
রাঙ্গামাটির আইন শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী যেই হোক না কেন সে নির্বাচনের প্রাক্কালে আইন অমান্যকারী হিসেবে গন্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নিশাত শারমিন। রাঙ্গামাটির মানুষকে জিম্মি করে কোন দাবী আদায় মেনে নেয়া হবে না। তিনি বলেন,সৌদিয়া গাড়ী চলাচল নিয়ে রাঙ্গামাটিতে পাহাড়িকা পরিবনহ বন্ধ করে দেওয়া বড় অন্যায়। এই অন্যায় কোন ভাবে মেনে নেয়া হবে না। আগামী দিনে যেই এই রকম কর্মকান্ডে জড়িত থাকবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২২ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে রাঙ্গামাটিতে সৌদিয়া পরিবহন বন্ধ রাখার দাবী করে পাহাড়িকা বাস সার্ভিস সহ সকল যাত্রী পরিবহণ বন্ধ করে রাঙামাটি বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন কর্তৃক হঠাৎ ধর্মঘট আহ্বান করার বিষয়ে জরুরী সভায় রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এ কথা বলেন।
বিশেষ এ জরুরী সভায় আরো বক্তব্য রাখেন,রাঙ্গামাটি রিজিয়নের জি টু আই মেজর আশফিক,অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মো: জসিম উদ্দিন,রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: জসিম উদ্দিন, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মোটর মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মো: আবু সৈয়দ, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর জ্জামান সোহেল,রাঙামাটি বাস শ্রমিক ইউনিয়ণ সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম,রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: ইলিয়াস, দৈনিক গিরিদর্পন সম্পাদক নন্দন দেবনাথ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাঙ্গামাটি বাস মালিক পক্ষের বিভিন্ন কথা শুনে। এ সময় সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকরা রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম শহরে যানবাহন চলাচলে জিম্মির কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, জন্ম থেকে রাঙ্গামাটির মানুষ জিম্মি হয়ে আছে এই রাউজানের মালিকদের হাতে। এ জিম্মি দশা থেকে কবে মুক্তি পাবে রাঙ্গামাটির মানুষ সেই প্রশ্ন ছুড়ে দেন পরিবহণ নিয়ে আয়োজিত জরুরী সভায়।
বক্তারা আরো বলেন, দেশের অন্যান পরিবহণের পরিত্যক্ত,লক্কর-জক্কর বাস কম দামে এনে ৩৬ সীটের গাড়িতে ৪০-৪২ সীটে রুপান্তর করে পাহাড়িকা সুপার সার্ভিসের নামে চালানো হচ্ছে রাঙামাটি- চট্টগ্রাম সড়কে। যা অন্য জেলার যাত্রী ও মালিকরা ব্যবহার করছে না, তা আমাদের রাঙামাটিতে চালানো হচ্ছে পরিবহণ সেক্টরের কিছু অসাধু দূর্বৃত্ত নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের চত্রছায়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে,দীর্ঘকাল থেকে জিম্মি করে রেখেছে রাঙামাটি জেলাবাসীকে।
সভা শেষে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো: আবু সৈয়দ রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম,রাঙ্গামাটি-ঢাকা রুটে পরিবহন ধর্মঘট তুলে নেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান।