Category: আর্ন্তজাতিক

  • কীভাবে এমন সহিংস হয়ে ওঠলো মিয়ানমার?

    কীভাবে এমন সহিংস হয়ে ওঠলো মিয়ানমার?

    বিদ্রোহীদের ঐক্যের কাছে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের অবস্থা এখন একেবারেই নাজুক। আরাকান আর্মি ও ইয়াও ডিফেন্স ফোর্স-ওয়াইডিএফসহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিরোধমূলক হামলা থেকে প্রাণ রক্ষায় দেশ ছেড়ে পাল্লাচ্ছে জান্তা সেনারা। কিন্তু হঠাৎ করেই কীভাবে এ পরিস্থিতি হলো। কেনই বা এতোটা সহিংস হয়ে ওঠলো মিয়ানমার?

    জাতিগত উদ্দেশ্য ছাড়াও, হঠাৎ করে বিদ্রোহীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠার পেছনে অন্যতম একটি কারণ সামনে আনলো মিয়ানমারের গণমাধ্যম ইরাবতী। যেখানে বলা হয় তিন মাস আগে দেশটির সামরিক বাহিনী দ্বারা নৃশংস হত্যার শিকার হয় ২০ বছর বয়সী ২ তরুণ। জান্তাবিরোধী বিদ্রোহী হয়ে ওঠাই অপরাধ ছিল তাদের।

    ঘটনার বর্ণনায় বলা হয় হত্যার আগে নির্যাতন চালিয়ে ওয়াইডিএফ’র ওই দুই সদস্যকে স্বীকার করতে বাধ্য করা হয় যে তারা ‘কুকুর’। এরপর তাদের একটি গাছে ঝুলিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। মাগওয়ে অঞ্চলের একটি গ্রামে ঘটে এমন বিভৎস ঘটনা। ওই সময়কার ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।

    জান্তা বিরোধী প্রতিরোধ গ্রুপ ইয়াও ডিফেন্স ফোর্স- ওয়াইডিএফ বলেছে, এই হত্যা দেখতে গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে একজন করে ব্যক্তিকে ডেকে আনা হয়েছিলো। ২০২৩ সালের ৭ই নভেম্বরের সেই ঘটনার সঙ্গে জান্তা বাহিনী ছাড়াও তাদের মিত্র পিউ শয়ে হতি’র সদস্যরা যুক্ত ছিল।

    ওয়াইডিএফ বলছে, বহুদিন আগে থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অমানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। আর এমন ঘটনা যাতে আগামীতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতে একটি উপায় আছে। তা হলো ক্ষমতা থেকে সেনাবাহিনীর শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। সব মানুষকে বর্তমান প্রতিরোধ সফল না হওয়া পর্যন্ত নীরব না থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছে ওয়াইডিএফ।

    গত ১৩ নভেম্বর থেকে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। ইতোমধ্যে রাখাইনে থাকা জান্তা বাহিনীর অন্তত ১৭০টি অবস্থান দখল করেছে তারা।

  • বাংলাদেশের সীমান্তে মিয়ানমারের সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত

    বাংলাদেশের সীমান্তে মিয়ানমারের সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত

    বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা মিয়ানমারের চিন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।আরাকান আর্মি ভূপাতিত হেলিকপ্টারের একাধিক ছবিও প্রকাশ করেছে। গতকাল বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভূপাতিত হেলিকপ্টারটির ছবি প্রকাশ করা হয়। এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম ইরাবতি।

    আরাকান আর্মির মুখপাত্র খিয়াং থুখা ইরাবতিকে বলেছেন, ‘পালেতওয়া শহরে তীব্র সংঘর্ষের সময় আমরা একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছি। আমরা গুলি করার পর গত ১৩ জানুয়ারি হেলিকপ্টারটি পাই নামক পাহাড়ের কাছে ঘন বনের মধ্যে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এই এলাকার পাশে কাঙ্খা নামক পাহাড়ে জান্তাবাহিনীর একটি ঘাঁটিও ছিল। গতকাল বুধবার আমরা ঘাঁটিটি দখলের পর এই হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছি।’

    শহরটিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও জান্তাবাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। মাঝে বিদ্রোহীরা দাবি করেছিল, তারা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

    প্রসঙ্গত, এই দুটি পাহাড়ই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা বান্দরবান সীমান্তে অবস্থিত। প্রায় দুমাস ধরে চলা সংঘর্ষের পর গত ১৩ জানুয়ারি আরাকান আর্মি চিন রাজ্যের এই শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। তার আগে গত অক্টোবরে উত্তরাঞ্চলে ‘অপারেশন ওয়ান জিরো টু সেভেন’ নামে অভিযান শুরু করে আরাকান আর্মিসহ তিন বিদ্রোহী জোট ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’।

    এর আগে, গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এবং আরাকান আর্মি (এএ) সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে থ্রি ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স। গত অক্টোবরে শান রাজ্যে এই জোট জান্তাবিরোধী ‘অপারেশন-১০২৭’ শুরু করে। এই অপারেশনে বেশ সাফল্যও লাভ করে জোট। পরে নভেম্বরের মাঝামাঝি সশস্ত্র জোট বাহিনী অভিযান শুরু করে চিন রাজ্যে।

  • পাকিস্তানে সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৩৪টি আসন

    পাকিস্তানে সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৩৪টি আসন

    জনপ্রিয় নেতা ইমরান খানকে বাদ দিয়েই পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে ১৪১ আসন নিয়ে গঠিত পাঞ্জাব প্রদেশ। নতুন সরকার গঠনে কমপক্ষে ১৩৪টি আসনে বিজয়ী হতে হবে।

    রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই পাকিস্তানের ১৬তম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় কয়েকদিনে প্রায় অর্ধশত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। একের পর এক মামলায় ইমরানসহ তার দলের শতাধিক নেতাকর্মী এখন কারাবন্দি। দলীয় ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না ইমরানের দল- পিটিআই।

    এবারের নির্বাচনে মূল খেলোয়াড় পাঞ্জাবের সিংহ নামে পরিচিত নওয়াজ শরীফের দল মুসলিম লিগ-নওয়াজ। চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনে মরিয়া দলটি। এরপরই ক্রিকেট মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠে আসা পাকিস্তানের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ইমরান খান। দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি হয়ে নির্বাচনে অযোগ্য হয়েছেন তিনি। নিজের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে জেলে থেকেও নির্বাচনে প্রভাব রাখছেন ক্যারিশমাটিক ইমরান খান।

    অন্যদিকে রাজনীতিতে তরুণ মুখ পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা। দক্ষিণাঞ্চলের সিন্ধু প্রদেশে তার দলের বড় প্রভাব আছে।

    সম্প্রতি গ্যালাপ পাকিস্তানের এক জরিপে দেখা যায়, ৬১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছেন ইমরান খান। অন্যদিকে তার প্রতিপক্ষ নওয়াজ শরীফের সমর্থন ৩৬ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছেন। যাদের বেশিরভাগই তরুণ, ইমরানের দলের ২৩৬ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন।

    জাতীয় আইনসভার ২৬৬টি আসন ও ৭০টি সংরক্ষিত আসন নিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ গঠিত। জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভার জন্য দুটি করে ভোট দেবেন ভোটাররা। পাঞ্জাব প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ১৪১টি আসন আছে। মূলত এই প্রদেশের ফলাফলের ওপরই সরকার গঠন অনেকাংশে নির্ভর করে। সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ৬০টি আসন নারীদের জন্য এবং ১০টি অমুসলিম বা সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ।

    জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশটির সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৩৪টি আসন দরকার। নির্বাচনের পর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের যেকোন দলে যোগ দেয়ার সুযোগ আছে। এরপর ৩৩৬ সংসদ সদস্যদের ভোটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার পাকিস্তানে কোন একক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সরকার গঠনে ভরসা করতে হবে জোটের ওপর। যদিও জোট গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তেমন কোন পরিকল্পনা দেখা যায়নি।

    পাকিস্তানের নির্বাচন শুধু দল বা তাদের নেতাদের জনপ্রিয়তা মাপার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ইস্যুগুলোও নির্বাচনে প্রভাব রাখছে। গত ৫৩ বছরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত ১১টি সাধারণ নির্বাচনের ৬টিতে গড় ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৪৫ শতাংশ। বাকি ৫টি নির্বাচনে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।

  • রাজা তৃতীয় চার্লসের স্থলাভিষিক্ত হবেন প্রিন্স হ্যারি

    রাজা তৃতীয় চার্লসের স্থলাভিষিক্ত হবেন প্রিন্স হ্যারি

    পদত্যাগ করবেন রাজা তৃতীয় চার্লস, তার স্থলাভিষিক্ত হবেন প্রিন্স হ্যারি। অবিশ্বাস্য হলেও প্রায় ৫০০ বছর আগে এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন ফরাসি জ্যোতিষী নস্ত্রাদামুস।
    ক্যান্সার আক্রান্তের খবর প্রকাশের পর থেকেই ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চালর্স চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন। সাময়িকভাবে সব ধরনের পাব্লিক ইভেন্ট থেকে তিনি বিরতি নিয়েছেন। রাজার সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে পর্দার তারকারা বার্তা পাঠিয়েছেন। সুস্থ অবস্থায় রাজাকে আবারও সিংহাসনে বসতে দেখার অপেক্ষায় রাজপরিবারের অনেক ভক্ত।

    তবে যদি বলা হয়, রাজার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ক্ষমতায় বসবেন তারই পুত্র প্রিন্স হ্যারি, তাহলে হয়তো অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যাবে। তবে প্রায় ৫০০ বছর আগে এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন ফরাসি জ্যোতিষী নস্ত্রাদামুস।

    ষোড়শ শতকের এই জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। ১৫৫৫ সালে তিনি লিখে যান বিখ্যাত বই লে প্রফোটাইস। তিন খণ্ডে বিভক্ত বইটির নাম বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ভবিষ্যদ্বাণী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যা, টুইন টাওয়ারে হামলা এমনকি হিটলারের উত্থানের কথা উল্লেখ ছিল তার ৯৪২টি ভবিষ্যদ্বাণী সমৃদ্ধ বইটিতে।

    নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে গবেষণা করে ২০০৫ সালে বই প্রকাশ করেন ব্রিটিশ লেখক মারিও রিডিং। যেখানে উল্লেখ ছিল, ৯৬ বছর বয়সে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু হবে। বইয়ে বলা আছে, ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরসূরির কথাও। নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী সিংহাসন ত্যাগ করবেন রাজা চার্লস। তার স্থলাভিষিক্ত হবেন এমন ব্যক্তি যার সঙ্গে রাজপরিবারের কোন সম্পর্ক নেই, এমনকি রাজা হওয়ার কোন সম্ভাবনাও ছিল না।

    নিয়ম অনুসারে চার্লসের পর পরবর্তী রাজা হবেন প্রিন্স উইলিয়াম। এরপর সিংহাসনে বসবেন তার তিন সন্তান জর্জ, শার্লট ও লুইস। এই তালিকার পঞ্চম অবস্থানে আছেন প্রিন্স হ্যারি। কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে বিয়ের পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে হ্যারির। মা প্রিন্সেস ডায়নার মতো ইতিহাস পুনরাবৃত্তির ভয়ে ২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবার ত্যাগ করেন হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান। ফলে নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যতবাণীর সঙ্গেও উঠে আসছে হ্যারির নাম।

    আলোড়ন সৃষ্টিকারী ব্রিটেনের উত্তরসূরি নিয়েও কী মিলবে নস্ত্রাদামুসের গণনা, উত্তর হয়তো সময়ই বলে দেবে।

  • জেল থেকে ইমরানের ভোট, পারলেন না বুশরা

    জেল থেকে ইমরানের ভোট, পারলেন না বুশরা

    চলছে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন। স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়। এটি চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এ নির্বাচনে প্রতিন্দ্বন্দ্বীতা না করতে পারলেও আদিয়ালা জেল থেকে ভোট দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন।

    এতে বলা হয়, ইমরান জেল থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। এছাড়াও পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি, পাঞ্জাব প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চৌধুরী পারভেজ এলাহী, আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রধান শেখ রশিদ ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরীও তাঁদের ভোট দিয়েছেন। তবে ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবি ভোট দিতে পারেননি। পোস্টাল ভোট প্রক্রিয়ার পরে গ্রেপ্তার হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি বুশরা।

    মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ পাকিস্তানে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮০ লাখ। নিবন্ধিত দল ১৬৭টি। জাতীয় পরিষদে প্রার্থী ৫ হাজার ১২১ জন। এ ছাড়া চার প্রদেশে প্রাদেশিক নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রার্থী ১২ হাজার ৬৯৫ জন।

    বিভিন্ন দল থেকে ভোটে জয়ী প্রার্থীরা জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হবেন। যে কোনো দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। জাতীয় পরিষদ গঠিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে সংসদীয় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী হতে সমর্থন পেতে হবে অন্তত ১৬৯ সংসদ সদস্যের।

    নতুন প্রধানমন্ত্রী বেছে নেবেন মন্ত্রীদের, যাদের মাধ্যমে গঠিত হবে পাঁচ বছরের কেন্দ্রীয় সরকার। প্রাদেশিক স্তরে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাদেশিক সরকার গঠনে অনুসরণ করা হবে একই প্রক্রিয়া।

    এবারের নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)। চার বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে দলে ফিরেছেন তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর সমর্থন রয়েছে নওয়াজের দলের প্রতি।

    অন্যদিকে গত নির্বাচনে সরকার গঠন করা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতারা এবার নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে। নির্বাচনে অনিয়মের দায়ে গত ডিসেম্বরে দলের প্রতীক ব্যাট বাতিল করা হয়। এদিকে দলের চেয়ারম্যান ইমরান খান নানা মামলায় রয়েছেন কারাগারে। ১০ বছরের জন্য রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে গতবারের এই প্রধানমন্ত্রীকে।

  • গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখান ইসরাইলের

    গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখান ইসরাইলের

    সব বন্দিকে মুক্তি ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে গাজায় সাড়ে ৪ মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। আইডিএফ-এর সেনারা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে নিরঙ্কুশ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ।

    বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, হামাসকে ধ্বংস করা ছাড়া ইসরাইলের সামনে কোন পথ খোলা নেই। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিন ধাপে ১৩৫ দিনের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে সকল বন্দিকে ফেরত দেয়ার প্রস্তাব দেয় হামাস।

    এদিকে ইসরাইলকে ১ হাজার ৭৬০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে বাতিল হয়েছে। বিল উত্থাপনের পর এর পক্ষে ১৮০টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে ভোট দেন ২৫০ জন। ৪ মাসব্যাপী যুদ্ধে গাজায় ২৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

    নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্য নিয়ে হামাসের কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি রয়টার্সকে বলেন, তাঁর (নেতানিয়াহু) মন্তব্য রাজনৈতিক স্পর্ধার একটি রূপ। তিনি এই অঞ্চলে সংঘাত চালিয়ে যেতে চান।

    এদিকে মিসরের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, মিসর ও কাতারের মধ্যস্ততায় নতুন একটি আলোচনা আজ বৃহস্পতিবার কায়রোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সেই হামলায় অন্তত ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন। এরপর গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়লে বাহিনী, যা এখনো অব্যাহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

  • একটি সন্তান নিলেই মিলবে ৮২ লাখ টাকা!

    একটি সন্তান নিলেই মিলবে ৮২ লাখ টাকা!

    কর্মীদের জন্য অভিনব এক ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানি। ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো কর্মী একটি সন্তান নিলেই পাবেন ৭৫ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮২ লাখ টাকারও বেশি। দেশটিতে জন্মহার কমে যাওয়ায় সিউলভিত্তিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বুইয়ং এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

    সিএনএনের প্রতিবেদনে জানা যায়, সিউলভিত্তিক কোম্পানি বুইয়ং গত সোমবার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ২০২১ সাল থেকে ওই কোম্পানিতে কর্মরত নারীরা যারা মা হয়েছেন, তাদের মোট ৫ দশমিক ২৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৫২ লাখ ডলার পুরষ্কার দেওয়া হয়।

    বুইয়ং কোম্পানির চেয়ারম্যান লি জুং কিউন বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় যেভাবে জন্মহার কমছে, তেমনটা চলতে থাকলে আগামী ২০ বছরে আমাদের দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। একটি পরিবারে কয়টি সন্তান থাকবে তা অনেক সময় সেই পরিবারের আর্থিক সঙ্গতির ওপর নির্ভর করে। সন্তান লালন-পালন ও ভবিষ্যতের বিষয়টি ভাবতে গিয়ে অনেকে বেশি সন্তান নিতে চান না। তাই আমরা কর্মীদের বোনাস দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।’

    বুইয়ংয়ের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক কোম্পানি দেশের জন্মহার বাড়াতে সম্প্রতি বোনাস দেওয়ার এই নীতি অনুসরণ করছে। কুমহো পেট্রোকেমিক্যাল নামের একটি বহুজাতিক কোম্পানি জানিয়েছে, তারা তাদের অফিসে কর্মরত সব নারীদের একটি করে সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার বোনাস দেবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকার বেশি।

    দেশটির ফার্মাসিউটিক্যাল ফার্ম ইউহান কর্প কর্মীদের সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য পুরষ্কার ঘোষণা করেছে। কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হ্যানমিগ্লোবাল সম্প্রতি তাদের কর্মীদের সন্তান নেওয়ার জন্য বোনাসের ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে দুই বছর করার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।

    এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবারগুলোকে সন্তান নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করার জন্য আঞ্চলিক সরকারও এগিয়ে আসছে।

  • রাজধানী রক্ষায় মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করেছে মিয়ানমার সরকার

    রাজধানী রক্ষায় মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করেছে মিয়ানমার সরকার

    হুমকির মুখে পড়েছে মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদো। আশঙ্কা করা হচ্ছে রাজধানীতেও ঢুকে পড়তে পারে বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের হামলার মুখে বড় ধরণের চাপে রয়েছে দেশটির সামরিক সরকার। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে লড়াইয়ে টিকতে না পেরে প্রাণ হারিয়েছে অনেক জান্তাসেনা। অনেকে আত্মসমর্পণ করেছে।

    এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীদের ঠেকাতে ‘পিপলস মিলিশিয়া’ নামের একটি আধাসামরিক বাহিনী গঠন করা হয়েছে। আর এতে যোগ দিতে সাধারণ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে অস্ত্র, নগদ অর্থ এবং খাবার; এরইমধ্যে ইয়াঙ্গুন, বাগো, তানিনথারি অঞ্চল এবং মুন রাজ্যে বেসামরিক নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশী শুরু করেছে মিলিশিয়া বাহিনী।

    সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল নায়ুন্ত উইন সোয়ে এবং সাউদইস্টার্ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সো মিন গত বুধবার মিলিশিয়ার সদস্যদের হাতে অস্ত্র তুলে দেন।

    এছাড়া জেনারেল থেট ফো এবং ইয়াঙ্গুনের কমান্ডার মেজর জেনারেল ঝ হৈ ইয়াঙ্গুনের হেলেগু এবং তাইক্কাই এলাকায় মিলিশিয়াদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন।

    অন্যান্য জায়গাতেও মিলিশিয়া গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে রাজধানী নেইপিদোর পাশের অঞ্চল বাগোতে চার মাস আগে আধাসামরিক বাহিনী গঠিত হয়েছে। মূলত রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সেনাবাহিনীকে সহায়তা করতে ও বিরোধীদের দমন করতে মিলিশিয়াকে ব্যবহার করা হয়। মিয়ানমারে মিলিশিয়াদের রয়েছে কালো ইতিহাস।

    থাইল্যান্ড থেকে পরিচালিত মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতি বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    এদিকে, মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাগাইং অঞ্চল আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ থেকে শহরটি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সেনারা। ইতোমধ্যেই সাগাইংয়ের অন্যতম শহর কাওলিন ঘিরে ফেলেছে জান্তা বাহিনী।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে দুই শতাধিক গোলা ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

    দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে দুই শতাধিক গোলা ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

    দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া থেকে ২০০টির বেশি কামানের গোলা ছোড়া হয়েছে। শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী ইয়েওনপিয়েওং দ্বীপের দিকে গোলাগুলো ছোড়া হয়। খবর বিবিসি

    তবে গোলাগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি। সেগুলো দুই দেশের মধ্যবর্তী বেসামরিক অঞ্চলে পড়েছে। উত্তর কোরিয়ার এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে সিউল। একইসঙ্গে এ কর্মকাণ্ডকে ‘উসকানিমূলক পদক্ষেপ’ বলেছে তারা।

    এর আগে ২০১০ সালে দ্বীপটিতে বেশ কয়েকবার গোলা হামলা চালিয়েছিল পিয়ংইয়ং। তাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল।তবে এবার উত্তর কোরিয়ার গোলা নিক্ষেপের পর ইয়েওনপিয়েওং দ্বীপের বাসিন্দাদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে বলেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।

    দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ থেকে জানানো হয়েছে, গোলায় দেশটির সামরিক বাহিনী বা মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি হুমকিতে পড়েছে এবং উত্তেজনা বেড়েছে।

    এমন সময় উত্তর কোরিয়া থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হলো, যখন কিছুদিন আগেই পিয়ংইয়ং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য দেশটির সামরিক বাহিনী অস্ত্রাগার তৈরি করছে। কোরীয় উপদ্বীপে ‘যেকোনো সময় ছড়িয়ে পড়তে পারে’ এই যুদ্ধ।

  • ইরাকে সামরিক জোটের মিশন বন্ধের ঘোষণা

    ইরাকে সামরিক জোটের মিশন বন্ধের ঘোষণা

    মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের মিশন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরাকে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায় শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) এ বিষয়ে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির কার্যালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে।

    ইরাকের রাজধানী বাগদাদে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একজন মিলিশিয়া নেতা নিহতের পর দেশটিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতেই মিশনের ব্যাপারে এ সিদ্ধান্ত নিলো দেশটি।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরাকে আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর উপস্থিতি স্থায়ীভাবে শেষ করার ব্যবস্থা নিতে সরকার দ্বিপাক্ষিক কমিটির বৈঠক শুরুর তারিখ নির্ধারণ করছে।’

    ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পুনরুত্থান ঠেকাতে স্থানীয় সেনাবাহিনীকে পরামর্শ ও সহায়তার অজুহাতে এখন পর্যন্ত ইরাকে ২ হাজার ৫০০ এবং সিরিয়ায় ৯০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

    অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা হামলার জেরে ইরাক ও সিরিয়ার মার্কিন ঘাটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে বেশ কিছু মিলিশিয়া গোষ্ঠী। এ প্রেক্ষিতেই মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ হামলা হয়।