শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০১:২০ অপরাহ্ন

পার্বত্য চট্টগ্রামের রির্জাভসহ বনাঞ্চল ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় হাই কোর্টের রুল জারী

নিজস্ব সংবাদদাতা,জহির রায়হান (বান্দরবান)
  • প্রকাশের সময় সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে

পার্বত্য চট্টগ্রামের রির্জাভ বন ও মৌজার বন, পাহাড়, বন, জলাধার, নদী, ঝিরিসহ অন্যান্য জলধারা রক্ষার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রীটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত পার্বত্য, পরিবেশ ও বন সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) জেলা পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, তিন জেলা প্রশাসকসহ ২২ জনকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তির জবাব দিতে রুল জারী করেছেন। এছাড়াও রিট পিটিশনে দি চিটাগাং হিলট্র্যাক্ট ফরেস্ট ট্রান্সজিট রুলস্ ১৯৭৩ এর ৯ বিধির বৈধতা ও সাংবিধানিকতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় দায়ের করা একটি রীটে বাদীর পক্ষের আইনজীবী ড. মহিউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অ্যাডভোকেট মহি উদ্দিন বলেন, হাইকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই রুল জারী করেন। রুলে সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
গত ৫ডিসেম্বর উক্ত ডিভিশন বেঞ্চ এই রুল জারী করেছেন বলে বাদীর আইনজীবী ড. মহি উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।
ড. মহি উদ্দিন জানান, বান্দরবানের থানচি উপজেলার বাসিন্দা জনস্বার্থে অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মারমা বাদী হয়ে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে রীট পিটিশন ১১৬২২/২০২১ দায়ের করেন।
অ্যাড. মহি উদ্দিন বলেন, হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ডিভিশন বেঞ্চ বাদীর আবেদন বিবেচনায় এনে বিজ্ঞ বিচারপতিদ্বয় গত ৫ ডিসেম্বর (২০২১) তারিখে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বন সংরক্ষক, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি)সহ মোট ২২জনকে বিবাদী করে তাঁদেরকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
এদিকে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মারমা সাংবাদিকদের বলেন, এক জনসচেতন নাগরিক ও জনস্বার্থে তিনি এই রীট করেন। তিনি বলেন, পার্বত্য তিন জেলায় একটি অসাধু চক্র দীর্ঘ দিন যাবত অবৈধভাবে বন উজাড়, প্রাকৃতিক সৃষ্ট পাথর উত্তোলন, জলধারা ও জলাধার দখল করে পানির উৎস ধ্বংস করছে। এতে করে পাহাড়ি এলাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে রীট পিটশনে বাদীর আইনজীবী ড. মহি উদ্দিন বলেন, পিটিশনে আবেদনকারী (বাদী) দি চিটাগাং হিলট্র্যাক্ট ফরেস্ট ট্রানজিট রুলস-১৯৭৩ এর ৯ বিধির বৈধতা ও সাংবিধানিকতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। জানা গেছে, রীট পিটিশনে আবেদনকারী (বাদী) অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মারমা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি তিন পার্বত্য জেলার মৌজা বন মৌজাবাসীর ব্যবস্থাপনায়, সংরক্ষিত বন, বন বিভাগের অধীনে নদী, ঝিরি, ঝরণা, লেকসহ প্রাকৃতিক জলাধার ও জলাধার, জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি তুলে এনেছেন। অ্যাড. ড. মহিউদ্দিন জানান, রীট আবেদনে তাঁর (মহিউদ্দিন) এর সাথে শুনানীতে আরও অংশ নেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াছুর রহমান, অ্যাড. মুর্শেদুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী।

এই বিভাগের আরো সংবাদ