সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১৪ অপরাহ্ন

বান্দরবানে নিচু এলাকা প্লাবিত : লামা-আলীকদম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

জহির রায়হান, বান্দরবান
  • প্রকাশের সময় শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

গত তিন দিনের ভারী বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি বান্দরবান জেলা সদরসহ চার উপজেলার নিচু এলাকায় ঢুকে পড়েছে। এতে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, দোকান পাঠ, সরকারী বেসরকারী কার্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। জেলা সদরের কাশেমপাড়া, শেরেবাংলা নগর, আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, মেম্বারপাড়া, হাফেজঘোনা, কাইছতলী, সুয়ালক, সুলতানপুর, কদুখোলা, গয়ালমারা, ভুরামুখ, চড়–ইপাড়া, ক্যামলংসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে করে জেলা সদরের কয়েকশ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে গেছে। ভারী বর্ষণের কারণে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দী ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের মধ্যে প্রায় দুইশত পরিবার জেলা শহরের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে বলে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
সদর উপজেলা পিআইও মইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বান্দরবানে দুর্যোগ পরিস্থিতিতে অস্থায়ী ৭টি কেন্দ্রে প্রায় ২০০পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। এরমধ্যে আল ফারুক ইনস্টিউটে ৮০পরিবার, উৎানীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৫পরিবার, শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৫পরিবার, বাস স্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫পরিবার, বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০পরিবার, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১১পরিবার, স্লুইট গেইট এলাকর একটি ভবনে ১০পরিবারকে উঠানো হয়েছে।
এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সিমন সরকার জানান, বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। কয়েকদের ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের আশংকা করা হচ্ছে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্র অবস্থানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, জেলার ৭টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভা এলাকা বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিরাপদে রাখার জন্য জেলায় মোট ১৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে জেলা সদরে ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় দুইশ পরিবার কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শহরের আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়ার কিছু অংশ, শেরে বাংলা নগর, ইসলামপুর, কাশেমপাড়া, হাফেজঘোনার বৌদ্ধদের শ্মশান এলাকা, বাস স্টেশন এলাকার বিস্তীর্ণ অব্জল পানিতে তলিয়ে গেছে। আর্মিপাড়ায় পানি উঠে রাস্তা ও বসতি ডুবে যাওয়ায় সেখানে প্রায় ৫০০পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আর্মিপাড়ায় প্রতিবছরই পানি ওঠে। এ নিয়ে তারা প্রশাসন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এতে করে বর্ষা মৌসুমে তাদের পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। তারা বলেন, ড্রেন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের প্রতিবছরই দুর্ভোগের শেষ থাকে না।
এদিকে বুধবার জেলা সদরের পাহাড়েরর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। এসময় বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌসিফ আহমেদ, সহকারী কমিশনার মো.জাকির হোসাইন, জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা সিমন সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান রুবেলসহ স্থানীয় কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।
(গতকাল) বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এভাবে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে জেলার আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়া এখনও পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা না ঘটলেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড় ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকার কথা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
এদিকে টানা দুইদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার লামা, আলীকদম, থানটি, রুমা এবং নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ