Blog

  • রাবিপ্রবি’তে জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স ২০২৬ এর দ্বিতীয় দিনের টেকনিক্যাল সেশন ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    রাবিপ্রবি’তে জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স ২০২৬ এর দ্বিতীয় দিনের টেকনিক্যাল সেশন ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচী অনুযায়ী টেকনিক্যাল সেশন আজ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ০৯:৩০ ঘটিকা হতে শুরু হয়। বিকাল ৩:৪৫ ঘটিকায় সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    উক্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে কনফারেন্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাবিপ্রবি’র মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইসমাইল এবং রাঙ্গামাটি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জনাব মোঃ ইকবাল হোছাইন পিপিএম।
    কনফারেন্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও রাবিপ্রবি’র মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন, একটি স্থানকে দর্শনীয় তথা ট্যুরিজমের উপযোগী করার জন্য স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নীতিগত অবস্থান ও তা বাস্তবায়নে বিশেষভাবে প্রতিপালনের একটি বিষয় আছে। তিনি নারীদের ধৈর্যের প্রশংসা করে বলেন তারা ফন্ট্রডেস্কসহ ট্যুরিজমের অধিকাংশ সেক্টরে তাদের অবদানের কারণে চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তিনি থাইল্যান্ডের উদাহরণ দিয়ে বলেন, হসপিটালিটিতে পরিবর্তন দরকার, ঐতিহ্য তৈরি করা দরকার। তিনি বলেন শুধু ক্লিন ক্যাম্পাসই নয় ক্লিনলিনেসকে ইন্সটিটিউশনাল কালচারে পরিণত করতে হবে; এতদসংক্রান্ত গবেষণা বাড়াতে হবে; একাডেমিশিয়ান ও প্র্যাক্টিশনারদের মধ্যে Gap কমিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, এই কনফারেন্সের মাধ্যমে যারা পর্যটন নিয়ে কাজ করেন তাদের আমরা যুক্ত করবার চেষ্টা করেছি। যারা এ আয়োজনে সামিল হয়েছেন তাদেরকে আমরা ধন্যবাদ জানায়। আমাদের এই ছোট্ট প্রচেষ্টায় আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা যুক্ত হয়েছেন, এটাই আমাদের অর্জন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ট্যুরিজম গবেষণায় যারা যুক্ত আছেন, তাদেরকে বাংলাদেশের জন্য টান অনুভব করতে হবে। টেকসই পর্যটনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণের প্রসঙ্গে, তিনি বলেন বাংলাদেশের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় এবং নিরাপদ করার জন্য রাষ্ট্রসহ আমাদের প্রত্যেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয় লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিউনিটি ভিত্তিক ট্যুরিজম গড়ে তোলার জন্য কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। রাঙ্গামাটির স্থানীয় বিন্নি চালের ভাপা পিঠাকে কিভাবে রাজধানী ঢাকায় ব্র্যান্ডিং করা যায় এবং স্থানীয় পর্যটনকে উৎসাহ প্রদান করা তার উদাহারণ উপস্থাপন করেন। তিনি আরো বলেন, এসকল আইডিয়াকে গবেষণার অনুষঙ্গ করে আমরা সাধারণ মানুষদের যুক্ত করতে পারি যাতে কমিউনিটি এবং জাতি উপকৃত হয়। তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুন্দর শিষ্টাচারের চর্চা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দিয়ে পর্যটকদেরকে আকর্ষণ করার জন্য কাজ করতে এবং যেকোনো স্থাপনা যাতে সেখানকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে টেকসই পর্যটন উঠে সে প্রত্যাশা করেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড.মুহাম্মদ ইসমাইল ট্যুরিজম ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসা পরিচালনা সংক্রান্ত নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে এ সেক্টরের প্রতি দায়িত্ববোধসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি পর্যটকদের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি এ অঞ্চলের পাহাড়, লেক ও বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে টেকসই ও ইকো ট্যুরিজমের বিকাশের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা দেন। এর জন্য গবেষণা ও নতুন নতুন উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টজনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি পর্যটনকে বিকশিত করতে উদ্যোক্তা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আহবান করেন। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি- এআইকে কাজে লাগিয়ে আমরা পর্যটন শিল্পকে পরিবর্তন করতে পারি এবং পর্যটকদেরকে নিরাপত্তা জোরদার করতে পারি। তিনি ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবন, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন পর্যটন স্থান ও বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে বিশ্বের কাছে প্রমোট করার জন্য আহবান জানান। তিনি পরিবেশ ও সংস্কৃতির ক্ষতিসাধন না করে ইকো ট্যুরিজম গড়ে তুলতে টেকসই বিনিয়োগ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও এই কনফারেন্সের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কিভাবে সবাই কোলাবোরেশন করতে এবং অবদান রাখতে পারে তা বিবেচনা করার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জনাব মোঃ ইকবাল হোছাইন পিপিএম বলেন, সমুদ্র ও পাহাড়ের সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সহজাত; মানুষ পাহাড় মেঘ সমুদ্র ও লেকের প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয় আর এই উপাদানগুলোর কারণে রাঙ্গামাটি মানুষের কাছে আকর্ষণীয়। এমন আকর্ষণই ট্যুরিজমের মূলকথা। তিনি বলেন, আমি কাশ্মীর ও সুইজারল্যান্ড দেখিনি তবে গল্প শুনেছি ও মিডিয়ার কারণে এখন সবকিছুই জানা সম্ভব; আমরা যদি আমাদের শহরটিকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পারি, ট্যুরিজমবান্ধব ব্যবস্থাপনা করতে পারি তাহলে এ শহর কাশ্মীর ও সুইজারল্যান্ড এর মতো ট্যুরিজমে অবদান রাখতে পারবে। ট্যুরিজমের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান ও অংশীজন একত্রে কাজ করতে পারলে রাঙ্গামাটি ট্যুরিজম অনন্য উচ্চতায় উঠবে।

    অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন রাবিপ্রবি’র ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও কনফারেন্সের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন। তিনি এ কনফারেন্স সফল করার জন্য অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষক-গবেষক ও অতিথিবৃন্দকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি কনফারেন্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সকল সাংবাদিকবৃন্দকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

    কনফারেন্সে পোস্টার প্রেজেন্টশনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিটাইম ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের রায়হানুল বিনতে মতিন, প্রথম রানারআপ হয়েছেন রাবিপ্রবি’র ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৌফিক হাসান, দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন রাবিপ্রবি’র ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জিসান আহমেদ এবং তৃতীয় রানারআপ হয়েছেন রাবিপ্রবি’র ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনন্যা সেনগুপ্ত। পোস্টার প্রেজেন্টশনে বিজয়ীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং টেকনিক্যাল সেশনে অংশগ্রহণকারী সকলকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

    কনফারেন্সের সমাপনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক জনাব মোঃ নাফিজ মন্ডল এবং জনাব ফাহিম হোসেন।
    টেকনিক্যাল সেশনগুলো সকাল ৯:৩০ থেকে দুপুর ১:০০ ঘটিকা পর্যন্ত রাবিপ্রবি’র একাডেমিক ভবন-১ এর সম্মেলন কক্ষ, কক্ষ নং ১০০১ ও ১০০২ এ নির্ধারিত প্রোগ্রামসুচি অনুযায়ী কী-নোট স্পিচ, ওরাল প্রেজেন্টেশন ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। টেকনিক্যাল সেশনসমূহের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ কামরুল হাসান, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিটাইম ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম।

    কনফারেন্সে ‘টেকসই পর্যটন, পলিসি ও উন্নয়ন; পর্যটন খাতে প্রযুক্তি, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা ও উদ্ভাবন; এবং কমিউনিটি, সংস্কৃতি, হালাল ট্যুরিজম ও পর্যটকদের আচরণ’ শীর্ষক এ তিনটি টেকনিক্যাল সেশনে পর্যটন সম্পর্কিত গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপিত প্রবন্ধসমূহের বিষয় হলোঃ বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতে আবেগ, স্মার্ট পর্যটন, টেকসই প্রবৃদ্ধি; বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটন গন্তব্য স্থানগুলোতে টেকসই পর্যটন পরিস্থিতি মূল্যায়ন; রাষ্ট্র, এনজিও এবং কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন: বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা এবং সামাজিক ফলাফলে প্রভাব; টেকসই পর্যটন উন্নয়ন: শরিয়াহ দৃষ্টিকোণ থেকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো; রাঙ্গামাটিতে জীববৈচিত্র্য এবং পর্যটন উন্নয়নের প্রেক্ষাপটের মধ্যে একটি অভিজ্ঞতামূলক অধ্যয়ন; বাংলাদেশে গ্রামীণ পর্যটনের জন্য ত্রিপল বটম লাইন সাসটেইনেবিলিটির অপরিহার্যতা; মহেশখালী দ্বীপে টেকসই পর্যটন উন্নয়নে সবুজ অর্থায়নের ভূমিকা পর্যালোচনাভিত্তিক ধারণাগত গবেষণা; থ্রি জিরো কনসেপ্ট এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক পর্যটন: রাজশাহী জেলায় জাতিগত সম্প্রদায়ের উপর গবেষণা; আগামীর পর্যটন: বাংলাদেশে টেকসই পর্যটন এবং ব্লু ইকোনমির জন্য উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনার একীভূতকরণ; সীতাকুণ্ড: পর্যটন গন্তব্যের সামগ্রিক সন্তুষ্টিতে পর্যটক নির্ধারকদের প্রভাব বিশ্লেষণ; টেক্সট-মাইনিং অনলাইন পর্যালোচনা দ্বারা একটি পর্যটন গন্তব্য: কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বিবর্তন ট্র্যাকিং; পাবলিক মোবিলিটি এবং অনুসন্ধান ডেটা ব্যবহার করে পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য পর্যটন চাহিদার পূর্বাভাস এবং পর্যটন মৌসুম বিশ্লেষণ; পর্যটন গন্তব্য বিপণন কৌশলের বিবর্তন অন্বেষণ সংক্রান্ত পদ্ধতিগত সাহিত্য পর্যালোচনা; TOE কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের হোটেল শিল্পে ব্লকচেইন সম্ভাবনা অন্বেষণ; বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মুসলিম পর্যটকদের জন্য হালাল পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের প্রস্তুতি মূল্যায়ন; মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে পর্যটন গন্তব্য ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক পর্যটক প্রবাহের মূল্যায়ন; পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এর ব্যবহার: একটি পদ্ধতিগত সাহিত্য পর্যালোচনা; ভার্চুয়াল পর্যটন: একটি উদীয়মান পর্যটন মডেল হিসেবে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ এবং পরামর্শ; সিলেট এবং চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য মৌসুমী পর্যটক আগমনের প্রবণতা পূর্বাভাসে বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্সের ভূমিকা; পর্যটনে বিগ ডেটা: অনলাইন পর্যালোচনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে কাপ্তাই হ্রদের জৈব গন্তব্য তথ্য সংগ্রহ; বাংলাদেশে হোটেল শিল্পের কর্মচারীদের কর্ম সন্তুষ্টির উপর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রভাব; ইসলামিক পর্যটন পুনর্গঠন: বাংলাদেশের জন্য একটি মূল্যবোধ ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি; বাংলাদেশের তরুণদের জন্য অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক পর্যটন মূল্যায়ন, টাঙ্গুয়ার হাওরে কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন স্থান সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ও জলাভূমি সুরক্ষা এবং পর্যটন রাজস্বের সমন্বয়; বাংলাদেশে হালাল পর্যটন পরিবেশের সংকট; বাংলাদেশের খাগড়াছড়িতে পর্যটনে আদিবাসী নারীদের অংশগ্রহণের লিঙ্গ-ভিত্তিক বিশ্লেষণ; শ্রীলংকায় সঙ্কট-পরবর্তী পর্যটন পুনরুদ্ধার থেকে বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ সমূহের শিক্ষাগ্রহণ; একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে আদিবাসী রন্ধন সম্পর্কীয় পর্যটন: বাংলাদেশে গন্তব্য প্রতিযোগিতায় একটি মিশ্র-পদ্ধতি বিশ্লেষণ; বাংলাদেশে হালাল পর্যটন পরিষেবার প্রতি পর্যটকদের সন্তুষ্টি পরিমাপ; পর্যটকদের প্রত্যাশার প্রভাব এবং ভ্রমণ সন্তুষ্টির অনুপ্রেরণা: ভ্রমণের গুণগত মানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা; কর্মজীবনের ভারসাম্য এবং কর্মক্ষমতা: বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্ম সন্তুষ্টি; উন্নয়নশীল দেশে পর্যটক সন্তুষ্টি অন্বেষণ; এবং দ্রুত ভূমি-ব্যবহার পরিবর্তনের অধীনে কমিউনিটিভিত্তিক ইকো ট্যুরিজম পরিকল্পনা: বাংলাদেশের চর কুকরি মুকরিতে বাস্তুতন্ত্র পরিষেবা এবং বসতি স্থাপনের গতি প্রবাহ।

    এ কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সী পার্ল হসপিটালিটি গ্রুপ, অক্সফোর্ড ইমপেক্ট গ্রুপ, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং স্বনামধন্য সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, লিডিং ইউনিভার্সিটি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকবৃন্দ গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। #

  • রাঙামাটিতে ১০২ শিক্ষার্থী পেল গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও পুরস্কার

    রাঙামাটিতে ১০২ শিক্ষার্থী পেল গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও পুরস্কার

    ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১২তম গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫ ও গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী কারিগরি মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান। এতে ১০২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় রাঙামাটি শহরের রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী আরও ১০০ জন শিক্ষার্থীকে সান্ত্বনামূলক শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধা বৃত্তি ও মেধা বিকাশ পরীক্ষার হল সুপার এবং রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণতোষ মল্লিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য দেব প্রসাদ দেওয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক, গবেষক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাশিল্পী ড. আজাদ বুলবুল এবং চট্টগ্রাম সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষক প্রশিক্ষক ও শিক্ষা চিন্তক ড. শামসুদ্দীন শিশির।

    বক্তারা বলেন, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ। এটি প্রমাণ করে, শিক্ষা বিভাজনের নয়; বরং ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতার সেতুবন্ধন। বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলবে। গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী (র.)-এর মানবতাবাদী আদর্শের বাস্তব প্রতিফলনই এই মেধাবৃত্তি।

    তারা আরও বলেন, এই আয়োজন শুধু একটি বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও আদর্শিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার একটি মহৎ প্রয়াস। আগামী দিনের নেতৃত্ব গঠনে শিক্ষার্থীদের মেধার পাশাপাশি সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

    অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় আওলাদে রাসুল, সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীকত আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ এমদাদুল হক (মাইজভাণ্ডারী আলী)-এর দিকনির্দেশনায়।
    সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভান, নায়েব সাজ্জাদানশীন, গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ ম্যানেজিং ট্রাস্টি ও দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট (DIRI)-এর চেয়ারম্যান।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পুরানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ বেতার রাঙামাটি কেন্দ্রের উপস্থাপক ও সংবাদ পাঠক মো. হাসান উদ্দিন।
    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বেদবুনিয়া মইনুল উলুম রেজভীয়া সাঈদীয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মাওলানা মো. আলী হাসান, শাহ এমদাদিয়া রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।#

  • রাঙ্গামাটিতে গণভোট ও নির্বাচনে বাংলাদেশ বেতারের আলোচনা সভা ও বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠান।

    রাঙ্গামাটিতে গণভোট ও নির্বাচনে বাংলাদেশ বেতারের আলোচনা সভা ও বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠান।

    গণভোট ও নির্বাচন এই দুটি বিষয়ই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বেতারের অতিরিক্ত মহা-পরিচালক(বার্তা) মুহাম্মদ শরিফুল কাদের।
    আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী)ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচান উপলক্ষে গণভোট ও নির্বাচনে বাংলাদেশ বেতার শীর্ষক আলোচনা সভা ও বেতার বহিরাঙ্গন” বেতার রাঙ্গামাটি কেন্দ্রের আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
    তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ বেতার একটি ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষ,দায়িত্বশীল ও সত্যনিষ্ঠ তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজকের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় বেতারের ভূমিকা ইতিহাসের অংশ। বাংলাদেশ বেতার এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান অন্তবর্তীকালীণ সরকারের আয়োজনে গণভোট ও নির্বাচন এই দুটি বিষয়ই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মতামত প্রকাশ করে।
    বাংলাদেশ বেতার রাঙ্গামাটির আঞ্চলিক পরিচালক মুহাম্মদ মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বেতার আঞ্চলিক প্রকৌশলী মোঃ আবু সালেহ, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ জামশেদুল ইসলাম সিকদার,রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুল আমিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বেতার রাঙ্গামাটির সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক মাহবুব উদ্দিন প্রমূখ।
    আলোচনা সভায় অন্যান বক্তারা বলেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় রয়েছে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যের ভরা। দেশের এই পার্বত্য অঞ্চলের এই বৈচিত্র্যকে অন্তর্ভুক্ত করেই গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হবে।
    আগামী নির্বাচন ও গণভোটে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশ গ্রহণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আরো গতিশীল ও বেগবান করে তুলবে। মাতৃভাষায় তথ্যপ্রবাহ এবং স্থানীয় বাস্তবতার প্রতিফলন এসব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
    পরে বাংলাদেশ বেতার রাঙ্গামাটি শিল্পীদের পরিবেশনায় গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন সঙ্গীত ও নাট্য পরিবেশিত হয়।
    #

  • পার্বত্যবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ পার্বত্য উপদেষ্টার।

    পার্বত্যবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ পার্বত্য উপদেষ্টার।

    পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর ও জীবনমান উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।
    আজ উপদেষ্টার সাথে তাঁর সচিবালয়স্থ অফিস কক্ষে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশস্থ কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন (Max Tunon)-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের বৈশ্বিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
    সাক্ষাৎকালে আইএলও প্রতিনিধি দল জানান, কানাডা সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রোগ্রেস (ProGRESS) প্রকল্পের মাধ্যমে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ নজর দিতে আগ্রহী। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নারী উন্নয়ন, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয়দের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে আইএলও কাজ করতে চায় বলে প্রতিনিধি দল উল্লেখ করে।

    আইএলও প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও শ্রম আইন মেনেই বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    উপদেষ্টা আরো বলেন, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার। আইএলও এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যদি এই অগ্রযাত্রায় আমাদের পাশে থাকে, তবে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব। তিনি বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদানের জন্য আইএলও প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

    বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম এবং যুগ্ম সচিব অতুল সরকার উপস্থিত ছিলেন। আইএলও-এর প্রতিনিধি দলে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রেস প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার পেড্রো জুনিয়র বেলেন (Pedro Jr. Bellen), আইএলও কান্ট্রি অফিসের হেড অব প্রোগ্রাম গুঞ্জন দালাকোটি (Gunjan Dallakoti) এবং ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার অ্যালেক্সিয়াস চিছাম (Alexius Chicham)। #

  • রাঙামাটির পর্যটনে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে রাবিপ্রবির মিনি ট্যুরিজম হাব।

    রাঙামাটির পর্যটনে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে রাবিপ্রবির মিনি ট্যুরিজম হাব।

    রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ও পর্যটনের এক অনন্য মেলবন্ধনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই ‘মিনি ট্যুরিজম হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মো.আতিয়ার রহমান। একই সাথে রাবিপ্রবিতে আয়োজিত হতে যাওয়া ‘জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স-২০২৬ এর বিস্তারিত কর্মসূচিও তুলে ধরেন তিনি। উপাচার্য বলেন,মিনি ট্যুরিজম হাব বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে একটি ছোট পরিসরের পর্যটন এলাকা তৈরি করা,যা একদিকে রাঙামাটির পর্যটনকে সমৃদ্ধ করবে,অন্যদিকে শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে।
    বুধবার ১৪ জানুয়ারি সকালে রাঙামাটি প্রেসক্লাবে রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
    উপাচার্য জানান,এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ঘিরে পর্যটন ও শিক্ষার সমন্বিত একটি মডেল তৈরি করা। তিনি বলেন,প্রথমত এটি হবে একটি বিশেষায়িত পর্যটন কেন্দ্র। কাপ্তাই হ্রদের পাশ ও পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত হওয়ায় রাবিপ্রবি ক্যাম্পাস নিজেই একটি দর্শনীয় স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের জন্য পরিকল্পিত ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে,যাতে সুশৃঙ্খলভাবে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। দ্বিতীয়ত,এটি হবে হাতে-কলমে শিক্ষার কেন্দ্র। রাবিপ্রবিতে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাসে ট্যুরিজম হাব থাকলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সরাসরি ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। তৃতীয়ত,স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে। হাবের মাধ্যমে রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি,ঐতিহ্যবাহী খাবার ও হস্তশিল্প প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে পর্যটকরা এক জায়গাতেই পাহাড়ি অঞ্চলের বৈচিত্র সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে। চতুর্থত,এটি হবে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের একটি উদাহরণ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন পর্যটন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করবে,যা পরিবেশের ক্ষতি করে না। এই ইকো-ফ্রেন্ডলি হাব ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে। এক কথায়,রাবিপ্রবিকে কেন্দ্র করে রাঙামাটির পর্যটন উন্নয়নে একটি ছোট,আধুনিক,শিক্ষাভিত্তিক ও টেকসই পর্যটন কেন্দ্র গড়াই এই ‘মিনি ট্যুরিজম হাব-এর মূল লক্ষ্য। সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুনীল কান্তি দে,রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, রাবিপ্রবির ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও কনফারেন্সের সভাপতি ড.মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন,ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কনফারেন্সের সদস্য-সচিব জি এম সেলিম আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জানানো হয়,আগামী ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় এ ট্যুরিজম কনফারেন্স এর মূল আয়োজক হিসেবে রাবিপ্রবির সাথে যুক্ত থাকবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ৭০টিরও বেশি গবেষক তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। প্রথম দিন দুপুর আড়াইটায় রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.নিয়াজ আহমেদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড.মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। পর্যটন প্রকৃতির পরবর্তী অন্বেষণ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কনফারেন্সের প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.মো.কামরুল হাসান,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.এম.ফরিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড.মো.সাইফুল ইসলাম। দ্বিতীয় দিন সকাল ৯টা থেকে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে কি-নোট স্পিচ,ওরাল ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন এবং সমাপনী অনুষ্ঠান। আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন,এই সম্মেলন ও মিনি ট্যুরিজম হাব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। #

  • সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ অধিকার আদায়ে আদিবাসী জুম্ম জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি জোরদার করতে হবে: আদিবাসী ফোরাম।

    সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ অধিকার আদায়ে আদিবাসী জুম্ম জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি জোরদার করতে হবে: আদিবাসী ফোরাম।

    আজ বৃহস্পতিবার ১৫জানুয়ারী  রাঙামাটি শহরের  আশিকা কনভেনশন হলে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার ৫ম সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়।
    আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি ও অব: উপ-সচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক  ডা: গজেন্দ্র নাথ মাহাতো, প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এন্ড্রু সলোমার, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সহ-সভাপতি বিজয় কেতন চাকমাসহ তিন পার্বত্য জেলা ও সমতল অঞ্চল থেকে আগত আদিবাসী ফোরামের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
    অনুষ্ঠানেবাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সহ-সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা বলেন, ৭৮ বছরে পরাজয় সারা বিজয় দেখিনি সবখানে মার খাচ্ছি, সবখানে অধিকারহারা হয়ে যাচ্ছি। নিজেদের গুণে, নিজেদের জ্ঞানে অধিকার বিষয়ে সচেতন হয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের দুঃখের দিকটা হলো শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক থেকে দুর্বল।২০ হাজার মানুষের জীবন অবসানের পর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। কিন্তু এখনো সেই চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি আরও বলেন  পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো অপারেশন উত্তরণ চলছে। যেখানে সিভিল প্রশাসন চলেনা সেখানে সামরিক প্রশাসন জারি থাকার কথা, সেখানে অপারেশন উত্তরণ চলার কথা। 
    বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পরেশ চন্দ্র মাহাতো বলেন, অধিকার আদায় করার জন্য সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। শেষ থেকে আবার আন্দোলন  শুরু করতে হবে। 
    বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  সমীরণ বড়ুয়া বলেন, বিভিন্ন সরকার বিভিন্নভাবে আমাদেরকে দমিয়ে রেখেছে। আদিবাসী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। 
    নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি জাকের সভাপতি শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটা শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মধ্যে রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলকে একটি গোষ্ঠী  অশান্ত করে রেখেছে। পার্বত্য চুক্তির মূল দাবিগুলো বাস্তবায়নের  জন্য এখানকার মানুষ যুগ যুগ ধরে অপেক্ষায় রয়েছে।
    বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ক অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টু মণি তালুকদার, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক চাথোয়াই মারমা,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম
    বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি ডা মং উষা থোয়াই,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি নবকুমার চাকমা প্রমুখ। 
    পরে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম ক অঞ্চল সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, সহ-সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, সাধারণ সম্পাদক ইন্টু মণি তালুকদার, সহসাধারণ সম্পাদক মধুমঙ্গল চাকমাসহ ২৭ সদস্য বিশিষ্ট  কমিটি ঘোষণা করা হয়। #

  • পাহাড়ের গর্ব: জাতীয় মঞ্চে সাফল্যের জয়গান গাইছে রাঙামাটির তাজিম

    পাহাড়ের গর্ব: জাতীয় মঞ্চে সাফল্যের জয়গান গাইছে রাঙামাটির তাজিম

    পাহাড়ের বুক চিরে উঠে আসা এক কিশোরের নৃত্যের ছন্দে এখন মুগ্ধ দেশ। একের পর এক জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির মুখ উজ্জ্বল করছে উদীয়মান নৃত্যশিল্পী তাজিম রহমান। ধ্রুপদী মুদ্রার নিখুঁত প্রদর্শন আর লোকজ নৃত্যের সাবলীল উপস্থাপনায় সে ইতোমধ্যে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।তাজিম রহমানের সাফল্যের খতিয়ান যেন এক রাজকীয় অগ্রযাত্রার প্রতিচ্ছবি। ২০২২ সালে জাতীয় শিক্ষা পদকে একক অভিনয়ে স্বর্ণ পদক জয়ের মাধ্যমে তার জয়যাত্রার শুরু। এরপর ২০২৩ সালে ‘প্রতিভা অন্বেষণ’ প্রতিযোগিতায় নৃত্যে দ্বিতীয় স্থান এবং ২০২৪ সালে পুনরায় জাতীয় শিক্ষা পদকে নৃত্যে স্বর্ণ পদক অর্জন করে সে। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে মর্যাদাপূর্ণ ‘শাপলা কুঁড়ি’ আসরে লোকনৃত্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করে তাজিম।​সর্বশেষ ২০২৬ সালে ‘ভোরের পাখি নৃত্যকলা কেন্দ্র’ আয়োজিত জাতীয় প্রতিযোগিতায় সৃজনশীল নৃত্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। একই আসরে লোকনৃত্য বিভাগেও সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে।তাজিম রহমান রাঙামাটি শহরের কোতোয়ালি থানাধীন দক্ষিণ ফরেস্ট কলোনি এলাকার বাসিন্দা মোঃ বদিউল আলমের পুত্র। সে বর্তমানে শহরের নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুজাদ্দেদ-ই-আলফেসানী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী (রোল নম্বর ১০)। পড়াশোনার পাশাপাশি শৈশব থেকেই নৃত্যের প্রতি তার ছিল এক সহজাত টান। পরিবার ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় সেই টান আজ পেশাদারিত্বে রূপ নিয়েছে।
    মুজাদ্দেদ-ই-আলফেসানী একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল কবির উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “তাজিম আমাদের বিদ্যালয়ের গর্ব। পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্যের মতো একটি সুশৃঙ্খল ও সৃজনশীল ক্ষেত্রে তার এই ধারাবাহিক সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। তার নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাস অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।​তাজিমের পিতা মোঃ বদিউল আলম বলেন, একজন বাবা হিসেবে সন্তানের এই অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। আমরা পরিবার থেকে সবসময় তার সাংস্কৃতিক চর্চায় সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। আজ জাতীয় পর্যায়ে তার এই সাফল্য আমাদের সকল পরিশ্রমকে সার্থক করেছে।
    নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাজিম রহমান জানায়, সে বড় হয়ে একজন পেশাদার নৃত্যশিল্পী হতে চায়। বাংলাদেশের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য।
    ​সাংস্কৃতিক সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিয়মিত অনুশীলন অব্যাহত থাকলে তাজিম রহমান ভবিষ্যতে দেশের নৃত্যাঙ্গনে একজন শীর্ষস্থানীয় শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। তাজিমের এই অভাবনীয় সাফল্যে এখন আনন্দিত ও গর্বিত পুরো রাঙামাটিবাসী। #

  • রাঙ্গামাটি বধির (বাক্-শ্রবণ) বিদ্যালয়ে পাঠ্যবই বিতরণ।

    রাঙ্গামাটি বধির (বাক্-শ্রবণ) বিদ্যালয়ে পাঠ্যবই বিতরণ।

    রাঙ্গামাটি বধির (বাক্-শ্রবণ) বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের মাঝে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে।

    সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় তবলছড়িস্থ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই পাঠ্যবই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আবু হুরাইরা (আদর)।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ হাবীব আজম। এছাড়া অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মোঃ ইব্রাহিম এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ শাহিন আলম।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও বধির (বাক্-শ্রবণ) বিদ্যালয়ের উপদেষ্টা মোঃ আনোয়ার আল হক, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বধির (বাক্-শ্রবণ) বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোঃ নাছির উদ্দীন এবং দোভাষীর দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাছিনা বেগম।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজে অবহেলিত বধির ও বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোররা নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছে। তারা অন্যান্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, শোনা, চলাফেরা কিংবা পড়ালেখা করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে এসব শিশুদের পরিবারও চরম কষ্ট ও সীমাহীন দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন পার করছে। তবুও এই শিশুরা যদি সঠিক শিক্ষা, যত্ন ও সহযোগিতা পায়, তাহলে তারাও সমাজের একজন যোগ্য ও সম্পদশালী নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

    বক্তারা আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

    অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

  • রাঙামাটির প্রথম জেলাপ্রসাশক দূর্গম  দুমদুম্যা ও  ফারুয়া হলিসর্টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন।

    রাঙামাটির প্রথম জেলাপ্রসাশক দূর্গম দুমদুম্যা ও ফারুয়া হলিসর্টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন।

    রাঙ্গামাটির প্রথম কোনো জেলা প্রশাসকের জুড়াছড়ি উপজেলার দুর্গম দুমদুম্যা ইউনিয়নের বগাখালি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হলিসর্টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।
    আজ ১২জানুয়ারী ২০২৬ তারিখ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে দুইটি দুর্গম ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন৷ তিনি বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের দুর্গম হলিসর্টি ভোটকেন্দ্র ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জুরাছড়ি উপজেলার দুম্যাদুম্যা ইউনিয়নের দুর্গম হলিসর্টি ভোটকেন্দ্র বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য,এই দুইটি ভোটকেন্দ্রই হেলিসর্টি এবং জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুম্যা ইউনিয়নের এই ভোট কেন্দ্র এই প্রথম কোনো জেলা প্রশাসক পরিদর্শন করলেন,এই ভোটকেন্দ্রটি বিদ্যুৎবিহীন এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বিহীন৷উল্লেখ্য, দুমদুম্যা ইউনিয়নে যেতে হলে জুড়াছড়ি উপজেলা হতে দুই দিন পায়ে হেটে যেতে হয় অথবা রাঙ্গামাটি হয়ে কাপ্তাই,রাজস্থলী, বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি জনসাধারণকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এর বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন। এছাড়া স্থানীয় জনগণের মাঝে তাদের মাতৃভাষায় লিখিত গণভোটের প্রচারপত্র বিলি করেন৷স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করেন।
    এসময় তিনি স্থানীয়দের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। #

  • নির্বাচন কমিশনকে ১১কোটি টাকার কাগজ সরবরাহ করল কর্ণফূলী পেপার মিল।

    নির্বাচন কমিশনকে ১১কোটি টাকার কাগজ সরবরাহ করল কর্ণফূলী পেপার মিল।

    নিদিষ্ট সময়ের আগে কেপিএম হতে বিএসও এর মাধ্যমে ইসিতে গেল ৯১৪ মেট্রিকটন কাগজ। যার বাজার মূল্য ১১ কোটি টাকার উপরে।
    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ছাপানো এবং অন্যান্য কাজ সম্পাদনের জন্য  রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত কর্ণফুলি পেপার মিলস লিমিটেড( কেপিএম)   হতে  চলতি অর্থ বছরে  ৯ শত  ১৪  মেট্রিকটন কাগজের চাহিদাপত্র দিয়েছিলেন বাংলাদেশ স্টেশনারী অফিস (বিএসও)। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১১ কোটি ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৭ শত ৮১ টাকা। আবার বিএসও হতে নির্বাচন কমিশন এই কাগজ সরবরাহ করে  নির্বাচনের জন্য ব্যালট পেপার ছাপানো সহ অন্যান্য কাজ সম্পাদন করে থাকবেন। চাহিদা পত্রের বিপরীতে নিদিষ্ট সময়ের আগেই কেপিএম কর্তৃপক্ষ এই কাগজ সরবরাহ করেন।

    আজ রবিবার ( ১১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় কেপিএম এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক( এমডি) মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ কেপিএম এর বোর্ড রুমে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরোও বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সাড়ে ৩ হাজার মেট্রিকটন কাগজ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। তৎমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছাপানোর জন্য নির্বাচন কমিশন বিএসও এর মাধ্যমে কেপিএম মিল হতে ব্রাউন,সবুজ ও গোলাপি কালার কাগজের চাহিদাপত্র দিয়েছেন। ১৫ জানুয়ারীর ২০২৬ এর মধ্যে এই কাগজ সরবরাহ এর জন্য বলা হয়েছিল। আমরা ১১ জানুয়ারীর মধ্যে  পর্যায়ক্রমে  এই কাগজ বিএসও এর কাছে সরবরাহ করেছি। তিনি আরোও বলেন, নির্বাচন কমিশন ছাড়াও বিএসও এর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সহ ১১ টি প্রতিষ্ঠানে আরোও ১২শত মেট্রিকটন কাগজ পর্যায়ক্রমে  সরবরাহ করা হবে। আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩০ মেট্রিকটন কাগজ উৎপাদন করা হয়েছে। 
    এসময় কেপিএম এর  জি এম( কমার্শিয়াল) আবদুল্লা আল মামুন,  কেপিএম উৎপাদন বিভাগের প্রধান মঈদুল ইসলাম, জিএম (এডমিন) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। 
    প্রসঙ্গত: রাঙামাটি  জেলার কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত কেপিএম  একটি রাষ্ট্রায়িত কাগজ ও মণ্ড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কাগজকলগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা ১৯৫০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি দেশের প্রথম শিল্প সংস্থাগুলির মধ্যে একটি যা কারখানা আইনের আওতায় নিবন্ধিত হয়েছিল, বর্তমানে এটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে।। #