জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় দোয়া মাহফিল ও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু ও রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানে এই আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জাসাস সবসময় দেশের সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।রাঙামাটি জেলা জাসাসের সভাপতি কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উপস্থিত উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ:
মামুনুর রশিদ মামুন (সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি),সাইফুল ইসলাম ভূট্টো (সহ-সভাপতি, জেলা বিএনপি),সাইফুল ইসলাম শাকিল (সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপি)
জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার (সভাপতি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল),
নুরুল কবির বচ্চন (আহ্বায়ক, জেলা যুবদল)
রবিউল বাবলু (সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা কৃষক দল),অলোক বড়ুয়া পিন্টু (সভাপতি, জেলা কৃষক দল)
নানিয়ারচর উপজেলা শাখা: বিশ্ব চাকমা (সভাপতি), মোঃ শফিকুল ইসলাম (সাধারণ সম্পাদক), সুমেন্দু চাকমা (সাংগঠনিক সম্পাদক)।
কাউখালী উপজেলা শাখা: মোঃ কামাল উদ্দিন (সভাপতি), মোঃ লতিফ (সাধারণ সম্পাদক)।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে স্থানীয় অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রাঙামাটি জেলা জাসাসকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং আগামী দিনের সকল আন্দোলনে সংস্কৃতিকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
Blog

রাঙামাটিতে জাসাসের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: দোয়া মাহফিল ও কম্বল বিতরণ

পাহাড়ে শীতার্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন হাবীব আজম
রাঙামাটিতে দুঃস্থ, অসহায় ও শীতার্ত পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙামাটি কল্যাণপুর এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ হাবীব আজম। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন আমজনতার দল কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি সুশীল জীবন চাকমা।
প্রধান অতিথি মোঃ হাবীব আজম বলেন, “পাহাড়ি জনগোষ্ঠী আমাদের ফুলের বাগান। একটি বাগানে যেমন নানা রঙের ফুল মিলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তেমনি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রোসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভিন্নতা আমাদের দেশের আসল সৌন্দর্য।”
তিনি আরো বলেন পার্বত্য অঞ্চলের সকল পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি রাঙ্গামাটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কাজকর্ম, চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, শীতবস্ত্র সরবরাহ এবং সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সহযোগিতার মাধ্যমে সেবা করে আসছেন এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
আমজনতার দল রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি সুশীল জীবন চাকমা বলেন, “মানবতার সেবায় এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে আশা ও উষ্ণতা বয়ে আনে। আমরা সবাইকে একত্রিত করে পাহাড়ি ও বাঙালি সকল জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
শীতবস্ত্র পেয়ে এক ভয় বৃদ্ধ নারী ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন “শীতের তীব্র ঠাণ্ডায় এই শীতবস্ত্র আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। প্রধান অতিথি মোঃ হাবীব আজম-এর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তাঁর মানবিক সহায়তা আমাদের জীবনে বড় সাহায্য।”
অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং পাহাড়ি অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আশার আলো হয়ে থাকবে।
হাবীব আজমের সার্বিক সহযোগিতায় ও আমজনতা দলের উদ্যােগে অর্ধশতাধিক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাঝে এই কম্বল বিতরণ করা হয়।
সাজেকের দুর্গম পাহাড়ে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলো চুয়ান্ন বিজিবি ।
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর দিকনির্দেশনায় বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন (৫৪বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকীর উদ্যোগে সাজেকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সাজেক বিওপির বিওপি কমান্ডার নায়েব সুবেদার মোহাম্মদ মানিক উল্লাহর তত্ত্বাবধানে সাজেকের রুইলুই, কংলাক ও মাসালং ৯নং পাড়ার হতদরিদ্র ও অসহায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
এ সময় অধিনায়ক বলেন, প্রচণ্ড শীতে অসহায় গরিব ও দুস্থ মানুষের কষ্ট লাঘবের চিন্তা থেকেই এ মানবিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
শীতবস্ত্র পেয়ে সুবিধাভোগী অসহায় জনগণ বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। #

রাঙামাটিতে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন হাবীব আজম
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার শীতার্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আবারও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ হাবীব আজম। তাঁর উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) বিকাল ৩ ঘটিকায় কাঠালতলী গোডাউন সংলগ্ন মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ তারেক সেকান্দার।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য বাবু দয়াল দাশ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— কাঠালতলী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ বাবুল আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন, কাঠালতলী মৈত্রী বিহারের সভাপতি বাবু পুর্নেন্দু বিকাশ চাকমা, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ মাইনুদ্দিন হিল সার্ভিসের সাধারণ সম্পাদক জাভেদ সিদ্দিক, বনরূপা ব্যবসায়ি সমিতির দপ্তর সম্পাদক মো: বেলাল এবং কাঠালতলী দুর্গা মাতৃ মন্দিরের দুর্গা উৎসব পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু পুলক শীল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য এবং পর্যটন ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক মোঃ হাবীব আজম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হিলফুল ফুযুল যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি ওমর মোরশেদ।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ হাবীব আজম বলেন, শীত শুধু একটি ঋতু নয়, এটি অসহায় মানুষের জন্য এক কঠিন বাস্তবতা। আমি বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব কেবল সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত সেবা। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একে অপরের পাশে দাঁড়ালে সমাজ হবে আরও সুন্দর ও মানবিক। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ তারেক সেকান্দার বলেন,
“মোঃ হাবীব আজম একজন মানবিক জনপ্রতিনিধি। তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ সমাজের অন্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।”আমন্ত্রিত ও বিশেষ অতিথিরাও বক্তব্যে বলেন,
“শীতার্তদের পাশে দাঁড়িয়ে মোঃ হাবীব আজম যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তাঁর এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করছে।”অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ শীতার্ত মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন। স্থানীয় এলাকাবাসী এ মানবিক উদ্যোগের জন্য মোঃ হাবীব আজমের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

রাঙামাটিতে সূর্যোদয় সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র আত্মপ্রকাশ
মাদকমুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্য সূর্যোদয় সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র আত্মপ্রকাশ হয়েছে।
সোমবার বিকেলে রাঙামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ডা. অজয় প্রকাশ চাকমার সভাপতিত্বে প্রফেসর আনন্দ জ্যোতি চাকমা ও মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হবি চাকমার সঞ্চালনায় সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করা হয়।
স্বাগত বক্তব্য প্রদানকালে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য দেবপ্রসাদ দেওয়ান বলেন, সূর্যোদয় সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি সংগঠনটি কারোর প্রতিপক্ষ নয়, আবার কারোর বিরুদ্ধেও নয়। এটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করবে।
ডা.অজয় প্রকাশ চাকমা বলেন, রাতের অন্ধকার দূর করে যেমনি সূর্যোদয় হয়, তেমনি সূর্যোদয় সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সূর্যোদয়ের ন্যায় ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ সরকারের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লক্ষ্য মাদক বিরোধী গণসচেতনতা জাগরণ করা এবং তাদের সাথে সংহতি জানিয়ে এই সংগঠনটি এগোবে। মাদকের অপব্যবহার, অতি মাত্রায় ব্যবহার চলতে দেওয়া যায়না। যারা মাদকাসক্ত তারা ও আমাদের এই সমাজেরই অংশ। মাদকাসক্তদের নিয়ে আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি মাদকাসক্ত থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো।
এসময় ১৩ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, নিরুপা দেওয়ান, রাঙামাটি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বাঞ্ছিতা চাকমা, পিবিএল এর চেয়ারম্যান রনজ্যোতি চাকমা, সাবেক যুগ্ন-সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা, প্রফেসর শান্তি কুমার চাকমা, ঘাগড়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শ্যামল মিত্র চাকমা, হিরন্ময় চাকমা, উচিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, অঞ্জুলিকা চাকমা , মিশন চাকমা এডভোকেট সুষ্মিতা চাকমা, সাগরিকা রোয়াজা, নাইউপ্রু মারমা মেরী, ও ডা অজয় প্রকাশ চাকমা আহবায়ক ও নয়ন জ্যোতি চাকমাকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্টি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পরে জুমফুল থিয়েটার নেতৃত্বে মাদক বিরোধী নাটিকা প্রদর্শন শেষে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। #
রাবিপ্রবি’তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ০৭ জানুয়ারি ২০২৬খ্রি. তারিখ রোজ বুধবার সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় একাডেমিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র স্মরণে এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির।
উক্ত শোকসভায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে প্রত্যক্ষ স্মৃতি তুলে ধরে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর কর্ম, চিন্তা ও আচরণে সার্বজনীন হতে পেরেছেন, তাঁর গার্ডিয়ানশীপ আমাদের আরো দরকার ছিল। তিনি তার ছাত্রজীবনে বেগম খালেদা জিয়াকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগের ঘটনা ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কখনোই কোনো অশালীন শব্দ উচ্চারণ করেননি তাঁর এই বিনয়কে আমরা শ্রদ্ধা করি। বাংলাদেশের ক্রান্তিকালে গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দেশপ্রেম, নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষা চালু ও উপবৃত্তি প্রদান এবং দেশনেত্রী হিসেবে সার্বজনীন হয়ে উঠার বিষয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি দেশ-বিদেশে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার জন্য এক আইকনিক লেডি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর স্বীয় ছাত্রজীবনে তাঁকে প্রত্যক্ষ করার সময় থেকেই তার মাঝে দেশপ্রেম ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান ও তাঁর আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, By default she was honest। আমরাও দেশের জন্য সৎ হতে চাই, দেশের জন্য আপোষহীন হতে চাই। তিনি বলেন, আজকের শোক দিবস ও দোয়া মাহফিলটা অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে, যদি আমরা তাঁর দর্শনটা লালন করতে পারি এবং নতুন বাংলাদেশের জন্যে আপোষহীনতার জায়গাটা হবে এই- আমরা সবাই মিলেই বাংলাদেশের উন্নতির জন্য সৎ থাকার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবো এবং অনুসরণ করবো। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা করার জন্য গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি আরো বলেন, ক্রিটিক্যাল থিংকিং তৈরিটা জরুরি। পরের প্রজন্মকে তাঁর কর্মময় রাজনৈতিক জীবন ও জাতির জন্য তাঁর অবদান সম্পর্কে জানানো প্রয়োজন। আমরা যারা বেঁচে আছি তাঁর ভালো কাজগুলো যেনো আমাদের জন্য স্মরণীয় হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করবো। মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খালকাটা কর্মসূচী ও তার অঞ্চলের অভিজ্ঞতা, প্রত্যক্ষ স্মৃতির কথা উল্লেখ করে এ কর্মসূচীর মাধ্যমে কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নে অবদানের কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সামনের দিনে নির্বাচনের মাধ্যমে যারাই ক্ষমতায় আসুন না কেনো, বাংলাদেশ যেনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেলক্ষ্যে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
উক্ত শোকসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু দলের নয়, তিনি দেশের ও জনগনের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। তিনি তাঁর কর্মদক্ষতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন এবং সবসময় জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখেছেন। তিনি বলতেন বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই, দেশ ও দেশের মানুষ আমার আপনজন। এছাড়া নারী শিক্ষা উন্নয়নে উপবৃত্তি চালু করে শিক্ষা ও দেশের নারী সমাজের উন্নয়নে প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন বেগম খালেদা জিয়া একজন জনপ্রিয় নেত্রী ছিলেন তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। তাঁর জানাজায় জনস্রোতই প্রমাণ করে তিনি তাঁর দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি তা ছাড়িয়ে সকল শ্রেণি-পেশার তথা সর্বসাধারণের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। ’২৪ পরবর্তী বাংলদেশে তাঁকে প্রয়োজন ছিলো, তিনি ছিলেন ঐক্যের প্রতীক। তিনি বলেন, আমাদের পথ চলায় দ্বিমত থাকবে কিন্ত দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আগামী দিনের বাংলাদেশে আর যেনো কোনো রাজনৈতিক বিভেদ দেখা না দেয় আমাদের মাঝে। পরিশেষে তিনি তাঁর রূহের মাগফেরাত কামনা করেন।
রাবিপ্রবি’র প্রক্টর ও ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব সাদ্দাম হোসেন বেগম খালেদা জিয়ার কর্মময় জীবনের উপর নিষর্কষিত আলোচনা করেন এবং এ আয়োজনের জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নিখিল চাকমা তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পার্বত্য অঞ্চলের জাতিসত্তাসমূহের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে প্রশাসনিক-আর্থিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড তুলে ধরেন এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
উক্ত সভায় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ এর ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন এবং সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদ এর ডিন ড. মুহাম্মদ জামশেদ আলম পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভার সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এবং মোঃ তাসফিক সিকদার।#

নানিয়ারচরে চাইনিজ পিস্তল সহ ১জন আটক।
রাঙামাটির নানিয়ারচর জোন (১৭ই ইষ্ট বেঙ্গল) অধীনস্থ ঘিলাছড়ি সেনা ক্যাম্পের চেকপোস্টে তল্লাশিকালে উত্তম কুমার নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
সোমবার (৫ই জানুয়ারি) সকালে উত্তম কুমার কে ১টি চাইনিজ পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন ও ১ রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়।
সেনা সূত্রে জানা যায়, আমরা বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি খাগড়াছড়ির মহালছড়ি থেকে রাঙামাটির মানিকছড়ির দিকে একজন অস্ত্র বহনকারী ব্যক্তি চলাচল করবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৮টা হতে ঘিলাছড়ি আর্মি ক্যাম্পের ডিউটি চেকপোস্টে জনবল বৃদ্ধি করা হয় এবং এই রুটে চলাচলকারীসকল যানবাহন ও ব্যক্তিকে নিবিড়ভাবে তল্লাশি শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নানিয়ারচর জোন।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় চেকপোস্টে দায়িত্বরত সেনা প্রহরী এক ব্যাক্তির সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় ওই ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় বিরুপ আচরণ করে এবং কিছু লুকানোর চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে দেহ তল্লাশি ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তল্লাশিকালে তার নিকট হতে ১টি চাইনিজ পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ১ রাউন্ড অ্যামুনিশন, ১টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪১৫ টাকা উদ্ধার করে।
পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়। পরে আটককৃত এই ব্যক্তি কে অস্ত্র সহ থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।#
পৈত্রিক জমি দখলকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে একই পরিবারের চার জনকে কুপিয়ে জখম
রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে এক বরবরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের তিন ভাই ও এক বোনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।
আহতরা বর্তমানে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আদালতে দায়েরকৃত নালিশি মামলা ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গত দুই জানুয়ারি (শুক্রবার) সকাল আনুমানিক সাড়ে নয় টায় রিজার্ভ বাজারের পুরাতন পাড়া ও সাঁওতাল পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
বাদীর মাতার পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত সাড়ে উনিশ শতক জায়গা বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
ঘটনার দিন সকালে বিবাদীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। এসময় জায়গার মালিকপক্ষ বাধা দিলে বিবাদীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন— মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মনির মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন মোহাম্মদ ফারুক ) এবং তাদের বোন রোজী আকতার । আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে মাথায়, পিঠে ও হাতে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। একজনের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনায় ফারুক বাদী হয়ে আজ পাঁচ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটির বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দশ বার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ।
অভিযুক্তরা হলেন— মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন, রিনা বেগম , মোহাম্মদ শাহজাহান , পাখি আক্তার , মোহাম্মদ জিহাদ এবং মোহাম্মদ রিফাত ।তারা সবাই রিজার্ভ বাজার মোহাম্মদপুর সাঁওতাল পাহাড় এলাকার বাসিন্দা।
মামলার বাদী মোঃ ফারুক জানান, থানায় মামলা গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় আমরা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।”বর্তমানে এলাকায় এই ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।#

হাড় কাঁপানো শীতে গভীর রাতে শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে মানবিক যুবরা ।
রাঙামাটিতে চলমান হাড় কাঁপানো তীব্র শীত যখন জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, ঠিক তখনই গভীর রাতে মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন রাঙামাটি শহরের ক’জন উদ্যেগী মানিবক যুবকরা। আর এই মানবিক কাজের প্রেরনার দাতা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ হাবীব আজম।
যখন শহরের অধিকাংশ মানুষ উষ্ণ কাঁথার নিচে গভীর ঘুমে, তখন রাত দুই টায় শীতার্ত, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এসব অসহায়ের বন্ধু খ্যাত যুবকরা।মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দুই টায় রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে ছিন্নমূল, ভবঘুরে, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে দেখা যায় তাদের।
উদ্যেগী এসব যুবকরা বলেন, তীব্র শীতে কাঁপতে থাকা মানুষদের মুখে একটু হাসি ফোটানো, তাদের শরীরে উষ্ণতা পৌঁছে দেওয়া এবং হৃদয়ে ভালোবাসার স্পর্শ ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
এই প্রচণ্ড শীতে সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোই সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকে। তাদের অনেকেরই উষ্ণ কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। আমরা যারা সামর্থ্যবান, তাদের নৈতিক দায়িত্ব হলো এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো। ভালোবাসা দিয়ে দেওয়া একটি ছোট উপহারও অনেক বড় কষ্ট লাঘব করতে পারে।”তিনি আরও বলেন, মানবতার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। দিন-রাত, শীত-গ্রীষ্ম—যখনই প্রয়োজন, তখনই মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতা। এই গভীর রাতে শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।”
এ সময় তিনি সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। সবাই যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে শীতার্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।”এই মানবিক উদ্যোগে মোহাম্মদ হাবীব আজমের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদ আলম, সামাজিক সংগঠন হিল সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাসুদ রানা রুবেল, রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ ওমর মোরশেদ, হিল ফুল ফুজুল যুব সংগঠনের অর্থ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, আল আমিন ইসলামিয়া ফাজিল মডেল মাদ্রাসা শাখার ছাত্রদলের সভাপতি নূর মোহাম্মদ হাসিব এবং কলেজ ছাত্রদলের নেতা নাজমুল হাসানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শহরের যে সব এলকায় শীতবস্ত্র বিতরণ হয় এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলো— বনরূপা বাজার, কাঠালতলী, পৌরসভা প্রাঙ্গণ, দোয়েল চত্বর, নতুন বাসস্ট্যান্ড, রিজার্ভ বাজার, শহীদ মিনার (রিজার্ভ মুখ), পুরাতন পুলিশ লাইন, তবলছড়ি বাজার, আসামবস্তি, মানিকছড়ি, ভেদবেদি, কলেজ গেইট, হাসপাতাল এলাকা, পাবলিক হেল্থ এলাকা, নিউ মার্কেট, কালিন্দপুর, চম্পকনগর, হ্যাপিরমোড়সহ শহরের আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।শীতবস্ত্র পেয়ে অনেক অসহায় মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, গভীর রাতে এমন মানবিক সহায়তা তাদের শীতের কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। অনেকেই এই উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রাঙামাটির এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। শীতের কনকনে রাতেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—মানবতা কখনো ঘুমায় না।#

রাঙামাটিতে পলিশের ৩দিনব্যাপি নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে চতুর্থ পর্যায়ের ২৪-২৫ তম ব্যাচের ০৩ ( তিন ) দিন মেয়াদী নির্বাচনী দায়িত্ব প্রশিক্ষণ কর্মশালার শুভ উদ্বোধন।
আজ ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ লাইন্সে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে চতুর্থ পর্যায়ের ২৪-২৫ তম ব্যাচের ০৩ ( তিন ) দিন মেয়াদী ” নির্বাচনী দায়িত্ব প্রশিক্ষণ কর্মশালা ” উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ ) জনাব মোঃ ইকবাল হোছাইন, পিপিএম মহোদয়ের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণ কর্মশালার শুভ উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার, জনাব মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম মহোদয়।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন, “ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ”
শেষে পুলিশ সুপার মহোদয় আশা ব্যক্ত করেন যে, রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সদস্যরা শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার চতুর্থ পর্যায়ের ২৪-২৫ তম ব্যাচের ০৩ ( তিন ) দিন মেয়াদী এই প্রশিক্ষণে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন ইউনিট থেকে আগত মোট ১০৫ জন পুলিশ সদস্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন।
এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।