Blog

  • প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত জানিয়েছেন, বিদেশে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যামে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করলে, তার বিরুদ্ধে আনাইনুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সরাসরি কোন এখতিয়ার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের না থাকলেও, মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে অপপ্রচারের জবাব তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমেই রোধ করা সম্ভব। প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে শিগগিরই অপপ্রচার বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সংসদে সরকারি দলের সদস্য চয়ন ইসলামের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

    তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করলে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সরাসরি কোন এখতিয়ার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের না থাকলেও, মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে বসে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা অন্তর্ঘাতমূলক কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে, তা দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

    মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত যে কোনো গুজব, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুততার সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার মাধ্যমে গুজব বলে নিশ্চিত হলে, প্রকৃত তথ্যসহ তাৎক্ষণিক তথ্যবিবরণী জারি করে, তা সকল মিডিয়ায় প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সাথে দেশে ও বিদেশে বসে দেশবিরোধী অসত্য তথ্য দিয়ে এবং বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার ও গুজবরোধে বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিয়মিতভাবে টিভিসি, স্পট/ফিলার প্রচার করে থাকে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার ও গুজবরোধে সেসব উল্লেখযোগ্য টিভিসি, স্পট/ফিলার নিয়মিতভাবে প্রচার করে আসছে।

  • ‘জাহাজে ফেরত যাবে মিয়ানমারের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা’

    ‘জাহাজে ফেরত যাবে মিয়ানমারের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা’

    বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের জলপথেই ফেরত পাঠানো হবে। এজন্য মিয়ানমার থেকে জাহাজ আসার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে একথা বলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন।

    তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার থেকে যে রুট প্ল্যান তা জানাবে। উনারা গভীর সমুদ্র হয়ে যাবে। যে ইস্যুটা ছিল যে তারা বর্ডারের কাছে দিয়ে যাবে। সে বিষয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’

    তিনি বলেন, আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ফেরত পাঠানো হবে। এছাড়া, সুবিধাজনক সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সনাক্ত করে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

    এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্তকরণের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এবং এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারবে।

    সে‌হেলী সাবরীন বলেন, গতকাল বিডাতে মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র সচিবও সেখানে অংশ নেন। সভায় শুধু চীনা নয় অন্যান্য দেশেরও অবৈধ নাগরিকদের ভিসা এক্সপায়ার, এক ভিসায় এসে অন্য ক্যাটাগরিতে অবস্থান ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    এক প্রশ্নের জবাবে সে‌হেলী সাবরীন বলেন, বলেন, ‌বর্তমানে ৬০টি দেশে বাংলাদেশের মোট ৮১টি দূতাবাস, হাইকমিশন, স্থায়ী মিশন, কনস্যুলেট জেনারেল, উপহাইকমিশন বা সহকারী হাইকমিশন রয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশগুলোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার বা স্থায়ী প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন। ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে দুটি বাহরাইন ও মরিশাস নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

  • সীমান্তে শঙ্কা জিইয়ে রাখতে পারি না: কাদের

    সীমান্তে শঙ্কা জিইয়ে রাখতে পারি না: কাদের

    মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের সংঘাতে বাংলাদেশের উদ্বেগ জাতিসংঘকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের সীমান্তে শঙ্কা জিইয়ে রাখতে পারিনা। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। চিঠি দিবে জাতিসংঘকে।’

    ক্ষমতাশীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সৃষ্ট সমস্যায় সীমান্তে অবস্থান আরো শক্তিশালী করা হয়েছে। আমরা সীমান্ত উদারভাবে খুলে দেওয়ার পক্ষপাতী নয় এবং এ সুযোগ আমরা কাউকে দিবো না। মিয়ানমার সংঘাতে সৃষ্ট উদ্বেগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতিসংঘকে লিখিতভাবে জানাবে বাংলাদেশ।’

    গত ১৩ নভেম্বর থেকে উত্তর রাখাইন ও প্রতিবেশী দক্ষিণ চিন রাজ্যে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। গোষ্ঠীটি বলছে, রাখাইনের রাজধানী সিত্তের কাছের পাউকতাও শহর এবং পুরো পালেতওয়াসহ অন্যান্য এলাকায় মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর অন্তত ১৭০টি অবস্থান দখল করেছে তারা।

    সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহীদের এ সংঘর্ষে বাংলাদেশ সীমান্তেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা গোলার আঘাতে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। দিনভর সংঘর্ষ আর ওপার থেকে ভেসে আসা তীব্র গোলা–বারুদের শব্দে আতঙ্ক কাটছে না মিয়ানমার সীমান্তে থাকা বাংলাদেশি জনপদগুলোতে।

    আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘাতে টিকতে না পেরে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সদস্যরা। এখন পর্যন্ত ৩৩০ জন মিয়ানমারের বিজিপি ও সেনা সদস্যসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

    পালিয়ে আসা মিয়ানমারের বিজিপি ও সেনা সদস্যদের ফেরত পাঠানো হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, তারা তাদের (মিয়ানমার) সীমান্ত রক্ষী ও সেনাবাহিনীর সদস্য। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল, তারা তাদের ফিরিয়ে নিবে এবং ফিরিয়ে নিতেই হবে। ফিরিয়ে না নেওয়ার বিকল্প নেই।’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের ভারত সফরেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সীমান্তের রেশ ভারতেও গেছে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এরই মধ্যে ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার সীমান্ত ইস্যুটাও আছে।’

  • আ. লীগের টিকিটে সংরক্ষিত এমপি হতে চান ১৫৪৯ জন নারী

    আ. লীগের টিকিটে সংরক্ষিত এমপি হতে চান ১৫৪৯ জন নারী

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ৪৮টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি ক্রয় করেছে ১৫৪৯ জন নারী। সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন উপলক্ষ্যে মোট ৭ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে দলটি। ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৮টি আসনে মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ।

    বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    তিনি বলেন, গত তিন দিনে মোট মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে ১৫৪৯টি। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সেই সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

    এর আগে, মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়। যা আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। শেষদিন দলটি ২১৭টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে। বিপরীতে আয় করে ১ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

    দ্বিতীয় দিন ৫২২টি ফরম বিক্রি করা হয়। এ থেকে মোট আয় হয় ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগ থেকে ১৬৭টি, ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ৪৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ৭৮টি, সিলেট বিভাগ থেকে ২২টি, বরিশাল বিভাগ থেকে ৩৬ টি, খুলনা বিভাগ থেকে ৬৮টি, রংপুর বিভাগ থেকে ৬০টি এবং রাজশাহী বিভাগ থেকে ৪৪টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়।

    প্রথম দিন বিক্রি করেছিল ৮১০টি ফরম। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগ থেকে ২৭৫টি, ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ৬২টি, চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ১৪৯টি, সিলেট বিভাগ থেকে ২৬টি, বরিশাল বিভাগ থেকে ৫৬টি, খুলনা বিভাগ থেকে ৭৭টি, রংপুর বিভাগ থেকে ৭৫টি এবং রাজশাহী বিভাগ থেকে ৯০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছিল।

    এসময় প্রার্থী সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে গেল কি না- এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, গত নির্বাচনের সময় কত সংখ্যক প্রার্থী ছিল সেটা কি মনে আছে? চৌদ্দশ’র বেশি ছিল। তখন সিট ছিল ৪৩টা, এখন ৪৮টা। ৫টা বেশি আছে।

    তিনি বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক যে চর্চা, আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বাংলাদেশে যতটুকু অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা হয়, সেটা আওয়ামী লীগের ভেতরেই হয়। আমরা নিয়ম কানুন মেনে সবকিছু করে থাকি। ভুল ত্রুটি হয় না তা নয়, কারণ পারফেক্ট পৃথিবীতে কেউ নয়। এছাড়া আমরাই এদেশে একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা গণতন্ত্রের কথা মুখে বলি না, নিজেদের ঘরে চর্চা করি। আর বিএনপি সেটা করে না। তাদের কনফারেন্সও হয় না কত বছর।

    উল্ল্যখ্য, তিন দিনে ফরম সংগ্রহ করাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রীসহ অন্যান্য সংগঠনের পদধারীরা রয়েছেন। এই তালিকায় মন্ত্রী-এমপিদের স্ত্রী, আইনজীবী, অভিনেত্রী, এনজিও কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নারীরা আছেন, আছেন হিজড়াও।

  • দিনাজপুরে বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় নিহত বেড়ে ৫

    দিনাজপুরে বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় নিহত বেড়ে ৫

    দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী চার্জার ভ্যানকে বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় শাহিন আলম (৪৫) নামের আরও একজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহিন আলম মারা যান।

    নিহত শাহিন আলম চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের গছাহার সাহাপাড়ার গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা রংপুরগামী দ্রুতগতির বিআরটিসি বাস রানীরবন্দর বাজারে পৌঁছালে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী চার্জার ভ্যান ও পথচারীদের ধাক্কা দিলে ভ্যান যাত্রীসহ ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় শাহিন আলমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    চিরিরবন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে পথচারী ও দুই মধু ব্যবসায়ীসহ চারজন নিহত হয়েছে। এ সময় গুরুতর আহত চারজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহিন আলম মারা যান। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা হয়েছে। দশ মাইল হাইওয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

  • চীন উন্নয়ন সহযোগী, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রক্তের: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    চীন উন্নয়ন সহযোগী, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রক্তের: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী, কিন্তু ভারতের সম্পর্ক রক্তের বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার ভারতের দিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অভ সাউথ এশিয়া’র সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী, কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক রক্তের। অন্য যেকোনো দেশের সম্পর্কের সাথে কখনোই বাংলাদেশের সম্পর্ককে তুলনা করা যায় না। তবে, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অগ্রগতি বজায় রাখতে প্রতিবেশী সকল রাষ্ট্রের সাথেই সদ্ভাব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে ভারতীয় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চা হয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এবারও আমাদের দেশে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন আমাদের দেশে একটি উৎসব। ৭ জানুয়ারি আমাদের দেশে উৎসবের আমেজে নির্বাচন হয়েছে।’

    এ সময় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২১ সালে পর্তুগালে নির্বাচনে ২৯.৭ শতাংশ ভোট পড়ে। রোমানিয়ার নির্বাচনে ৩১.৮৪ শতাংশ এবং হংকংয়ের নির্বাচনে ৩০ শতাংশ ভোট পড়ে। এ দেশগুলোতে কোনো বিরোধী দল ছিল না।

    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনের পর বিভিন্ন দেশ আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ৫৭টি দেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নির্বাচিত সরকারকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে। জাতিসংঘসহ ২০টি আন্তর্জাতিক সংগঠন শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে।’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের মতো বাংলাদেশেও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয়। কিন্তু, বরাবরই বিএনপি ও জামায়াত একে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। তারা জনগণকে ভোটদানে নিরুৎসাহিত করে। কিন্তু, বাংলাদেশের জনগণ সেসব অপচেষ্টা রুখে দেয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।’

    বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক দশকে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। একে আরও এগিয়ে নিতে দুই দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। পারস্পরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বেশ কতগুলো উদ্যোগ নিয়েছেন, যার সুফল পাচ্ছে জনগণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাদুকরী নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিভিন্ন সূচকে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।’

    একই দিন দুপুরে ভারতের নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘নির্বাচনবিরোধী দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে ভারত আমাদের পাশে ছিলো, পাশে আছে। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। একে আরও এগিয়ে নিতে দুই দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কটি রক্তের বন্ধনের। অন্য যে কোনো দেশের সম্পর্কের সাথে কখনোই বাংলাদেশের সম্পর্ককে এক করা যায় না। মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকারের অবদান বাংলাদেশ সব সময় কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে। প্রতি বছর প্রায় ১৭ লাখ বাংলাদেশি ভারতীয় ভিসার আবেদন করে। দিন দিন এই সংখ্যা বাড়ছে। এটি দুই দেশের পারস্পরিক সুসম্পর্কের পরিচয়ই বহন করে।’

  • পালিয়ে আসা ১০০ বিজিপি সদস্যকে টেকনাফে স্থানান্তর

    পালিয়ে আসা ১০০ বিজিপি সদস্যকে টেকনাফে স্থানান্তর

    মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘাতের মধ্যে ধারণা করা হচ্ছে এখান থেকে সমুদ্র পথে পাঠানো হবে মংডুতে।

    অবশ্য বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) জানিয়েছে, প্রশাসনিক সুবিধার জন্য এই স্থানান্তর। বাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিজিবির গাড়িতে করে টেকনাফের উপকূলবর্তী হ্নিলায় নেওয়া হচ্ছে তাদের।

    গত ১৩ নভেম্বর থেকে উত্তর রাখাইন ও প্রতিবেশী দক্ষিণ চিন রাজ্যের পালেতওয়া শরে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে আরাকান আর্মি। গোষ্ঠীটি বলছে, রাখাইনের রাজধানী সিত্তের কাছের পাউকতাও শহর এবং পুরো পালেতওয়াসহ অন্যান্য এলাকায় মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর অন্তত ১৭০টি অবস্থান দখল করেছে তারা।

    সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহীদের এ সংঘর্ষে বাংলাদেশ সীমান্তেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা গোলার আঘাতে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। দিনভর সংঘর্ষ আর ওপার থেকে ভেসে আসা তীব্র গোলা–বারুদের শব্দে আতঙ্ক কাটছে না মিয়ানমার সীমান্তে থাকা বাংলাদেশি জনপদগুলোতে।

    আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘাতে টিকতে না পেরে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সদস্যরা। এখন পর্যন্ত ৩৩০ জন মিয়ানমারের বিজিপি ও সেনা সদস্যসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপত্র সেহেলি সাবরিন সাংবাদিকদের জানান, বিজিপির সদস্যদের ফেরানোর রুপপ্ল্যান চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তাদের সমুদ্রপথে ফেরত পাঠানো হবে।

    সেহেলী সাবরিন বলেন, ‘বাংলাদেশ দ্রুততম সময়ে এসব ব্যক্তির প্রত্যাবাসন চায়, সময় ক্ষেপনের সুযোগ নেই। আশা করা হচ্ছে অতি দ্রুততম সময়ে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। সেটা আকাশ পথেই হোক বা সমুদ্রপথেই হোক নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিই হচ্ছে সবচেয়ে জরুরী।’

    বিজিবি জানিয়েছে, স্থানান্তর করা বিজিপির ১০০ জন সদস্যকে টেকনাফের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তবে তাদের সবাইকে এক সাথে, না ধাপে ধাপে ফেরত পাঠানো হবে, সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।

    আজ বৃহস্পতিবার(৮ই ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের টেকনাফের উলুবুনিয়া সীমান্ত দিয়ে এই দুই বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) অনুপ্রবেশ করেন। পরে তাদের হেফাজতে নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ নিয়ে মোট ৩৩০ জন বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন।

    বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে পালিয়ে আসাদের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৩০ জনে। এরমধ্যে ২৫১ জন মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ-বিজিপি। বাকিদের মধ্যে দুজন সেনা কর্মকর্তা, চার সিআইডি, ৫ স্থানীয় পুলিশ, ৯ স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্য। এ ছাড়া ২০ জন ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চারজন বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছেন।

  • নতুন করে মেডিকেল কলেজ খোলার পক্ষপাতি নইঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    নতুন করে মেডিকেল কলেজ খোলার পক্ষপাতি নইঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার সামন্ত লাল সেন বলেছেন, নতুন করে বেসরকারি মেডিকেলের অনুমতি দেয়া হবে না। নিয়ম বহির্ভুতভাবে কোনো বেসররি মেডিকেলে শিক্ষার্থী ভর্তি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

    ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আগামীকাল মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এই পরীক্ষা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। এ সময় তিনি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন অনিয়ম হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

    এ সময় তিনি জানান, এবার ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন ৫৩৮০টি। ৬৭টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন ৬২৯৫টি। ৪টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ। ২ টির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম বড় কাজ হিসেবে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে সব ফটোকপির দোকান বন্ধ থাকবে। কেন্দ্রে কেউ মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।’

    এছাড়া সকাল ৮টার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। ৯টার পর কোন পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। গুজব থেকে দূরে থাকতে শিক্ষার্থীদের কাছে মেবাইল না দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    এদিকে বেসরকারি কলেজ আর চালু না করার পক্ষে অনড় অবস্থানে থাকবেন বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘মেডিকেল কলেজে শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে বিএমডিসিকে শক্তিশালী করার কোন বিকল্প নেই।’

    এসময় তিনি স্বাস্থ্য খাতের অতীতের বিষয়ে কোন বিতর্কে যেতে চান না বলেও জানান।

    শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে ১৯টি কেন্দ্রে ৪৪টি ভেন্যুতে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা চলবে। এবারের পরীক্ষায় ১ লাখ ৪ হাজার ৩৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিবেন।

    সারাদেশে ১৯ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে । পরীক্ষা নিয়ে গুজব ছড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    এবার মোট পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৪ হাজার ৩শ ৭৪ জন। সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটের এর পর কোনো পরীক্ষার্থী হলে ঢুকতে পারবে না। রঙিন প্রবেশ পত্র নিয়ে হলে ঢুকতে হবে। মোবাইল, ইলেকট্রিক ডিভাইস নিয়ে হলে প্রবেশ করা যাবে না।

    এদিকে উত্তরা আইচি, নর্দান মেডিকেল (ঢাকা), নর্দান মেডিকেল (রাজশাহী) ও শাহ মাখদুম মেডিকেল কলেজের (ঢাকা) ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং কেয়ার মেডিকেল কলেজ (সাভার) ও নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।

  • বাংলাদেশের সীমান্তে মিয়ানমারের সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত

    বাংলাদেশের সীমান্তে মিয়ানমারের সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত

    বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা মিয়ানমারের চিন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।আরাকান আর্মি ভূপাতিত হেলিকপ্টারের একাধিক ছবিও প্রকাশ করেছে। গতকাল বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভূপাতিত হেলিকপ্টারটির ছবি প্রকাশ করা হয়। এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম ইরাবতি।

    আরাকান আর্মির মুখপাত্র খিয়াং থুখা ইরাবতিকে বলেছেন, ‘পালেতওয়া শহরে তীব্র সংঘর্ষের সময় আমরা একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছি। আমরা গুলি করার পর গত ১৩ জানুয়ারি হেলিকপ্টারটি পাই নামক পাহাড়ের কাছে ঘন বনের মধ্যে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এই এলাকার পাশে কাঙ্খা নামক পাহাড়ে জান্তাবাহিনীর একটি ঘাঁটিও ছিল। গতকাল বুধবার আমরা ঘাঁটিটি দখলের পর এই হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছি।’

    শহরটিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও জান্তাবাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। মাঝে বিদ্রোহীরা দাবি করেছিল, তারা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

    প্রসঙ্গত, এই দুটি পাহাড়ই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা বান্দরবান সীমান্তে অবস্থিত। প্রায় দুমাস ধরে চলা সংঘর্ষের পর গত ১৩ জানুয়ারি আরাকান আর্মি চিন রাজ্যের এই শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। তার আগে গত অক্টোবরে উত্তরাঞ্চলে ‘অপারেশন ওয়ান জিরো টু সেভেন’ নামে অভিযান শুরু করে আরাকান আর্মিসহ তিন বিদ্রোহী জোট ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’।

    এর আগে, গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এবং আরাকান আর্মি (এএ) সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে থ্রি ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স। গত অক্টোবরে শান রাজ্যে এই জোট জান্তাবিরোধী ‘অপারেশন-১০২৭’ শুরু করে। এই অপারেশনে বেশ সাফল্যও লাভ করে জোট। পরে নভেম্বরের মাঝামাঝি সশস্ত্র জোট বাহিনী অভিযান শুরু করে চিন রাজ্যে।

  • আইএমএফের তৃতীয় কিস্তিও পাবে বাংলাদেশ : অর্থমন্ত্রী

    আইএমএফের তৃতীয় কিস্তিও পাবে বাংলাদেশ : অর্থমন্ত্রী

    অর্থ ব্যবস্থাপনায় ভালো করায় আইএমএফের তৃতীয় কিস্তিও বাংলাদেশ পাবে বলে জানিয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আবাসিক প্রতিনিধি জায়েন্দু দের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ কথা জানান তিনি। বলেন, আইএমএফ বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছে।

    এরপর গণমাধ্যমের সঙ্গে অবশ্য কথা বলেননি জায়েন্দু। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের চলমান অর্থনৈতিক নানা বিষয় উঠে আসে এদিনের এই সৌজন্য বৈঠকে।

    দুর্বল ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর সঙ্গে একীভূত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই পরিকল্পনা মন্দ নয়, তবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

    গেল ডিসেম্বরে আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার বাংলাদেশের রিজার্ভে যোগ হয় । এ অর্থ অনুমোদনের আগে প্রথম কিস্তিতে দেয়া ঋণের শর্তের কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে তা দেখতে অক্টোবরে এসেছিল সংস্থাটির রিভিউ মিশন। কিছু শর্ত অপূর্ণ থাকার কথা তখন তাদের জানিয়েছিল সরকার। কারণও তুলে ধরে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা পূরণের।

    ওই সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে করা আর্থিক খাতের রিফর্ম অ্যাগ্রিমেন্ট (সংস্কার) বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেখেছিল আইএমএফ। ছয়টি শতের্র মধ্যে দুটিতে পিছিয়ে থাকার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। জুন পর্যন্ত রিজার্ভের স্থিতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ধরে রাখতে না পারা এবং জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায় করতে না পারার ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছিল।

    জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী স্থিতিশীল সরকার এলে সংস্কারের বাকি পদক্ষেপও বাস্তবায়ন করা হবে-এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের অনুরোধ করা হয়েছিল বাংলাদেশের তরফ থেকে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আরও চার কিস্তির অর্থ পাবে বাংলাদেশ। প্রতিবারই কিস্তি ছাড়ের আগে ঋণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগের অর্থের ব্যবহার ও শর্ত বাস্তবায়ন দেখে সিদ্ধান্ত নেবে আইএমএফ। এ অর্থ রিজার্ভের ওপর চাপ কমিয়ে বিদেশি মুদ্রার ঘাটতি দূর করতে ভূমিকা রাখবে। অর্থনীতিকে যা গতিশীল রাখতে কাজে দেবে বলে আশা নীতি নির্ধারকসহ অর্থনীতিবিদদের।

    আইএমএফের সঙ্গে করা সমঝোতায় আর্থিক ও রাজস্ব খাতে সংস্কারের পাশাপাশি ভর্তুকি কমিয়ে জ্বালানির দাম সমন্বয়ের পথে হাঁটার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। রয়েছে বিনিময় হার বাজারমুখী করা, ৯ শতাংশ সুদহার তুলে দেয়া, ব্যাংক ঋণের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের তথ্য প্রকাশ, রিজার্ভের হিসাব আইএমএফ স্বীকৃত পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী করা, মুদ্রানীতি আধুনিকায়ন করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ। যেগুলোর অনেকখানি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ।