শান্তি,সম্প্রীতি ও উন্নয়নে বাঘাইহাট জোনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

“শান্তি,সম্প্রীতি ও উন্নয়ন”—এই মূলনীতিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও অনগ্রসর জনপদসমূহে মানবিক সহায়তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক এলাকার দুর্গম ভূয়াছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণ, হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান, নদীর পাড়ে স্থানীয়দের চলাচলের সিঁড়ি নির্মাণ, স্থানীয় জনগণের জন্য একটি ক্লাব নির্মাণ, এক অসহায় পরিবারের বসবাসের জন্য একটি ঘর নির্মাণ এবং এলাকার ধর্মীয় উৎসব পালনের সুবিধার্থে একটি মন্দির পুন:নির্মাণসহ
বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়। এসব কার্যক্রম স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ভূয়াছড়ি, কালুচোরা, ত্রিপুরাপাড়া ও কোজুইতলি পাড়াসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে এবং জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ মনিরুল ইসলাম, পিপিএম (বার), পিএসসি-এর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। সেনাবাহিনীর এসব উদ্যোগ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও মানসিক বিকাশে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।

কার্যক্রম চলাকালে জোন কমান্ডার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

একজন প্রবীণ পাহাড়ি বাসিন্দা জানান, ভূয়াছড়ি এলাকায় এর আগে এ ধরনের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তিনি কখনো দেখেননি। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও ধর্মীয় চাহিদার কথাও ভাবছে। এসব কাজ আমাদের মতো প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।”
বাঘাইহাট জোনের জোন কমান্ডার বলেন, পাহাড়ি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, তরুণ সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

ভূয়াছড়িতে বাস্তবায়িত এই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম প্রমাণ করে—বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী নয়; বরং জনগণের পাশে থেকে সমাজ উন্নয়নের এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার। পাহাড়ি জনগণের মাঝে এ উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং তাদের উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনে রাষ্ট্রের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *