Blog

  • সেনাবাহিনী ও ইউপিডিএফ-এর ভয়াবহ গুলিবিনিময়: আহত ২, অস্ত্রসহ আটক ৩

    সেনাবাহিনী ও ইউপিডিএফ-এর ভয়াবহ গুলিবিনিময়: আহত ২, অস্ত্রসহ আটক ৩

    আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভোরে রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মইনেপাড়া স্কুল সংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনী ও ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ)-এর মধ্যে ভয়াবহ গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। সকাল ৪টা ১০ মিনিট থেকে ৫টা ৫ মিনিট পর্যন্ত চলমান এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষ আনুমানিক কয়েক ডজন রাউন্ড গুলি বিনিময় করে বলে নিশ্চিত করেছে নিরাপত্তা সূত্র।

     সূত্র অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর রাঙামাটি সদর জোন (৬০ ইবিবি)-এর ক্যাপ্টেন আসিফ হাসান শোভনের নেতৃত্বে একটি টহল দল ওই এলাকায় ইউপিডিএফ-এর অস্তিত্বের খবর পেয়ে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ইউপিডিএফ সশস্ত্র সদস্যরা গুলিবর্ষণ শুরু করলে সেনাবাহিনীও পাল্টা জবাব দেয়। সেনাবাহিনীর একাধিক টিম বিভিন্ন দিক থেকে এলাকা ঘেরাও করে অভিযান পরিচালনা করে।

     ঘটনায় সেনাবাহিনীর একজন সদস্য মো. তরিকুজ্জামান খান ডান হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামের সিএমএইচ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর তিনজন সদস্যকে ঘটনাস্থল থেকে এলএমজি রাইফেল, গোলাবারুদ ও আইডি কার্ডসহ আটক করা হয়।

     আটককৃতদের হলেন: ১. মনসুখ চাকমা (৫০), পিতা মৃত বিন্দু কুমার চাকমা, ২. সিন্ধু মনি চাকমা (২৩), পিতা মনসুখ চাকমা, ৩. অন্তর চাকমা (১৯), পিতা সোনামুনি চাকমা।

     স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাগুলির সময় ঘাগড়া উল্টো পাড়ার এক পাহাড়ি ব্যক্তি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

     ঘটনার সময় ইউপিডিএফ-এর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাটি সেনাবাহিনী ঘেরাও করে অভিযান চালায়। অভিযান এখনও চলমান রয়েছে বলে সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছে।

     এই সংঘর্ষ আবারও পাহাড়ে সশস্ত্র দলগুলোর সক্রিয়তার প্রমাণ বহন করে। স্থানীয়দের মাঝে এ নিয়ে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

     উল্লেখ্য, ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ) দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা চালিয়ে আসছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টানা অভিযানের মধ্যেও তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। #

  • পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের “পরিচালনা বোর্ড” এর ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ৪র্থ সভা অনুষ্ঠিত

    পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের “পরিচালনা বোর্ড” এর ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ৪র্থ সভা অনুষ্ঠিত

    ১৬ জুন ২০২৫ সোমবার বেলা ১১ টায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ‘পরিচালনা বোর্ড’ এর ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের ৪র্থ সভা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রাঙ্গামাটিস্থ প্রধান কার্যালয়ের বোর্ড রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, এনডিসি, পিএসসি। সভার আলোচ্যসূচি ছিলো (১) গত ১৩/০৩/২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন এবং গৃহীত সিদ্ধান্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা; (২) ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের ৩১ মে ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা; (৩) বিবিধ।
    বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয় সভায় উপস্থিত সকল সদস্যকে স্বাগত জানান এবং পরিচয় পর্ব শেষে সভাপতির অনুমতিক্রমে সদস্য-বাস্তবায়ন ও ভাইস-চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) জনাব জাহিদ ইকবাল পরিচালনা বোর্ডের ৩য় সভার কার্যবিবরণী পাঠ করে শোনান এবং তিনি গত সভায় গৃহিত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করেন।
      পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প/স্কিমের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীগণ ধারাবাহিকভাবে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে স্ব স্ব প্রকল্পের বাস্তব ও আর্থিক বাস্তবায়ন অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন। এসময় বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কোড নং ২২১০০১১০০ এবং কোড নং ২২১০০০৯০০ এর আওতায় স্কিমসমূহসহ পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ (পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলা চাষ বৃদ্ধি ও কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে কফি ও কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ শীর্ষক প্রকল্প, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সুগারক্রপ চাষাবাদ জোদারকরণ প্রকল্প, রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলায় সেচ অবকাঠামো নির্মাণ, বান্দরবান পার্বত্য জেলার রোয়াংছড়ি-রুমা পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের (২য় পর্যায়) ইত্যাদি) এর বাস্তব ও আর্থিক অগ্রগতি নিয়ে সভায় বিশদভাবে আলোচনা করা হয়।
    বোর্ড সভায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক জনাব এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক জনাব শামীম আরা রিনি কর্তৃক পর্যটকদের সুবিধার্থে পর্যটন শিল্প উন্নয়নে পর্যটকগণের সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন নান্দনিক অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে গুরত্বসহকারে বিবেচনায় রাখার জন্য বোর্ডকে অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ গুণগত শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মেধাবী গরীব ও অসচ্ছল ৯ম ও ১০ম শ্রেণী এবং সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের নিমিত্ত বাস্তবায়নযোগ্য স্কিম গ্রহণপূর্বক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রস্তাব দেন। এসময় সভায় বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, এনডিসি, পিএসসি পরিচালনা বোর্ড সদস্যগণের মতামত ও সুপারিশকে স্বাগত জানান।
      সভায় বোর্ডের সদস্য-পরিকল্পনা সরকারের যুগ্মসচিব জনাব সুমন বড়–য়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপসচিব জনাব মোহাম্মদ সামছুল হক, উপসচিব সদস্য-অর্থ জনাব মোঃ জসীম উদ্দিন, ভাইস-চেয়ারাম্যান (রুটিন দায়িত্ব) ও সদস্য-বাস্তবায়ন উপসচিব জনাব জাহিদ ইকবাল, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিনিধি ও উক্ত পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিনিধি ও উক্ত পরিষদের সদস্য জনাব প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বোর্ডের খাগড়াছড়ি নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ মুজিবুল আলম, উপপরিচালক জনাব মংছেনলাইন রাখাইন, নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা জনাব কল্যানময় চাকমা, রাঙ্গামাটি নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব তুষিত চাকমা, গবেষণা কর্মকর্তা জনাব কাইংওয়াই ম্রো, বাজেট ও অডিট অফিসার জনাব মোঃ নুরুজ্জামান, তথ্য অফিসার ডজী ত্রিপুরা, জনাব সাগর পাল প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনাব মনতোষ চাকমা সহকারি পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
  • রাঙামাটিতে ৩০টি হারানো ফোন উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ।

    রাঙামাটিতে ৩০টি হারানো ফোন উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ।

    রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের সফল প্রচেষ্টায় ৩০টি হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
    রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থানে হারিয়ে যাওয়া ৩০ টি মোবাইল ফোন জিডি মূলে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল কর্তৃক উদ্ধার করা হয়।
    আজ ১৭ জুন ২০২৫ খ্রি: রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে  উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করেন পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন।
    মোবাইল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভিকটিমগণ তাদের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ফেরত পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং পুলিশ সুপার সহ রাঙামাটি জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
    এসময় রাঙামাটি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।#

  • লংগদুতে সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুদের অভিযোগে ৩জনের জরিমানা, ৬৮ বস্তা চাল জব্দ।

    লংগদুতে সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুদের অভিযোগে ৩জনের জরিমানা, ৬৮ বস্তা চাল জব্দ।

    ১৩ জুন শুক্রবার  রাঙামাটির লংগদু উপজেলার করল্যাছড়ি বাজারে সরকারি সিলযুক্ত চাল অবৈধভাবে মজুদ রাখার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে লংগদু উপজেলা প্রশাসন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লংগদু জোন কর্তৃক সরবরাহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানে তিনজন ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে মোট ৬৮ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়।

    মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব কফিল উদ্দিন। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।#লংগদুতে সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুদের অভিযোগে ; ৩জনের জরিমানা, ৬৮ বস্তা চাল জব্দ।
    ১৩ জুন শুক্রবার রাঙামাটির লংগদু উপজেলার করল্যাছড়ি বাজারে সরকারি সিলযুক্ত চাল অবৈধভাবে মজুদ রাখার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে লংগদু উপজেলা প্রশাসন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লংগদু জোন কর্তৃক সরবরাহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
    অভিযানে তিনজন ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে মোট ৬৮ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়।
    মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব কফিল উদ্দিন। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।#

  • প্রাকৃতিক দূর্যোগ এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন।

    প্রাকৃতিক দূর্যোগ এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন।

    আজ (০৩জুন) সকালে রাঙ্গামাটি পৌর এলাকাধীন জেলা প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার আশ্রয় কেন্দ্র লোকনাথ মন্দির, ভেদভেদি পরিদর্শন করেন জেলার স্বাস্থয় বিভাগ প্রধান সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা: নূয়েন খীসা। এসময় সিভিল সার্জন  সাথে  রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের  আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: শওকত আকবর খান  ও জেনারেল হাসপাতালের কর্মকর্তা – কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত জনসাধারণ চিকিৎসকদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ দূর্যোগে তাদের নানান সমস্যা ও অসুস্থতার বিষয়ে চিকিৎসকদের অবহিত করেন। 

    এ সময় সিভিল সার্জন , আবাসিক মেডিকেল অফিসার সহ অন্যান ডাক্তারগন সবাইকে কাছে ডেকে স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান করেন, অসুস্থ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা , জরুরী ওষুধ পত্র, খাবার স্যালাইন বিতরণ করেন। এছাড়া  মশার উপদ্রবের কথা শুনে তাৎক্ষনিক মশারী বিতরণ করেন । পরিশেষে অসুস্থতা বেড়ে গেলে প্রয়োজনে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।

    জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেনারেল হাসপাতালের সীমিত সুযোগের মধ্যে জনসাধারণের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

    বরাবরের মতো করে এবারের দুর্যোগেও স্বাস্থ্য বিভাগ এই সব অসহায় জনগণের পাশে থাকবে। #

  • রাঙ্গামাটিতে বিরামহীন বৃষ্টি,ঝুকিঁ পাহাড় ধ্বসের, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, ভোগান্তিতে জনজীবন ।

    রাঙ্গামাটিতে বিরামহীন বৃষ্টি,ঝুকিঁ পাহাড় ধ্বসের, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, ভোগান্তিতে জনজীবন ।

    রাঙ্গামাটিতে বিরামহীন বৃষ্টি,পাহাড় ধ্বসের ঝুকিতে হাজারো মানুষ,জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বসতবাড়ী ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

    ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটির মানুষের জনজীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে। বৃষ্টির ফলে পুরো রাঙ্গামাটি জুড়ে পাহাড় ধ্বসের আশংকা  ক্রমে বেড়ে চলছে। সরকারী হিসাব মতে বন্যায় প্লাবন ও পাহাড় ধ্বসে রাঙ্গামাটির প্রায় ২ হাজারের বেশী বাড়ীঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুড়াছড়ি ও কাউখালী দূই উপজেলার সংযোগ
    সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকায় বসবাসরতরা চরম বিপাকে পড়েছে।
    তবে এলজিইডি’র অধীনে নির্মিত জুরাছড়ির যক্ষা বাজার ও কাউখালী-ঘিলাছড়ি সড়ক ভেঙ্গে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন। বর্তমানে এই দুইটি সড়ক দিয়ে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
    এছাড়া কাউখালী উপজেলার  কাউখালী খাল এবং ইছামতী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে  ছুটছে। প্রবল বৃষ্টিতে ওই উপজেলার ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিতর পানি প্রবেশ করেছে।

    প্রবল বৃষ্টিতে জুরাছড়ি উপজেলার যক্ষা বাজারে গতকাল সোমবার দুপুরে সড়ক ধ্বসে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ধসে পড়ায় উপজেলা সদরের সাথে ওই এলাকার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া যক্ষাবাজার পানিতে তলিয়ে গেছে।
    ভারী বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদে পাহাড়ি ঢলে জুরাছড়ির মৈদং ইউনিয়নের জামুরাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শীলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। ৬দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় জুরাছড়ির জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

    রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, প্রবল বর্ষণে সড়ক বিভাগের প্রায় ১৫টি পয়েন্টে পাহাড়ধসে সাময়িক সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবেই সবগুলো পয়েন্ট মাটি সরিয়ে নেয়ার কাজ করেছে সড়ক বিভাগ। সব সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।
    রাঙামাটি প্রশাসনের তথ্য অনুযাযী, জেলায় মোট ২৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে আশ্রয় নিয়েছে ৬৭২ জন। টানা বর্ষণে এই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৩টি বসত। যা আরো বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬২৮০ হেক্টর জমি। জেলায় ৫৪০ মে.টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে জানমালের কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সেজন্য প্রশাসন সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    এদিকে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাচালং নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলায় টানা বর্ষণে বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড পূর্ব লাইল্যাঘোনা গ্রামের বেশ কিছু বাড়ি ও রাস্তা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের এফ ব্লক এলাকার সংযোগ সড়ক প্লাবিত ও মধ্যমপাড়া থেকে কাচালং কলেজ সড়কসহ আরো কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পৌরসভার প্রায় ৮টি ওয়ার্ডই কম-বেশী বন্যার পানিতে প্লাবিত। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের সব কৃষিজমি ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

    বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আখতার বলেন, উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আপাতত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিরামহীন বৃষ্টির ফলে ক্রমে পানির পরিমাণ আরো বাড়ছে।
    বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় শতাধিক বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ।  এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিরিন আক্তার, বাঘাইছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সুপ্তশ্রী সাহা।

    রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে প্রশাসন দিনরাত করছে। প্রশাসন থেকে ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ করছে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার থেকে ৫৪০ মে.টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সে বিষয়েও আমাদের প্রস্তুতি আছে। উপজেলা নির্বাহী আফিসারদের দেয়া নির্দেশনা মোতাবেক তার কাজ করে যাচ্ছেন।
    টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি সাথে সাথে বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও। ##

  • রাঙ্গামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটি বাতিলের দাবিতে ক্রীড়া উপ‌দেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

    রাঙ্গামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটি বাতিলের দাবিতে ক্রীড়া উপ‌দেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

    ঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত এডহক কমিটি বাতিলের দাবিতে জেলার ক্রীড়া সংগঠক, ক্লাব কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও ক্রীড়ানুরাগীরা একযোগে স্মারকলিপি দিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দপ্তরে। একই দা‌বি‌তে জেলা জায়ায়া‌তের পক্ষ থে‌কে স্মারকলি‌পি প্রদান করা হ‌য়ে‌ছে।

    সোমবার ( ২ জুন) বেলা ১১টার‌ দি‌কে জেলা প্রশাস‌কের হা‌তে স্মারক‌লি‌পি তু‌লে দেয়া হয়।

     স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, গত ২৭ মে ২০২৫ তারিখে যে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেটি সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ক‌মি‌টি গঠিত হয়েছে। এতে স্থানীয় ক্লাব প্রতিনিধি, খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।

     অভিযোগ রয়েছে, কমিটিতে এমন কিছু ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, এমনকি তারা রাঙ্গামাটি জেলার স্থায়ী বাসিন্দাও নন। অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে প‌তিত ফ‌্যা‌সিস্ট সরকা‌রের সংশ্লিষ্টতা ও বিতর্কিত অতীত কর্মকান্ড।

    স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, এভাবে গঠিত কমিটি জেলা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ক্ষতিকর এবং এর মাধ্যমে জেলা ক্রীড়া ফেডারেশনকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে ফেলার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    এছাড়া, রাঙ্গামাটি সদরের নির্মাণাধীন শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

    স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে। অন্যথায়, জেলা ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবরোধের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

    স্মারকলিপি প্রদা‌নের সময় জেলা বিএন‌পির সভাপ‌তি দী‌পেন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক এড. মামুনুর র‌শিদ মামুন, জেলা ক্লাব এসো‌সি‌য়েশ‌নের আহবায়ক মাহবুবুল বা‌সেত অপু, যুগ্ম আহবায়ক দিল বাহাদুর রায়, আব্দুল মন্নান, সদস্য স‌চিব প্রী‌তি প্রসুন চাকমা, সা‌বেক জাতীয় দ‌লের ফুটবলার কিংশুক চাকমাসহ ক্রীড়া সংস্থার নিব‌ন্ধিত ক্লাব কর্মকর্তা, খেলোয়াড়, সংগঠক, রেফারি ও আম্পায়াররা উপস্থিত ছি‌লেন। 

    জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হা‌বিব উল্লাহ ব‌লেন, আপনা‌দের আ‌বেদন ও দা‌বিসমূহ সং‌শ্লিষ্ট কতৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ কর‌া হ‌বে। পরবর্তী নি‌র্দেশনা যেভা‌বে আস‌বে, সেভা‌বে জেলা ক্রীড়াঙ্গন প‌রিচা‌লিত হ‌বে। #

  • ভূষণছড়া গণহত্যার বিচারের দাবিতে বরকলে পিসিসিপি’র শোকসভা

    ভূষণছড়া গণহত্যার বিচারের দাবিতে বরকলে পিসিসিপি’র শোকসভা

    ১৯৮৪ সালের ৩১ মে রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার পাহাড়ী সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএসের সশস্ত্র শাখা শান্তি বাহিনীর সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া চার শতাধিক নীরিহ বাঙালি নারী-পুরুষকে নির্মমভাবে হত্যার পরবর্তী দীর্ঘ ৪১ বছরের বিচার পায়নি নিহতদের স্বজনরা।

    নিহতের স্মরণে প্রতি বছরের মত আজ শনিবার (৩১ মে) দুপুরে ভূষণছড়া ইউনিয়নের ফারুকী আজম দাখিল মাদ্রাসার সম্মেলন কক্ষে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তি শোকসভা অনুষ্টিত হয়।  আয়োজিত এ বিক্ষোভ মিছিল ও শোকসভায় ভূষণছড়া গনহত্যার সুষ্ঠ তদন্ত, খুনিদের বিচার ও ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।

    পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের বরকল উপজেলা সভাপতি মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো: ঈসমাইল গাজী সঞ্চালনায় শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য  মিনহাজ মুরশিদ। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোলায়মান, স্থানীয় সমাজ সেবক মো: জাকির, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মো: সিদ্দিক ব্যপারি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক শাহ আলম সওদাগর, সমাজ সেবক সুলতান মন্ডল, মো: নজরুল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জলিল মেম্বার, নাগরিক প্রতিনিধি মো: কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি জেলা পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো: খলিলুর রহমান, কেন্দ্রীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পারভেজ মোশারফ হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।

    এসময় বক্তারা বলেন, ভূষণছড়া গণহত্যাসহ অসংখ্য বর্বরোচিত ঘটনার শিকার হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালীরা। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন হত্যাকান্ডের বিচার করা হয়নি। উল্টো পাহাড়ে প্রতিনিয়ত অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ পাহাড়ী ও বাঙালী উভয়ই এই সকল সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হত্যা, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ। তাই পাহাড়ে কাঙ্খিত শান্তির সুবাতাস ফিরিয়ে আনতে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানী, হত্যা, গুম,খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এখনই রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

    বক্তারা পার্বত্য এলাকায় শান্তি আনয়নের জন্য অবিলম্বে ভূষণছড়া গণহত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএস ও ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসী কর্তৃক সকল হত্যাকান্ডের বিচার ও প্রত্যাহারকৃত সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।#

  • নানিয়ারচর-লংগদু সড়ক নির্মাণে ইউপিডিএফের বাধার বিপরীতে জনগণের উন্নয়ন দাবি।

    নানিয়ারচর-লংগদু সড়ক নির্মাণে ইউপিডিএফের বাধার বিপরীতে জনগণের উন্নয়ন দাবি।

    নানিয়ারচর থেকে লংগদু পর্যন্ত প্রস্তাবিত ২৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের বিরোধিতা করে ‘নানিয়ারচর-লংগদু বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি’ নামে একটি সংগঠন আজ সোমবার (২৬ মে) সকাল ১১টায় পাতাছড়ি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ-এর ছত্রছায়ায় গঠিত এই কমিটির নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভে সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবি জানানো হয়।

    সড়ক নির্মাণের বিরোধিতাকারীরা দাবি করছে, প্রস্তাবিত এই সড়ক প্রকল্প পাহাড়ি বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। বিক্ষোভে সামনের সারিতে ছিলেন আহ্বায়ক জ্ঞান বিকাশ চাকমা, আর পেছন থেকে নেতৃত্ব দেন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ইউপিডিএফ পরিচালক অতুল চাকমা ওরফে সুকৃতি চাকমা। ইউপিডিএফ সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরাও কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

    অভিযোগ উঠেছে, পাহাড়ের নিরীহ নারী ও শিশুদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাত্র কয়েক ঘন্টার নোটিশে মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করেছে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা।

    জনগণের দাবি: উন্নয়ন চাই, বাধা নয়

    তবে সাধারণ জনগণের মতামত সম্পূর্ণ বিপরীত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই সড়ক দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। বর্তমানে নানিয়ারচর, লংগদু ও বাঘাইছড়ির জনগণকে নৌপথে চলাচল করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং বর্ষাকালে বিপজ্জনক। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের জন্য এটি দুর্ভোগের কারণ।

    সড়ক নির্মাণ হলে রাঙামাটি শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে, ফলে সময় ও ব্যয় কমবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সহজে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বাজারে পাঠাতে পারবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    ইউপিডিএফের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ:

    বিশ্লেষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, ইউপিডিএফ এই উন্নয়নপ্রচেষ্টাকে নিজেদের স্বার্থের পরিপন্থী মনে করছে। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে আধিপত্য বজায় রাখতে তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জনভীতি সৃষ্টিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এর আগে বহুবার উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বাধা দিয়েছে সংগঠনটি।

    জনগণের চোখে এই বিক্ষোভ একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কারণ সড়ক হলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে, ফলে ইউপিডিএফ-এর অবৈধ কার্যক্রম-বিশেষ করে অস্ত্র পাচার ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের পরিসর সীমিত হয়ে যাবে।

    সরকারি পদক্ষেপ ও জনমতের চাপ:

    প্রস্তাবিত সড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই ইতোমধ্যে শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। স্থানীয় প্রশাসনও প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয়। তবে ইউপিডিএফ এই উদ্যোগে হুমকি সৃষ্টি করে জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে।

    একজন স্থানীয় নারী বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন চাই, মিছিল-সন্ত্রাস না।” একজন তরুণ বলেন, “আমাদের দরকার কর্মসংস্থান, নিরাপদ যাতায়াত।” একজন বয়স্ক ব্যক্তি বলেন, “আর কষ্ট নয়, এবার উন্নয়নের ছোঁয়া দরকার।”

    উন্নয়ন না সন্ত্রাস-সিদ্ধান্তের সময় এখন:

    বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজ ইউপিডিএফের এই কর্মসূচির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলছে, এই অঞ্চলের দুই লক্ষাধিক মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারে না। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, অবিলম্বে সড়ক নির্মাণ করে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রক্রিয়া আর বিলম্বিত করা উচিত নয়। অবকাঠামোগত উন্নয়নই সেখানে শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি।

    এই সড়ক শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, এটি পাহাড়ের মানুষের জন্য সম্ভাবনার পথ, উন্নয়নের প্রতীক। রাষ্ট্রের উচিত জনগণের স্বার্থে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসা-কারণ একটি রাস্তা শুধু মাটি-পাথর নয়, এটি টেকসই উন্নয়নের মহাসড়ক।#

  • রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে সড়ক নির্মাণে প্রতিরোধ,প্রতিবাদ,বিক্ষোভ।

    রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে সড়ক নির্মাণে প্রতিরোধ,প্রতিবাদ,বিক্ষোভ।

    ‘বন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ধ্বংসাত্মক’ এ দাবী করে পাহাড়ের একটি বিশেষ সংগঠনের প্রত্যক ইন্ধনে রাঙামাটির নানিয়ারচর-লংগদু সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে নানিয়ারচরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ২৬ মে সোমবার  দুপুরে নানিয়ারচর সদর উপজেলার টিএন্ডটি বাজারে ‘নানিয়ারচর-লংগদু বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির’ ব্যানারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের আগে, কলেজ আদাম এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে টিএন্ডটি বাজারে এসে সমাবেশ করে।

    সমাবেশে নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাপ্পী চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন স্থানীয় কারবারি (গ্রামপ্রধান) সুশান্তি চাকমা, নানিয়ারচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ খীসাসহ আরও অনেকে। এতে উপস্থিত ছিলেন ৬৬ নম্বর এগারাইল্যাছড়া মৌজার হেডম্যান (মৌজাপ্রধান) ও নানিয়ারচর-লংগদু বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক জ্ঞান বিকাশ তালুকদার, নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অনিতা চাকমা, সাবেক ইউপি সদস্য সেন্টু চাকমা।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, নির্বিচারে বন উজাড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জীববৈচিত্র্য হুমকির

    মুখে। বন, ফসলি মাঠ ধ্বংস করে উন্নয়নের নামে নানিয়ারচর-লংগদু সংযোগ সড়ক করলে আমাদের ওপর পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়বে। অনেকের ফসলি জমি, গাছ, ভূমি ধ্বংস হবে। আমাদের গ্রামগুলোতে এখন সুপেয় পানির তীব্র সংকট, ক্রমাগত গাছপালা নিধনের ফলে সেটি দিন দিন বাড়ছে। সড়কের নামে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হলে আমাদের জীবন বিপন্ন হবে, টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে যাবে।

    সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নানিয়ারচর ইউপি চেয়ারম্যান বাপ্পী চাকমা বলেন, ‘আমি আহবান জানাচ্ছি, আমাদের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আমাদের প্রকল্পটি যেন বিবেচনা করেন। প্রকল্পটি যেন বাতিল করেন। পাহাড়ে আজ পানি সংকট। জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। বন ধ্বংসের ফলে পাহাড়ে পানির সংকট, জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়েছে। তাই আমরা চাই আমাদের জন্য হলেও এই প্রকল্পটি বাতিল করা হোক।’

    প্রসঙ্গত, রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা সদরের সঙ্গে লংগদু উপজেলার প্রায় ২৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।

    উল্ল্যেখ যে রাঙ্গামাটি- নানিয়ারচর- লংগদূ একটি  ২৪ কিলো মিটারের সংযোগ সড়ক নিয়ে এসব এলাকার বসবাসকারীরা সহ জেলাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবী করে আসছিল এ সড়কটি নির্মাণের। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরে সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক পরবর্তি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন  অবস্থায়  রয়েছে বলে জানান রাঙ্গামাটি সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। #