
রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হলো সুবলং চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতা। প্রতিভাবান সাঁতারুদের খুঁজে বের করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সাঁতার নিয়ে ভীতি দূর করার লক্ষ্যে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার সকালে আয়োজন করা হয় এ প্রতিযোগিতার। সাড়ে ১৩ কিলোমিটারের দীর্ঘ এই সাঁতার পথে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা কাপ্তাই হ্রদের নীল জলে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতা ছিল অংশগ্রহণকারীদের জন্য অন্য রকম।
ঘড়ির কাঁটায় তখন ছটা ছুই ছুই। মাত্রই পূর্ব আকাশে উঁকি দিয়েছে সূর্য। শহীদ মিনার ঘাট থেকে একদল স্বপবাজ তরুণ-তরুণীকে নিয়ে ছুটে চলেছে ইঞ্জিনচালিত বোট। গন্তব্য সুবলং বাজার। সেখানে হালকা গা গরম শেষে কাপ্তাই হ্রদের নীল জলে ঝাঁপ দেয় একদল সাঁতারু। ধীরলয়ে দুই পাহাড়ের মধ্য দিয়ে সাঁতরে চলেন তারা। দেখে মনে হবে যেন এক ঝাঁক ডলফিন। যাদের গন্তব্য রাঙামাটি শহরের শহীদ মিনার ঘাট। এই আয়োজনে দুইজন নারীসহ সারাদেশের ৩২ সাঁতারু অংশ নেন।
সুবলং বাজার থেকে পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা হ্রদের শান্ত জলে সাড়ে ১৩ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেন সাঁতারুরা। যার দুপাশে সুউচ্চ পাহাড়, কখনো বা বিস্তৃত নীল জলরাশি। সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝখানে নীল জলরাশিতে যেখানে হরহামেশা বোটের আনাগোনা চলে সেখানে সাঁতার কাটার কথা চিন্তা কখনোই করেনি স্থানীয়রা। আর সেই ভয়ে ধরা পথে বীরদর্পে এগিয়ে চলছে সাঁতারুরা। রাঙামাটির অপরূপ প্রকৃতি দেখতে দেখতে এই বিশাল দূরত্বেও ক্লান্তি বোধ হয়নি সাঁতারুদের।
প্রতিযোগিতা শেষে দুপুরে রাঙামাটি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ভীতি দূর করাসহ প্রতিভাবান সাঁতারুদের বের করে আনতেই এই আয়োজন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
প্রতিযোগিতায় ৪০ জন রেজিস্ট্রেশন করলেও অংশ নিয়েছেন ৩২ জন। শেষ পর্যন্ত দুইজন ছাড়া বাকিরা পুরো পথ পাড়ি দিতে পেরেছেন।
“সুভলং চ্যানেল (১৩.৫ কিলোমিটার) সাঁতার প্রতিযোগিতা ২০২৬” প্রথম হয়েছেন বগুড়ার রাবিব রহমান, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন একই জেলার মেহেদী হাছান ও নয়ন ইসলাম। #