Logo
শিরোনাম :
উৎসবের আনন্দ বাড়াতে দরিদ্রদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান–পার্বত্য মন্ত্রীর পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসনবিধি ১৯০০ বাতিল সহ ৭ দফা দাবিতে পিসিএনপি’র স্মারকলিপি ১৮০ দিনের কর্মসূচির দৃশ্যমান অগ্রগতির তাগিদ দিলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বাজার মনিটরিং ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর বাংলার রাজনীতিতে এসেছে নান্দনিক পরিবর্তন পার্বত্যাঞ্চলে বৈষম্যহীন সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের চারণ সাংবাদিক একেএম মকছুদ আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও দোয়া ইফতার মাহফিল রোজার মাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিসি এসপিদের তৎপর থাকার বিশেষ নির্দেশ পার্বত্য মন্ত্রীর সিআরএ’র পক্ষ থেকে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি ও ভাষা শহীদদের ‍প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পটে পরিণত করা হবে: মীর হেলাল

হাড় কাঁপানো শীতে গভীর রাতে শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে মানবিক যুবরা ।

মোকাদ্দেম সাঈফ( গিরি সংবাদ) / ২২৭ বার দেখা হয়েছে
শেষ আপডেট : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
Oplus_131072

রাঙামাটিতে চলমান হাড় কাঁপানো তীব্র শীত যখন জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, ঠিক তখনই গভীর রাতে মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন রাঙামাটি শহরের ক’জন উদ্যেগী মানিবক যুবকরা। আর এই মানবিক কাজের প্রেরনার দাতা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ হাবীব আজম।
যখন শহরের অধিকাংশ মানুষ উষ্ণ কাঁথার নিচে গভীর ঘুমে, তখন রাত দুই টায় শীতার্ত, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এসব অসহায়ের বন্ধু খ্যাত যুবকরা।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দুই টায় রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে ছিন্নমূল, ভবঘুরে, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে দেখা যায় তাদের।

উদ্যেগী এসব যুবকরা বলেন, তীব্র শীতে কাঁপতে থাকা মানুষদের মুখে একটু হাসি ফোটানো, তাদের শরীরে উষ্ণতা পৌঁছে দেওয়া এবং হৃদয়ে ভালোবাসার স্পর্শ ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
এই প্রচণ্ড শীতে সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোই সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকে। তাদের অনেকেরই উষ্ণ কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। আমরা যারা সামর্থ্যবান, তাদের নৈতিক দায়িত্ব হলো এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো। ভালোবাসা দিয়ে দেওয়া একটি ছোট উপহারও অনেক বড় কষ্ট লাঘব করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, মানবতার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। দিন-রাত, শীত-গ্রীষ্ম—যখনই প্রয়োজন, তখনই মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতা। এই গভীর রাতে শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।”
এ সময় তিনি সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। সবাই যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে শীতার্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।”

এই মানবিক উদ্যোগে মোহাম্মদ হাবীব আজমের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদ আলম, সামাজিক সংগঠন হিল সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাসুদ রানা রুবেল, রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ ওমর মোরশেদ, হিল ফুল ফুজুল যুব সংগঠনের অর্থ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, আল আমিন ইসলামিয়া ফাজিল মডেল মাদ্রাসা শাখার ছাত্রদলের সভাপতি নূর মোহাম্মদ হাসিব এবং কলেজ ছাত্রদলের নেতা নাজমুল হাসানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শহরের যে সব এলকায় শীতবস্ত্র বিতরণ হয় এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলো— বনরূপা বাজার, কাঠালতলী, পৌরসভা প্রাঙ্গণ, দোয়েল চত্বর, নতুন বাসস্ট্যান্ড, রিজার্ভ বাজার, শহীদ মিনার (রিজার্ভ মুখ), পুরাতন পুলিশ লাইন, তবলছড়ি বাজার, আসামবস্তি, মানিকছড়ি, ভেদবেদি, কলেজ গেইট, হাসপাতাল এলাকা, পাবলিক হেল্থ এলাকা, নিউ মার্কেট, কালিন্দপুর, চম্পকনগর, হ্যাপিরমোড়সহ শহরের আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

শীতবস্ত্র পেয়ে অনেক অসহায় মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, গভীর রাতে এমন মানবিক সহায়তা তাদের শীতের কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। অনেকেই এই উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রাঙামাটির এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। শীতের কনকনে রাতেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—মানবতা কখনো ঘুমায় না।#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ