস্থতায় মিটমিমাংসা করারও অভিযোগ রয়েছে।

  • আহারে সাংবাদিক! আহারে সাংবাদিকতা!!

    আহারে সাংবাদিক! আহারে সাংবাদিকতা!!

    আহারে সাংবাদিক, আহারে সাংবাদিকতা! সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া সংবাদ ছাপাতে এতটাই উৎসাহী থাকেন সাংবাদিকরা যা অন্য কোনো পেশায় বিন্দুমাত্র নজির দেখতে পাওয়া যায় না। মূলত সাংবাদিক হিসেবে অপর সাংবাদিকের প্রতিহিংসা, বিরোধ, আক্রোশের কারণেই বেশিরভাগ সংবাদ প্রকাশের নজির বিদ্যমান। কিন্তু খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় যা ঘটলো তা কোন ক্রাইটেরিয়ায় ফেলবো সেটি খুঁজে পাচ্ছি না।
    সেখানে দৈনিক কালের প্রতিচ্ছবি পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক হাসান আল মামুন ও তার পরিবারের উপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তার গাড়ি আটকায় এবং গাড়ির গ্লাস ভাংচুর করে হাসান আল মামুন, তার স্ত্রী রত্না হাসান ও মেয়ে জান্নাত কে টেনে হিঁচড়ে নামায়। তারা রড, পাইপ, লাঠিসোটা দিয়ে সবাইকে বেধড়ক মারধোর করে এবং হাসান আল মামুনকে রীতিমত হত্যার অপচেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
    এই ঘটনায় মামলা হয়েছে, আসামি গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানের পর অভিযান চালাচ্ছে। সে খবরটি প্রকাশের ব্যাপারে ওই উপজেলার সংবাদদাতাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই, ছিলও না। কিন্তু তাদের আগ্রহ ছিল ভিন্ন জায়গায়।
    একজন সম্পাদকসহ তার পরিবারের উপর ন্যাক্কারজনক হামলাকারীদের সরাসরি পক্ষ নিলেন স্থানীয় সংবাদদাতারা। তারা অভিযুক্তদের কথিত এক সংবাদ সম্মেলন দেখিয়ে একপেশে সংবাদ প্রস্তুত করে নিজেদের নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশ করলেন। যদিও প্রথম শ্রেনীর কোনো পত্রিকায় সে সংবাদকে পাত্তাও দেয়া হয়নি। তারা প্রকাশিত সংবাদে কি বোঝাতে চাইলেন তা আমার মত অল্প শিক্ষিত পাঠক বুঝতেই পারলাম না। সে সংবাদে একবার বলতে চাইলেন যে, এলাকার একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করিয়ে দেয়ার জের হিসেবে ওই সম্পাদকের উপর হামলা হয়েছে। আবার বললেন, এলাকার লোকজনের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের রিপোর্ট অনুযায়ী আহত সম্পাদক হাসান আল মামুনের মাথায় এক ইঞ্চি পরিমান গভীর এবং আড়াই ইঞ্চি দীর্ঘ ক্ষত থেকে অতিরিক্ত পরিমাণ রক্তক্ষরণ হওয়ার বর্ণনা রয়েছে। বলা হয়েছে এ আঘাত ভারি লৌহ দন্ডের। হাতাহাতির ঘটনায় বুঝি এমন ক্ষত হয়?
    তাছাড়া ঘটনাস্থলে পুরুষ হিসেবে হাসান আল মামুন, মহিলা হিসেবে তার স্ত্রী রত্না হাসান এবং তার চার শিশু সন্তান ছিল গাড়িতে। অপরপক্ষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, রড, লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে অপেক্ষারত ছিল ১২/১৩ জন হামলাকারী। একজনের সঙ্গে ১২/১৩ জনের মারামারি হয় কখনও? নাকি ১২/১৩ জন মিলে একজনের উপর হামলা চালায়?
    সংবাদ সম্মেলনে এটুকু যৌক্তিকতা বুঝতে না পারলে, তা নিয়ে প্রশ্ন করতে না পারলে সেই সংবাদ সম্মেলন কাভারেজ দেয়ার এতো দায়বদ্ধতা পেলেন কোত্থেকে? সংবাদ সম্মেলন আর প্রেস রিলিজ এক কথা নয়। সেখানে অযৌক্তিক বা মিথ্যা তথ্য কেউ গেলানোর চেষ্টা করলে সাংবাদিককে অবশ্যই তা প্রশ্ন তুলতে হবে এবং ক্রসচেক করতে হবে। ক্রসচেকের নামে কেউ কেউ আহত সম্পাদক হাসান আল মামুনের যে মনগড়া বক্তব্য দিয়েছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, রক্তাক্ত জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিতসাধীন থাকাকালে কাউকে কোনো রকম বক্তব্য দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। তাহলে কি দাঁড়ালো?
    আপনি বস্তুনিষ্ঠ হবেন, সত্যবাদী হবেন, আপসহীন হবেন- তাই বলে নিজ পেশার আরেক ভাইয়ের প্রতি আপনার বিন্দুমাত্র দায়বোধ, মমত্ববোধ থাকবে না? আপনি তার উপর হামলার ঘটনাকে মারামারি হিসেবে প্রচার করবেন, রক্তাক্ত একজন সাংবাদিকের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনবোধ করবেন না, একজন সম্পাদককে কথিত সম্পাদক হিসেবে পরিচিত করার পাঁয়তারা চালাবেন,,, এটাই বুঝি সাংবাদিকতার বিবেক? এটাই বস্তুনিষ্ঠতা?
    সাংবাদিকদের ব্যক্তি বিরোধ, আক্রোশ, প্রতিহিংসার কারণেই বারবার হামলা, নির্যাতন, হয়রানির ধকলে পড়ে আর প্রতিবারই কিছু দালাল সাংবাদিকের চেহারা উন্মোচিত হয়। আপনি, আমি সেই কাতারভুক্ত হয়ে পড়ছি কি না সেটাও ভেবে দেখার বিষয়।