Author: kamal kamal

  • পাহাড়ের বৈচিত্র্যে মানবিক ঐক্যের সুর: বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-চাংক্রান

    পাহাড়ের বৈচিত্র্যে মানবিক ঐক্যের সুর: বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-চাংক্রান

    বসন্তের বিদায় আর নতুন বছরের আবাহনে মুখরিত হয়ে উঠেছে সবুজ পাহাড়ের প্রতিটি জনপদ। প্রকৃতির রুক্ষতা মুছে নতুন কুঁড়ির আগমনে সেজেছে অরণ্য। ঠিক এই সময়েই পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনে বছরের শ্রেষ্ঠ সময়ের উপভোগ্য উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, চাংলান, চাংক্রান, বৈসু ইত্যাদি চৈত্র সংক্রান্তি ও বর্ষবরণ শুরু হচ্ছে। এ যেন পাহাড়ের বৈচিত্র্যে একই সুতোয় গাঁথা মানবিক ঐক্যের তান, লয় ও সুরের মূর্ছনা।

    নামের ভিন্নতা থাকলেও সুর একটাই- মৈত্রী, সম্প্রীতি আর উৎসব। চাকমাদের ‘বিজু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’, তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’, ম্রো ও চাকদের ‘চাংক্রান’। বাঙালির নববর্ষ আর পাহাড়ের এই প্রাণের উৎসব মিলেমিশে একাকার হয়ে পাহাড়ের বুকে তৈরি করেছে এক অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মহোৎসব।

    রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি আর বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় এখন যেন দম ফেলার সময় নেই। শহরের বনরূপা, তবলছড়ি কিংবা রিজার্ভ বাজার থেকে শুরু করে দুর্গম পাহাড়ের ছোটো বাজারগুলোতেও মানুষের উপচে পড়া ভিড়। চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী পিনোন-হাদি, মারমাদের থামি, আর ত্রিপুরাদের রিনাই-রিসার দোকানে তরুণ-তরুণীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন এসব পোশাকে এসেছে নতুন নতুন নকশা, যা কেবল পাহাড়িদের নয়, পর্যটকদেরও ভীষণভাবে আকর্ষণ করছে।

    শুধু পোশাক নয়, পাহাড়ের বাজারে এখন সুবাস ছড়াচ্ছে বনজ সবজি। চৈত্র সংক্রান্তি আর বর্ষবরণের অপরিহার্য অনুষঙ্গ ‘পাঁজন’ রান্নার জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বাঁশকোড়ল, তারা গাল্ল্যা, পাহাড়ি আলু আর হরেক রকমের বুনো সবজি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে উৎসবের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতে।

    পাহাড়ি সম্প্রদায়ের এই উৎসব সাধারণত তিন দিনব্যাপী চলে। তবে এর প্রস্তুতি চলে মাসজুড়ে। ১২ এপ্রিল ফুল বিজু ও বৈসু, এ সময়ে পাহাড়ি হ্রদে ফুল দিয়ে প্রার্থনা করা হয়, অনেকে বলে থাকে ফুল ভাসানো হয়, প্রকৃতপক্ষে চাকমা সম্প্রদায় ফুলকে শ্রদ্ধা করে, প্রণাম করে- একে ভাসায় না বরং গছিয়ে দেয়। ১৩ এপ্রিল ৩০ চৈত্র বাংলা বর্ষের শেষ দিন হলো মূল বিজু ও বৈসু। এদিনে নতুন কাপড় পরিধান করা হয়, এদিনে চাকমা সম্প্রদায় জুনিয়রদের সেলামি দিয়ে থাকে এবং বাড়িতে বাড়িতে পাজন রন্ধন (অনেক সবজির সমষ্টিতে বিশেষ খাবার) উৎসব উদযাপিত হয় এবং ১৪ এপ্রিল নববর্ষ বুদ্ধিস্ট সম্প্রদায় প্রার্থনার জন্য খেয়াং-এ আসেন এবং মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে থাকে।

    উৎসবের প্রথম দিনকে বলা হয় ‘ফুল বিজু’। ১২ এপ্রিল ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা পাহাড়ি ঝরনা বা হ্রদের তীরে ভিড় জমায়। তারা ফুল সংগ্রহ করে নদী বা কাপ্তাই হ্রদের শান্ত জলে ফুল সমপর্ণ করে প্রার্থনা করে। এটি পুরনো বছরের গ্লানি মুছে ফেলার এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর এক প্রতীকী আয়োজন। ঘরদোর ফুল দিয়ে সাজানো আর পবিত্র স্নানের মাধ্যমে তারা নতুন দিনকে স্বাগত জানায়।

    ১৩ এপ্রিল অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তির দিনটি হলো ‘মূল বিজু’। এই দিনে ঘরে ঘরে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পাঁজন’। এটি কেবল একটি খাবার নয়, এটি হলো পাহাড়ি সংস্কৃতির এক বিশাল সমন্বয়। কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ প্রকারের সবজি (অনেকে ১০৮ রকমের সবজি ব্যবহার করেন) দিয়ে রান্না করা এই খাবারটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। এই দিনে পাহাড়িদের ঘরে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। পরিচিত-অপরিচিত যে কেউ বাড়িতে আসলে তাদের পাঁচন দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। বাড়িতে বাড়িতে চলে আড্ডার আসর আর আনন্দ আয়োজন।

    ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখের দিনটি হলো বিশ্রামের। চাকমা ভাষায় একে বলা হয় ‘গোরজ্যাপোরজ্যা দিন’। এই দিনে বড়োদের আশীর্বাদ নেওয়া হয়, মন্দিরে গিয়ে বুদ্ধ পূজা করা হয় এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের স্নান করিয়ে নতুন কাপড় উপহার দেওয়া হয়। মারমা সম্প্রদায় এই দিনে আয়োজন করে তাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় উৎসব ‘জলকেলি’ বা পানি খেলা।

    মারমা সম্প্রদায়ের নববর্ষ উৎসব ‘সাংগ্রাই’-এর মূল আকর্ষণ হলো জলকেলি, যা তাদের ভাষায় ‘রি-লং পোয়ে’ নামে পরিচিত। তারা বিশ্বাস করে, পানি দিয়ে একে অপরকে ভেজানোর মাধ্যমে গত বছরের সমস্ত পাপ, দুঃখ আর গ্লানি ধুয়ে মুছে যায়। এটি কেবল খেলা নয়, এটি তরুণ-তরুণীদের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা এবং সম্প্রীতি প্রকাশের এক শৈল্পিক মাধ্যম। জলকেলির সেই দৃশ্য দেখতে প্রতি বছর ভিড় জমায় হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক।

    এ ধরনের উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ‘পাঁচন’ বা ‘পাজন’। রন্ধনকৃত সুস্বাদু এই তরকারিতে বাঁশকোড়ল, পাহাড়ি কচু, শিম বিচি, কাঁঠালের বিচি, মটরশুঁটি এবং বিভিন্ন বুনো শাকসবজি ব্যবহার করা হয়। স্বাদের ভিন্নতা আনতে অনেকে এতে শুটকি মাছ বা ‘সিদল’ (এক প্রকার পাহাড়ি শুটকি পেস্ট) ব্যবহার করেন। রান্নার বৈশিষ্ট্য হলো এর ধীর জ্বাল। মাটির উনুনে অনেকক্ষণ ধরে রান্না করায় সবজির রসগুলো মিলেমিশে এক অপূর্ব স্বাদ তৈরি করে। পাহাড়ের মানুষের মতে, বছরের এই দিনে পাঁচন খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

    উৎসব চলাকালীন পাহাড়ের আনাচে-কানাচে চলে লোকজ ক্রীড়া ও নৃত্যের মহড়া। ত্রিপুরাদের ‘গরাইয়া নৃত্য’ এক অনন্য আকর্ষণ। মুখোশ পরে আর হাতে লাঠি নিয়ে এই নৃত্যে ফুটে ওঠে প্রাচীন সমাজ ব্যবস্থার চিত্র। এছাড়াও চাকমাদের ‘ঘিলা খেলা’, ‘বলি খেলা’ আর ম্রোদের ‘বাঁশি নাচ’ উৎসবের রং বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। ছোটো ছোটো পাহাড়ের চূড়ায় যখন বাঁশির সুর ভেসে বেড়ায়, তখন মনে হয় পুরো প্রকৃতি যেন উৎসবে মেতেছে।

    বিগত কয়েক বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের এই উৎসব কেবল পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সমতলের বাঙালি আর পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায় জাতিগোষ্ঠীর মেলবন্ধনে এটি এখন জাতীয় উৎসবে রূপ নিয়েছে। প্রযুক্তি ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির ফলে দুর্গম পাহাড়ের এসব উৎসব এখন পর্যটকদের জন্য অনেক বেশি উপলভ্য হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা বেষ্টনী আর পাহাড়িদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় এই অঞ্চল হয়ে ওঠে পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দু। খাগড়াছড়ির আলুটিলা, সাজেক ভ্যালি কিংবা বান্দরবানের নীলগিরি- সবখানেই এখন পাহাড়ি এসব আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানের রেশ।

    বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, চাংলান, চাংক্রান কিংবা বৈসু নাম যা-ই হোক না কেন, এই উৎসবের মূল বাণী হলো শান্তি। পাহাড়ের মানুষ চায় তাদের কৃষ্টি, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি টিকে থাকুক অনাদিকাল। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে নতুন বছরে পাহাড় হয়ে উঠুক শান্তির এক লীলাভূমি। ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব যখন ১৪ এপ্রিল শেষ হবে, তখন যেন সবার মনে একটাই আশা থাকে- আগামী দিনগুলো যেন পাহাড়ের ঝরনার মতোই স্বচ্ছ এবং চিরহরিৎ বনের মতোই প্রাণবন্ত হয় #
    পাহাড়ের বৈচিত্র্যে মানবিক ঐক্যের সুর: বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-চাংক্রান

    মো. রেজুয়ান খান

    বসন্তের বিদায় আর নতুন বছরের আবাহনে মুখরিত হয়ে উঠেছে সবুজ পাহাড়ের প্রতিটি জনপদ। প্রকৃতির রুক্ষতা মুছে নতুন কুঁড়ির আগমনে সেজেছে অরণ্য। ঠিক এই সময়েই পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনে বছরের শ্রেষ্ঠ সময়ের উপভোগ্য উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, চাংলান, চাংক্রান, বৈসু ইত্যাদি চৈত্র সংক্রান্তি ও বর্ষবরণ শুরু হচ্ছে। এ যেন পাহাড়ের বৈচিত্র্যে একই সুতোয় গাঁথা মানবিক ঐক্যের তান, লয় ও সুরের মূর্ছনা।

    নামের ভিন্নতা থাকলেও সুর একটাই- মৈত্রী, সম্প্রীতি আর উৎসব। চাকমাদের ‘বিজু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’, তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’, ম্রো ও চাকদের ‘চাংক্রান’। বাঙালির নববর্ষ আর পাহাড়ের এই প্রাণের উৎসব মিলেমিশে একাকার হয়ে পাহাড়ের বুকে তৈরি করেছে এক অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মহোৎসব।

    রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি আর বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় এখন যেন দম ফেলার সময় নেই। শহরের বনরূপা, তবলছড়ি কিংবা রিজার্ভ বাজার থেকে শুরু করে দুর্গম পাহাড়ের ছোটো বাজারগুলোতেও মানুষের উপচে পড়া ভিড়। চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী পিনোন-হাদি, মারমাদের থামি, আর ত্রিপুরাদের রিনাই-রিসার দোকানে তরুণ-তরুণীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন এসব পোশাকে এসেছে নতুন নতুন নকশা, যা কেবল পাহাড়িদের নয়, পর্যটকদেরও ভীষণভাবে আকর্ষণ করছে।

    শুধু পোশাক নয়, পাহাড়ের বাজারে এখন সুবাস ছড়াচ্ছে বনজ সবজি। চৈত্র সংক্রান্তি আর বর্ষবরণের অপরিহার্য অনুষঙ্গ ‘পাঁজন’ রান্নার জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বাঁশকোড়ল, তারা গাল্ল্যা, পাহাড়ি আলু আর হরেক রকমের বুনো সবজি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে উৎসবের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতে।

    পাহাড়ি সম্প্রদায়ের এই উৎসব সাধারণত তিন দিনব্যাপী চলে। তবে এর প্রস্তুতি চলে মাসজুড়ে। ১২ এপ্রিল ফুল বিজু ও বৈসু, এ সময়ে পাহাড়ি হ্রদে ফুল দিয়ে প্রার্থনা করা হয়, অনেকে বলে থাকে ফুল ভাসানো হয়, প্রকৃতপক্ষে চাকমা সম্প্রদায় ফুলকে শ্রদ্ধা করে, প্রণাম করে- একে ভাসায় না বরং গছিয়ে দেয়। ১৩ এপ্রিল ৩০ চৈত্র বাংলা বর্ষের শেষ দিন হলো মূল বিজু ও বৈসু। এদিনে নতুন কাপড় পরিধান করা হয়, এদিনে চাকমা সম্প্রদায় জুনিয়রদের সেলামি দিয়ে থাকে এবং বাড়িতে বাড়িতে পাজন রন্ধন (অনেক সবজির সমষ্টিতে বিশেষ খাবার) উৎসব উদযাপিত হয় এবং ১৪ এপ্রিল নববর্ষ বুদ্ধিস্ট সম্প্রদায় প্রার্থনার জন্য খেয়াং-এ আসেন এবং মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে থাকে।

    উৎসবের প্রথম দিনকে বলা হয় ‘ফুল বিজু’। ১২ এপ্রিল ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা পাহাড়ি ঝরনা বা হ্রদের তীরে ভিড় জমায়। তারা ফুল সংগ্রহ করে নদী বা কাপ্তাই হ্রদের শান্ত জলে ফুল সমপর্ণ করে প্রার্থনা করে। এটি পুরনো বছরের গ্লানি মুছে ফেলার এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর এক প্রতীকী আয়োজন। ঘরদোর ফুল দিয়ে সাজানো আর পবিত্র স্নানের মাধ্যমে তারা নতুন দিনকে স্বাগত জানায়।

    ১৩ এপ্রিল অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তির দিনটি হলো ‘মূল বিজু’। এই দিনে ঘরে ঘরে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পাঁজন’। এটি কেবল একটি খাবার নয়, এটি হলো পাহাড়ি সংস্কৃতির এক বিশাল সমন্বয়। কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ প্রকারের সবজি (অনেকে ১০৮ রকমের সবজি ব্যবহার করেন) দিয়ে রান্না করা এই খাবারটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। এই দিনে পাহাড়িদের ঘরে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। পরিচিত-অপরিচিত যে কেউ বাড়িতে আসলে তাদের পাঁচন দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। বাড়িতে বাড়িতে চলে আড্ডার আসর আর আনন্দ আয়োজন।

    ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখের দিনটি হলো বিশ্রামের। চাকমা ভাষায় একে বলা হয় ‘গোরজ্যাপোরজ্যা দিন’। এই দিনে বড়োদের আশীর্বাদ নেওয়া হয়, মন্দিরে গিয়ে বুদ্ধ পূজা করা হয় এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের স্নান করিয়ে নতুন কাপড় উপহার দেওয়া হয়। মারমা সম্প্রদায় এই দিনে আয়োজন করে তাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় উৎসব ‘জলকেলি’ বা পানি খেলা।

    মারমা সম্প্রদায়ের নববর্ষ উৎসব ‘সাংগ্রাই’-এর মূল আকর্ষণ হলো জলকেলি, যা তাদের ভাষায় ‘রি-লং পোয়ে’ নামে পরিচিত। তারা বিশ্বাস করে, পানি দিয়ে একে অপরকে ভেজানোর মাধ্যমে গত বছরের সমস্ত পাপ, দুঃখ আর গ্লানি ধুয়ে মুছে যায়। এটি কেবল খেলা নয়, এটি তরুণ-তরুণীদের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা এবং সম্প্রীতি প্রকাশের এক শৈল্পিক মাধ্যম। জলকেলির সেই দৃশ্য দেখতে প্রতি বছর ভিড় জমায় হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক।

    এ ধরনের উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ‘পাঁচন’ বা ‘পাজন’। রন্ধনকৃত সুস্বাদু এই তরকারিতে বাঁশকোড়ল, পাহাড়ি কচু, শিম বিচি, কাঁঠালের বিচি, মটরশুঁটি এবং বিভিন্ন বুনো শাকসবজি ব্যবহার করা হয়। স্বাদের ভিন্নতা আনতে অনেকে এতে শুটকি মাছ বা ‘সিদল’ (এক প্রকার পাহাড়ি শুটকি পেস্ট) ব্যবহার করেন। রান্নার বৈশিষ্ট্য হলো এর ধীর জ্বাল। মাটির উনুনে অনেকক্ষণ ধরে রান্না করায় সবজির রসগুলো মিলেমিশে এক অপূর্ব স্বাদ তৈরি করে। পাহাড়ের মানুষের মতে, বছরের এই দিনে পাঁচন খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

    উৎসব চলাকালীন পাহাড়ের আনাচে-কানাচে চলে লোকজ ক্রীড়া ও নৃত্যের মহড়া। ত্রিপুরাদের ‘গরাইয়া নৃত্য’ এক অনন্য আকর্ষণ। মুখোশ পরে আর হাতে লাঠি নিয়ে এই নৃত্যে ফুটে ওঠে প্রাচীন সমাজ ব্যবস্থার চিত্র। এছাড়াও চাকমাদের ‘ঘিলা খেলা’, ‘বলি খেলা’ আর ম্রোদের ‘বাঁশি নাচ’ উৎসবের রং বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। ছোটো ছোটো পাহাড়ের চূড়ায় যখন বাঁশির সুর ভেসে বেড়ায়, তখন মনে হয় পুরো প্রকৃতি যেন উৎসবে মেতেছে।

    বিগত কয়েক বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের এই উৎসব কেবল পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সমতলের বাঙালি আর পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায় জাতিগোষ্ঠীর মেলবন্ধনে এটি এখন জাতীয় উৎসবে রূপ নিয়েছে। প্রযুক্তি ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির ফলে দুর্গম পাহাড়ের এসব উৎসব এখন পর্যটকদের জন্য অনেক বেশি উপলভ্য হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা বেষ্টনী আর পাহাড়িদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় এই অঞ্চল হয়ে ওঠে পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দু। খাগড়াছড়ির আলুটিলা, সাজেক ভ্যালি কিংবা বান্দরবানের নীলগিরি- সবখানেই এখন পাহাড়ি এসব আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানের রেশ।

    বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, চাংলান, চাংক্রান কিংবা বৈসু নাম যা-ই হোক না কেন, এই উৎসবের মূল বাণী হলো শান্তি। পাহাড়ের মানুষ চায় তাদের কৃষ্টি, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি টিকে থাকুক অনাদিকাল। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে নতুন বছরে পাহাড় হয়ে উঠুক শান্তির এক লীলাভূমি। ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব যখন ১৪ এপ্রিল শেষ হবে, তখন যেন সবার মনে একটাই আশা থাকে- আগামী দিনগুলো যেন পাহাড়ের ঝরনার মতোই স্বচ্ছ এবং চিরহরিৎ বনের মতোই প্রাণবন্ত হয় #

  • বৈসাবি’ নয়, প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয়তায় উৎসব পালনের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

    বৈসাবি’ নয়, প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয়তায় উৎসব পালনের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

    আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলান’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি ঘোষণা করেন, এখন থেকে আর ‘বৈসাবি’ নয়, আমরা এই সামাজিক উৎসবগুলোকে যার যার সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয় রীতিতে পালন করবো। আমরা চাই না এ ধরনের সামাজিক উৎসবে কোনো প্রকার বৈষম্যের সুযোগ থাকুক।

    মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, আমাদের চাকমা সম্প্রদায়ের সামাজিক উৎসব হলো বিজু। এ বিজু উৎসব আগে মন্ত্রণালয় পালন করতো বৈসাবি হিসেবে। সেখানে বৈসাবি ৩টি সম্প্রদায়ের ৩ আদ্যক্ষর থেকে এসেছে। ত্রিপুরা সম্প্রদায় বলে বৈসু, মারমা সম্প্রদায় বলে থাকে সাংগ্রাই, আর চাকমা সম্প্রদায় এ উৎসবকে আখ্যায়িত করে বিজু নামে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি সম্প্রদায়ের এই উৎসবের নাম শুধু বৈসাবি হতে পারে না। আমি মনে করি এই বৈসাবি নামকরণ দিয়ে বিগত সরকার অন্যান্য সম্প্রদায়ের জাতি সত্ত্বাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধামন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান এ বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন- বাংলাদেশে জাতিসত্ত্বার ভিত্তিতে যে যে সম্প্রদায় রয়েছে, সব সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয় নাম নিয়ে এ মানবিক উৎসবটি পালিত হবে। কাউকে বঞ্চিত করে নয়, কাউকে বাদ দিয়ে নয়- যে সম্প্রদায় যে নামে এই সামাজিক উৎসবটি পালন করবে সেই নামেই তা অভিহিত হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এখানে বলতে চাচ্ছি- বিজু, সাংগ্রাই, বৈষু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান এ নামগুলোকে সামনে রেখে আমরা আগামি ১২ এপ্রিল রাজধানীতে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে একটি প্রোগ্রাম করতে যাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের স্বকীয় কৃষ্টি, যে যেই রীতিতে উৎসব পালন করে থাকে তাদেরকে সে রীতি উৎসব পালন করার সুযোগ দিতে হবে, সম্মান জানাতে হবে। মন্ত্রী বলেন, সে লক্ষ্যেই আমরা এই প্রেস কনফান্সে আজ মিলিত হয়েছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতিকে তা জানানো। আমরা সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকতে চাই। কোনো রকম বৈষম্য আমরা চাই না। মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি সম্প্রদায়ের মূল বার্তা হলো শান্তি ও সম্প্রীতি। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান চান সকল শ্রেণি, পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষ সমান গুরুত্ব দিয়ে নিজ নিজ সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পরিচালনা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের স্বকীয়তা রক্ষা ও উন্নয়নে নিরলস কাজ করছে।

    মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান এমপি উৎসবের সময়সূচী উল্লেখ করে জানান, ১২ এপ্রিল ২৯ চৈত্র -১৪৩২ খ্রি. আমরা পালন করি ফুল বিজু। আমরা ফুল নিয়ে জলের কাছে পৌঁছাই। আমরা ফুলকে শ্রদ্ধা করি, প্রণাম করি। অনেকে বলে থাকেন, আমরা পানিতে ফুল ভাসিয়ে দিই। কথাটি সঠিক নয়। মূলত: ফুল বিজু হলো আমাদের শ্রদ্ধা ও প্রার্থনার দিন। আমরা পানিতে ফুল গছিয়ে দিই, ভাসিয়ে নয়। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি আরও বলেন, আমরা ১৩ এপ্রিল ৩০ চৈত্র- বাংলা বর্ষের শেষ দিন। মূল বিজু উৎসবে আমরা নতুন কাপড় পরিধান করি। জুনিয়রদের সালামি দিই। সবাই এক মিলন মেলায় জড়িত হই এই দিনে। এবং শেষে ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ যে জিনিসটি অত্যন্ত শুভকর, আ আমরা ব্যবহার করি। আমরা মনে করি ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ১৪ এপ্রিল আমরা বুদ্ধিস্ট সম্প্রদায় খিয়াং এ যাই প্রার্থনায় যোগ দিই। এদিন মারমা সম্প্রদায় জলকেলি উৎসবে মেতে উঠে। এ উৎসবে আমাদের আশীর্বাদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। এ উৎসব আমাদের সামাজিক বড় উৎসব। এখানে পাহাড়ি-বাঙালি কোনো ভেদাভেদ নেই। এর মাধ্যমে আমাদের ঐক্য গড়ে ওঠে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান সকল উৎসবে সাত রঙের মিশ্রণ থাকুক। রংধনুর যেমন ভ্যারাইটি আছে, তেমনি সকল সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয়তা উৎসবে ফুটে উঠবে—এটাই স্বাভাবিক। আমাদের ঐতিহ্যই আমাদের শক্তি। তিনি আরও যোগ করেন, এই উৎসবগুলো কেবল নিছক অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের শেকড় ও পরিচয়। পাহাড়ি জনগণের স্বকীয়তা রক্ষা করে তাদের উন্নয়নের মূলস্রোতে সম্পৃক্ত রাখাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
    আগামী ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বেইলি রোডস্থ ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ থেকে রমনা পার্কের লেক পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পুষ্প বিসর্জন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ০৮:৩০ মিনিটে এই উৎসবমুখর পদযাত্রা শুরু হবে।

    মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য সাচিং প্রু, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।#

  • রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযান: বিদেশি পিস্তল ও বিপুল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

    রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযান: বিদেশি পিস্তল ও বিপুল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

    রাঙ্গামাটি জেলার সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    অভিযানে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীদের ধাওয়া করে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি)।

    বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত শনিবার (৯ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মারিশ্যা ব্যাটালিয়নের (২৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি-এর নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল জীপতলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। এই অভিযানে আরও অংশ নেন ক্যাপ্টেন অমিত কুমার সাহা (অপারেশন অফিসার) এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান।

    টহল দল সেখানে অবস্থান করাকালে ৩-৪ জন সন্দেহভাজন চোরাকারবারী ঘটনাস্থলের কাছাকাছি আসে। বিজিবি সদস্যরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া করলে, রাতের অন্ধকারের সুযোগে তারা গহীন পাহাড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ব্যাগ ও বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে।

    উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে: ১টি ৭.৬৫ মি.মি. বিদেশি পিস্তল (চায়না, মডেল CZ83), ১ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৯টি গুলির খালি খোসা, পিস্তল বহনের ব্যাগ ও কভার, ১টি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ৭টি খালি খোসা, ৫টি চাইনিজ চাপাতি (২টি বড়, ৩টি ছোট), ২টি দেশীয় ধারালো দা, ১টি লোহার হাতুড়ি, ১টি বাটুল গুলটি, ২৬টি কাঁচের মার্বেল ও ৫টি স্টিলের মার্বেল, ১টি পুরাতন স্কুল ব্যাগ।

    বিজিবি সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, ইয়াবা ও অবৈধ বিদেশি সিগারেটের একটি বড় চালান পাচারের উদ্দেশ্যেই সশস্ত্র চোরাকারবারীরা ওই এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল। উদ্ধারকৃত এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জাম অবৈধ চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিক ধারণায় জানা গেছে।

    এ বিষয়ে মারিশ্যা জোনের (২৭ বিজিবি) জোন কমান্ডার লে. কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, “মারিশ্যা জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত চোরাচালান প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিজিবি। সম্প্রতি চোরাকারবারীরা অভিনব পদ্ধতিতে চোরাচালানের চেষ্টা করায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং আভিযানিক টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, চোরাচালান দমনের এই কঠোর কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং শনিবার রাতের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবির অভিযান চলছে।#

  • কাপ্তাইয়ে চম্পাকুঁড়ি খেলাঘর আসরের দ্ররিদ্র অসহায়দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

    কাপ্তাইয়ে চম্পাকুঁড়ি খেলাঘর আসরের দ্ররিদ্র অসহায়দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

    রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের জন্য পরিচিত চম্পাকুঁড়ি খেলাঘর আসর আবারও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংগঠনটির উদ্যোগে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

    রবিবার (১৫ মার্চ) বিকাল ৩টায় কর্ণফুলী পেপার মিলস বারঘোনিয়া ব্রিকফিল্ড মাঠ এলাকায় চম্পাকুঁড়ি খেলাঘর আসরের উদ্যোগে কেপিএম আবাসিক এলাকার প্রায় ১৫০ জন হতদরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মাদ শহীদ উল্লাহ্। তিনি বলেন, চম্পাকুঁড়ি খেলাঘর আসরের এ উদ্যোগ শুধু উপহার বিতরণ নয়, বরং সমাজের অসহায় মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার একটি মানবিক প্রয়াস। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে বলে তিনি মন্তব্য করেন। চম্পাকুঁড়ি খেলাঘর আসরের সভাপতি ও কেপিএম লিমিটেডের হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (এমটিএস) আবুল কাশেম রনি, খেলাঘর আসরের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক মো. জালাল উদ্দিন সাগর, সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জাকির হোসেন, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব আনিসুর রহমান, সাংবাদিক চৌধুরী মুহাম্মদ রিপন, সাংবাদিক এম বাবুলসহ খেলাঘর আসরের অন্যান্য সদস্যরা।
    উল্লেখ্য, চম্পাকুঁড়ি খেলাঘর আসর দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন মানবিক সহযোগিতা, সামাজিক কার্যক্রম এবং শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।#

  • মানবিকতার উজ্জল দৃষ্টান্ত রাখলেন সিলেটের ডিসি সরোয়ার আলম।

    মানবিকতার উজ্জল দৃষ্টান্ত রাখলেন সিলেটের ডিসি সরোয়ার আলম।

    সৎইচ্ছাই পারে একজন মানুষকে মানবিক হতে। তারই উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল এই সেই চা বাগানের শ্রমিক মঙ্গল দাসের ঘটনা। যাকে ডিসি সারোয়ার আলম সাহেব কারাগার থেকে মুক্তি করিয়েছেন।

    মঙ্গল দাস নিতান্ত একজন গরীব অসহায় দীন মজুর মানুষ,দীর্ঘ দিন উনার ইলেকট্রিক বিল বকেয়া সহ ২০ হাজার টাকা জমা পড়ে। আর সেই টাকা না দিতে পারার কারণে ঐ মামলায় দীর্ঘ ৩ মাস যাবৎ কারাগারে তিনি বন্ধি অবস্থায় ছিলেন।

    দেশের বহুল আলোচিত এক সময়ের ডাকসাট জনপ্রিয় ম্যাজিষ্ট্যট,পরবর্তীতে অন্তরীন সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত সিলেটের ডিসি সারোয়ার আলম সাহেব কারাগার পরিদর্শনে গেলে এই অসহায় মঙ্গল দাসের বিষয়টি নজরে পড়ে। তাৎক্ষণিক ডিসি সারোয়ার আলম মঙ্গল দাস কে আশ্বাস প্রদান করেন যে তিনি তার ইলেকট্রিক বিল পরিশোধ সহ জামিনের ব্যবস্থা করবেন। আর সেই কথা অনুযায়ী আজকে মঙ্গল দাসের ইলেকট্রিক বিলের টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছেন বিদ্যুৎ বিষয়ক আদালত।
    কথা দিয়ে কথা রেখেছেন আমাদের সিলেটের ডিসি সারোয়ার আলম। এমন সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ এদেশের তথা সিলেট বাসীর জন্য আশীর্বাদ। মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য।#

  • কাপ্তাই তথ্য অফিসের উদ্যোগে কেপিএমে নারী সমাবেশ 

    কাপ্তাই তথ্য অফিসের উদ্যোগে কেপিএমে নারী সমাবেশ 

    গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে 
    বর্তমান  সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ, স্বাস্থ্য সেবা, নারীর জন্য গাড়ি ইত্যাদি বিষয়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাপ্তাই তথ্য অফিসের আয়োজনে কর্ণফুলী পেপার মিলস আবাসিক এলাকায়  নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

     শুক্রবার (১৩ মার্চ ) বেলা ১১টায় উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের কেপিএম আবাসিক এলাকায় ৫ নম্বর লাইনে দোলনা মাঠ এলাকায়  এই নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
    উপজেলা সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রুহুল আমিন। এ সময় তিনি বলেন,বর্তমান  সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ,দ্রব্যমূল্য নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ, স্বাস্থ্য সেবা, নারীর জন্য গাড়ি ইত্যাদি বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। সারা দেশে বৃক্ষরোপণ, বৈষম্যহীন সমাজ ও দেশ গঠন করার জন্য মায়েদের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি এ সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজে নারীদেরকে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান। 

     অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)পলাশ ঘোষ, কাপ্তাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সম্পাদক   আনিছুর রহমান।

    এ সময় কর্ণফুলী পেপার মিলস  এলাকার শতাধিক নারী, গণমাধ্যমকর্মী ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • রাঙামাটিতে পর্যটন সেবার মানোন্নয়নে ট্যুর গাইড ভেস্ট প্রদান

    রাঙামাটিতে পর্যটন সেবার মানোন্নয়নে ট্যুর গাইড ভেস্ট প্রদান

    পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাঙামাটিতে প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডদের মাঝে ভেস্ট (Tour Guide Vest) বিতরণ করা হয়েছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে এই ভেস্ট প্রদান করেন পরিষদের সদস্য ও পর্যটন বিষয়ক আহ্বায়ক মো. হাবীব আজম।
    রাঙামাটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডদের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও পরিচিত করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এতে হিল ট্রেকার্স রাঙামাটির ট্যুর গাইডরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভেস্ট গ্রহণ করেন।
    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব রাঙামাটির সভাপতি বাদশা ফয়সালসহ পর্যটন খাতের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, হাউসবোট ও ট্যুরিস্ট বোটের মালিকরা।
    হিল ট্রেকার্স রাঙামাটির পক্ষে সংগঠনের পরিচালক মোকাদ্দেম সাইফ ভেস্ট গ্রহণ করেন। এ সময় পর্যটন বিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর আল আমিন সাজিদ এবং হিল ট্রেকার্স রাঙামাটির ট্যুর গাইড মো. রওনক রহমান, আবু সাঈদ মোহাম্মদ সায়িম, শোয়েব বিন আলম মাহিরসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
    আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডদের দৃশ্যমান পরিচয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে পর্যটকদের সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং রাঙামাটির পর্যটন ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে।

  • কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক নুরুল আবছার রচিত বই “ইংলিশ বুস্টার” এর মোড়ক উন্মোচন

    কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক নুরুল আবছার রচিত বই “ইংলিশ বুস্টার” এর মোড়ক উন্মোচন

    রাঙামাটির কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ এর ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক নুরুল আবছার কর্তৃক রচিত বই “ইংলিশ বুস্টার” এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। ইংরেজিতে অর্নগল কথা বলার জন্য এই বইটি রচনা করা হয়েছে। এছাড়া কিউআর কোডভিত্তিক নেটিভ ভয়েস শুনে শুনে ইংরেজি চর্চার কার্যকর সুযোগ সৃষ্টি করবে বইটি।

    সোমবার ( ৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১ টায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এর কার্যালয়ে প্রধান অতিথি উপস্থিত থেকে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ কমান্ডার মো: আলিফ উল্লাহ, ( শিক্ষা) বিএন। এসময় তিনি বলেন, বইটি লিসেনিং, স্পিকিং, প্রনানসিয়েশন, প্রেজেন্টেশন, ভোকাবুলারি, গ্রামার, ডিবেটিং, অ্যাংকরিং, আইইএলটিএস সহ এই জাতীয় কাজের জন্য সহায়ক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। চাপ্টার অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী যদি বইটি অনুশীলন করে, তাহলে ভবিষ্যতে ইংরেজিতে কথা বলা সহ দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    মোড়ক উন্মোচনকালে প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ এম জাহাঙ্গীর আলম, কলেজ শাখার কো- অর্ডিনেটর মো: কামরুল আলম, মাধ্যমিক শাখার কো-অর্ডিনেটর মো: মাহফুজুল হকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রভাষক নুরুল আবছার বলেন, ইংলিশ বুস্টার একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও আধুনিক ইংরেজি শেখার বই, যা কিউআর কোডভিত্তিক নেটিভ ভয়েস শুনে শুনে ইংরেজি চর্চার কার্যকর সুযোগ সৃষ্টি করে। এটি কেবল একটি পাঠ্যবই নয়; বরং শোনা, বলা ও নিয়মিত অনুশীলনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি পূর্ণাঙ্গ ইংলিশ লার্নিং সিস্টেম। প্রতিটি লেসনের সঙ্গে সংযুক্ত QR কোড স্ক্যান করে শিক্ষার্থীরা হেডফোনের মাধ্যমে সঠিক উচ্চারণ, স্বাভাবিক টোন এবং বাস্তবসম্মত বাক্যপ্রয়োগ শিখতে পারে। নিয়মিত পড়া ও অনুশীলনের ফলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং স্পোকেন ও প্রেজেন্টেশন ইংলিশে দক্ষতা অর্জন সহজ হয়।

    বইটিতে লিসেনিং, স্পিকিং, প্রনানসিয়েশন, প্রেজেন্টেশন, ভোকাবুলারি, গ্রামার, ডিবেটিং, অ্যাংকরিং, আইইএলটিএস স্পিকিং, ফ্রিল্যান্সিং, ইংলিশ ফর টিচার্স, ক্রিকেট ও ফুটবল কমেন্টারি, অনার্স, মাস্টার্স এবং বিসিএস ভাইভার মডেলসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ টপিক সংযোজন করা হয়েছে।

    প্রতিটি লেসনে নেটিভ ভয়েসে প্রস্তুতকৃত QR কোড সংযুক্ত থাকায় শুনে শুনে ইংরেজি শেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে। পরিবারে ছোট-বড় সকলের জন্যই বইটি সমানভাবে উপযোগী। যারা ইংরেজিকে বেসিক লেভেল থেকে এডভান্স লেভেল পর্যন্ত উন্নীত করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ বই।

  • পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে ইউএনডিপি ও বাংলাদেশ সরকারের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়

    পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে ইউএনডিপি ও বাংলাদেশ সরকারের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়

    পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এম.পি.’র সঙ্গে আজ সোমবার এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার। রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে মন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে মাননীয় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে ইউএনডিপির দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা ও বিভিন্ন প্রকল্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনডিপির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে।

    বৈঠকের শুরুতে স্টিফেন লিলার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করায় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি-কে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    আলোচনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়। উভয় পক্ষই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ মিজ সোনালী দয়ারত্নে, পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার মিজ আন্নে হাগুড, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সরদার মো. আসাদুজ্জামান এবং ইন্টারন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ইয়্যুগেস প্রাধানাং উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) রবীন্দ্র চাকমা বৈঠকে অংশ নেন। #

  • ৩১ দফার মাধ্যমে দেশে শান্তি ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা হবে  — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

    ৩১ দফার মাধ্যমে দেশে শান্তি ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা হবে — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

    পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান আজ রাতে রাজধানীর বাসাবোস্থ ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে এক বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বর্তমান সরকার ও দেশের মানুষের মঙ্গল কামনায় আয়োজিত প্রার্থনায় অংশ নেন।

    পূজা ও প্রার্থনা শেষে উপস্থিত ভিক্ষু-ভান্তে ও ভক্তবৃন্দের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের ঘোষিত ৩১ দফার মাধ্যমে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সকল সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশে শান্তি, সম্প্রীতি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে সহাবস্থান করার নির্দেশনা পেয়েছেন। আমরা সরকারের এই ৩১ দফার ম্যানিফেস্টো সর্বান্তকরণে মেনে চলব। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ বা বৈষম্য থাকবে না।

    বৌদ্ধ ধর্মের মূলবাণী ও জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের পবিত্র বৌদ্ধ ধর্ম পাহাড় ও সমতলকে এক করেছে। আমাদের মাঝে মৈত্রীর বন্ধন আরও দৃঢ় হোক। ভিক্ষু ভান্তেদের এই প্রার্থনা আমাদের দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। আমরা সকলে মিলে দেশ ও জনগণের কল্যাণে এবং দেশের উন্নতি কামনায় সরকারের কাজে নিয়োজিত থাকব। জগতের সকল প্রাণি সুখী হোক।

    ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে আসার দীর্ঘদিনের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করে মন্ত্রী তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

    বিশেষ এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সহধর্মিনী মৈত্রী চাকমা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বৌদ্ধকৃষ্টি প্রচার সংঘের সহ-সভাপতি সরুপানন্দ ভিক্ষু, ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ আনন্দমিত্র ভান্তে, ধর্মানন্দ ভান্তে, কল্যাণ জ্যোতি ভিক্ষুসহ সংগঠনের মহাসচিব ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া, রাঙ্গামাটি জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি মানসমুকুর চাকমা, সুভাষ চন্দ্র চাকমা, রনজিত কুমার বড়ুয়া, অনুপম বড়ুয়া, সুশীল বড়ুয়া, পার্থ প্রতীম বড়ুয়া অপুসহ বিভিন্ন স্তরের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ভক্তবৃন্দ।