Author: admin

  • ‘সরকারের দুর্বলতার কারণে সীমান্তে বাংলাদেশীদের রক্ত ঝরছে’

    ‘সরকারের দুর্বলতার কারণে সীমান্তে বাংলাদেশীদের রক্ত ঝরছে’

    সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ঘাটতি থাকায় মিয়ানমারের বিষয়ে জোরালো প্রতিবাদ করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন তিনি।

    এসময় রিজভী বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে দেশের মানুষ। আমাদের সীমান্ত অরক্ষিত। সেখানে মানুষ নিরাপদ নয়। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সীমান্তে বাংলাদেশীদের রক্ত ঝরছে। সরকারের নীরবতায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা এখন ঝুঁকিতে রয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে দেশে বিজিপি অর্থাৎ মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের প্রবেশকে রহস্যজনক বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর শান্তির বাণী এখন দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অথচ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা ছিল সুরক্ষিত এবং জনগণ ছিল নিরাপদ।

    রাজনীতি নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য যাত্রাপালার সংলাপ-ঢংয়ে সস্তা বিনোদনে ভরপুর মন্তব্য করে রিজভী বলেন, এই ভদ্রলোককে দেখলাম… বর্তমান বিনা ভোটের সরকার প্রধানের কাছে লেখা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের একটি চিঠি নিয়ে প্রায় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছেন। কাদের বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, এখন আপনাদের সাহসের উৎস কোথায়? কে সাহায্য করবে?

    বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত অক্টোবরে ওবায়দুল কাদেরের একটি বক্তব্য নিশ্চয়ই সবার মনে আছে, ‘আপস হয়ে গেছে। আমরা আছি, দিল্লীও আছে। দিল্লী আছে, আমরাও আছি’। এই কথার অর্থ দেশের জনগণ নয়, আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকে আছে দিল্লীর করুণার ওপর। আওয়ামী লীগের চিরায়ত ঐতিহ্য হচ্ছে নিজ দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করা। বিএসএফের গুলিতে বিজিবি সদস্য মারা গেলেও আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ করার সাহস নেই।

    রিজভী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া জনগণের সমাদৃত নেত্রী, এটাই তার অপরাধ। তার সুচিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার সেটা দিচ্ছে না।’

    শতাব্দির শ্রেষ্ঠ প্রহসন হচ্ছে ৭ জানুয়ারির ‘ডামি’ নির্বাচন এমন মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সীমান্তে মানুষ হত্যা হলেও সরকার এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো প্রতিবাদ জানাতে পারেনি। তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে এই সরকারের কোনো অঙ্গীকার নেই বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, ২৮ অক্টোবর থেকে বিএনপির বিপুল নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও তাদের মুক্তি মেলেনি। নানা ধরনের সরকারি চক্রান্তে তাদের আটকে রাখা হয়েছে। আজও মুক্তি মেলেনি খালেদা জিয়ার। বিএনপির সকল রাজবন্দিদের মিথ্যা মামলা তুলে নিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

  • চাল, তেল, চিনি ও খেজুরে শুল্ক ও কর কমালো সরকার

    চাল, তেল, চিনি ও খেজুরে শুল্ক ও কর কমালো সরকার

    আসন্ন রমজান উপলক্ষে চার পণ্যে শুল্ক ও কর কমিয়েছে সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে চাল, চিনি, তেল ও খেজুরে ভ্যাট ও শুল্ক কমিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সই করা পৃথক চারটি আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।

    প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, চাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর মিলিয়ে ৪৭.২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। বিদ্যমান শুল্ক ও কর ৬২.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫.২৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে ২০ শতাংশ। যা বয়েল ও নন-বয়েল চাল আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে রেয়াতি হারে চাল আমদানির পূর্বে প্রত্যেক চালানের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ন্যূনতম যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা থেকে লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। এই সুবিধা আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

    খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর ৫৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৩ শতাংশ করা হয়েছে। যার মধ্যে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এটি আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

    পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন তেল ও পাম অয়েলের ওপর প্রযোজ্য কর (ভ্যাট) ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। যা আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

    চিনির ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টনে শুল্ক দেড় হাজার টাকা থেকে কমিয়ে এক হাজার টাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই সুবিধা ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    আহসানুল ইসলাম টিটু জানান, বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি জোগান আর দ্রব্যমূল্য নাগালের মধ্যে রাখতে বাড়তি নজরদারি করা হচ্ছে। শুল্ক কমানোর মাধ্যমে এসব পণ্যে নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। সাধারণ ভোক্তাদের কাছে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

    তিনি বলেন, কৃষি, খাদ্য, মৎস্য বাণিজ্য- এসব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ চলছে। তাতে উৎপাদন, জোগান আর ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর পুরো বিষয় তদারকি করা হবে। যাতে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য পাওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে দরকার হলে আইনি পদক্ষেপও নেয়া হবে। প্রয়োজনে খাদ্যের জন্য জরুরি আইন প্রয়োগ করা হবে।ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রিতে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রত্যাশা করি আমরা।

    গত ২৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে রমজান উপলক্ষে ভোজ্যতেল, চিনি, খেজুর ও চালের ওপর শুল্ক কমানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রমজানে যাতে এসব পণ্যের সরবরাহ কম না হয়।

  • শিল্পকলায় শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত আহমেদ রুবেল

    শিল্পকলায় শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত আহমেদ রুবেল

    অভিনেতা আহমেদ রুবেলের আঁতুড় ঘর রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। কেননা সেলিম আল দীনের নাট্যদল ‘ঢাকা থিয়েটার’ থেকেই তাঁর অভিনয়ের হাতেখড়ি। এবারও শেষবারের মতো সেখানে গেলেন তিনি। তবে আজ সকালে এ যাওয়াটা ছিল অন্যরকম। নিথর দেহে শেষবারের মতো তাঁর শিল্পকলা ভ্রমণ। সহকর্মী ও অনুরাগীরা সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন।

    ঢাকা থিয়েটারের উদ্যোগে লাশবাহী ফ্রিজারে করে আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টা নাগাদ শিল্পকলা চত্বরে আনা হয় আহমেদ রুবেলের মরদেহ। গাড়ি থেকে নামানোর সাথে সাথে তাঁকে একনজর দেখতে ঘিরে ধরেন সবাই। শিল্পীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন অনুরাগী ও সহশিল্পীরা।

    ঢাকা থিয়েটার ছাড়াও অভিনেতাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটি, গ্রাম বাংলা থিয়েটার, অভিনয় শিল্পী সংঘ, সাংসদ ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস।

    ঢাকা থিয়েটারের পক্ষে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘১৯৮৭ সালে রুবেল ঢাকা থিয়েটারের যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি আমাদের সক্রিয় সদস্য। আজকের এই শ্রদ্ধা নিবেদন শুধু ঢাকা থিয়েটারের নয়, বরং তাকে বিদায় জানাচ্ছে দেশের সকল থিয়েটারকর্মী।’

    জানা গেছে, শিল্পকলার পর দুপুরে অভিনেতা আহমেদ রুবেলকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নিয়ে যাওয়া হবে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। সেখানে অভিনেতার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নিজ বাড়ি গাজীপুরের ছায়াঘেরা বাগানে সমাহিত হবেন অভিনেতা আহমেদ রুবেল। বাদ আসর সেখানে তাঁকে দাফন করা হবে।

    প্রসঙ্গত, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের অভিনীত ‘পেয়ারার সুবাস’ ছবির বিশেষ শো-তে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আহমেদ রুবেলের। সেখানে যোগ দিতে বসুন্ধরা শপিং মলের বেজমেন্টে গাড়ি থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • আহমেদ রুবেলের মৃত্যুতে সহকর্মীদের শোক

    আহমেদ রুবেলের মৃত্যুতে সহকর্মীদের শোক

    খ্যাতিমান অভিনেতা আহমেদ রুবেলের মৃত্যুতে তাঁর সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নির্মাতা থেকে অভিনয়শিল্পী, কেউই রুবেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। এই অভিনেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক তারকাই নানা পোস্ট করছেন।

    গায়ক আসিফ আকবর তার ফেসবুক বার্তায় লিখেছেন, চলে গেলেন প্রিয় অভিনেতা আহমেদ রুবেল। তার বলিষ্ঠ কণ্ঠ থেমে গেল চিরতরে।

    পুরোনো দিনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরোও বলেন, একটা সময় অনেক কথা হতো আমাদের, দুজন ছিলাম দুজনার ফ্যান। দেখা হওয়াটাই প্রেম নয়, অনুভব করতে পারার মধ্যেই প্রেম বেঁচে থাকে। বিনম্র শ্রদ্ধা। আমি শোকাহত !!! আহমেদ রুবেল ভাইয়ের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শোক জানিয়ে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী লিখেছেন, ‘বিশ্বাসই করতে পারছি না যে, অভিনেতা আহমেদ রুবেল ভাই আর নেই…।’ একই কথা বলেছেন অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান।

    অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম লিখেছেন, ‘আহা! রুবেল ভাই! আপনার মতো এমন দারুণ একজন অভিনেতাকে কতটুকু সম্মান এ ইন্ডাস্ট্রি করতে পেরেছে জানি না।

    আপনার কাছ থেকে আর দুর্দান্ত অভিনয় দেখার সুযোগ হবে না! কিন্তু আপনার প্রতি রইল অফুরন্ত ভালোবাসা,শ্রদ্ধা। একজন আহমেদ রুবেল আর জন্মাবেন না, এই খেদ রইল মনে। যেখানেই থাকেন ভালো থাকেন।’

    জয়া আহসান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এভাবে রুবেল ভাইকে নিয়ে বলতে হবে ভাবিনি। খুব অদ্ভুত ব্যাপার হলো। আমি না দেখা পর্যন্ত বিশ্বাস করছি না। মনে হচ্ছে আমি আবার স্ক্রিনে তাকে দেখি। আমাদের পরিচালক নুরুল আলম আতিক চাইছেন সিনেমাটি তার (আহমেদ রুবেল) স্মরণে দেখি। আমার মনে হয় রুবেল ভাইও এটি চাইতেন। কারণ মানুষ তার কাজের মধ্যেই বেঁচে থাকে।

    অভিনেতা জায়েদ খান লিখেছেন, ‘জীবন কত অনিশ্চিত।

    অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা লিখেছেন, ‘রুবেল ভাই, অভিনেতা বুঝিই এভাবেই চলে যায়। সবাইকে অবাক করে দিয়ে। আপনাকে ভালোবাসি। কত কত স্মৃতি।’

    নির্মাতা সঞ্জয় সমাদ্দার লিখেছেন, ‘আজকে তাঁর অভিনীত সিনেমা পেয়ার সুবাস-এর প্রিমিয়ার শো। যাচ্ছিলেন হলের দিকে! নির্মাতার সাথে লিফটে অচেতন হয়ে পড়লেন। চিরকালের জন্য! আহমেদ রুবেল ভাই চলে গেলেন! এমন কণ্ঠের এমন অসাধারণ অভিনেতাকে আমরা হারিয়ে ফেললাম। পঞ্চান্ন খুব অল্প সময়, এমন অসাধারণ প্রতিভার জন্য। শোক ও শ্রদ্ধা ভাই।’

    আরিফিন শুভ লিখেন, আপনি বেঁচে থাকবেন আমাদের হৃদয়ে….।

    গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির লেভেল-৮-এর স্টার সিনেপ্লেক্সে নিজের অভিনীত ‘পেয়ারার সুবাস’র উদ্বোধনী সিনেমার প্রিমিয়ারে এসে মারা যান আহমেদ রুবেল। প্রদর্শনীর বিষয়টি নির্ধারিত ছিল।

    ১৯৬৮ সালের ৩ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের রাজারামপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আহমেদ রুবেল। অভিনয়ের হাতেখড়ি হয়েছিল সেলিম আল দীনের ‘ঢাকা থিয়েটার’র মাধ্যমে। তার অভিনীত প্রথম নাটক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নযাত্রা’।

  • পাকিস্তানে সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৩৪টি আসন

    পাকিস্তানে সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৩৪টি আসন

    জনপ্রিয় নেতা ইমরান খানকে বাদ দিয়েই পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে ১৪১ আসন নিয়ে গঠিত পাঞ্জাব প্রদেশ। নতুন সরকার গঠনে কমপক্ষে ১৩৪টি আসনে বিজয়ী হতে হবে।

    রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই পাকিস্তানের ১৬তম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় কয়েকদিনে প্রায় অর্ধশত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। একের পর এক মামলায় ইমরানসহ তার দলের শতাধিক নেতাকর্মী এখন কারাবন্দি। দলীয় ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না ইমরানের দল- পিটিআই।

    এবারের নির্বাচনে মূল খেলোয়াড় পাঞ্জাবের সিংহ নামে পরিচিত নওয়াজ শরীফের দল মুসলিম লিগ-নওয়াজ। চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনে মরিয়া দলটি। এরপরই ক্রিকেট মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠে আসা পাকিস্তানের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ইমরান খান। দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি হয়ে নির্বাচনে অযোগ্য হয়েছেন তিনি। নিজের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে জেলে থেকেও নির্বাচনে প্রভাব রাখছেন ক্যারিশমাটিক ইমরান খান।

    অন্যদিকে রাজনীতিতে তরুণ মুখ পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা। দক্ষিণাঞ্চলের সিন্ধু প্রদেশে তার দলের বড় প্রভাব আছে।

    সম্প্রতি গ্যালাপ পাকিস্তানের এক জরিপে দেখা যায়, ৬১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছেন ইমরান খান। অন্যদিকে তার প্রতিপক্ষ নওয়াজ শরীফের সমর্থন ৩৬ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছেন। যাদের বেশিরভাগই তরুণ, ইমরানের দলের ২৩৬ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন।

    জাতীয় আইনসভার ২৬৬টি আসন ও ৭০টি সংরক্ষিত আসন নিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ গঠিত। জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভার জন্য দুটি করে ভোট দেবেন ভোটাররা। পাঞ্জাব প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ১৪১টি আসন আছে। মূলত এই প্রদেশের ফলাফলের ওপরই সরকার গঠন অনেকাংশে নির্ভর করে। সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ৬০টি আসন নারীদের জন্য এবং ১০টি অমুসলিম বা সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ।

    জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশটির সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৩৪টি আসন দরকার। নির্বাচনের পর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের যেকোন দলে যোগ দেয়ার সুযোগ আছে। এরপর ৩৩৬ সংসদ সদস্যদের ভোটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার পাকিস্তানে কোন একক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সরকার গঠনে ভরসা করতে হবে জোটের ওপর। যদিও জোট গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তেমন কোন পরিকল্পনা দেখা যায়নি।

    পাকিস্তানের নির্বাচন শুধু দল বা তাদের নেতাদের জনপ্রিয়তা মাপার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ইস্যুগুলোও নির্বাচনে প্রভাব রাখছে। গত ৫৩ বছরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত ১১টি সাধারণ নির্বাচনের ৬টিতে গড় ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৪৫ শতাংশ। বাকি ৫টি নির্বাচনে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।

  • লোহিত সাগরের অস্থিরতা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে

    লোহিত সাগরের অস্থিরতা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে

    সমুদ্রপথে নতুন করে পণ্যের পরিবহন বীমার সাথে যোগ হচ্ছে ‘যুদ্ধ বীমা’। হাজার জাহাজ এরই মধ্যে পরিবর্তন করেছে গতিপথ। অনেক জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানায় আটকে আছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানিতেও অনিশ্চয়তা দেখছেন গবেষকরা। এমন পরিস্থিতিতে আবারও মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

    গম, ভুট্টা, ভোজ্যতেল, চিনি ছাড়াও শিল্পের যন্ত্রাংশ, তুলা ও কাঁচামাল আমাদানিতে এখনও বিশ্ব শতাংশের হারে পশ্চিমে নির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা দেশ থেকে পণ্যের সোর্সিং করলেও সারাবিশ্বে খনিজ পদার্থের অন্যতম সরবরাহকারী আফ্রিকা-ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকা। সেখানে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাণিজ্যের নতুন দুঃশ্চিন্তার নাম, লোহিত সাগর।

    বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে এতোদিন এলএনজি আমদানি মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর ছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ১৫ বছরের মেয়াদী আমদানি চুক্তি হয়। ক্যারবীয় অঞ্চলের সংঘাত জ্বালানি নিরাপত্তার পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিতে পারে। কিন্তু জলের কিনারার কুটকৌশলে বদলে যাচ্ছে সমুদ্রপথের রুট আর পণ্যের ভাগ্য। এরই মধ্যে কন্টেইনার প্রতি খাদ্য বীমায় যোগ হয়েছে ৫০ থেকে ১০০ মার্কিন ডলার যুদ্ধ বীমা। আর ইসরাইল হয়ে যেসব পণ্য আনা হয় তাতে যুদ্ধ বীমা বেড়েছে ২৫০ শতাংশ।

    ঝুঁকি বিবেচনায় এখন পর্যন্ত হাজার জাহাজ তাদের গতিপথ বদল করেছে। মধ্যপ্রাচ্য হয়ে আসা-যাওয়া বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির পণ্য আটকে আছে। যেগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রয়োজন মালয়েশিয়া, হংকংয়ের মতো তৃতীয় দেশের সাহায্য।

    শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘এখন ইউরোপ-আমরিকা, কানাডার পথগুলোতে যেতে হচ্ছে। এতে করে যে পথ ঘুরতে হচ্ছে, এজন্য আলাদা ভাড়াও নির্ধারণ করেছে।”

    এলএবিসিসিআই-এর সভাপতি আনোয়ার শওকত আফসার বলেন, ‘শিপিংগুলোর প্রবলেম হচ্ছে। আর অন্য পোর্ট হয়ে আসা কন্টেইনারের মালগুলো ধীরগতিতে আসছে, সামনে অনিশ্চয়তাও আসতে পারে।’

    এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যকে এড়িয়ে যেসব রুট জাহাজগুলো বেছে নিচ্ছে তাতে স্বাভাবিক সময় থেকে এক মাসের বেশি লাগবে শিপিং কোম্পানিগুলোর। খরচে কিছুটা ভারসাম্য আনতে বড় সংখ্যক আমদানি পণ্যে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তাতেও ঝুঁকি দেখছে শিপিং কোম্পানিগুলো।

    আনোয়ার শওকত আফসার আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক যে আমাদের আমদানি-রপ্তানি রয়েছে, এখানে সংকট তৈরি হবে।’

    সংকট কাটাতে আমদানি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে স্পট মার্কেটে এখন থেকেই প্রডাক্ট সোর্সিংয়ে দেন-দরবার প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলেও লোহিত সাগরের ব্যয়বহুলতা আবারও মূল্যস্ফীতিকে বিশ্বে বিলাসী করে তুলতে পারে। সামাল দিতে যার ভার আবারও পড়বে দেশের ঘরের দুয়ারে, শঙ্কা বাণিজ্য বিশ্লেষকদের।

    অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, ‘মনে হচ্ছে, সাগরের এই উত্তেজনা সামনে আরও বেড়ে যেতে পারে। আর এটির যদি সমাধান না হয় তাহলে বিশ্ব বাণিজ্যের খরচ আরেক দফা বাড়বে। সেখানে আবার সুদহার বাড়াতে বাধ্য হবে, এটি হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ আরও বেড়ে যাবে।’

    এমন পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স আয়ে গতিশীলতা আনার সাথে সাথে রপ্তানি আয় ধরে রাখতে এখন থেকেই পণ্যের বৈচিত্রতা নিয়ে নতুন গন্তব্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

  • রাজা তৃতীয় চার্লসের স্থলাভিষিক্ত হবেন প্রিন্স হ্যারি

    রাজা তৃতীয় চার্লসের স্থলাভিষিক্ত হবেন প্রিন্স হ্যারি

    পদত্যাগ করবেন রাজা তৃতীয় চার্লস, তার স্থলাভিষিক্ত হবেন প্রিন্স হ্যারি। অবিশ্বাস্য হলেও প্রায় ৫০০ বছর আগে এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন ফরাসি জ্যোতিষী নস্ত্রাদামুস।
    ক্যান্সার আক্রান্তের খবর প্রকাশের পর থেকেই ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চালর্স চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন। সাময়িকভাবে সব ধরনের পাব্লিক ইভেন্ট থেকে তিনি বিরতি নিয়েছেন। রাজার সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে পর্দার তারকারা বার্তা পাঠিয়েছেন। সুস্থ অবস্থায় রাজাকে আবারও সিংহাসনে বসতে দেখার অপেক্ষায় রাজপরিবারের অনেক ভক্ত।

    তবে যদি বলা হয়, রাজার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ক্ষমতায় বসবেন তারই পুত্র প্রিন্স হ্যারি, তাহলে হয়তো অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যাবে। তবে প্রায় ৫০০ বছর আগে এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন ফরাসি জ্যোতিষী নস্ত্রাদামুস।

    ষোড়শ শতকের এই জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। ১৫৫৫ সালে তিনি লিখে যান বিখ্যাত বই লে প্রফোটাইস। তিন খণ্ডে বিভক্ত বইটির নাম বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ভবিষ্যদ্বাণী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যা, টুইন টাওয়ারে হামলা এমনকি হিটলারের উত্থানের কথা উল্লেখ ছিল তার ৯৪২টি ভবিষ্যদ্বাণী সমৃদ্ধ বইটিতে।

    নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে গবেষণা করে ২০০৫ সালে বই প্রকাশ করেন ব্রিটিশ লেখক মারিও রিডিং। যেখানে উল্লেখ ছিল, ৯৬ বছর বয়সে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু হবে। বইয়ে বলা আছে, ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরসূরির কথাও। নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী সিংহাসন ত্যাগ করবেন রাজা চার্লস। তার স্থলাভিষিক্ত হবেন এমন ব্যক্তি যার সঙ্গে রাজপরিবারের কোন সম্পর্ক নেই, এমনকি রাজা হওয়ার কোন সম্ভাবনাও ছিল না।

    নিয়ম অনুসারে চার্লসের পর পরবর্তী রাজা হবেন প্রিন্স উইলিয়াম। এরপর সিংহাসনে বসবেন তার তিন সন্তান জর্জ, শার্লট ও লুইস। এই তালিকার পঞ্চম অবস্থানে আছেন প্রিন্স হ্যারি। কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে বিয়ের পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে হ্যারির। মা প্রিন্সেস ডায়নার মতো ইতিহাস পুনরাবৃত্তির ভয়ে ২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবার ত্যাগ করেন হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান। ফলে নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যতবাণীর সঙ্গেও উঠে আসছে হ্যারির নাম।

    আলোড়ন সৃষ্টিকারী ব্রিটেনের উত্তরসূরি নিয়েও কী মিলবে নস্ত্রাদামুসের গণনা, উত্তর হয়তো সময়ই বলে দেবে।

  • জেল থেকে ইমরানের ভোট, পারলেন না বুশরা

    জেল থেকে ইমরানের ভোট, পারলেন না বুশরা

    চলছে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন। স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়। এটি চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এ নির্বাচনে প্রতিন্দ্বন্দ্বীতা না করতে পারলেও আদিয়ালা জেল থেকে ভোট দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন।

    এতে বলা হয়, ইমরান জেল থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। এছাড়াও পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি, পাঞ্জাব প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চৌধুরী পারভেজ এলাহী, আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রধান শেখ রশিদ ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরীও তাঁদের ভোট দিয়েছেন। তবে ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবি ভোট দিতে পারেননি। পোস্টাল ভোট প্রক্রিয়ার পরে গ্রেপ্তার হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি বুশরা।

    মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ পাকিস্তানে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮০ লাখ। নিবন্ধিত দল ১৬৭টি। জাতীয় পরিষদে প্রার্থী ৫ হাজার ১২১ জন। এ ছাড়া চার প্রদেশে প্রাদেশিক নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রার্থী ১২ হাজার ৬৯৫ জন।

    বিভিন্ন দল থেকে ভোটে জয়ী প্রার্থীরা জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হবেন। যে কোনো দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। জাতীয় পরিষদ গঠিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে সংসদীয় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী হতে সমর্থন পেতে হবে অন্তত ১৬৯ সংসদ সদস্যের।

    নতুন প্রধানমন্ত্রী বেছে নেবেন মন্ত্রীদের, যাদের মাধ্যমে গঠিত হবে পাঁচ বছরের কেন্দ্রীয় সরকার। প্রাদেশিক স্তরে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাদেশিক সরকার গঠনে অনুসরণ করা হবে একই প্রক্রিয়া।

    এবারের নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)। চার বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে দলে ফিরেছেন তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর সমর্থন রয়েছে নওয়াজের দলের প্রতি।

    অন্যদিকে গত নির্বাচনে সরকার গঠন করা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতারা এবার নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে। নির্বাচনে অনিয়মের দায়ে গত ডিসেম্বরে দলের প্রতীক ব্যাট বাতিল করা হয়। এদিকে দলের চেয়ারম্যান ইমরান খান নানা মামলায় রয়েছেন কারাগারে। ১০ বছরের জন্য রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে গতবারের এই প্রধানমন্ত্রীকে।

  • গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখান ইসরাইলের

    গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখান ইসরাইলের

    সব বন্দিকে মুক্তি ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে গাজায় সাড়ে ৪ মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। আইডিএফ-এর সেনারা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে নিরঙ্কুশ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ।

    বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, হামাসকে ধ্বংস করা ছাড়া ইসরাইলের সামনে কোন পথ খোলা নেই। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিন ধাপে ১৩৫ দিনের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে সকল বন্দিকে ফেরত দেয়ার প্রস্তাব দেয় হামাস।

    এদিকে ইসরাইলকে ১ হাজার ৭৬০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে বাতিল হয়েছে। বিল উত্থাপনের পর এর পক্ষে ১৮০টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে ভোট দেন ২৫০ জন। ৪ মাসব্যাপী যুদ্ধে গাজায় ২৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

    নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্য নিয়ে হামাসের কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি রয়টার্সকে বলেন, তাঁর (নেতানিয়াহু) মন্তব্য রাজনৈতিক স্পর্ধার একটি রূপ। তিনি এই অঞ্চলে সংঘাত চালিয়ে যেতে চান।

    এদিকে মিসরের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, মিসর ও কাতারের মধ্যস্ততায় নতুন একটি আলোচনা আজ বৃহস্পতিবার কায়রোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সেই হামলায় অন্তত ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন। এরপর গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়লে বাহিনী, যা এখনো অব্যাহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

  • একটি সন্তান নিলেই মিলবে ৮২ লাখ টাকা!

    একটি সন্তান নিলেই মিলবে ৮২ লাখ টাকা!

    কর্মীদের জন্য অভিনব এক ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানি। ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো কর্মী একটি সন্তান নিলেই পাবেন ৭৫ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮২ লাখ টাকারও বেশি। দেশটিতে জন্মহার কমে যাওয়ায় সিউলভিত্তিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বুইয়ং এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

    সিএনএনের প্রতিবেদনে জানা যায়, সিউলভিত্তিক কোম্পানি বুইয়ং গত সোমবার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ২০২১ সাল থেকে ওই কোম্পানিতে কর্মরত নারীরা যারা মা হয়েছেন, তাদের মোট ৫ দশমিক ২৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৫২ লাখ ডলার পুরষ্কার দেওয়া হয়।

    বুইয়ং কোম্পানির চেয়ারম্যান লি জুং কিউন বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় যেভাবে জন্মহার কমছে, তেমনটা চলতে থাকলে আগামী ২০ বছরে আমাদের দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। একটি পরিবারে কয়টি সন্তান থাকবে তা অনেক সময় সেই পরিবারের আর্থিক সঙ্গতির ওপর নির্ভর করে। সন্তান লালন-পালন ও ভবিষ্যতের বিষয়টি ভাবতে গিয়ে অনেকে বেশি সন্তান নিতে চান না। তাই আমরা কর্মীদের বোনাস দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।’

    বুইয়ংয়ের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক কোম্পানি দেশের জন্মহার বাড়াতে সম্প্রতি বোনাস দেওয়ার এই নীতি অনুসরণ করছে। কুমহো পেট্রোকেমিক্যাল নামের একটি বহুজাতিক কোম্পানি জানিয়েছে, তারা তাদের অফিসে কর্মরত সব নারীদের একটি করে সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার বোনাস দেবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকার বেশি।

    দেশটির ফার্মাসিউটিক্যাল ফার্ম ইউহান কর্প কর্মীদের সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য পুরষ্কার ঘোষণা করেছে। কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হ্যানমিগ্লোবাল সম্প্রতি তাদের কর্মীদের সন্তান নেওয়ার জন্য বোনাসের ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে দুই বছর করার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।

    এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবারগুলোকে সন্তান নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করার জন্য আঞ্চলিক সরকারও এগিয়ে আসছে।