Author: admin

  • মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

    মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কাজ এক মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    আজ সোমবার (১৮ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকায় শেখ হাসিনার মামলাটিও ছিল। শুনানি শেষে তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার তদন্তকাজ শেষের সময় নির্ধারণ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া পরোয়ানাভুক্ত আরও ৪৫ আসামিদের বিষয়েও তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

    এর আগে, জুলাই-আগস্টে গণহত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ৯ মন্ত্রীসহ ১২ আসামিকে এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে সাবেক কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক অসুস্থ থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়নি।

    হাজির করা আসামিদের মধ্যে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে, সাবেক পাঠ ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম রয়েছেন।

    কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

    এরপর গত ২৭ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১০মন্ত্রী, দুই উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতি ও সাবেক এক সচিবসহ মোট ১৪ জনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে (শোন এরেস্ট) ১৮ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এই ট্রাইব্যুনালে আগামী ২০ নভেম্বর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে হাজির করার জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

  • খেলাপি ঋণের সব তথ্য সামনে আনলে ভয়াবহ তথ্য মিলবে!

    খেলাপি ঋণের সব তথ্য সামনে আনলে ভয়াবহ তথ্য মিলবে!

    দেশের ব্যাংকখাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা বিপুল অঙ্কের ঋণ খেলাপি। যা ১৫ বছরে বেড়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। আর গেল সেপ্টেম্বর শেষে বিতরণ হওয়া মোট ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৮২১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ঋণের মধ্যে ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশই খেলাপি। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এই খেলাপি ঋণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেড়েছে বেপরোয়া গতিতে। ব্যাংকাররা বলছেন, খেলাপি ঋণের তথ্য যেভাবে গোপন করা হয়েছে তা যদি পুরোপুরি সামনে আনা হয় তাহলে আরও ভয়াবহ তথ্য মিলবে।

    দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন সময় খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নানা অঙ্গীকার করলেও তা রক্ষা করা হয়নি।

    আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়েছে বেপরোয়া গতিতে। আর্থিক খাতে সুশাসন না থাকায় বড় বড় জাল-জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এর মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের প্রায় সবই খেলাপি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে খেলাপি ঋণ।

    আর এসব ঋণের পেছনে দায় থাকার অভিযোগ রয়েছে এস আলম, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও সালমান এফ রহমানের মতো অনেকের বিরুদ্ধে। শুধু ঋণ নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। লাখ কোটি টাকার বেশি করেছে পাচার।

    ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। সেখান থেকে এখন বেড়ে ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। অর্থাৎ পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের আমলে খেলাপি ঋণ বেড়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৮২১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সেই হিসাবে খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ২৬ হাজার ১১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ৪০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

    এছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৪৯ হাজার ৮০৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সেই সাথে এ সময়ে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন হাজার ২৪৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের চার দশমিক ৯৯ শতাংশ। একই সাথে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৮১৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ।

    ব্যাংকাররা বলছেন গত ১৫ বছরে খেলাপি ঋণের তথ্য যেভাবে গোপন করা হয়েছে তা যদি পুরোপুরি সামনে আনা হয় হয় তা আরও ভয়াবহ বেড়ে যাবে।

    ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রিতে লুটপাট হয়েছে। সে লুটপাট পত্রিকায় যা আসে তার চেয়ে বেশি হয়েছে। এই যে ব্যাংকিং খাতে বলা হচ্ছে দুই লাখ ৮৫ হাজার মানে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি খেলাপি আছে। আমি বলবো যে প্রকৃত সব পর্দা যদি উন্মোচন করা হয় তাহলে সেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে।’

    শুধু সঠিক ঋণের তথ্য নয়, ঋণের বিপরীতে রাখা জামানতের মাধ্যমে ছোট ঋণ আদায় এবং ফরেন্সিক নিরীক্ষার মাধ্যমে বড় ঋণ আদায় করে ব্যাংক খাতের দুরবস্থা কমানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

    অর্থনীতিবিদ আল আমিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যাদের কিছু কো-লেটারার খুঁজে পাওয়া যাবে বা মর্টগেজ খুঁজে পাওয়া তা অকশনে তুলে টাকা আদায় করার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু ম্যাক্সিমাম যে বড় বড় ঋণগুলো যেগুলো বেনামে হয়েছে তাদের ধরলে হয়তো জানাও যাবে না যে আসলে মাস্টারমাইন্ড করার ছিল। এজন্য ফরেনসিক অডিটটা খুব জরুরি এখানে। তার মাধ্যমেই বের হয়ে আসবে রিলেটেড পার্টি কারা।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ফিগারগুলো বলবো এবং এগুলো নিয়ে আলোচনা করবো, দিনশেষে যদি এগুলোকে রিকভারির প্ল্যান না থাকে, তাহলে মূলধারা অর্থনীতির টাকাগুলো ফেরত আসবে না। এবং অর্থনীতির যে মন্দা চলছে বা ব্যাংকগুলোর যে দুরবস্থা চলছে তাতে কিন্তু অনেক ধরনের সমস্যা এই ব্যাংকগুলোই ফেস করবে।’

    সেই সাথে ঋণ আদায়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণের মাধ্যমে যারা ব্যাংক খাতের ক্ষতি করে আসছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

  • ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহর মুখপাত্র নিহত

    ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহর মুখপাত্র নিহত

    লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লার মিডিয়া প্রধান ও মুখপাত্র মোহাম্মদ আফিফ নিহত হয়েছে। রাজধানী বৈরুতের মধ্যাঞ্চলে রাস আল-নাবা এলাকায় বাথ রাজনৈতিক দলের সদর দপ্তরে ইসরাইলি হামলায় তিনি নিহত হন। লেবাননের শক্তিশালী এই গোষ্ঠীটি তার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    যে ভবনে হামলা চালানো হয়েছিল, সেটি ছিল সিরিয়ান বাথ পার্টির লেবানন শাখার কার্যালয়। লেবাননের সরকারি বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, বাথ পার্টির লেবানন শাখার সেক্রিটারি জেনারেল আলি হিজাজি হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম কর্মকর্তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলের সেনাবাহিনী এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এ হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজন নিখোঁজ আছেন। ঘটনাস্থল থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।

    ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, রাস আল-নাব্বা এলাকায় শত্রুপক্ষ বিমান হামলা করে মহা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এতে বেশ কিছু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে। রাস আল-নাব্বা এলাকাটি ফ্রান্স দূতাবাস ও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে।

    হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে ঘিরে থাকা সংগঠনটির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বলয়ের একজন ছিলেন আফিফ। বেশ কয়েক বছর ধরে আফিফ হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। প্রায়ই নাম না প্রকাশ করে তিনি স্থানীয় ও বিদেশি সাংবাদিকদের তথ্য সরবরাহ করতেন।

    আফিফ অল্প বয়সে হিজবুল্লাহতে যোগ দেন। ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইল যখন যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তখন প্রথম হিজবুল্লাহর টেলিভিশন চ্যানেল আল-মানারের তথ্য পরিচালক হিসেবে পরিচিতি পান আফিফ।

    গত ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানী বৈরুতের পাশাপাশি লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অপারেটিভস, অবকাঠামো এবং অস্ত্রাগারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চলছে।

  • ‘অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ৪ বছরের কম হবে’

    ‘অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ৪ বছরের কম হবে’

    অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। তবে এই মেয়াদ সর্বোচ্চ ৪ বছরের কম কিংবা আরও কম হতে পারে বলে জানান তিনি।

    আল-জাজিরা টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এই কথা জানান প্রধান উপদেষ্টা।

    সম্প্রতি আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্মেলনের ফাঁকে কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ যেসব সংকট মোকাবিলা করছে সেগুলো নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি বাংলাদেশ নিয়ে তার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। রোববার এই ভিডিও সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করেছে আল–জাজিরা।

    বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনের সঠিক সময় কখন হবে, সে বিষয়ে ড. ইউনূসের কোনো ভাবনা আছে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘না। আমার মাথায় এমন কিছু নেই।’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সীমা কী হতে পারে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা স্থায়ী সরকার নই। নিয়মিত সরকার পাঁচ বছরের হয়। নতুন সংবিধানে সরকারের মেয়াদ সম্ভবত চার বছর হতে পারে। কারণ, মানুষ সরকারের মেয়াদ কম চায়। সুতরাং এটা চার বছরের কম হওয়া উচিত, এটা নিশ্চিত। এটা আরও কম হতে পারে। এটা পুরোটা নির্ভর করছে মানুষ কী চায়, রাজনৈতিক দলগুলো কী চায় তার ওপরে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো চায় এটা (সংস্কার) ভুলে যাও, নির্বাচন দাও। তাহলে সেটা করা হবে।’

    তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে তিনি চার বছর থাকছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমি তা বলিনি যে চার বছর। আমি বলেছি, এটা সর্বোচ্চ মেয়াদ হতে পারে। তবে আমাদের উদ্দেশ্য তা নয়। আমাদের উদ্দেশ্য যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা।’

    চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পুরো সরকারব্যবস্থা সংস্কার হবে। মানুষ নতুন কিছু চায়। সেখানে সব ক্ষেত্রে সংস্কার হবে। এমনকি সংবিধানও সংস্কার হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুটো প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলছে নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং সব সংস্কার শেষ করার প্রস্তুতি।

    ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে যাওয়া শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে সাক্ষাৎকারে। প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেছেন, তিনি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। সেখান থেকে বাংলাদেশে বিক্ষোভের ডাক দিচ্ছেন। এগুলো বাংলাদেশের জন্য উপকারী নয়। তাই ভারতের কাছে তারা এসব বিষয়ে বলছেন। তাকে আশ্রয় দিচ্ছে, ঠিক আছে। কিন্তু এমনটা হতে থাকলে তাদের কাছে আবার অভিযোগ করা হবে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার প্রত্যাবর্তন চাওয়া হবে।

    ভারতের সঙ্গে মিলে অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা করতে চান বলে উল্লেখ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দুর্নীতির নিমজ্জিত ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দেশকে বের করে চেষ্টা করছে তার সরকার।

  • বান্দরবানে কেএনএফ-এর সদস্যসহ ৪৯ জন গ্রেফতার

    বান্দরবানে কেএনএফ-এর সদস্যসহ ৪৯ জন গ্রেফতার

    বান্দরবানে ব্যাংক ডাকাতি ও গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত পাহাড়ি সন্ত্রাসী সংগঠন কেএনএফ এর সদস্যসহ ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র, গুলি ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত গাড়ি।

    রুমা ও থানচিসহ পাহাড়ি অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের ধরে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে অভিযান চলছে। স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বান্দরবান পরিবেশ। পাহাড়ের সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট- কেএনএফ এর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    সোমবার (০৮ই এপ্রিল) সকালে রুমায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় আরও দুই কেএনএফ সদস্যকে। বিকেলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয় আরও তিনজন। তাদের থেকে উদ্ধার হয় ৭টি দেশীয় অস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত গাড়িসহ নানা সরঞ্জাম। আটক ৭ জনের মধ্যে ৬জনই কেএনএফ সদস্য।

    এর আগে, সকালে থানচিতে একটি জিপগাড়িসহ কেএনএফের ৩ সদস্যকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন- ভানুনুন নুয়ান বম (২৫), জেমিনিউ বম (২৪), আমে লনচেও বম (২৫)। এসময় গাড়িটির চালক মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন সরকারকেও (২৮) আটক করা হয়।

    এদের মধ্যে ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা গাড়ির চালক কফিল উদ্দিনকে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

    বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। নামানো হয়েছে চারটি সাঁজোয়া যান। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আতঙ্ক অনেকটাই কমেছে। খুলেছে দোকানপাট, কাজে বেরিয়েছে মানুষ।

    এর আগে, গত রোববার (৭ এপ্রিল) ভোর ৫টায় বান্দরবানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কেএনএফের স্থানীয় প্রধান সমন্বয়ক চেওসিম বমকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, রুমা-থানচিতে পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফের তাণ্ডবের ঘটনায় রুমা-থানচিতে ৮টি মামলা হয়েছে। জড়িতদের ধরতে সেনাবাহিনী-র‌্যাব-পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও আলীকদম উপজেলায়।

    এদিকে কেএনএফ তাণ্ডবের ঘটনায় বান্দরবান জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের সাজোয়াযানসহ বিভিন্ন ধরনের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

  • ব্যাংক ডাকাতিতে জড়িত কেএনএফের সদস্যসহ আটক ৪

    ব্যাংক ডাকাতিতে জড়িত কেএনএফের সদস্যসহ আটক ৪

    বান্দরবানে যৌথ বাহিনীর অভিযানে কেএনএফ-এর তিন সদস্যসহ চার জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক জন ব্যাংক ডাকাতির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলো। এসময় ব্যাংক ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়িও জব্দ করা হয়। আটক করা হয় গাড়িটির ড্রাইভারকে।

    বান্দরবানের পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন জানান, গতকাল রোববার গভীর রাতে রুমা ও থানচিতে যৌথবাহিনী অভিযানে তাদেরকে আটক করা হয়।

    পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন বলেন, ব্যাংক ডাকাতির সময় ব্যবহৃত একটি জীপগাড়ি, গাড়ির ড্রাইভার ও ৩ জন কেএনএফ এর সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    পুলিশ সুপার আরো জানান, বান্দরবানের অশান্ত উপজেলাগুলোর সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে চারটি সাঁজোয়া যান (আর্মার্ড পার্সোনাল কেরিয়ার – এপিসি) এসেছে বান্দরবানে। এই সাঁজোয়া যানগুলো বান্দরবানের রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় ব্যবহার করা হবে।

    এপিসি হলো যুদ্ধে ব্যবহৃত একপ্রকার অস্ত্র সজ্জিত বাহন, যা পদাতিক বাহিনীকে যুদ্ধের ময়দানে বহনের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    এর আগে, রোববার ভোরে কুকি–চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার কেএনএফ’র অন্যতম ওই নেতার নাম চেওসিম বম (৫৫)।

    গ্রেপ্তার চেওসিম বম ‘কেএনএফ’ এর আদি সংগঠন ‘কুকিচিন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (কেএনডিও)’ এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ‘কেএনএফ’ প্রধান নাথান বমের ঘনিষ্ঠজন বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

  • সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি আর মর্টার শেলের বিস্ফোরণ

    সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি আর মর্টার শেলের বিস্ফোরণ

    এক সপ্তাহেও উন্নতি হয়নি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতির। ওপারে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির তুমুল সংঘর্ষ কিছুটা কমলেও থেমে থেমে শোনা যাচ্ছে গুলির শব্দ। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও আতঙ্ক কাটেনি সীমান্ত এলাকায়।

    এদিকে গতাকাল বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টা পর্যন্ত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা গোলাগুলি আর মর্টার শেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে।

    টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্ষ্যং উনছিপ্রাং এলাকার সঙ্গে মিয়ানমারের দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটার। কাছাকাছি হওয়ায় মিয়ানমারে কী হচ্ছে তা অনেকটা খালি চোখেই দেখা যায়।

    উনছিপ্রাং সীমান্তের স্থানীয়দের দাবি, ওপারে ঢেঁকিবুনিয়া এলাকায় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটিগুলো দখল করে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আরাকান আর্মি ও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। এই কারণে টেকনাফ অংশে মিয়ানমারের শহর শীলখালী, বলিবাজার ও কুইরখালী থেকে এসব বিস্ফোরণের শব্দ আসছে।

    হোয়াইক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আনুয়ারী বলেন, উনছিপ্রাং, কানজড়পাড়া, খারাংখালী ঝিমনখালী এলাকায় ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ শোনা যায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সীমান্তের কাছাকাছি থাকা চিংড়ি চাষিরা। কয়েক দিন আগেও বসতঘরে গুলি এসে পড়ে। অল্পের জন্য জীবন রক্ষা পায়। শোনা যাচ্ছে শীলখালী, বলিবাজার ও কুইরখালী ঘাঁটি দখল নিতে বিদ্রোহীরা হামলা করছে।

    গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সেনাবাহিনী, কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ৩৩০ জন। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য তুমব্রুতে রাখা ১শ’ বিজিপি সদস্যকে টেকনাফের হ্ণীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

    গত শনিবার শুরু হওয়া সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এপারে চলে এসেছে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী, সেনাবাহিনী, কাস্টমস অফিসারসহ বিভিন্ন সংস্থার ৩৩০ জন সৈনিক। এদের মধ্যে ২ শিশু ও ২ নারী রয়েছে। এদিকে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য তুমব্রুতে রাখা ১০০ জন বিজিপি সদস্যকে নিয়ে যাওয়া হয় টেকনাফের হৃীলা উচ্চবিদ্যালয়ে।

    প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে চলা সংঘর্ষে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে এখন পর্যন্ত ২ জন নিহত ও ৯ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

  • দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের দুর্দান্ত জয়

    দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের দুর্দান্ত জয়

    অলিম্পিকের আঞ্চলিক দ্বিতীয় পর্বে টানা দুই ম্যাচ ড্র করেছে আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ড্র এর পর দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে ৩-৩ ড্র করে হাভিয়ের মাচেরানোর দল। তবে প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া ব্রাজিল দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত জয় তুলেছে।

    ভেনেজুয়েলার কারাকাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে ৩-৩ ড্র করে আর্জেন্টিনা। একই মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ব্রাজিল-ভেনেজুয়েলার ম্যাচ। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে মরিসিওর গোলে ব্রাজিল এগিয়ে গেলেও ১০ মিনিট পরই ভেনেজুয়েলাকে সমতায় ফেরান বলিভার। আগের ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ব্রাজিল আবারও পয়েন্ট খোয়ায় কি না, এমন শঙ্কা যখন প্রবল হয়ে উঠেছে, তখন ৮৮ মিনিটে ব্রাজিলকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন গিলের্মে বিরো। বক্সের বাইরে থেকে শটে করা গোলটিতে সহায়তা করেন এনড্রিক। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা।

    চূড়ান্ত পর্বে খেলা চার দলের মধ্যে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে প্যারাগুয়ে। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ব্রাজিল, ২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আর্জেন্টিনা। রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে চূড়ান্ত পর্বের শেষ দিনে প্যারাগুয়ের প্রতিপক্ষ ১ পয়েন্ট নিয়ে চারে থাকা ভেনেজুয়েলা। ম্যাচটি প্যারাগুয়ে ড্র করতে পারলেই অলিম্পিকের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেবে।

    এমনকি হারলেও উঠবে, যদি রোববার ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচে যেকোনো এক দল জয় পায়। আর ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে ব্রাজিল। ড্র করলেই চলবে, যদি ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে প্যারাগুয়ে অন্তত ড্রও করে। আর্জেন্টিনার জন্য জয় ছাড়া বিকল্প নেই।

  • দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের দেখা পেল না আর্জেন্টিনা

    দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের দেখা পেল না আর্জেন্টিনা

    প্যারিস অলিম্পিকের বাছাইপর্বের চূড়ান্ত পর্বে আবারও হোঁচট খেয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের দেখা পেল না আলবিসেলেস্তেরা। প্রথম ম্যাচে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র এর পর দ্বিতীয় ম্যাচেও প্যারাগুয়ের সঙ্গে ড্র করেছে হাভিয়ের মাচেরানোর দল। এতে কঠিন হয়ে পড়েছে আর্জেন্টিনার অলিম্পিক ফুটবলের টিকিট।

    বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এস্তাদিও ন্যাসিওনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। আগামী জুলাইয়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বসতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত অলিম্পিকের মূল পর্বে খেলতে হলে আজকের ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২৩ দলের।

    সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে ম্যাচে তৃতীয় মিনিটেই গোলের দেখা পায় মাচেরানোর শিষ্যরা। ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন আর্জেন্টিনার পাবলো সোলারি। বিরতির আগ মুহূর্তে (৪২ মিনিট) ম্যাচ সমতায় ফেরান প্যারাগুয়ের ডিয়েগো গোমেজ। ম্যাচের ৭০ মিনিটে নুনেজের গোলে প্যারাগুয়ে ব্যবধান ২-১-ও বানিয়ে ফেলে।

    তবে ৮৪ মিনিটে থিয়াগো আলমাদা পেনাল্টিতে গোল করে সমতা ফেরান। ৯০ মিনিটে এনজো গনসালেস প্যারাগুয়েকে দ্বিতীয়বার এগিয়ে দিলে হারের শঙ্কায় পড়ে আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এক পয়েন্টের সমতাসূচক গোল এনে দেন ফেদেরিকো রিদোনদো।

    লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে অলিম্পিক ফুটবলের টিকিট পাবে দুইটি দল। সর্বোচ্চ চার পয়েন্ট নিয়ে ইতোমধ্যে প্যারাগুয়ে দুটি টিকিটের একটি প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে। অপর টিকিটের জন্য চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা।

    আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল। যেখানে ব্রাজিল ম্যাচটি ড্র করলেই উঠে যাবে মূল পর্বে। কিন্তু আর্জেন্টিনাকে টিকিট নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই জিততে হবে সেলেসাওদের বিপক্ষে।

  • মাদ্রাসা উচ্ছেদ নিয়ে রণক্ষেত্র উত্তরাখণ্ড, হতাহত ২৫৪

    মাদ্রাসা উচ্ছেদ নিয়ে রণক্ষেত্র উত্তরাখণ্ড, হতাহত ২৫৪

    ভারতের উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালের হলদোয়ানিতে সরকারি জমিতে থাকা মাদ্রাসা ও মসজিদ উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চার জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৫০ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, সংঘর্ষের জেরে হলদোয়ানিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে সেখানকার ইন্টারনেট পরিষেবা ও স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরাখণ্ড পুলিশের মুখপাত্র নীলেশ আনন্দ ভারনে জানিয়েছেন, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলে আধা-সামরিক বাহিনী পাঠানো হচ্ছে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই মাদরাসা ও মসজিদ উচ্ছেদের আগে নোটিশ জারি করা হয়েছিল।

    স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা রিচা সিং জানিয়েছেন , হলদোয়ানিতে সরকারি জমিতে বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছিল মাদ্রাসা। সেইসঙ্গে মসজিদও নির্মাণ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনা মেনে গত শনিবার রাতেই সেগুলো সিল করে দেওয়া হয়েছিল। স্থাপনাগুলো ভাঙতে বৃহস্পতিবার আসে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আর এসময় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করার জন্য পাঠানো হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।