Logo
শিরোনাম :
উৎসবের আনন্দ বাড়াতে দরিদ্রদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান–পার্বত্য মন্ত্রীর পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসনবিধি ১৯০০ বাতিল সহ ৭ দফা দাবিতে পিসিএনপি’র স্মারকলিপি ১৮০ দিনের কর্মসূচির দৃশ্যমান অগ্রগতির তাগিদ দিলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বাজার মনিটরিং ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর বাংলার রাজনীতিতে এসেছে নান্দনিক পরিবর্তন পার্বত্যাঞ্চলে বৈষম্যহীন সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের চারণ সাংবাদিক একেএম মকছুদ আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও দোয়া ইফতার মাহফিল রোজার মাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিসি এসপিদের তৎপর থাকার বিশেষ নির্দেশ পার্বত্য মন্ত্রীর সিআরএ’র পক্ষ থেকে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি ও ভাষা শহীদদের ‍প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পটে পরিণত করা হবে: মীর হেলাল

রাবিপ্রবি’তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল

মোকাদ্দেম সাঈফ(গিরিসংবাদ) / ২৮৫ বার দেখা হয়েছে
শেষ আপডেট : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
Oplus_131072

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ০৭ জানুয়ারি ২০২৬খ্রি. তারিখ রোজ বুধবার সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় একাডেমিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র স্মরণে এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির।

উক্ত শোকসভায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে প্রত্যক্ষ স্মৃতি তুলে ধরে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর কর্ম, চিন্তা ও আচরণে সার্বজনীন হতে পেরেছেন, তাঁর গার্ডিয়ানশীপ আমাদের আরো দরকার ছিল। তিনি তার ছাত্রজীবনে বেগম খালেদা জিয়াকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগের ঘটনা ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কখনোই কোনো অশালীন শব্দ উচ্চারণ করেননি তাঁর এই বিনয়কে আমরা শ্রদ্ধা করি। বাংলাদেশের ক্রান্তিকালে গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দেশপ্রেম, নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষা চালু ও উপবৃত্তি প্রদান এবং দেশনেত্রী হিসেবে সার্বজনীন হয়ে উঠার বিষয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি দেশ-বিদেশে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার জন্য এক আইকনিক লেডি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর স্বীয় ছাত্রজীবনে তাঁকে প্রত্যক্ষ করার সময় থেকেই তার মাঝে দেশপ্রেম ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান ও তাঁর আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, By default she was honest। আমরাও দেশের জন্য সৎ হতে চাই, দেশের জন্য আপোষহীন হতে চাই। তিনি বলেন, আজকের শোক দিবস ও দোয়া মাহফিলটা অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে, যদি আমরা তাঁর দর্শনটা লালন করতে পারি এবং নতুন বাংলাদেশের জন্যে আপোষহীনতার জায়গাটা হবে এই- আমরা সবাই মিলেই বাংলাদেশের উন্নতির জন্য সৎ থাকার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবো এবং অনুসরণ করবো। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা করার জন্য গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি আরো বলেন, ক্রিটিক্যাল থিংকিং তৈরিটা জরুরি। পরের প্রজন্মকে তাঁর কর্মময় রাজনৈতিক জীবন ও জাতির জন্য তাঁর অবদান সম্পর্কে জানানো প্রয়োজন। আমরা যারা বেঁচে আছি তাঁর ভালো কাজগুলো যেনো আমাদের জন্য স্মরণীয় হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করবো। মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খালকাটা কর্মসূচী ও তার অঞ্চলের অভিজ্ঞতা, প্রত্যক্ষ স্মৃতির কথা উল্লেখ করে এ কর্মসূচীর মাধ্যমে কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নে অবদানের কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সামনের দিনে নির্বাচনের মাধ্যমে যারাই ক্ষমতায় আসুন না কেনো, বাংলাদেশ যেনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেলক্ষ্যে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

উক্ত শোকসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু দলের নয়, তিনি দেশের ও জনগনের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। তিনি তাঁর কর্মদক্ষতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন এবং সবসময় জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখেছেন। তিনি বলতেন বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই, দেশ ও দেশের মানুষ আমার আপনজন। এছাড়া নারী শিক্ষা উন্নয়নে উপবৃত্তি চালু করে শিক্ষা ও দেশের নারী সমাজের উন্নয়নে প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।  তিনি বলেন বেগম খালেদা জিয়া একজন জনপ্রিয় নেত্রী ছিলেন তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। তাঁর জানাজায় জনস্রোতই প্রমাণ করে তিনি তাঁর দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি তা ছাড়িয়ে সকল শ্রেণি-পেশার তথা সর্বসাধারণের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। ’২৪ পরবর্তী বাংলদেশে তাঁকে প্রয়োজন ছিলো, তিনি ছিলেন ঐক্যের প্রতীক। তিনি বলেন, আমাদের পথ চলায় দ্বিমত থাকবে কিন্ত দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আগামী দিনের বাংলাদেশে আর যেনো কোনো রাজনৈতিক বিভেদ দেখা না দেয় আমাদের মাঝে। পরিশেষে তিনি তাঁর রূহের মাগফেরাত কামনা করেন।     

রাবিপ্রবি’র প্রক্টর ও ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব সাদ্দাম হোসেন বেগম খালেদা জিয়ার কর্মময় জীবনের উপর নিষর্কষিত আলোচনা করেন এবং এ আয়োজনের জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নিখিল চাকমা তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পার্বত্য অঞ্চলের জাতিসত্তাসমূহের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে প্রশাসনিক-আর্থিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড তুলে ধরেন এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

উক্ত সভায় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ এর ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন এবং সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদ এর ডিন ড. মুহাম্মদ জামশেদ আলম পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভার সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এবং মোঃ তাসফিক সিকদার।#

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ