Blog

  • রাবিপ্রবিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৫ পালিত

    রাবিপ্রবিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৫ পালিত

    রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ও আবাসিক হলসমূহে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। সেই সাথে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সকলে কালো ব্যাজ পরিধান করে।

    সকাল ৮:৩০ ঘটিকায় রাবিপ্রবি’র শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদয়ের সাথে নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থিত অস্থায়ী শহীদ মিনারের বেদিতে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। এসময় রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডীন জনাব ধীমান শর্মা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন জনাব সূচনা আখতার, প্রক্টর জনাব সাদ্দাম হোসেন, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প এর প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব আবদুল গফুর, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং কর্মকর্তাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

    কী অসম পরিস্থির মধ্যে ৫২’র ভাষা আন্দোলন ও জাতীয় জীবন মুক্তির আকাঙ্খা তৈরী হয়েছিল তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে যাঁরা বুকের রক্ত দেয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন তাঁদেরকে স্মরণ করার জন্য এবং তাঁদের চেতনা ধারণ করে দেশ বিণির্মানের আকাঙ্খাকে গতিশীল করে সর্বকাজে নৈতিকতার মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান ।

    তিনি আরও বলেন, ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই-২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের জন্য দোয়া পাঠ পূর্বক তাদের চিন্তা-চেতনা প্রবাহমান রাখার জন্য ও দেমপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হওয়ার জন্য দেশের ও দপ্তরের সকল কাজ দক্ষতা, নিষ্ঠা ও নৈকিতকতার সাথে সম্পন্ন করে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করে জাতি হিসেবে মাথা উচুঁ দাড়াবার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হবারআহবান জানান। এছাড়া অত্র অঞ্চলে উচ্চ শিক্ষার একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এ অঞ্চলের মানুষের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই মহান শহীদ দিবস সহ যুগে যুগে যে সাহসী তরুন-যুবক-ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়ে দেশ ও জাতীর জীবনে যে মুক্তির নেশা তৈরী করেছিল তা যেন বৃথা না যায় সে বিষয়ে সর্তক থাকার কথা বলেন।

    এরপর রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির উদ্যেগে আয়োজিত বই মেলা মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান।#

  • রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত।

    রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত।

    আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রি. রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সদস্যদের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্যারেডে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণ করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন ।

    এসময় পুলিশ সুপার প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং মাস্টার প্যারেডে অংশগ্রহণকারী অফিসার ফোর্সদের শারীরিক ফিটনেস ও টার্ন আউটের উপর ভিত্তি করে জিএস (গুড সার্ভিস) মার্ক প্রদান করেন।

    মাস্টার প্যারেডে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, মাস্টার প্যারেড হচ্ছে জেলা পুলিশ সদস্যদের প্রদর্শনী। একটা বাহিনী কতটা সু-শৃঙ্খল এবং চৌকস তা এই প্যারেডের মাধ্যমে ফুটে উঠে। এজন্য সকলের শারীরিক ফিটনেস এবং মানসিক বিকাশের জন্য নিয়মিত প্যারেড অনুশীলনের বিকল্প নেই।
    তিনি আরো বলেন, মানুষকে সর্বোচ্চ সেবার মাধ্যমে নিজেকে গর্বিত পুলিশ সদস্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যেকোন সংকট মোকাবেলায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে সু-শৃঙ্খল ভাবে কাজ করতে হবে।

    উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার মহোদয়, জনসাধারণের সাথে উত্তম ব্যবহার, ড্রেসরুলস মেনে পোষাক পরিধান করা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাসহ সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

    এসময় প্যারেড কমান্ডার সহকারি পুলিশ সুপার, রাজস্থলী সার্কেল জনাব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, পিপিএম এর নেতৃত্বে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সদস্যদের ৭টি কন্টিনজেন্ট পুলিশ সুপার মহোদয়কে অভিবাদন জানানোর মাধ্যমে প্যারেড মাঠ ত্যাগ করে।

    পরে পুলিশ সুপার মহোদয় রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের মোটরযান শাখা, অস্ত্রাগার, ডি-স্টোর, সি-স্টোর, রেশন স্টোর, পুলিশ সদস্যদের খাবার মেস, ক্যান্টিন, ফোর্সের আবাসন ব্যবস্থাসহ পুলিশ লাইন্সে অবস্থিত বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।#

  • সবছেড়ে চলে গেলেন দেশের প্রথম রত্ন সাংবাদিক খ্যাত একেএম মকছুদ আহমেদ

    সবছেড়ে চলে গেলেন দেশের প্রথম রত্ন সাংবাদিক খ্যাত একেএম মকছুদ আহমেদ

    দেশের প্রথম রত্ন সাংবাদিক খ্যাত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম সংবাদপত্র দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক চারণ সাংবাদিক আলহাজ্ব একেএম মকছুদ আহমেদ আর নেই। তিনি এ অঞ্চলে সত্তরের দশকে এসেছিলেন শুন্য হাতে চলেও গেলেন শুন্য হাতে। শুধু সাথে নিয়ে গেলেন এ পাহাড়ের সকল জাতি-গোষ্ঠির অফুরন্ত ভালবাসা আর বিনম্র শ্রদ্ধা।
    বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার পর তিনি রাঙামাটি জেলারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন (সিএস) ডা. নূয়েন খীসা গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সমবেদনা জানিয়েছেন।
    শুক্রবার সকাল দশটায় শহিদ আবদুস শুক্কুর স্টেডিয়ামে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, প্রেসক্লাব সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, মরহুমের ছোট ভাই হুমায়ুন কবিরসহ সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। জানাজায় ইমামতি করেন জেলা আহলে সুন্নাতের সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা এম এ মুস্তফা হেজাজী। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে দাফন করা হয়।
    দৈনিক গিরিদর্পণের বার্তা সম্পাদক ও একেএম মকছুদ আহমেদের ঘনিষ্ঠজন নন্দন দেবনাথ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে কন্ট্রাক্টর পাড়ার নিজ বাসায় তিনি স্ট্রোক করেছেন। হাসপাতালে নেয়ার পর রাত ৯টা ৩৭ মিনিটের দিকে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ একজন অভিভাবক হারালো। প্রসঙ্গত, একেএম মকছুদ আহমেদ ৫৬ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশায় রয়েছেন। তিনি ১৯৭৯ সালে প্রথম সাপ্তাহিক বনভূমি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এরপর ১৯৮৩ সালে দৈনিক গিরিদর্পণ প্রতিষ্ঠা করেন। ৪২ বছর ধরে তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে আছেন। দৈনিক গিরিদর্পণের সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব ছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাকের রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি। তিনি রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও। একেএম মকছুদ আহমেদের মৃত্যুতে রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাব, রাঙ্গামাটি সাংবাদিক ফোরাম, রাঙ্গামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন। শুক্রবার সকাল নয়টায় সর্বস্তরের লোকজনের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সামনে তাঁর লাশ রাখা হয়। সেখানে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও সাধারণ লোকজন শ্রদ্ধা জানান। সকাল দশটায় শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস শুক্কুর স্টেডিয়ামে মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে নিজ পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের পাশে দাফন করা হয়।
    মীরসরাই, মলিয়াইশ এর ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়ণ, ২নং ওয়ার্ডের মধ্যম শেখতোলা গ্রামের মরহুম জামাল উল্যাহ’র মেঝ ছেলে পাহাড়ের সাংবাদিকতার পথিকৃৎ মরহুম আলহাজ্ব একেএম মকছুূদ আহেমদ।

  • আলো ছড়াচ্ছে শিশুদের প্রি-প্রাইমারি রাঙ্গামাটি আইটি স্কুল

    আলো ছড়াচ্ছে শিশুদের প্রি-প্রাইমারি রাঙ্গামাটি আইটি স্কুল

    রাঙ্গামাটি সংবাদদাতা: রাঙ্গামাটির অন্যতম আইটি বেইজড কিন্ডারগার্টেন “রাঙ্গামাটি আইটি স্কুল”। ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শিশুদের জন্য আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
    রাঙ্গামাটি শহরের হ্যাপি মোড় এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্কুলটি। তিন থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত এই স্কুলটিতে মজার ছলে শেখানো হচ্ছে বর্ণমালা, সংখ্যা, ছবি আঁকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়। স্কুলের পরিবেশকে শিশুদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পুরো ক্যাম্পাস সাজানো হয়েছে নানান রঙে, যা শিক্ষার্থীদের আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
    স্কুলটিতে রয়েছে ইনডোর প্লে জোন, সুবিশাল কম্পিউটার ল্যাব এবং আধুনিক ক্লাস মডিউল, যা শিশুদের পড়াশোনাকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করে তুলবে। বিশেষ করে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করবে।
    রাঙ্গামাটিতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে “রাঙ্গামাটি আইটি স্কুল” ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অভিভাবকরাও সন্তুষ্ট, তাদের সন্তানরা এখানে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।

    স্কুলের বাচ্চা এখন কম্পিউটারে ছবি আঁকতে পারে, অক্ষর চিনতে পারে। শিশুরা খুব সহজেই প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। তাদের জন্য বয়স উপযোগী পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

    স্থানীয়দের আশা, রাঙ্গামাটিতে এমন একটি উদ্যোগ শিশুশিক্ষায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। রাঙ্গামাটির এই আইটি স্কুল প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং পাহাড়ের শিশুদের প্রস্তুত করবে আগামী দিনের জন্য।

  • রাবিপ্রবিতে আন্ত:বিভাগ শীতকালীন ফুটবল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

    রাবিপ্রবিতে আন্ত:বিভাগ শীতকালীন ফুটবল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

    রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারিরীক শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে রাবিপ্রবি আন্ত:বিভাগ শীতকালীন ফুটবল খেলার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আজ ফাইনাল খেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগ বনাম ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগ চ্যাম্পিয়ন মুকুট জয় করে। আজ বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিঃ তারিখ বিকাল ৩:০০ ঘটিকায় রাবিপ্রবি’র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান।
    এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রসাসন অনুষদের ডিন জনাব সূচনা আখতার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব সাদ্দাম হোসেন, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব মোসাঃ হাবিবা, শারীরিক শিক্ষা বিভাগ পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব খোকনেশ্বর ত্রিপুরাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।
    ফাইনাল খেলায় মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চতর শিখরে তোলার জন্য তোমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আমরা চাই সবার মধ্যে এ বোধটা তৈরি হোক। তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ময়লা ফেলে রাখে যা মোটেই কাম্য নয়। আমাদের সবার মধ্যে স্পৃহা থাকতে হবে যে আমরা একটা ক্লিন ক্যাম্পাস চাই। প্রকৃতির চোখ জুড়ানো এ বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।
    তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বাড়াবার জন্য নিজেদের শ্রম, মেধা ও যোগ্যাতাকে কাজে লাগাতে চাই। আমাদের এই চেষ্টাগুলো বেঁচে থাক। রাবিপ্রবি এখন যে পরিসরে আছে, সে পরিসরে দ্রুত বড় হবে সেই প্রত্যাশায় সবার মাঝে সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং ধৈর্য্য রাখতে একসাথে কাজ করে যাবো।
    উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এ ফুটবল প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

  • রাঙামাটিতে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা

    রাঙামাটিতে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা

    রাঙামাটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে জেলা পর্যায়ে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৫ এর পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে কার্যালয়ের মিলনায়তনে এক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ ইকবাল বাহার চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. মোবারক হোসেন।

    জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৫- এ রাঙামাটির দশটি উপজেলায় মোট ৭০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ।

    তিনটি ক্যাটাগরিতে ক গ্রুপ-পবিত্র কুরআন শরীফের পূর্ণাঙ্গ ৩০ পারা, খ গ্রুপ পবিত্র কুরআনের বিশ পারা এবং গ গ্রুপে পবিত্র কুরআনের দশ পারার জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। ৭০ জন থেকে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় এই তিনটি ক্যাটাগরিতে তিনজন করে নয়জন বিজয়ী হয়। অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. মোবারক হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক ও উৎসাহপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজন আরো বৃদ্ধি ও অধিক অংশগ্রহণমূলক করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

    রাঙামাটি ইফা’র উপ-পরিচালক বলেন, আজকের জেলা পর্যায়ের বিজয়ীরা বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন। বিভাগীয় পর্যায়ের বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার মো. আলী আহসান ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজস্থলী উপজেলার সুপারভাইজার মো. আবু বক্কর ফিল্ড, কাপ্তাই উপজেলার সুপারভাইজার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ফিল্ড, নানিয়ারচর উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার মো. মইনুল আলম মুবিন, কাউখালী উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার জয়নুল আবেদিন, লংগদু উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার মোজাম্মেল হক, জেলার বিভিন্ন হেফজখানর পরিচালক বৃন্দ, মডেল মসজিদের ইমাম গণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রতিযোগী শিক্ষার্থীরা। সবশেষে সকলের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

  • টিসিবি পন্য না পেয়ে রাঙ্গামাটিতে ডিলারকে অতর্কিত হামলা

    টিসিবি পন্য না পেয়ে রাঙ্গামাটিতে ডিলারকে অতর্কিত হামলা

    রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) এক ডিলারকে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কাপ্তাই উপজেলার কাপ্তাই ইউনিয়নের জেটিঘাট এলাকায় টিসিবি পণ্য বিক্রয় শেষে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় জড়িত মো. সানজিদ (২২) কাপ্তাই ইউনিয়নের মো. সেলিমের ছেলে।

    জানা গেছে, সানজিদের অতর্কিত হামলায় আহত হন টিসিবি ডিলার মেসার্স কাঞ্চন চৌধুরীর স্বত্ত্বাধিকারী কাঞ্চন চৌধুরী। হামলায় কাঞ্চন চৌধুরীর মাথায় জখম হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ও সোমবার কাপ্তাই ইউনিয়নে টিসিবি পণ্য বিক্রয়ের সময় কয়েকজন যুবক স্মার্ট কার্ড ব্যতিত টিসিবি পণ্য ক্রয় করতে চান। কিন্তু স্মার্ট কার্ড ছাড়া পণ্য বিক্রয়ের সুযোগ না থাকায় পণ্য দেননি ডিলার কাঞ্চন চৌধুরী। সোমবার দিনভর কাপ্তাই ইউনিয়নে টিসিবি পণ্য বিক্রয় শেষে বিকেলে একটি চায়ের দোকানে চা পান করার সময় সানজিদ নামে স্থানীয় এক যুবক অতর্কিত এসে হামলা করেন। এ ঘটনায় মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন টিসিবি ডিলার কাঞ্চন চৌধুরী।
    ডিলার কাঞ্চন চৌধুরী জানান, বিকেলে পণ্য বিক্রয় শেষে দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। এমন সময় এক যুবক আমাকে অতর্কিত হামলা করে। হামলায় আমার মাথায় জখম হয়েছে।
    কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মুজিব জানান, বিকালে টিসিবি ডিলার কাঞ্চন চৌধুরীসহ আমরা কয়েকজন ইউপি সদস্য একটি চায়ের দোকানে বসেছিলাম। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা সানজিদ এসে অতর্কিত হামলা করে ও কাঞ্চনকে মেরে রক্তাক্ত করে। আমরা তাৎক্ষনিক কাঞ্চনকে হামলা থেকে রক্ষা করি ও তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।
    এ বিষয়ে কাপ্তাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুদ বলেন, ‘হামলার ঘটনায় জড়িত যুবককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে জেনেছি। আহত ব্যক্তি থানায় অভিযোগ দিলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
    কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, ‘সোমবার বিকেলে টিসিবি পণ্য বিক্রয় শেষে ইউপি সদস্যরা মিলে দোকানে চা পানের সময় স্থানীয় এক যুবক টিসিবি ডিলারকে অতর্কিত হামলা করে। এ ঘটনায় জড়িত যুবককে স্থানীয়রা সবাই চেনেন। হামলায় জড়িত যুবকের বয়স ১৮-২০ হবে ও তিনি মাদকাসক্ত বলে জেনেছি। আমি ভুক্তভোগী ডিলারকে থানায় পাঠিয়েছি। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’#

  • রাবিপ্রবিতে ছাত্রীদের হ্যান্ডবল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

    রাবিপ্রবিতে ছাত্রীদের হ্যান্ডবল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

    রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যকার হ্যান্ডবল ফাইনাল খেলা আজ মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ বিকাল ৩:৩০ ঘটিকায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগকে ১১-০ গোলে হারিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগ চ্যাম্পিয়ন।
    এসময় রাবিপ্রবি’র মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব সাদ্দাম হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।
    মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন, সুস্থ বিনোদনের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। যে যত বেশি খেলাধুলা করবে সে তত বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ যায়গায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।
    ফাইনাল খেলায় ম্যানেজমেন্ট বিভাগ বনাম ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগ অংশগ্রহণ করে। খেলায় ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগকে ১১-০ গোলে হারিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়।
    খেলায় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোহিনী চাকমা ৭ গোল,কেটি বম ২ গোল এবং অভিনন্দা তঞ্চংগ্যা ২ গোল করে।#

  • পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি সাকিবের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

    পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি সাকিবের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

    পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সাহাদাত ফরাজি সাকিবের মুক্তির দাবিতে রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সচেতন ছাত্র সমাজ।
    সাহাদাত ফরাজি সাকিব ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।
    মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাঙামাটি পৌরপ্রাঙ্গন থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলকারীরা শহরের প্রধান সড়ক হয়ে বনরূপা আলিফ মার্কেটের সামনে এসে সমাবেশ করেন।
    সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সচেতন ছাত্র সমাজের নেতা ইমাম হোসেন ইমু, মো. পারভেজ মোশাররফ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।
    সমাবেশে বক্তারা বলেন, পাহাড়ের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো দেশের বামধারার সংগঠনগুলোর সঙ্গে আতাত করে সাহাদাত ফরাজি সাকিবের নামে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। সাকিব গত ১৫ জানুয়ারি স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির সার্বভৌমত্ব বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে যোগদান এবং বিতর্কিত আদিবাসী শব্দ পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেয়ার দাবিতে সোচ্চার থাকায় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
    অবিলম্বে সাহাদাত ফরাজি সাকিবের মুক্তির দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘মুক্তি দিতে গড়িমসি করলে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে। রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে, তিন জেলা অচল করে দেওয়া হবে।
    প্রসঙ্গত, ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে মতিঝিল থানার একটি মামলায় গ্রেফতার হন সাহাদাত ফরাজি সাকিব। বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সাহাদাত ফরাজি সাকিব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের অন্যতম মুখপাত্র ছিলেন। #

  • বাংলাদেশের সব আন্দোলন- সংগ্রামে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রেখেছে : অধ্যাপক গোলাম সারোয়ার সুজন

    বাংলাদেশের সব আন্দোলন- সংগ্রামে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রেখেছে : অধ্যাপক গোলাম সারোয়ার সুজন

    মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশে সমস্ত আন্দোলন সংগ্রামে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি “আদিবাসী” জনগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. গোলাম সারোয়ার সুজন রাবিতে দুই দিনব্যাপী ‘বই ও প্রামাণ্য তথ্যচিত্র প্রদর্শনী’র সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি আরো বলেন,জুলাই গণঅভ্যুত্থান মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলন সংগ্রামেও পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বিপুলভাবে অংশগ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

    মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের সহযোগিতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী ‘বই ও প্রামাণ্য তথ্যচিত্র প্রদর্শনী’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

    গত ১৬-১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ দুই দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন ছবি, বই, প্রবন্ধ প্রদর্শনসহ পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে নির্মিত ভিডিও ডকুমেন্টারি (১৯৮৯-২০১৩) লড়াই সংগ্রামে ইতিহাস, তানভীর মোকাম্মেল নির্মিত কর্ণফুলী কান্না, লাইভ ইজ নট আওয়ার ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।

    কর্মসূচিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

    গতকাল সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংক্ষিপ্ত আলোচনার সভার মধ্যে দিয়ে দুই দিনব্যাপি কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

    আলোচনা সভায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. গোলাম সারোয়ার সুজন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের সদস্য চয়েচ তালুকদার, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের তারেক আশরাফ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক শামীন ত্রিপুরা বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও রাবির শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সহযোগী অধ্যাপক গোলাম সারোয়ার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান সমস্ত রাজনৈতিক অধিকারের স্বপ্ন অর্থাৎ রাষ্ট্রের কাছে ন্যূনতম মৌলিক চাহিদাগুলো পাওয়ার জায়গা থেকে যে বৈষম্য বিরোধী অর্থাৎ সমাজে কোন বৈষম্য থাকবে না, সবার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে সে জায়গা থেকে সমতলে যারা এই আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন তার সাথে সাথে আমরা দেখেছি পাহাড়েও তারা (পাহাড়ি জনগোষ্ঠি) এই ফ্যাসিস্ট বিরোধী অভ্যুত্থানে তারা বিপুল ভূমিকা রেখেছেন। তেমনিভাবে বাংলাদেশে বিগত আন্দোলন সংগ্রামেও তাদের ঐতিহাসিক ভুমিকা রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর ভূমি এবং তাদের যে সম্পদ আছে তা এখানকার বড় পুঁজি, বণিক গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় এবং দখল করতে চায়। সে জন্য তাদেরকে নানাভাবে চিত্রায়িত করা হয়। আমাদের কাছে তাদের সঠিক তথ্য পৌঁছায় না। সে জায়গা থেকে তারা এই প্রদর্শনী আয়োজন করার মধ্য দিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন সেজন্য তাদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই এবং আগামীতে আরো এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করে তাদের পরিচিতি সঠিকভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

    পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছে মন্তব্য করে গোলাম সারোয়ার সুজন বলেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছে, আগামীতেও আন্দোলন সংগ্রামে সেভাবে ভূমিকা রাখবে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে “আদিবাসী” জনগোষ্ঠী যারা আছেন তারা সমতলে এবং পাহাড়ে বসবাস করেন। তারা নানা সংগঠনের বিভক্ত হয়ে রয়েছে। বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে তারা একটা প্লাটফর্মে সহবস্থান করবেন এবং তাদের সাথে প্রগতিশীল রাজনৈতিক যারা আছেন তারা একাত্মতা পোষণ করবেন, সংগ্রামে সহযোগিতা করবেন। এর মধ্য দিয়ে তাদের ভূমিসহ ন্যায় সঙ্গত অধিকারের বিষয়গুলো সামনে আরো ভালোভাবে উঠে আসা সম্ভব হবে।

    তিনি আরো বলেন, আমরা গত পনের বছরে দেখেছি পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের “আদিবাসী”, নিপীড়িত বাঙালি, শ্রমজীবী সাধারণ কৃষক, মেহনতী মানুষের উপর কীভাবে নিপীড়ন চালানো হয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে আমরা অনেক ক্ষেত্রে সফল হবো।

    তিনি আগামীতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের সহযোগীতায় উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বড় আকারে এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে মানুষের অধিকার আদায়ে, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য যে কর্মসূচি হবে সেখানে সবার অংশগ্রহণ আশা করেন তিনি।

    সভায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস ও বাস্তবতা তুলে ধরতে এ ধরনের প্রদর্শনীর প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এটিকে একটি সূচনা হিসেবে অভিহিত করেন। তারা তথ্যভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তোলা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।