
পার্বত্য রাঙামাটির অন্যতম ইতিহাসজ্ঞ,প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান কাজী নজরুল ইসলাম(৮৫) ইন্তেকাল করেছেন। গত ২৮ অক্টোবর বুধবার বিকেল ৫ টায় চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর প্রয়াণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস,আঞ্চলিক বাস্তবতা ও জটিল ঘটনাপঞ্জির এক অনন্য ধারক ও বাহক ছিলেন তিনি ।
কাজী নজরুল ইসলাম ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রাঙামাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর মেধা,সাহসিকতা ও নিরপেক্ষ ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত ছিল। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি চেম্বার অফ কমার্সের সাবেক সভাপতি ও রাঙ্গামাটি ঈদ জামাত কমিটির আহ্বায়কও ছিলেন আমৃত্যু। মৃত্যুকালে তিনি ২ছেলে ৪ কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান।
ইতিহাসের ‘জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া’ ও দুর্লভ দলিল সংগ্রাহক :
………………………………………
কাজী নজরুল ইসলামকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের এক ‘জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া’ বলা হতো। তাঁর সংগ্রহে ছিল পার্বত্য অঞ্চলের অসংখ্য দুর্লভ দলিলাদি ও ঐতিহাসিক নথি। রাঙামাটি পৌর পার্কের মালিকানা সম্পর্কিত আইনি লড়াইয়ে তাঁর সংরক্ষিত ঐতিহাসিক কাগজপত্র হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর প্রদত্ত নথির ওপর ভিত্তি করেই আদালত ঐতিহাসিক রাঙামাটি পার্কের মালিকানা জেলা প্রশাসনের অনুকূলে বহাল রাখার পক্ষে রায় দেন।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকবর্তিকা:
………………………
২০০৫ সালে পার্বত্য অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতার সময়ে তিনি নীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন। সাহসিকতার সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে যেকোনো ধরনের বিভাজনের বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজকে রক্ষা ও পরামর্শ প্রদান করেছিলেন তিনি।
স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি তরুণ প্রজন্মের সাংবাদিক, গবেষক ও সংগঠকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা ও স্নেহ দিতেন। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পত্রিকা ‘স্কুলবেলা’-সহ বহু প্রকাশনায় তাঁর সাক্ষাৎকার ও গঠনমূলক মতামত রাঙামাটির ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
এক যুগের অবসান :
……………
ব্যক্তিত্ব,সততা,প্রজ্ঞা এবং রাঙামাটির প্রতি গভীর ভালোবাসার জন্য তিনি তরুণ প্রজন্মের নিকট এক আইকনিক চরিত্রে পরিণত হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর তিরোধানে পার্বত্য অঞ্চলের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে পুরো রাঙ্গামাটিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ২৯৯ নং সংসদীয় আসন (রাঙ্গামাটি)-এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বাদে জোহর বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ শুক্কুর স্টেডিয়ামে তারঁ নামাজে জানাজা অনুষ্টিত হয়। নামাজে জানাজায় ঈমামতি করেন নিউ রাঙ্গামাটি শাহী জামে মসজিদের পেশ ঈমাম মাওলানা হাফেজ আবু নঈম আলকাদেরী।
এছাড়া জেলা বিএনপি,জেলা জামায়াতে ইসলামী সহ পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন সামাজিক,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক পৃথক বার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
প্রয়াত এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।#