
বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে যেন একটা নতুন সূর্য উঠেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, বিভেদ এবং অস্থিরতার ইতিহাসের পর সময়ে এমন কিছু পরিবর্তন এসেছে যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ২০২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। বর্তমানে রাজনীতি মানে সহিংসতা বা প্রতিহিংসা নয় বরং সংলাপ, সমঝোতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রথমেই বলা যাক সর্বোচ্চ শান্তিপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য সহিংসতা ছাড়া নির্বাচনের কথা। অতীতে বাংলাদেশের নির্বাচন বলতে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ এবং রক্তপাতের ছবি মনে আসত। কিন্তু ২০২৪ এর পরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে, বিশেষ করে ড. ইউনুসের মতো নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটা বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য সহিংসতা ছাড়াই। নির্বাচন কমিশনের সংস্কার, ডিজিটাল সিস্টেমের সংযোজন (বডি ক্যামেরা), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি এতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। ফলে, ভোটাররা ভয় ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা এখন আর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ নয়, বরং নীতিভিত্তিক বিতর্ক। এই পরিবর্তন দেশের গণতন্ত্রকে আরও পরিপক্ব করেছে।
আরেকটা চমকপ্রদ পরিবর্তন হলো নির্বাচনের পর জয়ী নেতার পরাজিত নেতার বাসায় যাওয়া। এটা যেন একটা নতুন ঐতিহ্যের সূচনা। অতীতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিজয়ী দল পরাজিতদের প্রতি প্রতিহিংসামূলক আচরণ করত। কিন্তু এই নির্বাচনে জয়ী নেতা সরাসরি পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, চায়ের আড্ডায় বসে ভবিষ্যতের সহযোগিতার কথা বলেছেন। এটা শুধু একটা প্রতীকী অঙ্গভঙ্গি নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটা বড় পরিবর্তন। এর ফলে দলগুলোর মধ্যে বিভেদ কমবে এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি মজবুত হবে। এমন ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন প্রতিহিংসা থেকে সম্মানের দিকে যাচ্ছে।
এই সব পরিবর্তন দেখে মনে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতি একটা নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। যদি এই গতিধারা অব্যাহত থাকে তাহলে বাংলাদেশ হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার একটা উজ্জ্বল উদাহরণ। যে পরিবর্তন এসেছে এখন তা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট