
গত বুধবার সৌদিয়া পরিবহনের সাথে দ্বন্দের জেরে পর্যটন নগরী রাঙামাটিতে পূর্ব ঘোষনা ছাড়া হঠাৎ করে যাত্রী পরিবহন ধর্মঘট চলছে। চরম ভাোগান্তিতে সাধারণ মানুষ। নিজ গন্তব্যে যাওয়ার উদ্যেশে ঘর থেকে বের হয়ে বাস স্টেশনে এসে চরম বিপাকে বিড়ম্বনায় পড়েছে যাত্রী সাধারণ। লংগদু উপজেলা থেকে সকালে লঞ্চে শহরে বাস কাউন্টারে আসা অতিশয় বৃদ্ধা ও ক”জন যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়,সকালে লঞ্চে শহরে আসেন তারা, তাদের সাথে কথা বলতে তারা জানান,বাসের জন্য টিকিট কাউন্টারে এসে দেখি টিকিট কাউন্টার বন্ধ ও জানতে পারি বাস ধর্মঘট চলছে,আমরা এখন পড়েছি মহা বিপাকে,শহরে আমাদের নেই কোন আত্বীয়-পরিচিত স্বজন,নেই কোন থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা,মহা সংকটে আমরা,এখন কোথায় যাব কি করবো বুঝতে পারছিনা।
দূর্গম উপজেলা বরকল থেকে আসা সোলাইমান জানান,অসুস্থ ভাইকে নিয়ে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে রাঙামাটি শহরে এসে জানতে পারি যাত্রী পরিবহণ ধর্মটক চলছে,চরম দূর্ভোগ বিড়ম্বনায় পড়লাম,আগামীকাল ঢাকায় ভাইয়ের চিকিৎসার নিদির্ষ্ট ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টম্যান্ট, যথাসময়ের মধ্য যেতে না পারলে চিকিৎসা করাতে পারবো না। কি করবো এখন ভেবে পাচ্ছিনা,চরম দূ’চিন্তায় আছি। আগে থেকে এ ধর্মঘটের কথা জানতাম না আমরা।
আজ ২২জানুয়ারী-২৬ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাঙামাটি থেকে দূর- পাল্লার যাত্রীপরিবহন কোন গাড়ী রাঙামাটি ঢাকা,রাজশাহী,চট্টগ্রাম-বান্দরবন-খাগড়াছড়ি উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়নি। এ নিয়ে চরম দূর্ভোগ ও বিড়ম্বনায় পড়েছে রাঙামাটি থেকে অন্য জেলায় গমনা গমনে ঘর থেকে বাহির হওয়া সাধারণ মানুষ। এছাড়া পরিবহণ সংকটের কারণে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান সহ অফিস আদালতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়েছে। সারাদেশ ও চট্টগ্রাম সহ দেশের অন্যান জেলায় সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে রয়েছে অনির্দিষ্ট কালের জন্য। রাঙামাটি জেলার দূর্গম উপজেলা থেকে আগত সাধারণ মানুষ ও জেলা আগত পর্যটকগন রাঙামাটি ছেড়ে যেতে পারছেনা যার যার গন্তব্যে,ফলে দূর্ভোগ-দূর্দশা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে তারা।
তাছাড়া সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,ধর্মঘটের কারণে মোটর শ্রমিক কর্ম হারিয়ে বেকার অলস সময় পার করছে নিজেদের মধ্য পিকনিকের আয়োজন করে।
ধর্মঘটের কারণ জানতে চাইলে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সাহেব ও শ্রমিক ইউনিয়ণ সম্পাদক খোরশেদ আলম জানান,রাঙামাটি থেকে ঢাকা সহ রাজশাহী চাপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ সুনামগঞ্জ এ বেশ কিছু পরিবহন রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মোটর মালিক সমিতির সাথে সমন্বয় করে সকল পরিবহণ মালিকদের সাথে আলোচনা করে কিছু নিয়ম-শৃঙখলা নির্ধারণ পূর্বক সাংগঠনিক নিয়ম মেনে নিজেদের গাড়ি নিয়মিত শান্তিপূর্ণ ভাবে যাত্রীসেবা দিয়ে পরিচালনা করে আসছি আমরা দীর্ঘ দিন ধরে।
হঠাৎ করে সৌদিয়া পরিবহন,অন্যান পরিবহন মালিক ও রাঙামাটি -চট্টগ্রাম বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক সংগঠনে সাথে সমন্বয় না করে একতরফা ভাবে জোর করে নিজেদের ইচ্ছে মত তাদের গাড়িগুলো পরিচালনা করছে,ফলে আজকের সংকটের সৃষ্টি। এ ব্যাপারে আমরা তাদের একাধিকবার আহ্বান করেছি আমাদের সাথে আলোচনা পূর্বক সমন্বয় করে তাদের গাড়িগুলো চালানোর জন্য। কিন্তু এ বিষয়ে তারা কেন কর্ণপাত করছে না। এ বিষয়ে আমরা রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরও কোন সূরহা হচ্ছে না সৌদিয়া পরিবহনের দ্বারা সৃষ্ঠ সমস্যার। তাই আমরা উয়ান্তুর না পেয়ে আজকের পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করেছি।
এবিষয়ে নাগরিক সমাজ প্রতিনিধি ও রাঙামাটি যাত্রী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বলেন,সৌদিয়া পরিবহনের সাথে সমস্যা,সৌদিয়া পরিবহন বন্ধ রাখতে পারে,কিন্তু সব পরিবহন বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে জিম্মি করে,মানুষের জীবন যাত্রা বন্ধ করে দেওয়া কোন যুক্তি হতে পারে না,এটা সম্পূর্ন্ন নৈরাজ্য। রাঙামাটি পরিবহন সেক্টরে এ নৈরাজ্য দীর্ঘদিনের। আসলে কিছু পরিবহন দূর্বত্তদের কাছে আজীবন জিম্মি হয়ে আছে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম-ঢাকার যাত্রী সাধারণ সহ জেলাবাসী। এর থেকে পরিত্রাণ চাই রাঙামাটিবাসী। প্রশাসন সহ সংলিষ্ট বিভাগের প্রতি জোর দাবী পরিবহন সেক্টরে এ নৈরাজ্য ও যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি এবং রাঙামাটি জেলাবাসী পরিবহণ দূর্বৃত্তদের হাতে জিম্মিদশা থেকে মুক্তির যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং রাঙামাটিতে চলমান অযৌক্তিক কান্ডজ্ঞানহীন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে জনভোগান্তি দূর করে রাঙামাটি পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য বন্ধ করার জন্য প্রশাসন সহ পরিবহণ কর্মকর্তাদের প্রতি রাঙামাটি বাসী জোরালো দাবী জানাচ্ছি। #