Logo
শিরোনাম :
রাঙ্গামাটিতে ইউএনডিপি ও জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে পরিচিতি ও অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত। মাইকেল চাকমার ইউপিডিএফ”-মাসে ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে – রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার রাঙ্গামাটিতে পর্যটন খাতের উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। মিয়ানমার থেকে পাচারকালে বিজিবির অভিযানে ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ, আটক ২ পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুনের মতবিনিময় সভা “প্রিয় নবীজি(স.)’র দেশে” বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠা মুসলিম বিশ্বের জন্য ঐতিহাসিক দলিল। বাংলাদেশের মাটিতে শেখ হাসিনার কবর হবে না—রাঙামাটিতে সারজিস আলম। কাপ্তাইয়ে প্রথম জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পের উদ্বোধন চট্টগ্রাম ডিআইজি’র রাঙ্গামাটিতে আগমন উপলক্ষে বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ ঘোষণা: এমপি দীপেন দেওয়ান

মৃত্যুকে হার মানাল ডা. গৌরবরা : নতুন জীবন পেল সাপে কাঁটা রুবেল!

বিশেষ প্রতিবেদক(গিরি সংবাদ) / ৩১০ বার দেখা হয়েছে
শেষ আপডেট : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

গত ৭এপ্রিল দুপুরে রাঙামাটি শহরের ইসলামপুরের ১৪ বছরের কিশোর রুবেলের ডান হাতে একটি কিং কোবরা (শঙ্খচূড়) কামড় দেয়। সাপটি চিনতে পারেনি রুবেল। তখনো কেউ ভাবেনি সামনের ১৮ ঘণ্টা কতটা ভয়াবহ হতে চলেছে।

রুবেলের শরীরে নিউরোটক্সিক বিষ ছড়াতে শুরু করল। আজ সকালে যখন রাঙামাটির হৃদরোগীদের ভরসা ডা. উসা মং Usamong Marma রুবেলকে দেখতে এলেন, তিনি দেখেই বুঝে গেলেন বিপদ কতটা গভীরে। রুবেল চোখ মেলে তাকাতে পারছে না—চোখের পাতা ভারী হয়ে নেমে আসছে। সারা শরীর বিষের প্রভাবে অবশ হয়ে আসছে।

সবচেয়ে আতঙ্কজনক মুহূর্তটি এল যখন তাকে পানি পান করতে দেওয়া হলো। রুবেল পানিটুকু গিলতে পারল না; গলার মাংসপেশি অবশ হয়ে যাওয়ায় সেই পানি নাক দিয়ে বেরিয়ে এল। এটিই ছিল শেষ সংকেত—শ্বাসতন্ত্রের পেশিগুলো যেকোনো সময় কাজ করা বন্ধ করে দেবে!

হাসপাতালের করিডোরে তখন শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা। খবর গেল ডা. গৌরব দেওয়ানের Gourab Dewan কাছে—যিনি আদিবাসীদের মধ্যে প্রথম মেডিসিনে এফসিপিএস এবং বাংলাদেশের সাপের কামড় ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকার অন্যতম কারিগর।

জীবন-মৃত্যুর এই দাবার ছকে রুবেলকে বাঁচাতে তিনি নিজের হাতে হাল ধরলেন। সঙ্গে রয়েছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উসা মং এবং ইন্টার্ন ডা. উ মে সহ চিকিৎসক দল Sawkat Akbar, Nuyan Khisa । পুরো ওয়ার্ডে যেন পিনপতন নীরবতা। রুবেলের শরীরে পুশ করা হলো অ্যান্টি-ভেনম। প্রতিটি সেকেন্ড যেন একেকটি যুগের মতো কাটছে।

চিকিৎসক দল আর রুবেলের পরিবারের চোখেমুখে তখন প্রার্থনা আর বিজ্ঞানের এক অদ্ভুত লড়াই। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—বিষের প্রভাব কি কমবে? না কি পেশিগুলোর অসাড়তা কেড়ে নেবে প্রাণবায়ু?

কয়েক মিনিট পর চিকিৎসকদের চোখেমুখে তৃপ্তির আভা দেখা দিল। রুবেলের সেই ভারী হয়ে আসা চোখের পাতাগুলো কাঁপতে শুরু করল। সে অস্পষ্ট স্বরে কিছু বলার চেষ্টা করল। যে আঙুলগুলো পাথর হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো সামান্য নড়ে উঠল। যমদূতকে দরজার ওপাশ থেকে ফিরিয়ে দিয়ে চিকিৎসকরা রুবেলকে ছিনিয়ে আনলেন জীবনের এই পাশে।

বাংলাদেশের সাপের কামড় ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন আর একদল নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসকের হাত ধরে মৃত্যু আজ হেরে গেল। আজ রুবেলের নতুন জন্মের দিন।
………………………………………………………………….
শিক্ষণীয় ও কিছু তথ্য:
সাপের বিষ প্রধানত দুই ধরনের প্রভাব ফেলে:

নিউরোটক্সিক (Neurotoxic): যেমন গোখরো বা কিং কোবরা। এই বিষ সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রকে অবশ করে দেয়। চোখের পাতা পড়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা গিলতে না পারা এর লক্ষণ। শেষ পর্যায়ে শ্বাসকষ্ট হয়ে রোগী মারা যায়।

হিমোটক্সিক (Hemotoxic): যেমন রাসেলস ভাইপার বা গ্রিন পিট ভাইপার। এই জাতীয় সাপের বিষ রক্ত নষ্ট করে দেয়, ফলে শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং কিডনি অকেজো হয়ে রোগী মারা যায়।

মনে রাখবেন:
সাপে কামড় দিলে রোগীকে অবশ্যই ১৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। অনেক সময় বিষের লক্ষণ দেরিতে প্রকাশ পায়। পাহাড়ি অঞ্চলে পাহাড়ি অনেকেই ধৈর্য হারিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে ওঝা বা কবিরাজের কাছে যান, যা মৃত্যু ডেকে আনে। সাপে কামড়ালে ওঝা নয়, একমাত্র হাসপাতালেই সঠিক চিকিৎসা সম্ভব।#


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ