Blog

  • ১৮০ দিনের কর্মসূচির দৃশ্যমান অগ্রগতির তাগিদ দিলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

    ১৮০ দিনের কর্মসূচির দৃশ্যমান অগ্রগতির তাগিদ দিলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

    পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাঙ্গামাটির সকল প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি পাহাড়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎসহ মৌলিক সেবাগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।
    আজ রবিবার (১ মার্চ) রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে শতভাগ সম্পন্নযোগ্য প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক, তাই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

    সভায় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ, এলজিইডি, বন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাদের গৃহীত ১৮০ দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত শোনেন। একইসঙ্গে তিনি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিদ্যমান আইনের অসামঞ্জস্যতা দূর করতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে নতুনভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

    রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক পার্বত্য উপমন্ত্রী মনি স্বপন দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম (বার), জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ।

    এর আগে মন্ত্রী স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সুনির্দিষ্ট মতামত ও পরামর্শ শোনেন এবং সেসব বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।

  • বাজার মনিটরিং ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

    বাজার মনিটরিং ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

    পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান এমপি বলেছেন,রাঙ্গামাটির প্রতিটি মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে নিজ নিজ উৎসব পালন করতে পারে, তার জন্য বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে। তিনি পবিত্র রমজান মাসে বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের মনিটরিং দলকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

    আজ শনিবার রাঙ্গামাটি জিমনেসিয়ামে জেলা বিএনপি আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, রোজার মাসে যাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, রমজান হলো সংযমের মাস। এই মাসে রাঙ্গামাটির সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।

    রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে মন্ত্রী সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের উৎসব পালনে জেলা বিএনপিকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে মরহুম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি এবং দেশ ও বিশ্বের সকল মানুষের কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

    ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, সাবেক পার্বত্য উপমন্ত্রী মনি স্বপন দেওয়ান, রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম (বার), পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের সাবেক সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও জেলা জামায়াত, এবি পার্টি এবং রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই আয়োজনে অংশ নেন।#

  • বাংলার রাজনীতিতে এসেছে নান্দনিক পরিবর্তন

    বাংলার রাজনীতিতে এসেছে নান্দনিক পরিবর্তন

    বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে যেন একটা নতুন সূর্য উঠেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, বিভেদ এবং অস্থিরতার ইতিহাসের পর সময়ে এমন কিছু পরিবর্তন এসেছে যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ২০২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। বর্তমানে রাজনীতি মানে সহিংসতা বা প্রতিহিংসা নয় বরং সংলাপ, সমঝোতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    প্রথমেই বলা যাক সর্বোচ্চ শান্তিপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য সহিংসতা ছাড়া নির্বাচনের কথা। অতীতে বাংলাদেশের নির্বাচন বলতে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ এবং রক্তপাতের ছবি মনে আসত। কিন্তু ২০২৪ এর পরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে, বিশেষ করে ড. ইউনুসের মতো নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটা বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য সহিংসতা ছাড়াই। নির্বাচন কমিশনের সংস্কার, ডিজিটাল সিস্টেমের সংযোজন (বডি ক্যামেরা), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি এতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। ফলে, ভোটাররা ভয় ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা এখন আর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ নয়, বরং নীতিভিত্তিক বিতর্ক। এই পরিবর্তন দেশের গণতন্ত্রকে আরও পরিপক্ব করেছে।

    আরেকটা চমকপ্রদ পরিবর্তন হলো নির্বাচনের পর জয়ী নেতার পরাজিত নেতার বাসায় যাওয়া। এটা যেন একটা নতুন ঐতিহ্যের সূচনা। অতীতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিজয়ী দল পরাজিতদের প্রতি প্রতিহিংসামূলক আচরণ করত। কিন্তু এই নির্বাচনে জয়ী নেতা সরাসরি পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, চায়ের আড্ডায় বসে ভবিষ্যতের সহযোগিতার কথা বলেছেন। এটা শুধু একটা প্রতীকী অঙ্গভঙ্গি নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটা বড় পরিবর্তন। এর ফলে দলগুলোর মধ্যে বিভেদ কমবে এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি মজবুত হবে। এমন ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন প্রতিহিংসা থেকে সম্মানের দিকে যাচ্ছে।

    এই সব পরিবর্তন দেখে মনে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতি একটা নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। যদি এই গতিধারা অব্যাহত থাকে তাহলে বাংলাদেশ হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার একটা উজ্জ্বল উদাহরণ। যে পরিবর্তন এসেছে এখন তা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

    লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট

  • পার্বত্যাঞ্চলে বৈষম্যহীন সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের

    পার্বত্যাঞ্চলে বৈষম্যহীন সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের

    পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
    আজ (শুক্রবার) রাঙ্গামাটি সার্কিট হাউস প্রাঙ্গনে দুপুরে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবার নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গামাটিতে এসে পৌঁছালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এ কথা বলেন।
    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক পার্বত্যবাসীর জন্য উপহার হিসেবে এই দায়িত্ব পাওয়ার পর আজ ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছান তিনি। এসময় জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন।
    রাঙ্গামাটি সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সুষম উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আমরা সকলকে নিয়ে কাজ করব। পাহাড়ে উন্নয়নে কোনো ধরনের বৈষম্য হতে দেওয়া হবে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অবকাঠামোসহ সকল সেক্টরের সামগ্রিক উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য।
    সরকারের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, আমাদের নির্বাচিত সরকার ১৮০ দিনের একটি বিশেষ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (টার্গেট) হাতে নিয়েছে। আমরা আগে কাজ করে দেখাতে চাই, তারপর আপনাদের সামনে দৃশ্যমান ফলাফল উপস্থাপন করব। দীর্ঘ বছর ধরে যেসব এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছায়নি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে।
    বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, বিএনপি এখন জনগণের সেবক। জনগণের সেবা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী জনগণের সেবা ও সুষম উন্নয়নের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।
    এর আগে রাঙ্গামাটি প্রবেশমুখ গোদারপাড় এলাকা থেকে শুরু করে ঘাগড়া, মানিকছড়ি, ভেদভেদী ও বনরূপাসহ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে হাজারো মানুষের ঢল নামে। জনমানুষের নেতাকে কাছে পেয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এবং পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম (বার), পিএসসি-সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।#

  • চারণ সাংবাদিক একেএম মকছুদ আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও দোয়া ইফতার মাহফিল

    চারণ সাংবাদিক একেএম মকছুদ আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও দোয়া ইফতার মাহফিল

    পার্বত্য চট্টগ্রামের সাংবাদিকতার পথিকৃৎ রাঙ্গামাটির চারণ সাংবাদিক মরহুম একেএম মকছুদ আহমেদকে মরনোত্তর রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্ব প্রথম প্রকাশিত ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা দৈনিক গিরিদর্পণ-কে বাঁচিয়ে রাখতে পাহাড়ের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
    বক্তারা বলেন, একেএম মকছুদ আহমেদ শুধু পাহাড়ের একজন সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের কণ্ঠস্বর এবং এই পার্বত্য অঞ্চলের সাংবাদিকতার অগ্রদূত।
    চারণ সাংবাদিক একেএম মকছুদ আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ এনেক্স ভবনে স্মরণসভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।এ স্মরণসভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
    দৈনিক গিরিদর্পণের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নন্দন দেবনাথের সভাপতিত্বে এবং একেএম মকছুদ আহমেদের জীবনীগ্রন্থের লেখক সাংবাদিক ইয়াছিন রানা সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল।
    স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, একেএম মকছুদ আহমেদ ছিলেন দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ, অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। তাঁর হাত ধরেই পার্বত্য চট্টগ্রামে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটেছে।
    তিনি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সাপ্তাহিক সাপ্তাহিক বনভূমি ও দৈনিক গিরিদর্পণ পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা-সম্ভাবনার কথা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
    বক্তারা বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠিত দৈনিক গিরিদর্পণকে বাঁচিয়ে রাখা এখন সময়ের দাবি। গিরিদর্পণকে টিকিয়ে রাখতে যে তরুণ সাংবাদিকরা এগিয়ে এসেছেন, তাদের সহযোগিতা করা পাহাড়ের সর্বস্তরের মানুষের দায়িত্ব। পাশাপাশি সাংবাদিকতায় তাঁর দীর্ঘ ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই গুণী সাংবাদিককে মরনোত্তর রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত করার দাবি জানান তারা।
    স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, রাঙ্গামাটি সদর সেনা জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল একরামুল রাহাত পিএসসি, রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন, সাবেক সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. মামুনুর রশিদ মামুন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মনসুরুল হক, রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে, বর্তমান সভাপতি আনোয়ার আল হক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর কাউন্সিলর আবু সাদাৎ মোঃ সায়েম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রনতোষ মল্লিক, দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পাদক ফজলে এলাহী, স্কাউটস কমিশনার নুরুল আবছার, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম জিশান বখতেয়ার এবং ওয়ার্ল্ড পিস এন্ড হিউম্যান রাইটসের সভাপতি শিক্ষক অরুপ মুৎসদ্দী।
    এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ হাবীব আজম ও মিনহাজ মুরশীদ, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক মোঃ আবদুল গফুর, রাঙ্গামাটি রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিন, জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা শফিউল আলম আল ক্বাদেরী, দৈনিক রাঙ্গামাটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহাঙ্গীর কামাল, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মমতাজ সওদাগর, এফপিএবির সভাপতি শাহেদা আকতার, রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা, আসবাবপত্র মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুশ শুক্কুর, অটোরিকশা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সমন্বয়ক নির্মল বড়ুয়া মিলন, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিমল কান্তি দে, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন, রাঙ্গামাটি জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি শান্তিময় চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা জান্নাত মুমু, হযরত আবদুল্লাহ ফকির (রহ.) ওরশ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক জামাল হোসেন, লেকার্স স্কুলের শিক্ষক শাহজালাল সুমনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
    অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে একেএম মকছুদ আহমেদের জীবনের ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তাঁর সহধর্মিনী ও দৈনিক গিরিদর্পণ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মঞ্জু রানী গুর্খার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দৈনিক গিরিদর্পণ পরিবারের সদস্য সাংবাদিক দীপ্তি মজুমদার। এছাড়া সাংবাদিক ইয়াছিন রানা সোহেল তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি মাওলানা এম এ মুস্তফা হেজাজী।
    এছাড়াও দৈনিক গিরিদর্পণ পরিবারের সদস্য পুলক চক্রবর্ত্তী, মনসুর আহমেদ মান্না, মিল্টন বাহাদুর, লিটন শীল, শিশির দাশ বাবলা, দীপ্তি মজুমদার, মনু মার্মা, পংকজ বাহাদুর, দীলিপ দাশসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
    উল্লেখ্য, আলহাজ এ.কে.এম. মকছুদ আহমেদ ১৯৪৫ সালের ১০ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার মগাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা জামাল উল্লাহ ও মাতা জমিলা খাতুনের সন্তানদের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ১৯৬৬ সালে রাঙ্গামাটিতে এসে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯৬৯ সালে দৈনিক আজাদী-র রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ বেতার, বাসস, বিবিসি, রয়টার্সসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেন। ১৯৭৮ সালে সাপ্তাহিক বনভূমি এবং ১৯৮৩ সালে দৈনিক গিরিদর্পণ প্রতিষ্ঠা করে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে সংবাদপত্রের নতুন যুগের সূচনা করেন। সাংবাদিকতায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মরহুম আব্দুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার স্মৃতি পদ#ক, মাদার তেরেসা শান্তি পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন।
    ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন। পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁর নিজ গ্রাম মগাদিয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।#

  • রোজার মাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিসি এসপিদের তৎপর থাকার বিশেষ নির্দেশ পার্বত্য মন্ত্রীর

    রোজার মাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিসি এসপিদের তৎপর থাকার বিশেষ নির্দেশ পার্বত্য মন্ত্রীর

    পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান আজ সচিবালয়ে তাঁর নিজ অফিস কক্ষ থেকে টেলিফোনে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারদের সাথে কথা বলেন। ফোনালাপে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং এই রোজার মাসে স্থানীয় পর্যায়ে বাজার দর নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো প্রকার আপস না করে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।

    ফোনালাপে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলো অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রজ্ঞার সাথে সমাধান করার জন্য তিনি জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন। এছাড়া এলাকার যানজট নিরসন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান।

    পার্বত্য এলাকায় কোনো প্রকার দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তদন্তে প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ ও ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ কমিটি গঠন করে এদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন তিনি। বান্দরবানের লামা থেকে শুরু হতে যাওয়া সরকারের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম যেন সফলভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে তিনি বান্দরবান জেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

    মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ সংখ্যসচিক চারা রোপণের তাগিদ দেন। এছাড়া তিন জেলাতেই পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি ও যুব উন্নয়নের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদারকি করার জন্য তিনি জেলা প্রশাসকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন মন্ত্রী।#

  • সিআরএ’র পক্ষ থেকে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি ও ভাষা শহীদদের ‍প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

    সিআরএ’র পক্ষ থেকে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি ও ভাষা শহীদদের ‍প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআরএ)’র পক্ষ থেকে একুশের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে।

    সিআরএ’র সভাপতি সোহাগ আরেফিনের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তারা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে নীরবতা পালন করেন।

    সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সিআরএ নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। ভাষা শহীদদের এই ত্যাগ বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সাংবাদিক সমাজ সবসময় সচেষ্ট থাকবে বলেও তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সংগঠনের সদস্যরা ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গণমাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    এই সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রুবেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শাকিল, সহ দপ্তর সম্পাদক জহির উদ্দিন বাবর, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক সাফায়েত মোরশেদ, সদস্য রতন বড়ুয়া, শাহেদুর রহমান মোরশেদ, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

  • পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পটে পরিণত করা হবে: মীর হেলাল

    পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পটে পরিণত করা হবে: মীর হেলাল

    পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই অঞ্চলকে পর্যটকদের জন্য বিশ্বমানের গন্তব্যে পরিণত করব।

    আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা কার্যালয়ের সভাকক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে হারমোনিয়াস সহাবস্থান নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করে সেখানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এ কনসেপ্ট নিয়ে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। হাটহাজারীর স্থানীয় সমস্যা সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, যে কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা সকলে মিলে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছি। অপরাধের বিরুদ্ধে এক চুল ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারি জমি ও খাল বেদখলমুক্ত করতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। যানজট নিরসনের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, বাসস্ট্যান্ড থেকে চৌধুরীহাট, বড়দিঘীর পাড় ও অক্সিজেন এলাকা পর্যন্ত যানজট কমাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো রাজনৈতিক বিভেদ রাখবে না। হাটহাজারীতে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণিভেদে কোনো বৈষম্য থাকবে না। দরিদ্র ও নিম্নবিত্তদের তালিকা করে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

    হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন এর সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। এসময় একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

    বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রাম হাটহাজারী সফরে এলে বিশাল জনসমুদ্রের ভালবাসায় সিক্ত হন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। তিনি বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে বলেন, আমরা বাংলাদেশকে রংধনু জাতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলছি, আমরা সৌহার্দ্রপূর্ণ ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ব। তিনি বলেন, আমি সবাইকে নিয়ে আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠন করতে চাই। আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে বরাবরের মতোই সাধারণ মানুষের সেবক হয়ে থাকতে চাই।

    এর আগে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল হাটহাজারী উপজেলা বিএনপি আয়োজিত অমর একুশের কর্মসূচিতে যোগ দেন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  • রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা,নিরাপত্তা চাইলেন ভুক্তভোগী পরিবার

    রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা,নিরাপত্তা চাইলেন ভুক্তভোগী পরিবার

    রাঙামাটির রিজার্ভ বাজারের পুরান পাড়া এলাকায় পৈেত্রিক জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাজী মোঃ শামসুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে ভোগদখলে থাকা তাদের পারিবারিক জমি প্রভাবশালী একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
    লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমির উদ্দিন, এমদাদ হোসেন মানিক, মোঃ রুবেল, মোঃ নিজাম উদ্দিন, রাজু আহম্মদ খোকন ও মোঃ সোহাগসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”
    তিনি জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও অভিযুক্তদের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। তার দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে।
    সংবাদ সম্মেলনে হাজী শামসুল ইসলাম অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্মাণকাজ বন্ধ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, “প্রশাসন যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।”
    এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদেরও সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে । বিষয়টিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
    ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।#

  • কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান-এর শ্রদ্ধা

    কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান-এর শ্রদ্ধা

    মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান, এমপি।

    আজ একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

    এ সময় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, একুশের চেতনা আমাদের অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতি, আত্মপরিচয় ও জাতীয় চেতনার ভিত্তি। বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও জাতিসত্তার মাতৃভাষা সংরক্ষণ, চর্চা ও বিকাশে বদ্ধপরিকর।

    মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই বাংলাদেশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নের পথে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

    শ্রদ্ধা নিবেদনকালে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনতা উপস্থিত ছিলেন।