শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

দুর্নীতি প্রতিরোধ, সেবা সহজীকরণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসন সচেষ্ঠ – জেলা প্রশাসক, রাঙ্গামাটি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় বুধবার, ১৫ জুন, ২০২২
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

১৫ জুন ২০২২, রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি প্রেতিরোধ, সেবা সহজীকরণ এবং সু শাসন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন সচেষ্ঠ রয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), রাঙ্গামাটি কর্তৃক আয়োজিত টিআইবি’র নতুন প্রকল্প ‘‘পারটিসিপেটরি অ্যাকশন অ্যাগেনইস্ট করাপশন: টুওয়ার্ডস ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (প্যাকটা)” প্রকল্প বিষয়ক অবহিতকরণ সভায় তিনি অনলাইনে যুক্ত থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সেবা সহজীকরণের লক্ষে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সচেতন করার পাশাপাশি অটোমেশনের উপর আমরা জোর দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে অনলাইন উত্তরাধিকার সনদ, বিদেশী নাগরিকদের রাঙ্গামাটি ভ্রমনে অনাপত্তি প্রদান অটোমেশন করা হয়েছে। অন্যান্য আরো সেবা অটোমেশনের আওতায় আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। তাছাড়া পদ্ধতিগত পরিবর্তন ঘটিয়ে সেবা সহজীকরণের পাশাপাশি সেবা গ্রহীতাদের সময়, আর্থিক সাশ্রয় এবং সেবাদাতা ও গ্রহীতার সরাসরি সংস্পর্শ কমিয়ে আনার চেষ্ঠা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সনাক সভাপতি নিরূপা দেওয়ান এর সভাপতিত্বে উক্ত অবহিতকরণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মামুন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও শিক্ষা বিষয়ক কমিটির আহবায়ক প্রিয়নন্দ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম । এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

সনাক সহ সভাপতি মুজিবুল হক বুলবুল এর সঞ্চালনায় প্যাকটা প্রকল্প সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন টিআইবি’র চট্টগ্রাম ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর মো: জসিম উদ্দিন। প্যাকটা প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে “টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের জন্য দুর্নীতি হ্রাস এবং সেবা প্রদান কার্যক্রমে শুদ্ধাচার বৃদ্ধি”। এছাড়াও তিনি তার উপস্থাপনায় জানুয়ারি ২০২২ হতে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদি প্যাকটা প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বাস্তায়নের খাতসমূহ যেমন-স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি, পরিবেশ, নিমার্ণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ইত্যাদি খাতের সাথে কাজ করবে বলে সভাকে অবহিত করেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য ও সনাক রাঙ্গামাটির সদস্য অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য বলেন, প্যাকটা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। পার্বত্য জেলা পরিষদ প্যাক্্টা প্রকল্প বাস্তবায়নে সনাককে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, দেশের তথা জনগণের স্বার্থে কাজ পুলিশ প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি সরাসরি জনগণের সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে সিটিজেন চার্টার টাঙানোর পরামর্শ প্রদান করেন। তাছাড়া, তিনি ৯৯৯ সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, টিআইবি সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সর্বোপরি দুর্নীতি প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করছে যা সমাজের তথা রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয়।

সভাপতির বক্তব্যে নিরূপা দেওয়ান বলেন, সনাক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি নিয়ে কাজ করে না। সনাক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করে। প্যাকটা প্রকল্প তেমনি একটি প্রকল্প যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করতে কাজ করবে। এ প্রকল্পের আওতায় আমরা তৃনমূল পর্যায়ে কাজ করব। প্যাকটা প্রকল্পের অধীনে কমিউনিটি মনিটরিং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি কমবে বলে আমরা আশা করি।

এছাড়া, অন্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন ইসলাম ও দুর্গেশ^র চাকমা, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার দীপিকা খীসা, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডা: ইমরুল হাসান, পৌরসভা মেয়র প্রতিনিধি প্যানেল মেয়র কালায়ন চাকমা, নারী নেত্রী টুকু তালুকদার প্রমুখ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য অফিসার শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, জেলা সমবায় অফিসার ইউছুফ হাসান চৌধুরী, সহকারি পরিচালক, জেলা সমাজ সেবা কার্যালয় রূপসা চাকমা, উপজেলা সমবায় অফিসার আশীষ কুমার চৌধুরী, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মহসিন রানা, সাংবাদিক মিল্টন বড়–য়া, সম্পাদক ও প্রকাশক সাপ্তাহিক পাহাড়ের সময়, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো: আব্দুর রশিদ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রতন চাকমা, সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশ অধিদপ্তর সুব্রত বড়–য়া, এছাড়াও সভায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সনাক, ইয়েস ও এসিজি সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ