Home নারী শিশু দেশে প্রথমবার কলাগাছের সুতায় তৈরি দৃষ্টিনন্দন শাড়ি

দেশে প্রথমবার কলাগাছের সুতায় তৈরি দৃষ্টিনন্দন শাড়ি

28
0
দেশে প্রথমবার কলাগাছের সুতায় তৈরি দৃষ্টিনন্দন শাড়ি

বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পার্বত্য এলাকার কলাগাছ থেকে সুতা তৈরি করে বিভিন্ন সৌখিন হস্তশিল্প তৈরির প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এই ধারাবাহিকতায় এবার কলাগাছের সুতা থেকে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন শাড়ি কলাবতী।

নানা প্রতিকূলতার পথ পাড়ি দিয়ে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জপূর্ণ এই কাজটি সম্পন্ন হয়েছে বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের আহ্বানে। এ কাজে সিলেট জেলার মৌলভীবাজার থেকে বান্দরবানে ছুটে আসেন প্রশিক্ষক রাধাবতী দেবী।

প্রশিক্ষক রাধাবতী দেবী জানান, বাংলাদেশে বিভিন্ন সুতা দিয়ে শাড়ি তৈরি হয়, তবে দেশে প্রথমবার আমি বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের অনুরোধে ও সার্বিক সহযোগিতায় কলাগাছের সুতা থেকে একটি শাড়ি তৈরি করলাম।

প্রশিক্ষক রাধাবতী দেবী আরও জানান, প্রথম পর্যায়ে একাধারে ১৫ দিন সময় দিয়ে এবং ১ কেজি কলাগাছের আঁশের সুতা দিয়ে এই আকর্ষণীয় শাড়ি তৈরি হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীতে আরও কম সময় ও কম খরচে আরও মসৃণ ও উন্নতমানের শাড়ি তৈরি করা সম্ভব।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বান্দরবানের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী বলেন, আজ কলাগাছের সুতা থেকে শাড়ি হলো আর আগামীতে আরও নিত্যনতুন সামগ্রী উৎপাদন হবে। এতে নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি আরও তরান্বিত হবে।

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ও ওই শাড়ি তৈরির সার্বিক সহযোগী সাই সাই উ নিনি জানান, নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জেলা প্রশাসকের এই দূরদর্শী চিন্তার ফসল আজকের এই ১৩ হাতের দৃষ্টিনন্দন শাড়ি তৈরি। এই শাড়ির তৈরির ফলে বাংলাদেশে বান্দরবানের নাম আরেকবার প্রচার হবে। এখানকার কলাগাছের আঁশ থেকে যে সুতা হয় সেই সুতা দিয়ে পরিবেশ বান্ধব শাড়িটি সকলের কাছে দ্রুত সময়ে পৌঁছে যাবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, বান্দরবানে নারীদের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে কলাগাছ থেকে আঁশ তৈরি ও পরবর্তীতে সেই আঁশ থেকে বিভিন্ন হস্তশিল্প ও সৌখিন বিভিন্ন দ্রব্যাদি তৈরির জন্য জেলা প্রশাসন একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের আওতায় এই পর্যন্ত কয়েকটি ধাপে স্থানীয় প্রায় ৪০০ নারীদের কয়েক দফায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরি করে তাদের ভাতা প্রদান করা হয় যাতে তারা আগ্রহী হয়।

জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি জেলা প্রশাসক আরও জানান, আমাদের নারীরা এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বুক ফোল্ডার, টেবিল মেট, পাপোশ, শো পিচ, কানের দুল, কলম দানিসহ বিভিন্ন পরিবেশ বান্ধব হস্তশিল্প তৈরি করছে আর এগুলো ভালো দামে বিক্রিও হচ্ছে। কলাগাছের সুতা থেকে একটি দৃষ্টিনন্দন শাড়ি তৈরি করতে পেরেছি যা অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়েছে, সেই শাড়ির নাম দেয়া হয়েছে ‘কলাবতী’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here