দেশে দেশে মৈত্রী ও মানুষে মানুষে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাই কোরআন সুন্নাহর নির্দেশনাঃ লালদীঘি ময়দানে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে বক্তারা

দ্বীনিশিক্ষা ও মানবসেবামূলক সংস্থা আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীনের আয়োজনে নগরীর লালদীঘি ময়দানে দুইদিনব্যাপী ঐতিহাসিক পবিত্র তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার প্রথম দিনে হাজারো দ্বীনদার মানুষের সমাগম ঘটে। মাহফিলে। তাছাড়া আলাদা প্যান্ডেলে পর্দা সহকারে মহিলাদের তাফসির শোনার ব্যবস্থা ছিল।
মাহফিলে প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার ও মুফাস্সিরে কোরআনগণ হুব্বে মুস্তফা (দ.) তথা নবীপ্রেম, ইসলামের দৃষ্টিতে পর্দার গুরুত্ব, নারী জাতির মর্যাদা ও করণীয়, মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রনীতি, মুসলিম বিরোধী শক্তির মুকাবিলায় উম্মাহর করণীয়সহ নানা বিষয়ে কোরআন সুন্নাহর আলোকে আলোচনা করেন। আলোচকরা বলেন, দুনিয়াজুড়ে আজ অশান্তির আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। ক্ষমতালিপ্সা, দুর্বল রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠন, শক্তিধর দেশগুলোর আধিপত্য ও মোড়লিপনার জেরে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ সংঘাত হানাহানি জিইয়ে রয়েছে। অথচ মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ইসলামের নির্দেশনা। সংঘাত হানাহানি এড়িয়ে চলে, দেশে দেশে মৈত্রীময় সম্পর্ক গড়ে তোলা, মানুষে মানুষে সম্প্রীতিবোধ জাগ্রত করাই কোরআন-সুন্নাহর শাশ্বত নির্দেশনা ও শিক্ষা। মুফাসসিরগণ বলেন, হুব্বে মুস্তফা (দ.) তথা প্রিয় নবীর (দ.) প্রতি মুহাব্বত, ভালোবাসা ও আনুগত্যই ঈমানের মূল দাবি। নবীপ্রেম ও প্রিয় নবীর (দ.) স্মরণ ছাড়া যেকোনো ইবাদত-আমল অন্তরসারশূন্য। ইবাদতকে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য করতে এবং নামাজে আজানে প্রিয় নবীকে স্মরণ করা হয়। প্রিয় নবীর (দ) শান মর্যাদা সমুন্নত করেছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক। পর্দা নারী জাতির মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক উল্লেখ করে মুফাস্সিরে কোরআনগণ বলেন, পর্দা ও শালীনতা মেনে নারী জাতি জীবন পরিচালনা করলে তাদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মাহফিল প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ মছিহুদ্দৌলা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব পীরে ত্বরিকত মাওলানা সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু। সূরা নূরের ৩১নং আয়াতের আলোকে পর্দার গুরুত্ব, নারী জাতির অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ আশরাফুজ্জামান আলকাদেরী। হুব্বে মুস্তফা (দ.) ঈমানের মূল বিষয়ে কোরআন মজিদের আলোকে আলোচনা করেন ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মুঈনীয়া কামিল মাদ্রাসার প্রধান মুফাসসির আল্লামা গাজী শফিউল আলম নেজামী। আলোচক ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা কাজী মুঈন উদ্দীন আশরাফী, আন্তর্জাতিক বক্তা আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী, অধ্যাপক মাওলানা সৈয়দ জালাল উদ্দিন আল আজহারী, মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুদ্দীন আলকাদেরী, মাওলানা মুফতি আ স ম ইয়াকুব হোসাইন আলকাদেরী, মাওলানা মুহাম্মদ আবুল হাশেম, মাওলানা ইউনুছ তৈয়বী, হাফেজ গোলাম রব্বানী, মাওলানা নুরুল্লাহ নুরী, মুফতি নাজিম উদ্দিন নুরী, মুফতি শাহ্ ফাইজুল কবির বদরী, মাওলানা আবু ছাদেক রেজভী, এডভোকেট আনোয়ার হোসেন, মাওলানা আবুল কাশেম রেজভি, মাওলানা ইলিয়াস আলকাদেরী, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ মফিজুর রহমান প্রমুখ। মাওলানা নুরুল্লাহ রায়হান খান ও মাওলানা এনাম রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা স উ ম আব্দুস সামাদ, এডভোকেট আবু নাছের তালুকদার, এম সোলায়মান ফরিদ, এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল, মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, মাওলানা ইয়াছিন হোসাইন হায়দরী, মাওলানা ইকবাল হোসাইন আলকাদেরী, নাছির উদ্দিন মাহমুদ, মুহাম্মদ এনামুল হক ছিদ্দিকী, আ ব ম খোরশিদ আলম খান, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, এম মহিউল আলম চৌধুরী, অধ্যাপক মীর মুহাম্মদ আব্দুর রহিম মুনিরী, মাওলানা ফেরদৌস আলম খান আলকাদেরী, মাওলানা আব্দুন নবী আলকাদেরী, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন নেজামী, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, আলমগীর ইসলাম বঈদী, ইব্রাহিম খলিল, আজিম উদ্দিন আহমেদ জনি, মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, হাবিবুল মোস্তফা ছিদ্দিকী, আব্দুল করিম সেলিম, জামাল উদ্দিন, মুহাম্মদ নুর রায়হান চৌধুরী, সাকিব রেজা কাদেরী, মুহাম্মদ নকিব, হানিফ মান্নান প্রমুখ। আজ শনিবার মাহফিলের সমাপনী দিবসে বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও মুফাসসিরগণ আলোচক থাকবেন।#

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *