
জলবদ্ধতায় নাকাল রাঙ্গামাটি জনজীবন। সীমাহীন দূর্ভোগ-দূর্দশায় হাজারো মানুষ। ২দিন হতে বন্ধ চন্দ্রঘোনা ফেরী চলাচল।
টানা বর্ষনে ও উজান থেকে প্রবল বেগে দেইয়ে আসা পানিতে কাপ্তাই লেকেব পানি বিপদসীমার উপরে। ১.৯ ধারণ ক্ষমতার কাপ্তাই বাধেঁ আজকের পানির উচ্ছতা ১০৮.৭৩ এমএসএল।
লেকের পানি বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট বন্যায় রাঙ্গামাটি জেলা শহর,সদর উপজেলা,বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি,বিলাইছড়ি, লংগদু,কাপ্তাই, কাউখালীতে হাজারো হাজারে মানুষ পানিপন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বসতবাড়ি,ফসলিজমি, শস্য ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কর্মহীন পড়েছে দৈনন্দিন কেটে খাওয়া মাুনুষ। অস্বাভাবিক ভাবে বাজারে বেড়েছে কাচা শাক-সব্জি, নিত্যপনের দাম। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্যপন্য সামগ্রী।
বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করায় অনেকে পারছেন না রান্নাবান্না সহ রোজকারের সাংসারিক কাজ- কর্ম।পারছেনা ঘর থেকে বের হতে, স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্টান সহ অনেক এলাকায় মসজিদ, মন্ধির ডুবে স্বাভাবিক পাঠদান ও উপসনায় ব্যাঘাত ঘটছে। বন্যায় পানিবন্ধি হয়ে সীমাহীন দূর্ভোগ- দূর্রদশায় নিপতিত ৬ উপজেলার হাজারো হাজারো মাুনুষ।
কাপ্তাই বাধেঁর ১৬টি জলকপাট সাড়ে তিন ফুট খুলে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিস্কাশিত প্রতি সেকেন্ডে ৯৮হাজার কিউসেক পানি ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলি নদীতে। ফলে কর্ণফুলি নদীতে প্রবল স্রোতের প্রবাহে কাপ্তাই – রাজস্থলী ২উপজেলার একমাত্র যোগাযোগের সংযোগ ব্যবস্থা, গতকাল ভোর ৬টা থেকে চন্দ্রঘোনা ফেরি ২দিন যাবত বন্ধ রয়েছে। ফলে শতশত মানুষ ২পাড়ে আটকে আছে। ফলে ২উপজেলার মানুষ যাতায়ত সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্য পরিবহণ করতে পারছেনা কোন বাহনে।
ফেরি কর্তৃপক্ষ রাঙ্গামাটি সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, কর্ণফুলি নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল করতে পারছে না। কাপ্তাই লেকের পানি কমার উপর নির্ভর করছে ফেরি চলাচল। বাধেঁর নিস্কাশিত পানির পরিমান কমে আসলে , কর্ণফুলি নদীর পানির স্রোতও কমে আসবে। তখনই ফেরি চলাচল চালু করা যাবে অন্যতায় নয়।
চলমান বন্যার দূর্যোগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক হাবিব উল্ল্যাহ মারুফের নির্দেশনা অনুসারে সদর, লংগদু, বাঘাইছড়ি সহ অন্যান্য উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়। এ পর্যন্ত ১০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২০০০ কেজি চাল বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বন্যা পরিস্থিতিতে যেকোন ক্ষতি এড়াতে জেলায় মোট ২৪৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে জানান জেলা প্রশাসন। #