
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শুক্রবার রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে পার্বত্যাঞ্চলের সর্ববৃহৎ জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী(সঃ)। ২৯ আগষ্ট শুক্রবার বাদ জুমা গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার আয়োজনে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় হাজারো মুসল্লির ঢল নামে শহরের রাস্তায়।
শোভাযাত্রাটি রিজার্ভ বাজার শাহী জামে মসজিদ থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরূপা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল সবুজ পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। শিশু, কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ পর্যন্ত নানা বয়সী ধর্মপ্রাণ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে যোগ দেন এ ঐতিহাসিক শোভাযাত্রায়।
পুরো শহরজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দুরুদ শরিফ, নাত-ই-কাওম ও কালেমার সমবেত ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে শহরের আকাশ-বাতাস। প্রধান সড়কজুড়ে তৈরি করা হয় আলোকসজ্জা ও বর্ণিল তোরণ।
শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা আবদুল ওয়াজেদ। পাশাপাশি বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন, মাদ্রাসা ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন শোভাযাত্রায়।
শোভাযাত্রা শেষে বনরূপা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি জেলা গাউসিয়া কমিটির আহ্বায়ক হাজী আলী আকবর সওদাগর। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব শামীম জাহাঙ্গীর।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বনরূপা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ইকবাল হোসাইন আল ক্বাদেরী, রিজার্ভ বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবু নওশাদ নঈমীসহ অন্যান্যে আলেম-উলামা। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম, পুরাতন বাসস্টেশন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সুলতান মাহমুদ আল ক্বাদেরী, তৈয়বিয়া আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মো. আখতার হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ১২ রবিউল আউয়াল মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে আনন্দের দিন—যেদিন হযরত মুহাম্মদ (সা.) দুনিয়ায় আগমন করেন। তাঁর জীবনাদর্শে শান্তি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার শিক্ষা নিহিত।
এ সময় বক্তারা সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তাঁরা জশনে জুলুছকেও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানান।
শোভাযাত্রা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দলের শত শত সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
ধর্মীয় এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি শহরে সৃষ্টি হয় ভ্রাতৃত্ব ও আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাসের পরিবেশ। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজন মুসলিম সমাজে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও ধর্মীয় চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।#