সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৮ অপরাহ্ন

নানান আয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের জাতীয় শোক দিবস পালন

মোকাদ্দেম সাঈফ ( গিরি সংবাদ )
  • প্রকাশের সময় রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০২১ পালন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড।
আজ সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় কর্মসূচির সাথে সমন্বয় রেখে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব নিখিল কুমার চাকমার নেতৃত্বে রাঙ্গামািটর সুউচ্চ বঙ্গবন্ধুর ‌ম্যুরাল ও বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন সহ ১ মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান আশীষ কুমার বড়ুয়া (যুগ্মসচিব), বোর্ডের সার্বক্ষনিক সদস্য বাস্তবায়ন মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ (উপসচিব)সহ বোর্ড ও বোর্ডের প্রকল্পসমূহের উবর্ধতন কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সকাল পৌনে দশটায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্ণফুলী সম্মেলন কক্ষে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহ্ফিল’ অনুষ্টিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মাননীয় চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা । আলোচনা’র শুরুতে প্রথমে পবিত্র কোরআনুল করিম থেকে তেলাওয়াত ও বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। বোর্ডের তথ্য অফিসার মিজ্ ডেজী ত্রিপুরার উপস্থাপনায় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বোর্ডের উপপরিচালক মংছেনলাইন রাখাইন।

বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বক্তব্যের শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থাপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সপরিবারে নিহত সকল শাহাদত বরণকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক রাষ্ট্র নায়ককে হত্যা করা হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের পাশের দেশ ভারতে এবং সবচেয়ে ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকাসহ অনেক রাষ্ট্র নায়ককে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে এমন নিষ্টুর ঘটনার নজির বোধ হয় আর পৃথিবীতে আর একটিও নেই। এই নজির বিহীন ঘটনা, যেটা কোন সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না।

চেয়ারম্যান আরাে বলেন, সেদিন কি দোষ করেছিল ? বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য, বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ভাই শেখ আবু নাসের, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, পত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ছোট ছেলে শিশু শেখ রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হল? শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে হত্যাকারীদের হত্যাকান্ডের জন্য বিচার করা যাবে না, এরূপ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় এবং খুনীদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পূর্ণবাসনের মাধ্যমে দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়, যা অত্যন্ত ঘৃন্য অপরাধ।

বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড জাতি পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূর চিন্তা প্রসূত রাষ্ট্র নায়কোচিত চিন্তার ফসল। আজ আমরা যেখানে সম্মানের সাথে অবস্থান করছি বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে সেটা কখনো সম্ভব হতো না। এজন্য তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শোককে শক্তিতে পরিণত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বোর্ডের সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীকে একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানান।
আলোচনা সভায় অন্যান বক্তারা বলেন, ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী ঘাতক ও তাদের দোসররা ভেবেছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে চিরদিনের জন্য মুছে ফেলতে পারবে, কিন্ত তারা তা পারেনি; কারণ বঙ্গবন্ধু মৃত্যঞ্জয়ী ও চিরঞ্জীব। তিনি বলেন, আজকের এই শোকের দিনে যে সকল ঘাতক এখনও বিদেশে পলাতক হিসেবে আছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকরের দাবী জানান এবং শোককে শক্তিতে পরিণত করে এবং শক্তিকে জাগরণে পরিণত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকলকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহবান জানান।
এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য বাস্তবায়ন মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ (উপসচিব), মোঃ এয়াছিনুল হক, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, এসএসএস-সিএইচটি প্রকল্প, সহকারী প্রকৌশলী মিজ্ ত্রয়া সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মোঃ জাকির হোসেনসহ বোর্ডের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পক্ষে অনেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান আশীষ কুমার বড়ুয়া (যুগ্মসচিব), সদস্য-বাস্তবায়ন মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ (উপসচিব), মোঃ এয়াছিনুল হক, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, এসএসএস-সিএইচটি প্রকল্প; মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রকল্প পরিচালক, মিশ্র ফল চাষ প্রকল্প; নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা (চ.দা.), উপপরিচালক মংছেনলাই রাখাইন, কল্যানময় চাকমা, হিসার রক্ষণ কর্মকর্তা; কাইংওয়াই ম্রো, গবেষণা কর্মকর্তা; সহকারী প্রকৌশলী জনাব মোঃ খোরশেদ আলম, সহকারী প্রকৌশলী মিজ্ ত্রয়া সরকার, মিজ্ ডজী ত্রিপুরা, তথ্য অফিসার; সাগর পাল, সহকারী পরিচালক (চ.দা.); মোঃ কামরুজ্জামান সহকারি পরিচালক, মিশ্র ফল প্রকল্পসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও বোর্ডের প্রকল্পসমূহের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের নিহত সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের বৈশি^ক মহামারি করোনায় আক্রান্ত সকল রোগীদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বোর্ডের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অংশগ্রহণে সকালে রাঙ্গামাটির তবলছড়িস্থ আনন্দ বৌদ্ধ বিহারে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দুপুরে বোর্ডের জামে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহ্ফিল ও তবারক বিতরণ করা হয় এবং সন্ধ্যায় তবলছড়িস্থ শ্রী শ্রী রক্ষা কালি মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া স্ব স্ব জেলা পর্যায়ের কর্মসূচির সাথে সাম্যঞ্জস্য রেখে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ইউনিট অফিস সমূহের নিকটবর্তী মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার এবং গীর্জায় বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহ্ফিল ও তবারক বিতরণ করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প পরিচালিত ৪টি আবাসিক বিদ্যালয়ে কঠোর স্বাস্থবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় সীমিত পরিসরে দিবসটি পালন করা হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ