
রাঙামাটিতে যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী সাইদুল মিয়া (৩৭)কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ২ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান আসামীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে দৃষ্টান্তমূলক এ শাস্তি প্রদান করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গাউসপুর গ্রামের বাসিন্দা রানু আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় সাইদুল মিয়ার। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রানু আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন তিনি। পারিবারিকভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
২০২০ সালের ২২ নভেম্বর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে আবারও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে নির্যাতনের একপর্যায়ে সাইদুল মিয়া তার স্ত্রী রানু আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ পানিতে ডুবিয়ে রাখেন।
পরদিন ২৩ নভেম্বর সকালে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে রানু আক্তারের মরদেহ ভাসতে দেখেন তার দাদী। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
ঘটনার পর নিহতের বাবা চাঁন মিয়া ২৪ নভেম্বর ২০২০ সালে লংগদু থানায় সাইদুল মিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর ১১(ক)/৩০ ধারায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বিভিন্ন সাক্ষীর সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে আদালত বলেন, যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতন ও হত্যার মতো অপরাধ সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।
পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক বলেন, “এই রায় শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়, বরং যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা। নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আদালতের এ দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে।”