Blog

  • ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি।

    ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের বর্বর আগ্রাসন ও নৃশংস গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী “No Work, No School” কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আজ ৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ সকাল ১১:১৫ ঘটিকায় একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিবাদ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির আওতায় সকাল ৯:০০ ঘটিকা থেকে সকাল ১১:০০ ঘটিকা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি পালন করা হয়।রা

    বিপ্রবি’র মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান এ প্রতিবাদ সমাবেশে বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে প্রায় পঁচাত্তর বছর ধরে ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি আগ্রাসী তৎপরতা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপে বিশ্ববাসী দেখেছে; ক্রমান্বয়ে তা প্রবল থেকে প্রবলতর হয়েছে। সম্প্রতি সমগ্র ফিলিস্তিনে যে ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে ও হচ্ছে তা অবর্ণনীয়। সেখানে মানুষ অবর্ণনীয় দুঃখ, দুর্দশা সহ্য করছে এবং কষ্ট করছে খাদ্য ও পানির জন্য। ইসরায়েলের জিঘাংসার পথ পরিক্রমা এখনো চলমান রয়েছে। ফিলিস্তিনে মানুষ হিসেবে যে অধিকার আছে, তা চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। আজকে ফিলিস্তিনে নারীদের যে হাহাকার, শিশুদের যে হাহাকার, তা হৃদয়বিদারক। এরকম বাস্তবতায় আমরা মানুষের জন্য কথা বলতে চাই। আমাদের প্রথম ও প্রধান পরিচয় আমরা এই সমাজের মানুষ।

    তিনি বলেন, বিশ্ব মোড়ল ও বিশ্বে যারা নেতৃত্বে আছেন, তাদের বলতে চাই- বন্ধ হোক ফিলিস্তিনে গণহত্যা, বন্ধ হোক শিশুদের উপর নির্যাতন, নারীদের উপর নির্যাতন এবং জনসাধারণের উপর গণহত্যা; ফিলিস্তিনে শান্তি ফিরে আসুক। একের পর এক চুক্তির নামে যেসমস্ত বাহানা চলছে, তা সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হোক, সেগুলো আবার ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর হোক।

    তিনি আরো বলেন, ইউরোপ, আমেরিকাসহ ওআইসি ও জাতিসঙ্ঘ যাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কথা তারাও কার্যকরী ভূমিকা রাখছে না। মানবতা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। সুতরাং আমরা সামগ্রিকভাবে যারা এখনো পর্যন্ত মানবতাকে টিকিয়ে রাখতে চায়, তাদের কাছে আমাদের আহবান থাকবে অতিসত্বর ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ হোক এবং সকল আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থাসমূহ শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ভূমিকা রাখুক।

    প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণ করায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

  • রাঙামাটিতে প্রথম ১৮ এপিবিএন’র ক্যাম্প উদ্বোধন

    রাঙামাটিতে প্রথম ১৮ এপিবিএন’র ক্যাম্প উদ্বোধন

    পার্বত্য জেলা রাঙামাটির আসামবস্তিতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন পুলিশক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়েছে। এটিই রাঙামাটির প্রথম ক্যম্পা। সকাল ফিতা কেটে আসামবস্তি এপিবিএন পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন করেন ১৮ এপিবিএনের অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল। এরপর এপিবিএন অধিনায়ক মো. মাহফুজ আফজালকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয়। এটির মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে প্রথম এপিবিএন ক্যাম্প উদ্বোধন হলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৮ এপিবিএনের সহ-অধিনায়ক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফসার উদ্দিন খান, পুলিশ পরিদর্শক নাসির উদ্দিন, সঞ্জয় দে, সালাহউদ্দিন মিয়া, আনিসুর রহমান, দেবদুলাল ধর, আসামবস্তি পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই মো. নুরুল্লাহসহ এপিবিএন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এপিবিএন অধিনায়ক মো. মাহফুজ আফজাল বলেন, পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় এপিবিএন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। আসামবস্তি ক্যাম্প উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় জনমানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার হলো। এছাড়াও মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ সন্ত্রাসী সংগঠনের তৎপরতা বন্ধ হবে। একইসাথে রাঙামাটি আরো ক্যম্প নির্মাণের উদ্যেগ গ্রহণ করা হবে। #

  • ৭২এর সংবিধান বাতিল করে বাংলাদেশের নতুন সংবিধান করতে হবে- এনসিপি আহবায়ক নাহিদ

    ৭২এর সংবিধান বাতিল করে বাংলাদেশের নতুন সংবিধান করতে হবে- এনসিপি আহবায়ক নাহিদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৭২এর মুজিববাদী সংবিধানের কবর রচনা করে নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচালনায় নতুন সংবিধান রচনা করতে হবে। তিনি বলেন,৭২ এর সংবিধানে দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের নামে এখানে অবাঙ্গালীদের সঙ্গে বিভেদ তৈরী করে রাখা হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামের সাথে অন্যধর্মের বিভেদ তৈরী করে রাখা হয়েছে। আমরা সকল বিভেদের উর্ধে রেখে সকল জনগোষ্ঠীর মর্যদা দিয়ে নতুন সংবিধান তৈরী করতে চাই। আমরা চাই মুজিববাদী সংবিধানকে বাতিল করে নতুন একটি গনতান্ত্রিক সংবিধান তৈরীর জন্য সকলে মিলে নতুন একটি চুক্তিতে উপনীত হই যাতে পাহাড় ও সমতলের অধিকার নিশ্চিত হবে।
    নাহিদ ইসলাম আরো বলেন,এনসিপি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় বহু জাতিগোষ্ঠী, ভাষা ও সংস্কৃতির সম্মিলন থাকবে। সেখানে সব নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদার কোনো বৈষম্য থাকবে না। সে জন্য একটি নতুন সংবিধান তৈরি করতে হবে।
    রবিবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাঙ্গামাটির বনরুপায় আয়োজিত এক পথসভায় নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। এর আগে তিনি কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া,ঘাগড়া ও রাঙ্গুনীয়ার রানীরহাট বাজার এলাকায় পথ সভায় বক্তব্য রাখেন।
    এনসিপির নেতারা রবিবার দুপুরে রাঙ্গামাটি শহরে এসে পৌঁছান। এরপর জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্বর থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। শহরের প্রধান সড়ক হয়ে বনরুপা সিএনজি চত্বরে এসে পদযাত্রা শেষ হয়। পরে সেখানে শুরু হয় পথসভা। এই পদযাত্রা ও পথসভাকে ঘিরে রাঙ্গামাটি জেলার প্রবেশপথ কাউখালীর বেতবুনিয়া থেকে শুরু করে পুরো রাঙ্গামাটি শহরে নজীরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের মধ্য দিয়ে ঘন্টাব্যাপী পথ সভা অনুষ্টিত হয়।
    নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নানা বিভাজন নানা অশান্তি জিইয়ে রেখে একটি পক্ষ বার বার সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এই পক্ষকে আর সুবিধা নিতে দেবোনা। আমরা নিজেরা বা কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে কোন সমস্যা থাকলে তা আমরা নিজেরাই বসে সমাধান করবো। তিনি আরও বলেন, এনসিপি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতায় প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। এ জন্য সব বিভাজন দূর করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবার অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
    পথ সভায় স্বাগত বক্তব্য এনসিপির রাঙ্গামাটি জেলার প্রধান সমন্বয়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা। এতে আরো বক্তব্য রাখেন,এনসিপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক সামান্তা শারমিন, ডা. তাসনীম জারা,উত্তারাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজীস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা নাছির উদ্দীন পাটোয়ারী,এস এম সুজা উদ্দিন,রুবাইয়া শ্রেষ্ট্রা তংচংগ্যা প্রমুখ।
    এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অতীতে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিসত্তাকে স্বীকৃতি না দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মুজিববাদী সংবিধানে জাতিসত্তার স্বীকৃতি না দিয়ে সবাইকে জোর করে বাঙালি করা হয়েছিল। এনসিপি সেই ব্যবস্থা দূর করতে চায়। বর্তমানে দেশে বিচার ও সংষ্কার শেষ করে পরবর্তী বাংলাদেশ গঠন করতে হবে। তিনি বলেছেন পাহাড় থেকে সমতলে সবজায়গায় ভুলভ্রান্তির উর্ধে থেকে এ এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন জাতী গোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
    এনসিপির উত্তারাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, দেশের কোন অপরাধী,দূর্নীতিবাজদের পানিসমেন্ট পোষ্টিং পার্বত্যঞ্চল বা উত্তরাঞ্চল,দক্ষিনাঞ্চল এটা অপরাধীর শাস্তি হতে পারেনা। যে দূর্নীতিবাজ তার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পার্বত্য এলাকায় কোন চাদাবাজ ধান্ধাবাজদের জায়গা হবেনা। আমাদের কথায় কোন প্রকার ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে তা আমরা সংশোধন করে নিবো। এখানের মানুষের অধিকার প্রতিষ্টা এবং জীববৈচিত্র রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। ######

  • সমস্যা সমাধানে প্রথম পদক্ষেপ হল, সমস্যা আছে সেটা স্বীকার করা : পার্বত্যচুক্তি বাস্তবায়নেও সমস্যা আছে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    সমস্যা সমাধানে প্রথম পদক্ষেপ হল, সমস্যা আছে সেটা স্বীকার করা : পার্বত্যচুক্তি বাস্তবায়নেও সমস্যা আছে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে এটাই প্রথম সভা। শনিবার সাড়ে দশটা থেকে শুরু হয়ে এই সভায় দুপুর পর্যন্ত চলে। 
    সভাশেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আজকের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানের প্রথম বিষয় হলো সমস্যা যে আছে সেটা স্বীকার করে নেওয়া। 
    পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো বিভিন্ন সমস্যা বিরাজমান রয়েছে বলেই এতো পুরোনো একটি চুক্তির এখনো সবটুকু বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এটাতো আমাদের প্রথম সভা, এই সভার মাধ্যমে আমরা অনেক কিছুই শিখেছি এবং ছোট খাটো বিষয়গুলোকে আমরা চেষ্ঠা করেছি চিহ্নিত করতে যেগুলোকে আমরা সহজেই বাস্তবায়ন করতে।  
    কি কি সমস্যার কারনে চুক্তি বাস্তবায়ন বিলম্ব হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সমস্যা চিহ্নিত করার কোনো প্রয়োজন নাই আমরা সকলেই জানি অত্রাঞ্চলে কি কি সমস্যা বিরাজমান আছে। সুতরাং সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করা যায়। সে বিষয়ে আমরা সকলেই আস্থা অর্জনের চেষ্ঠা করছি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন আরো বলেন,আজ রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির একটি ফলপ্রসু সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশাকরছি সকলের সাথে আলোচনা করে আমরা একটা সমাধানে পৌছাতে পারবো।
    পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, এই সভা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে যে, যদি সকল পক্ষ সম্মিলিতভাবে চুক্তির বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করে তাহলে পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব।
    সুপ্রদীপ চাকমা আরও বলেন, কমিটি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সুপারিশ প্রদান করবে এবং প্রয়োজনে সাব-কমিটি গঠন করে কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবে।
    এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও চুক্তি সম্পাদনকারি জেএসএস এর সভাপতি সন্তু লারমার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এই প্রথম বৈঠকটি আন্তরিকতাপূর্ন এবং ফলপ্রসূ হয়েছে। 
    কমিটির সদস্যরা জানান, বর্তমান ইন্টেরিম সরকার চুক্তির বাস্তবায়নের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজকের সভায় চুক্তির আওতায় ভূমি সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
    সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ চুক্তির মূল দিকগুলো বাস্তবায়ন ও ভূমি সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামীদিনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন।
    সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয় যে,কমিটি অবিলম্বে কার্যক্রম শুরু করবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।
    রাঙামাটির ভেদভেদীস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রেষ্টহাউসে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বৈঠকে ৮ সদস্য বিশিষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষন কমিটির সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত সু-প্রদীপ চাকমা, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্ত লারমা, চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সদস্য ও ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান সুদত্ত চাকমা এবং আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম চাকমা,পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব কংকন চাকমা, পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব মঙ্গল চন্দ্র পাল ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব সামছুল হক এ সভায় অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানাগেছে। #

  • রাঙ্গামাটিতে নেপালের আদি কবি ভানুভক্তের জন্মদিন উদযাপন।

    রাঙ্গামাটিতে নেপালের আদি কবি ভানুভক্তের জন্মদিন উদযাপন।

    নেপালের “আদিকবি” উপাধিপ্রাপ্ত ভানুভক্ত আচার্যের (১৮১৪-১৮৬৮) আজ ২১১ তম জন্মবার্ষিকী পালনের মাধ্যমে কবিকে গভীর শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করা হল রাঙ্গামাটিতে। কবিতা, গান, প্রবন্ধপাঠ, আলোচনা ও ভানুভক্তের জীবন সাহিত্য নিয়ে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে খুব জাঁকজমক পূর্ণভাবে উদযাপন করা হয়।
    এই প্রথমবারের মতো জন্মবার্ষিকী পালন করা হলো বাংলাদেশে।
    ভানুভক্ত নেপালী কবি, তিনি সংস্কৃত ভাষা থেকে রামায়ন নেপালী ভাষায় সহজ সরলভাবে অনুবাদ করে নেপালী ভাষার ভিত্তি মজবুত করেছিলেন। মূলত মাতৃভাষায় সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে ভানুভক্ত নেপালী ভাষার প্রচার প্রসারে যে অসামান্য অবধান রাখেন। উপরোক্ত ‘ঘাস’ কবিতাটি তাঁর অনেকগুলো বিখ্যাত কবিতার একটি।

    রাঙ্গামাটির বনেদী সাংস্কৃতিক সংগঠন সুর নিকেতনের আয়োজনে এবং গুর্খা কল্যান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে সভাপতির আসন অলংকৃত করেন রাঙ্গামাটি গুর্খা সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সুরনিকেতন প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার শিল্পী, সুরসাধক ও গবেষক মনোজ বাহাদুর গুর্খা। মূখ্য আলোচক হিসাবে আমন্ত্রিত ছিলেন অরণ্য গবেষক কতোকোবিদ ড. আজাদ বুলবুল। আলাচনা পর্বে অংশ নেন শিক্ষা গবেষক ড. শামসুদ্দীন শিশির, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক কালচারাল অফিসার কবি মজিবুল হক বুলবুল, কবি হাসান মনজু, মোনঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কবি ও সাংস্কৃতিক কর্মী শিশির চাকমা, রাঙ্গামাটি পাবলিক কলেজের প্রভাষক ও লেখক মুকুল কান্তি ত্রিপুরা, পাংখোয়া জনজাতির পথিকৃত গবেষক শাওন ফরিদ।
    গান ও কথামালায় সাজানো ছিল পুরো অনুষ্ঠান। ভানুভক্ত আচার্যের জীবন ও কর্মকাণ্ডের স্তুতি নিয়ে রচিত ক্লাসিকাল ধারার গানগুলো পরিবেশন করেন সুর নিকেতনের শিল্পীবৃন্দ। বাচিক শিল্পী শিক্ষক ও কবি কামরুল হাসান ও বাচিক শিল্পী চৈতী ঘোষের চমৎকার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিল। #

    কবির আলোচিত কবিতা সমূহের উল্লেখযোগ্য কবিতা।

    “ঘাস”
    “””””””
    “ঘাস কাটার জন্য জীবন উৎসর্গ করে,
    তিনি কিছু টাকা উপার্জন করল,
    আর তাঁকে স্মরণ রাখার ইচ্ছায়
    একটা কূপ খনন করল।

    ঘাস কাটার লোকটা খুব গরীব;
    কিন্তু কেমন তাঁর আত্মা!
    আর আমি, ভানুভক্ত,
    আমি সামর্থ্যবান হয়েও আমি কেন এমন?

    কূপ, সরাইখানা বা বিশ্রামাগার;
    আমি কিছুই তৈরি করিনি।
    আমার সমস্ত সম্পদ,
    ঘরেই পড়ে আছে।

    আর এই ঘাস কাটার লোক থেকে
    আমরা কী শিখব?
    কোন ভালো কাজ না করে
    অলস বসে থাকা লজ্জাজনক।।
    – ভানুভক্ত আর্চারিয়া

  • শুহাদায়ে কারবালা ও আহলে বাইতের স্মরণে রাঙ্গামাটি ইফা’র উদ্যোগে পবিত্র আশুরার তাৎপর্য শীর্ষক সভা

    শুহাদায়ে কারবালা ও আহলে বাইতের স্মরণে রাঙ্গামাটি ইফা’র উদ্যোগে পবিত্র আশুরার তাৎপর্য শীর্ষক সভা

    পবিত্র আশুরা ১৪৪৭ হিজরী উপলক্ষ্যে শুহাদায়ে কারবালা ও আহলে বাইতের স্মরণে রাঙ্গামাটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র আশুরার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোববার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মাদ ইকবাল বাহার চৌধুরী।

    শুহাদায়ে কারবালার শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, ইসলামের ইতিহাসে মুহররম অত্যন্ত ফজিলতের মাস। যথাসাধ্য তাওবা ইসতেগফারের মাধ্যমে নিজের পাপসমূহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ও আশুরার দিনে সত্যের জন্য ইমাম হুসাইনের (রা.) আত্মত্যাগের মহিমায় নিজেদের ইমানকে উজ্জীবিত করার জন্য উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, আশুরা আমাদের জীবনে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ এ কথা অনস্বীকার্য। আশুরার দিনে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আশুরার দিন কারবালার ময়দানের দুঃখজনক ঘটনাও মুসলিম জাতির জন্য অতিশয় বেদনাদায়ক ও হৃদয় বিদারক। প্রতি বছর আশুরা আমাদের এই দুঃখজনক ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়।

    ফিল্ড সুপারভাইজার মো. পেয়ার আহমদের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শান্তি নগর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শফিউল আলম আল কাদেরি, রিজার্ভ বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নঈম উদ্দিন আল কাদেরি, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার আহবায়ক ও হাজী ধনমিয়া পাহাড় জামে মসজিদের খতিব মাওলনা মুহাম্মদ আব্দুল বাছিত খান, বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. মিরাজ উদ্দিন, সদর উপজেলার মডেল কেয়ারটেকার মো. মাহবুব আলম।

    দেশবাসীর কল্যাণে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম মাওলানা আশহাদুল ইসলাম। উক্ত অনুষ্ঠানে ইসলামি ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, আলেম ওলামা ও শিক্ষক শিক্ষিকা-সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে কসমস হোটেল মালিক সালাহউদ্দিন গ্রেফতার

    শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে কসমস হোটেল মালিক সালাহউদ্দিন গ্রেফতার

    চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে চাকুরী প্রার্থী কিশোরীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে রাঙামাটি শহরের কসমস হোটেল ও জেলা প্রশাসন কর্তৃক ইজারাদার মায়ের দোয়া নার্সারীর মালিক সালাউদ্দিনকে আটক করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
    সংশ্লিষ্ট্য চাকুরি প্রার্থী ১৯ বছর বয়সী কলেজ শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে তাকে আটক করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।

    সূত্রে জানা যায়, মে মাসের ২৫ তারিখে কসমস হোটেল ও রেষ্টুরেন্ট এর স্বত্তাধিকারী সালাউদ্দিনের অনুরোধে এক বন্ধুর মাধ্যমে উক্ত রেষ্টুরেন্টে যায় ভিকটিম চাকুরিপ্রার্থী নারী ও আরেক পুরুষ সহযোগি। তারা উভয়েই সালাউদ্দিনের কাছে নিজেদের সিভি দিয়ে চাকুরিতে যোগদানের অনুমতি পায়। সে সময় ২/১দিন তাদের কাজ দেখে বেতন নির্ধারণ করার কথা জানায় সালাউদ্দিন।

    রেষ্টুরেন্টে ওয়েটারের চাকুরিতে যোগদানের দিনই সালাউদ্দিন উক্ত ভিকটিম মেয়েটিকে নানান ধরনের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে মেয়েটির সাথে যৌন আচরন করেছে। পরবর্তীতে সালাউদ্দিন মেয়েটিকে মাসে মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার কথা বললে মেয়েটি পরেরদিন থেকে চাকুরি করবে না বলে জানিয়ে দেয়। একদিন পরেই সালাউদ্দিন মেয়েটিকে ফোন করলে মেয়েটি বেতন কমের কারনে চাকুরি করবেনা বলে সালাউদ্দিনকে জানিয়ে দেয়।
    এসময় সালাউদ্দিন মেয়েটিকে ভালোবাসার আহবান জানিয়ে বলে, আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারলে মাসে আরো ৫ হাজার টাকা বেশি পাবা। প্রতিমাসেই আমি সেই টাকাটা তোমাকে দিয়ে দিবো। এসময় কুপ্রস্তাব পাওয়ায় মেয়েটি সাথে সাথেই সালাউদ্দিনকে জানিয়ে দেয় এটা সম্ভব না। এটা গুনাহের কাজ। এতে সালাউদ্দিন মেয়েটিকে আরো মোটিভেশন করার চেষ্ঠা করলে মেয়েটি সালাউদ্দিনের সকল কথাবার্তা মুঠোফোনে রেকর্ড করে নেয়। এরপর ভিকটিম বিষয়টি তার বন্ধুদের জানালে তারা সালাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টির জন্য ক্ষমা চেয়ে বিষয়টির শেষ টানতে বললে সালাউদ্দিন তাদেরকে হুমকি দিতে থাকে এক পর্যায়ে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও না পেরে অবশেষে ভিকটিমের বন্ধুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ২০ লাখ টাকা খরচ করে দেখে নেবে বলেও হুমকি দেয়। সালাউদ্দিনের এমন হুমকির পরবর্তীতে বিষয়টি নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে পোষ্ট করে ভিকটিমের বন্ধুরা। এতে বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে এবং ভিকটিমের বন্ধুদের কর্মস্থলে মানুষ পাঠিয়ে হুমকি দিতে থাকে কসমস রুপটপ রেষ্টুরেন্টের মালিক সালাউদ্দিন।

    অবশেষে নিজেদের অনিরাপদ ভেবে এবং সালাউদ্দিনের হুমকি বিষয়টি এবং যৌন হয়রানীর বিষয়টি উল্লেখ করে সোমবার রাতে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ করে ভিকটিম। অভিযোগর প্রাপ্তির সাথে সাথেই বিষয়টি প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে সালাউদ্দিনকে আটক করে কোতয়ালী থানা কর্তৃপক্ষ। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া একটার সময় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: সাহেদ উদ্দিন। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সালাউদ্দিনের যৌন ক্যালেঙ্কারির বিষয়টি গত কয়েকদিন ধরেই চাউর হয়ে বেড়াচ্ছে। এতে অনেকেই মন্তব্য করেছেন সালাউদ্দিন এই ধরনের অপকর্ম আরো অনেক চাকুরী প্রার্থী কলেজ শিক্ষার্থীদের সাথে করেছে। এছাড়াও অনেকেই মন্তব্য করেছেন, সালাউদ্দিন বিগত প্রায় এক দশক সময় ধরেই রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন জেলা প্রশাসনের নিজস্ব জায়গা লিজ নিয়ে মায়ের দোয়া নার্সারী পরিচালনা করে আসছিলো।

    কিন্তু হঠাৎ করেই সে চট্টগ্রামে একাধিক বিলাসবহুল ফ্লাট,রাঙ্গামাটিতে প্রায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি খরচ করে কসমস রেষ্টুরেন্টটি ডেকোরেশন করে ভাড়ায় নেওয়া,রাঙ্গামাটি শহরে একাধিক জায়গা ক্রয়সহ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। হঠাৎ করেই তার এতো বিশাল অর্থের ভান্ডার কোথা থেকে আসলো এমন প্রশ্ন তুলে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া মন্তব্য করেছেন সালাউদ্দিনের সাথে বিগত পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের মন্ত্রী হাছান মাহমুদের ভাই ভূমি দস্যু এরশাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ট্য সম্পর্ক রয়েছে। এই এরশাদের বিপুল কালো টাকা সাদা করেছে সালাউদ্দিনের মাধ্যমে নানান সম্পত্তি ক্রয় করে। #

  • রাঙ্গামাটিতে বাসা থেকে বিচারকের স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    রাঙ্গামাটিতে বাসা থেকে বিচারকের স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    রাঙামাটি শহরে রহস্যজনক ভাবে বিচারকের স্ত্রীর মৃত্যু ভাড়াবাসা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় শহরের আলম ডক ইয়ার্ডের ভাড়া বাসা থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়
    স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়,শহরের ৭নং ওয়ার্ড কাঠালতলী আলম ডক ইয়ার্ডের একটি ভবনের ছয় তলার একটি  ফ্ল্যাটে স্ত্রী,দুই শিশু সন্তান ও মাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন রাঙামাটি চিফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট রায়হান চৌধুরী।
    জনৈক প্রতিবেশী জানান, সন্ধ্যায় হঠাৎ পুলিশের গাড়ি দেখে জানতে পারি বিচারকের স্ত্রী আত্মহত্যা করছেন বলে শুনছি।
    এ ব্যাপারে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাহেদ উদ্দিন জানান, আলম ডক ইয়ার্ডে এক বিচারকের স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে এমন খবর পেয়েই পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ঘরে প্রবেশ করে দেখি মেঝেতে মরদেহ পড়ে আছে আর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে ওড়না। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।#

  • বিজয় সরণির ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ ভেঙে জুলাই স্মরণে  ‘গণমিনার’

    বিজয় সরণির ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ ভেঙে জুলাই স্মরণে ‘গণমিনার’

    ঢাকার বিজয় সরণিতে ৫ অগাস্ট অভ্যুত্থানের দিন ভেঙে দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ‘মৃত্যুঞ্জয়’ এর আশপাশের স্থাপনাও ভেঙে ফেলা হল, সেই জায়গায় হবে জুলাই শহীদদের স্মরণে ‘গণমিনার’। আসছে জুলাইয়ে নতুন ভাস্কর্য তৈরির কাজ শুরু হবে। সেজন্য প্রাথমিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।শুক্রবার
    (২৭ জুন) সকাল থেকেই বিজয় সরণির ওই ভাস্কর্য ঘিরে বানানো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ এর সাতটি দেয়াল ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়, তা চলে দিনভর। জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় গত বছরের ৫ অগাস্ট ওই প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়।শুক্রবার রাতে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলায় সেটি ‘অগোছালো’ অবস্থায় ছিল। এ কারণে ওই স্থানটি ‘পরিষ্কার’ করা হয়েছে। মূল ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেদিনের আক্রমণের কারণে বাকি যেগুলো ছিল সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এটা এভাবে ফেলে রেখে কোনো লাভ নাই। সেখানে নতুন কিছু যদি করা যায়। সেজন্য আমরা আগে সেখানে জায়গাটা পরিষ্কার করছি।
    মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ভাস্কর্যের জায়গায় বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস, জুলাইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন আরেকটা ভাস্কর্য করার পরিকল্পনা আছে। জুলাই, বিজয়, বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস সবগুলোকে মিলিয়েই কিছু একটা হবে। এখানে যেমন স্কাল্পচার ছিল সেমনই আরেকটা স্কাল্পচার হবে। আমরা এই জুলাই মাসের মধ্যেই কাজটা করব। কারণ পরিষ্কার করে ফেলে রাখলে লোকজন আবার বলবে, ফেলে রেখে দিয়েছে। মানুষজন রাস্তা দিয়ে আসে যায়, তাদেরও প্রশ্ন এখানে কী হবে তাহলে।২০২১ ও ২০২২ সালে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ‘মৃত্যুঞ্জয়’ নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য প্রদর্শিত হয়। পরে ওই ভাস্কর্য স্থাপন করা হয় ঢাকার বিজয় সরণিতে, ভাস্কর্য ঘিরে গড়ে তোলা হয় ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’।বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নির্মিত ওই চত্বরের সাতটি দেয়ালে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে অন্যান্য আন্দোলন ও বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান চিত্রিত করা হয়। ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। সেদিন ঢাকার আরও অনেক ভাস্কর্যের মত বিজয় সরণির মৃত্যুঞ্জয়ও ভেঙে ফেলা হয়। এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধরে রাখতে সম্প্রতি বিজয় সরণিতে ‘গণমিনার’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।গত ২০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে মাধ্যমে ‘গণমিনার বাস্তবায়ন কমিটি’ জানায়, এই উদ্যোগে গণমানুষের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে গণচাঁদা সংগ্রহের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জন, আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের স্মরণেই নির্মিত হবে গণমিনার। আগামী ৫ অগাস্টের মধ্যে এই মিনারের একটি প্রাথমিক দৃশ্যমান রূপ দিতে চায় কমিটি। পুরো বিজয় সরণি ধরেই তাদের এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। #

  • ৩০জুন রাঙ্গামাটি স্বাস্থ্যবিভাগে নিয়োগ বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন।

    ৩০জুন রাঙ্গামাটি স্বাস্থ্যবিভাগে নিয়োগ বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন।

    তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে জনবল নিয়োগে ও শিক্ষা বৃত্তিতে জাতিগত বৈষম্য বন্ধের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলনে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, যে কোন মূল্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান এসব জাতিগত বৈষম্যের অবসান করা প্রয়োজন।

    আগামী ৩০ জুন স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে সকল নিয়োগ ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণে জনসংখ্যানুপাতে বন্টনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর এই বৈষম্যনীতির বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে বলে হুশিয়ারী দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, রাঙ্গামাটি জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা। 

    বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি শহরের স্থানীয় এক রেস্তোরাঁয় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে অনিয়মিতভাবে উপজাতীয় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের জাতিগত বৈষম্য দূর করে জনসংখ্যানুপাতে বন্টন করার দাবী ও চলমান স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন এই হুশিয়ারী দেন।

    সাংবাদিক সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, নাগরিক পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান, সহ সভাপতি মোহাম্মদ আজম, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা আক্তার, সদস্য মোঃ হান্নানসহ নাগরিক পরিষদের জেলা কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।

    নাগরিক পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নতুন বাংলাদেশ যাত্রা শুরু হলেও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো আগের বৈষম্যমূলক নিয়োগনীতি বহাল রেখেছে। সরকার ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে সকল নিয়োগে মেধা ও সংরক্ষিত কোটা ব্যবস্থা নিশ্চিত করলেও তা মানা হচ্ছে না। বর্তমানেও বৈষম্য বিরোধী চেতনায় অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়েও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আগের মতোই বৈষম্যনীতি নিয়ে এখনো উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার দিয়ে সকল নিয়োগে বৃহত্তর জনগোষ্টি বাঙালিসহ অন্যান্য জনগোষ্ঠির প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাই যে কোন মূল্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান এসব জাতিগত বৈষম্যের অবসান করা প্রয়োজন। #