
আজ ২৬ অক্টোবর ৫ম দিনের মত অবরোধ চলছে সাজেক ভ্যালিতে। অব্যাহত অবরোধের ফলে চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে এ জনপদে।
গঙ্গারাম থেকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করে ধারানাহিক কর্মসূচি পালন করে আসচে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ব্যানারে আঞ্চলিক স্বসশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ( ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিভ ফ্রন্ট। এতে সাজেক ইউনিয়নের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা স্থবির হয়ে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মূখে পড়েছ। খাদ্য,চিকিৎসা,শিক্ষা সহ দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদার যোগান সরবাহ সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে যাওয়াতে এ মাননবিক বিপর্যয়ের মূলকারণ বলে বলছেন এখানকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় অধিবাসীরা। দিনে দিনে এখানকার মানুষ কর্মহীন দারিদ্রতায়, হতশা ও চিকিৎসার অভাবে চরমভাবে দিশেহার হয়ে পড়েছে। অনেকেই খাদ্য ও ঔষধের সংকটে ক্ষুধা আর বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। প্রসাশনিক ও সামাজিক কোন প্রকার সাহায্য এসব দূর্গত মনুষ্য সৃষ্ট দূর্যোগে কেউ তাদের পাশে এসে দাড়ায়নি এখনও।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবরোধকারীদের সাথে সংলাপে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে গতকাল ২৫ অক্টোবর রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে জরুরি সভায়। সভায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের পথ তৈরি করতে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন এবং দ্রুত আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তারই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাঘাইছড়িতে সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন, বাঘাইছড়ির আয়োজনে বাঘাইছড়ির হেডম্যান ও কার্বারীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে।
এ ছাড়া দূপুর ২টায় সাজেক গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকা পরিদর্শন ও অবরোধকারিদের সাথে সংলাপের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি, বাঘাইছড়ি উপজেলা ইউএনও আমেনা মারজান, সাজেক থানার ওসি সাজেক সমস্যা নিরসনে গঠিত তিন সদস্য • ভবতোষ দেওয়ান (সহসভাপতি, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক)
• শান্তি বিজয় চাকমা (সাধারণ সম্পাদক, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক) • জ্যোতির্ময় চাকমা ক্যারল (সাধারণ সম্পাদক, পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশন, রাঙামাটি শাখা) এবং রাঙ্গামাটির হেডম্যান ও কারবারিগন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
জেলার প্রবীন বিজ্ঞজনের মতামত, শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করা, পর্যটকদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, আস্থা ও সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
পাহাড়ের স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সকল পক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। #