Logo
শিরোনাম :
পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে ইউএনডিপি ও বাংলাদেশ সরকারের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ৩১ দফার মাধ্যমে দেশে শান্তি ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা হবে — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান অপরাধ দমনে কোনো ছাড় নয়, দলমত নির্বিশেষে জিরো টলারেন্স: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল রাঙামাটির সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার রোধে ৫৪ বিজিবির টহল ও তল্লাশি জোরদার। অমর একুশে বইমেলায় পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান: বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন রাঙামাটিতে সাংবাদিক জামাল উদ্দীনের ১৯তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত রাঙামাটি জার্নালিস্ট নেটওর্য়াকে সম্মেলন। সভাপতি ফাতেমা জান্নাত মুমু ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় চাকমা —– কক্সবাজারে এক মেয়ে পিতৃপরিচয় চাইতে কারাগারে পাঠাল ইউএনও। বাঘাইছড়িতে তেলের তেলেসমাতী শুরু: প্রতি লিটারে দাম বৃদ্ধি ৩টাকা। শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের অর্থ লোপাটের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দূনীর্তিতে কারো ছাড় নেই।…. পার্বত্যমন্ত্রী

কক্সবাজারে এক মেয়ে পিতৃপরিচয় চাইতে কারাগারে পাঠাল ইউএনও।

নিজস্ব প্রতিনিধি( গিরিসংবাদ) কক্সবাজার / ৬৬ বার দেখা হয়েছে
শেষ আপডেট : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

কক্সবাজারের পেকুয়া থানার ভেতরে রক্তাক্ত মা ও মেয়ে এক মেয়ে তার পিতৃপরিচয়ের জন্য লড়ছে,কিন্ত বিনিময়ে সাজা দিলো ইউএনও!
জুবাইদা। কক্সবাজারের চকরিয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সাধারণ এক মেয়ে,যার স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হওয়া। কিন্তু তার জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রাম শুরু হয়েছিল জন্মের পর থেকেই।
জুবাইদার বয়স তখন এক বছরেরও কম। ঠিক সেই সময়ই তার বাবা-মায়ের সংসার ভেঙে যায়। অভিযোগ—যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন। অসহায় মা মেয়েকে কোলে নিয়ে ফিরে আসেন নিজের বাবার বাড়িতে।
অন্যদিকে জুবাইদার বাবা নতুন করে সংসার শুরু করেন দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে।
একদিকে নতুন সংসার,অন্যদিকে সংগ্রামের জীবন। জুবাইদার মা দ্বিতীয়বার সংসারী হলেও মেয়েকে ভুলে যাননি। নিজের কষ্ট,অভাব আর সংগ্রামের ভেতর দিয়েই মেয়েকে বড় করেছেন,পড়ালেখা করিয়েছেন।
২০১৩ সালের ২৩ মে মারা যান জুবাইদার বাবা। আইন অনুযায়ী,সেই মুহূর্ত থেকেই জুবাইদা তার বাবার সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। জুবাইদার চাচারা তাকে অস্বীকার করলেন। বললেন—সে নাকি তাদের কেউ না।
নিজের বাবার ঘর,নিজের রক্তের আত্মীয়—সবাই যেন এক মুহূর্তে অপরিচিত হয়ে গেল। ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার জন্য জুবাইদা ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হল। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিল। তবুও ইউনিয়ন পরিষদ তার পিতৃপরিচয় দিতে অস্বীকার করল। এই বাধার পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন স্থানীয় মহিলা মেম্বার বিজু—যিনি সম্পর্কে জুবাইদার আপন ফুফু।
নিজের বাবার পরিচয় প্রমাণ করতে গিয়ে নিজেরই আত্মীয়দের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলো তাকে। হাল ছাড়েনি জুবাইদা। আইনের দ্বারস্থ হয়।
এসিল্যান্ডের মাধ্যমে তদন্তের দায়িত্ব যায় পেকুয়া থানার পুলিশের কাছে। সেখানে শুরু হয় আরেক বাস্তবতা।
পেকুয়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন-২০ হাজার টাকা না দিলে তদন্ত প্রতিবেদন ঠিকভাবে দেওয়া হবে না।
জুবাইদার খালা,যিনি তাকে বড় করতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন, নিজের সোনার আংটি বন্ধক রেখে সেই টাকা জোগাড় করেন।
২০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও জুবাইদা পায়নি তার বাবার স্বীকৃতি। পুলিশ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও সত্য প্রতিবেদন দেননি।
কারণ একটাই,পিতৃপরিচয় স্বীকার করলে সে হয়ে যাবে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী।
এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে জুবাইদা তার মাকে নিয়ে যায় থানায়।
প্রশ্ন করতে-কেন তাকে বঞ্চিত করা হলো? আর ফেরত চাইতে-তাদের দেওয়া ঘুষের ২০ হাজার টাকা। কিন্তু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বরং থানার ভেতরেই পুলিশ চড়াও হলো মা-মেয়ের ওপর। মারধরে তাদের রক্তাক্ত করে দেওয়া হলো।
তারপর রাস্তার ওপার থেকে ডেকে আনা হলো ইউএনওকে।
থানার ভেতরেই বসানো হলো ভ্রাম্যমাণ আদালত। এক মাসের সাজা লিখে মা-মেয়েকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো কক্সবাজার জেলা কারাগারে।
রক্তাক্ত অবস্থায়ও তাদের স্বাধীনভাবে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
একজন মেয়ে শুধু তার বাবার পরিচয় চেয়েছিল। তার প্রাপ্য উত্তরাধিকার চেয়েছিল। কিন্তু সেই অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করতে প্রথমে বিক্রি হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ। তারপর বিক্রি হয়েছে পেকুয়া থানা পুলিশ। আর শেষে সেই পুলিশের সম্মান রক্ষায় দাঁড়িয়েছে উপজেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা( ইউএনও)।
এরা সবাই নাকি এলাকার গর্বিত সন্তান।
কেউ চাকরি পেলেই আমরা গর্ব করি। কিন্তু সেই সমাজেই জন্ম নেওয়া জুবাইদা নিজের বাবার পরিচয় চাইতে গিয়ে থানার ভেতর মার খেয়ে, মাকে নিয়ে কারাগারে যেতে বাধ্য হয়। একটা প্রশ্ন থেকে যায়- এই দেশে কি সত্যিই একজন মেয়ের জন্য নিজের বাবার পরিচয় পাওয়াও এত কঠিন?। #

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
ছবিটি গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা কারাগারে তোলা।
ছবিতে রয়েছেন জুবাইদার মা-রেহেনা মোস্তফা রানু।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ