Logo
শিরোনাম :
অধিগ্রহন জমির ক্ষতিপূরনে ওয়ারিশ সনদ জালিয়াত : আটক ১ – মামলা দায়ের কক্সবাজার সৈকতে প্লাস্টিক দূষণ রোধে ১২ ‘বর্জ্যমানব’ উখিয়ায় নলকূপ বসাতে গিয়ে মাটির নীচ থেকে বের হচ্ছে গ্যাস, আগুনে আতঙ্কিত সাধারণ অবরোধে ব্যাহত সাজেকের জনজীবন : দূর্ভিক্ষের হাতছানি, ঘটছে মানবিক বিপর্যয়! হয়নি নিরসন সাজেক সংকট : অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষনা আন্দোলনকারিদের। ৫ম দিনের অবরোধে অবরুদ্ধ সাজেক : মানবিক বিপর্যয়ে ৩০ হাজার অধিবাসী। এবার ২ পার্বত্য জেলায়ও সড়ক-নৌপথ অবরোধের ঘোষণা প্রত্যাশী সিমস্ প্রকল্পের উদ্যোগে কক্সবাজারে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রাঙ্গামাটির সাইমুন প্রধানমন্ত্রী’র হাত থেকে নিলেন “ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬” পদক। কক্সবাজার টুপটুপ রেস্টুরেন্টে এন্ড রিসোর্টে : ফ্রিজে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত

কক্সবাজার সৈকতে প্লাস্টিক দূষণ রোধে ১২ ‘বর্জ্যমানব’

মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী ( গিরি সংবাদ) কক্সবাজার / ২২ বার দেখা হয়েছে
শেষ আপডেট : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

কারও পুরো শরীর ঢেকে আছে বোতল, মগ, ছোট বালতিসহ প্লাস্টিকের নানা পণ্যে। কারও শরীরজুড়ে প্লাস্টিকের থালা। কেউ আবার পরে আছেন নানা ধরনের ইলেকট্রনিক বর্জ্য। এমন ১২ ‘বর্জ্যমানব’কে ঘিরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তাঁদের দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সী পর্যটক। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ মুঠোফোনে ধারণ করছেন ভিডিও।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা যায় এমন দৃশ্য। সাগর ও পরিবেশদূষণ নিয়ে পর্যটকদের সচেতন করতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নেয় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। সাগর থেকে কুড়িয়ে আনা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য দিয়ে ‘বর্জ্যমানব’ সাজেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা।

প্লাস্টিক ও পরিবেশদূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শোভাযাত্রায় বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন ১২ ‘বর্জ্যমানব’।

তাঁরা সৈকতে দৌড়ে বেড়িয়ে পর্যটকদের উদ্দেশে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা দেন। তাঁদের মুখে ছিল—‘সৈকত আমাদের অমূল্য সম্পদ, সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করুন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন না, প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হোন।’

শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। তিনি বলেন, গত ১০ দিনে অন্তত ১০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। এখনো লাখো পর্যটক অবস্থান করছেন। পর্যটকদের ব্যবহৃত প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য সাগরে গিয়ে দূষণ সৃষ্টি করছে। এ কারণে প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, শোভাযাত্রায় থাকা ১২ ‘বর্জ্যমানব’ পর্যটকদের কাছে প্লাস্টিক ও বর্জ্যদূষণের ক্ষতিকর দিকটি ভিন্নভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, সৈকতে বেড়াতে আসা অনেক মানুষ বালুচরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে যান। এর মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ বেশি। এসব বর্জ্য সাগরের পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় দূষণ বাড়ছে। বালুচরে ময়লা ফেলার জন্য অসংখ্য ডাস্টবিন রাখা হলেও অনেকে সেগুলো ব্যবহার করেন না।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা মানুষের সামনে তুলে ধরতেই ১২ নারী-পুরুষকে বর্জ্যমানব হিসেবে সাজানো হয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বর্জ্য দিয়ে নির্মিত ৫০ ফুট উচ্চতার একটি ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত ওই ভাস্কর্যটিও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরছে। প্রতিদিন হাজারো পর্যটক বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা ভাস্কর্যটি দেখতে ভিড় করছেন


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ