বিঝু- সাংগ্রাইকে ঘিরে উৎসবে রঙিন হয়ে উঠেছে পাহাড় : রাঙামাটিতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে বিঝু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই, সাংলান, চাংক্রান, পাতা- ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার।
পরে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়াসহ পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নৃত্য শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর ‘আদিবাসী জুম্ম জাতির অস্তিত্ব নিশ্চিতকরণে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনে অধিকতর সামিল হই’ এই শ্লোগানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রামের সভাপতি ও উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন- সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার, উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদারসহ আরও অনেকে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিঝু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিষু, সাংক্রানসহ পাহাড়ের প্রধান এই সামাজিক উৎসব এলে পাহাড়ে উৎসব ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামে-গ্রামে বিভিন্ন খেলাধুলাসহ থাকে নানান আয়োজন। বিঝু আসলে উৎসবে রঙিন হয়ে উঠে পাহাড়। এসময় পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।

আলোচনা সভা শেষে সকাল সাড়ে ১২টার দিকে রাঙামাটি পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শুরু হয়। র‍্যালিটি জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপা হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে গিয়ে শেষ হয়।
র‍্যালিতে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়াসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ-শিশুরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক পরিধান করে র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক অনুষ্ঠান বিঝু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই, চাংক্রান, পাতা- ২০২৫ উৎসব উদযাপন উপলক্ষে ৯-১২ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে উদযাপন কমিটি। আগামী ১০ এপ্রিল রাঙামাটি মারী স্টেডিয়ামে জুম্ম খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হবে, ১১ এপ্রিল মারী স্টেডিয়ামে বলি খেলা, কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে এবং ১২ এপ্রিল জলে ফুল ভাসানো উৎসব।
এর আগে, গত ৩-৯ এপ্রিল পর্যন্ত রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে সপ্তাহব্যাপী মেলার আয়োজন করে রাঙামাটি জেলা পরিষদ। #

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *